ইসলাম কি বলে ? ঘুষের টাকায় চাকুরীর, আয় হালাল নাকি হারাম হবে ??

আমরা অনেকেই চাকরি পাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘুষ ব্যবহার করে থাকি। তবে ঘুষের টাকায় হওয়া চাকরির প্রাপ্ত বেতন আমাদের জন্য আদৌও হালাল না হারাম তা নিয়ে অকনেকেই সংশয়ে থাকি। আসুন জেনে নেই ঘুষের টাকায় চাকরির বেতন আপনার জন্য কতটুকু কার্যকরী। ঘুষের টাকার চাকরি, আয় হালাল নাকি হারাম?

প্রথমত ঘুষ দেওয়াটাই হারাম। ঘুষ দেওয়ার পর আপনি যে চাকরিটা নিয়েছেন সেখানে দুইটি বিষয় হতে পারে। একটা হচ্ছে চাকরিটা পাওয়ার জন্য আপনি যোগ্য ছিলেন, কিন্তু ঘুষ না দেওয়ার জন্য চাকরিটা হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে ঘুষ দিয়ে চাকরি পেলে আপনার চাকরিটা জায়েজ হবে। কিন্তু ঘুষ দেওয়াটা নাজায়েজ হবে। আবার চাকরির জন্য যোগ্য না হওয়ার পরও যদি ঘুষ দিয়ে চাকরি নেন, তাহলে পুরো জীবনে যা উপার্জন করেছেন তার সবটাই হারাম হবে।

পুরুষ এবং নারী উভয়ের জন্যই পরচুল পরা হারাম..। জেনে নিন বিস্তারিত…।।

প্রশ্ন : একটি হাদিসে দেখলাম পরচুল পরা নিষেধ। কিন্তু যাদের চুলে খোঁপা হয় না, তাঁরা কি পরতে পারবে?

উত্তর : আপনি যে হাদিসের কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি সহিহ। পরচুল তিনি পরে থাকেন তাঁকে রাসুল (সা.) অভিশাপ দিয়েছেন, তাই এটি হারাম। কারো যদি খোঁপা না হয়ে থাকে, তিনি চুল শুধু বেঁধে রাখবেন। চুল খোঁপা করতেই হবে, এটি শর্ত নয়।
চুল খোঁপা হওয়া সৌন্দর্যের বিষয়, কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু যাকে আল্লাহ সুবনাহুতায়ালা সুন্দর করেননি, তিনি কি আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালার ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে থাকবেন? তিনি মনে করবেন আল্লাহ তাঁকে অবশ্যই অন্য দিক থেকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছেন। সব দিক থেকে সৌন্দর্যমণ্ডিত বা সবদিক থেকে সুন্দর এমন কোনো পারফেক্ট মানুষ পৃথিবীতে পাওয়া যাবে না। বরং কোনো না কোনো দিক থেকে কিছু না কিছু ঘাটতি থেকেই যাবে। সুতরাং এই ঘাটতির জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের শুকরিয়া আদায় করা দরকার এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করা দরকার। সামান্য ঘাটতির জন্য আপনি হারাম কাজে লিপ্ত হতে পারেন না।

পুরুষ এবং নারী উভয়ের জন্যই পরচুল পরা হারাম। তবে হাদিসের মধ্যে নারীদের কথা স্পষ্ট এসেছে। একদল ওলামায়ে কেরাম বলেছেন, পুরুষদের ক্ষেত্রেও কিয়াস করা হয়েছে। যেহেতু সৌন্দর্যের জন্য নারীদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সে ক্ষেত্রে নারীদের যেহেতু অনুমোদন দেওয়া হয়নি, সেহেতু পুরুষদের জন্যও এটি অনুমোদিত বিষয় নয়। তবে পুরুষদের জন্য সুস্পষ্ট হাদিস আসেনি।

(উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।)

হাঁসি-ঠাট্টার মাঝেও মিথ্যা বলা যাবে নাহ .. মিথ্যা সর্বাবস্থায় হারাম।।

মিথ্যা ইসলামে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হারাম গোনাহগুলির অন্যতম। মিথ্যা বলা মুনাফিকের অন্যতম চিহ্ন। মিথ্যা সর্বাবস্থায় হারাম। সবচেয়ে জঘন্যতম মিথ্যা হলো আল্লাহ বা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে, হাদীসের নামে বা ধর্মের নামে মিথ্যা বলা। এরপর জঘন্য মিথ্যা হলো মিথ্যার মাধ্যমে কোনো মানুষের অধিকার নষ্ট করা, সম্পদ দখল করা বা মিথ্যা কথা বলে কিছু বিক্রয় করা। বিভিন্ন হাদীসে এরূপ কর্মের জন্য কঠিন অভিশাপ ও কঠিন শাস্তির কথা বলা হয়েছে।

ইসলামে হাসি-মস্করা, আনন্দ ও বিনোদনকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। কিন্ত সে জন্য মিথ্যা বলা বৈধ করা হয় নি।রাসুলুল্লাহ (সাঃ) হাঁসি-মস্করা করতেন, কিন্তু মিথ্যা পরিহার করতেন। এক বৃদ্ধাকে বলেন, কোনো বুড়ো মানুষ তো জান্নাতে যাবে না। এতে বেচারী কান্নাকাটি শুরু করে। তখন তিনি বলেন, বুড়োবুড়িকে আল্লাহ জোয়ান বানিয়ে জান্নাতে দিবেন। অপর একব্যক্তি তাঁর কাছে এসে সফরের জন্য একটি উট চান। তিনি বলেন, তোমাকে আমি একটি উটনীর বাচ্চা দিব।

লোকটি হতাশ হয়ে বলে, বাচ্চাতে আমার কি হবে? তিনি বলেন, সকল উটই তো উটনীর বাচ্চা। এরূপ অনেক ঘটনা হাদীসে রয়েছে। সাহাবীগণও হাসি-মস্করা করতেন, তবে মিথ্যা বর্জন করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «وَيْلٌ لِلَّذِي يُحَدِّثُ بِالحَدِيثِ لِيُضْحِكَ بِهِ القَوْمَ فَيَكْذِبُ، وَيْلٌ لَهُ وَيْلٌ لَهُ» ‘‘যে ব্যক্তি মানুষ হাসানোর জন্য মিথ্যা বলে তার জন্য ধ্বংস! তার জন্য ধ্বংস! তার জন্য ধ্বংস!’’ তিরমিযী, আস-সুনান ৪/৫৫৭; হাদীস নং ২৩১৫; আবূ দাউদ, আস-সুনান ৪/২৯৭; হাদীস নং ৪৯৯০। অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, «أَنَا زَعِيمٌ بِبَيْتٍ فِي رَبَضِ الْجَنَّةِ لِمَنْ تَرَكَ الْمِرَاءَ وَإِنْ كَانَ مُحِقًّا، وَبِبَيْتٍ فِي وَسَطِ الْجَنَّةِ لِمَنْ تَرَكَ الْكَذِبَ وَإِنْ كَانَ مَازِحًا وَبِبَيْتٍ فِي أَعْلَى الْجَنَّةِ لِمَنْ حَسَّنَ خُلُقَهُ» ‘‘যে ব্যক্তি সর্বদা মিথ্যা বর্জন করে, মস্করা বা কৌতুক করতেও মিথ্যা বলে

না, তার জন্য জান্নাতের মধ্যদেশে একটি বাড়ির জন্য আমি দায়িত্ব গ্রহণ করলাম।’’ আবূ দাউদ, আস-সুনান ৪/২৫৩; হাদীস নং ৪৮০০। মস্করা বা কৌতুকচ্ছলে কাউকে ভয় পাইয়ে দেওয়াও জায়েয নয়। এক সফরে সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ -এর সাথে ছিলেন। একজন সাহাবী ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তখন অন্য একজন গিয়ে তার রশিটি নিয়ে আসেন। এতে ঘুমন্ত ব্যক্তি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে উঠে পড়েন। তার ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থা দেখে সাহাবীগণ হেসে উঠেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা হাসছ কেন? তারা ঘটনাটি বললে তিনি বলেন: «لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يُرَوِّعَ مُسْلِمًا» ‘‘কোনো মুসলিমের জন্য বৈধ নয় যে, সে অন্য মুসলিমকে ভয় পাইয়ে দিবে।’’ আবূ দাউদ, আস-সুনান ৪/৩০১;হাদীস নং ৫০০৪।

আমরা অনেক সময় কৌতুকভরে বা ভুলানোর জন্য শিশুদের সাথে মিথ্যা বলি। অথচ এরূপ মিথ্যাও মিথ্যা এবং গোনহের কাজ। শুধু তাই নয়, এরূপ মিথ্যার মাধ্যমে আমরা শিশুদেরকে মিথ্যায় অভ্যস্ত করে তুলি এবং মিথ্যার প্রতি তাদের ঘৃণা ও আপত্তি নষ্ট করে দিই। কিশোর সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনু আমির বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ  আমাদের বাড়িতে বসা ছিলেন, এমতাবস্থায় আমার মা আমাকে ডেকে বলেন, এস তোমাকে একটি জিনিস দিব। রাসূলুল্লাহ  বলেন, তুমি তাকে কি দিতে চাও? তিনি বলেন: আমি তাকে একটি খেজুর দিতে চাই। রাসূলুল্লাহ  বলেন: «أَمَا إِنَّكِ لَوْ لَمْ تُعْطِهِ شَيْئًا كُتِبَتْ عَلَيْكِ كِذْبَةٌ» ‘‘তুমি যদি তাকে কিছু না দিতে তবে তোমার নামে একটি মিথ্যার গোনাহ লেখা হতো।’’ আবূ দাউদ, আস-সুনান ৪/২৯৮; হাদীস নং ৪৯৯১।

নিজের সাথে নিজে মিথ্যা বলাও বৈধ নয়। আর এজন্যই কেউ যদি নিজের মনে শুধু নিজের জন্যই কোনো বিষয়ের কসম করে যে, আমি অমুক কাজটি করব বা করব না, কিন্তু পরে তার ব্যক্তিগত কসম না রাখতে পারে তবে তাকে কসমের কাফ্‌ফারা দিতেই হবে। কাজেই নিজের মনে নিজের জন্য কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা পূরণ করুন, নিজের মনকে মিথ্যায় অভ্যস্ত করবেন না। শুধু নিশ্চিত মিথ্যাই নয়, মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা আছে এরূপ কথা বলতে বা যা কিছু শোনা যায় সবই বলাবলি করতে নিষেধ করেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ।

তিনি বলেন: «كَفَى بِالْمَرْءِ كَذِبًا أَنْ يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ» ‘‘একজন মানুষের মিথ্যাবাদি হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনবে তাই বলবে।’’ মুসলিম, আস-সহীহ ১/১০-১১; এ অপরাধটি আমরা সকলেই করি। ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র, বিশ্ব ইত্যাদি সম্পর্কে মুখরোচক গল্প, গণমাধ্যমের খবর ইত্যাদি যা কিছু শুনি তাই বলি। অথচ বিষয়টি সঠিক কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কথা বলা ঠিক নয়। যদি কোনো মানুষের ব্যক্তিগত মর্যাদাহানী বা গীবত জাতীয় কিছু না হয়, তবে সে ক্ষেত্রে বড়জোর বলা যেতে পারে যে, অমুক একথা বলেছে বলে শুনেছি, সত্য মিথ্যা বলতে পারি না। সর্বদা সত্য বলুন।

সত্যপ্রীতি আপনাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ، فَإِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى الْبِرِّ، وَإِنَّ الْبِرَّ يَهْدِي إِلَى الْجَنَّةِ، وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَصْدُقُ وَيَتَحَرَّى الصِّدْقَ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللهِ صِدِّيقًا، وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ، فَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُورِ، وَإِنَّ الْفُجُورَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ، وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَكْذِبُ وَيَتَحَرَّى الْكَذِبَ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللهِ كَذَّابًا» ‘‘তোমরা সর্বদা সত্য আঁকড়ে ধরবে; কারণ সত্য পুণ্যের দিকে ধাবিত করে আর পুণ্য জান্নাতে নিয়ে যায়।

একজন মানুষ যখন সর্বদা সত্য বলতে থাকে এবং সত্য বলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে তখন সে এক পর্যায়ে আল্লাহর কাছে ‘‘সিদ্দীক’’ বা মহাসত্যবাদী বলে লিখিত হয়ে যায়। আর তোমরা মিথ্যা সর্বোতভাবে বর্জন করবে। কারণ মিথ্যা পাপের পথে পরিচালিত করে এবং পাপ জাহান্নামে নিয়ে যায়। একজন মানুষ যখন মিথ্যা বলে এবং মিথ্যা বলার সুযোগ খুঁজে বেড়ায় তখন সে এক পর্যায়ে আল্লাহর নিকট মহামিথ্যাবাদী বলে লিখিত হয়ে যায়। মুসলিম, আস-সহীহ , হাদীস নং- ২৬০৭।

গান-বাজনা কি আসলেই হারাম ….?? জেনে নিন কি বলছে ইসলাম…!!

অনেকেই মুখে মুখে বলে থাকেন গান বাজনা ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে হারাম। কিন্তু আপনি এই কথাটি জেনে বলছেন কি? এ বিষয়ে যারা জানেন না তার অবশ্যই কোরআন ও হাদিসের ব্যাখ্যা অনুযায়ি বর্ণিত নিচের লেখাটি পড়ুন।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআন মাজিদে বলেন,“এক শ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে পথভ্রষ্ট করার উদ্দেশ্যে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং উহাকে(আল্লাহর পথ) নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করে। এদের জন্যে রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি”। [৩১-৬]

আল-ওয়াহিদি (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা), অন্যান্য তাফসীরকারগণের সাথে ব্যাখ্যা করেন যে, এই আয়াতে “অবান্তর কথাবার্তা” বলতে গান সঙ্গীতকে বুঝানো হয়েছে। যেসকল সাহাবাগণ এই ব্যাখ্যা প্রদান করেন তারা হলেন ইবন আব্বাস, ইবন মাসউদ, মুজাহিদ, ইকরিমা(রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। ইবন মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, “আল্লাহর শপথ, যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, ‘অবান্তর কথাবার্তা’ হল গান”।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,“আমার উম্মতের মধ্য হতে একদল লোক এমন হবে যারা ব্যভিচার, রেশমি বস্ত্র পরিধান, মদ পান এবং বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার ইত্যাদি হালাল মনে করবে। এবং কিছু লোক এমন হবে যারা একটি পর্বতের নিকটে অবস্থান করবে এবং সন্ধ্যাবেলায় তাদের মেষপালক তাদের নিকট মেষগুলো নিয়ে আসবে এবং তাদের নিকট কিছু চাইবে, কিন্তু তারা বলবে, ‘আগামীকাল ফেরত এসো’। রাতের বেলায় আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে ধ্বংস করে দিবেন এবং তাদের উপর পর্বত ধ্বসিয়ে দিবেন, বাকি লোকদেরকে তিনি বানর ও শূকরে পরিণত করে দিবেন এবং শেষ বিচারের দিন পর্যন্ত তারা এই অবস্থায় থাকবে”। [বুখারী, ভলিউম ৭, বুক ৬৯,সংখ্যা৪৯৪]

এই হাদীসে উল্লেখ হচ্ছে বাদ্যযন্ত্র হারাম, এবং উলামাগণের মধ্যে এই ব্যাপারে কোন দ্বিমত নেই। ইবন আল-কাইয়্যিম (রাহিমুল্লাহ) তাঁর বই ইগাছাতুল লাহফান এ বলেন, “যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘বৈধ মনে করবে’, তার মানে তিনি বুঝিয়েছেন এটা অবৈধ, এরপর লোকেরা একে বৈধ বানিয়েছে ”।
• আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,‘একদল লোকদেরকে তিনি বানর ও শূকরে পরিণত করে দিবেন’ সাহাবাগণ আরজ করলেন, “তারা কি ‘লা~ ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ এই সাক্ষ্য প্রদান করে?” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “হ্যাঁ, এবং তারা সিয়াম ও হজ্জও পালন করে”। সাহাবাগণ আরজ করলেন, “তাহলে, তাদের সমস্যা কি ছিল?” তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তারা বাদ্যযন্ত্র, ঢোল ও নারী সঙ্গীতশিল্পী ব্যবহার করবে। (একদিন) তারা রাতভর মদপান, হাসি তামাশা করে নিদ্রা যাবে, সকালে(আল্লাহর ইচ্ছায়) তারা বানর ও শূকরে পরিণত হবে”। [ইগাছাতুল লাহফান]

• আল্লাহ তায়ালা কাফেরদের কাবাঘরের চারপাশের ইবাদতের কথা সমালোচনা করে বলেন,“(এ ঘরের পাশে) তাদের (জাহেলী যুগের)নামায তো কিছু শিষ দেয়া ও তালি বাজানো ছাড়া কিছুই ছিল না”[সূরা আল আনফাল ৮-৩৫] ।ইবন আব্বাস, ইবন উমর, আতিয়্যাহ, মুজাহিদ, আদ-দাহাক, আল হাসান এবং ক্বাতাদাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘মু’কান’ অর্থ শিষ বাজানো, ‘তাসদিয়াহ’ অর্থ তালি বাজানো।

কুরআন মজীদের অন্য আয়াতে আছে, ইবলিস-শয়তান আদম সন্তানকে ধোঁকা দেওয়ার আরজী পেশ করলে আল্লাহ তাআলা ইবলিসকে বললেন,“তোর আওয়াজ দ্বারা তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস পদস্খলিত কর”।-সূরা ইসরা : ৬৪এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, যে সকল বস্তু পাপাচারের দিকে আহ্বান করে তাই ইবলিসের আওয়াজ। বিখ্যাত তাবেয়ী মুজাহিদ রাহ. বলেন, ইবলিসের আওয়াজ বলতে এখানে গান ও বাদ্যযন্ত্রকে বোঝানো হয়েছে। আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম রাহ. বলেন, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যেসব বস্তু পাপাচারের দিকে আহ্বান করে তার মধ্যে গান-বাদ্যই সেরা। এজন্যই একে ইবলিসের আওয়াজ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।-ইগাছাতুল লাহফান ১/১৯৯
বস্তুত গান বাজনার ক্ষতিকর প্রভাব এত বেশি যে, তা নাজায়েয হওয়ার জন্য আলাদা কোনো দলীল খোঁজার প্রয়োজন পড়ে না। এতদসত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বহু হাদীসের মাধ্যমে তা প্রমাণিত।

• গান-গায়িকা এবং এর ব্যবসা ও চর্চাকে হারাম আখ্যায়িত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-তোমরা গায়িকা (দাসী) ক্রয়-বিক্রয় কর না এবং তাদেরকে গান শিক্ষা দিও না। আর এসবের ব্যবসায় কোনো কল্যাণ নেই। জেনে রেখ, এর প্রাপ্ত মূল্য হারাম।-জামে তিরমিযী হাদীস : ১২৮২; ইবনে মাজাহ হাদীস : ২১৬৮বর্তমানে গান ও বাদ্যযন্ত্রের বিশাল বাজার তৈরি হয়েছে যাতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, এর সকল উপার্জন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস অনুযায়ী সম্পূর্ণ হারাম।

• রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেন,আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম পরিবর্তন করে তা পান করবে। আর তাদের মাথার উপর বাদ্যযন্ত্র ও গায়িকা রমনীদের গান বাজতে থাকবে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে যমীনে ধ্বসিয়ে দিবেন।-সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস : ৪০২০; সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস : ৬৭৫৮

• হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, পানি যেমন (ভূমিতে) তৃণলতা উৎপন্ন করে তেমনি গান মানুষের অন্তরে নিফাক সৃষ্টি করে।-ইগাছাতুল লাহফান ১/১৯৩; তাফসীরে কুরতুবী ১৪/৫২উপরোক্ত বাণীর সত্যতা এখন দিবালোকের ন্যায় পরিষ্কার। গান-বাজনার ব্যাপক বিস্তারের ফলে মানুষের অন্তরে এই পরিমাণ নিফাক সৃষ্টি হয়েছে যে, সাহাবীদের ইসলামকে এ যুগে অচল মনে করা হচ্ছে এবং গান-বাদ্য, নারী-পুরুষের মেলামেশা ইত্যাদিকে হালাল মনে করা হচ্ছে।

• বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত নাফে’ রাহ. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার চলার পথে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বাঁশির আওয়াজ শুনলেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি দুই কানে আঙ্গুল দিলেন। কিছু দূর গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, হে নাফে’! এখনো কি আওয়াজ শুনছ? আমি বললাম হ্যাঁ। অতঃপর আমি যখন বললাম, এখন আর আওয়াজ শোনা যাচ্ছে না

ইসলামে দাবা খেলা কেন হারাম..?? জেনে নিন..

বর্তমান সময়ে ফুটবল, ক্রিকেট, কিংবা টেনিসের সাথে অনেকটাই জনপ্রিয় খেলা দাবা। তবে এই খেলাটিকে নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন, ইসলামে দাবা খেলা কেন হারাম? যদিও অন্যান্য খেলার মতই এটি একটি বুদ্ধির খেলা। এই খেলা খেললে বুদ্ধির চর্চা করা হয়। তারপরও এই খেলাটি কেন ইসলামে নিষিদ্ধ।

যেকোনো কাজ যা মানুষকে আল্লাহ স্মরণ করা থেকে বিরত রাখে তাই হারাম। আবু হানিফা (র) , ইমাম মালিক (র) সহ আরও অনেক ইমাম এক্ষেত্রে একটা কুরআনের আয়াত প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন, “হে মুমিনগণ! নিশ্চয় মদ,জুয়া,মূর্তি ইত্যাদি এবং লটারির তীর এসব গর্হিত বিষয় শয়তানি কাজ ছাড়া এর কিছুই নয় কাজেই এইসব বিষয় থেকে দূরে থাক,যাতে তোমাদের কল্যাণ হয়।শয়তান তো এটাই চায় যে মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের পরস্পরের মধ্যে হিংসা ও শত্রুতা এবং আল্লাহর স্মরণ এবং সালাত হতে তোমাদেরকে বিরত রাখে,সুতরাং এখনও কি তোমরা ফিরে আসবে?”(মায়েদাহ ৫:৯০-৯১)

আমরা সবাই হয়ত জানি যে ইসলাম সকল প্রকার মূর্তি হারাম করেছে। দাবার প্রায় সব গুটিই কোনো না কোনো মূর্তির আদলে তৈরি। আর এজন্য উপরের হাদিসটি এটাই প্রমান করে যে দাবা খেলা হারাম।

আল কুরতুবী (র) বলেছেন যে, এই আয়াত এটাই নির্দেশ করে যে পাশা বা দাবা খেলা হারাম সেখানে জুয়ার কোন অস্তিত্ব থাকুক আর নাই বা থাকুক কারণ আল্লাহ্ সুবহানাত’লা মদকে হারাম করেছেন এবং এর পেছনে কারণ ও বলে দিয়েছেন, আর কারণটা হচ্ছে শয়তান মানুষের মাঝে নেশা ও বাজির মাধ্যমে শত্রুতা ও বিদ্বেষ তৈরি এবং মানুষকে আল্লাহকে স্মরণ এবং নামাজ থেকে বিরত রাখে । তাই এমন কোন খেলা যা তুচ্ছ জিনিসকে বড় করে তুলে এবং যারা ইহা খেলে তাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ জাগরিত করে সাথে সাথে আল্লাহ্র স্মরণ ও নামাজ থেকে বিরত রাখে তাও মদ খাওয়ার মতই হারাম ।

সুলাইমান ইবনে বুরাইদাহ তার পিতা বুরাইদাহ (রাঃ) হইতে বর্ণনা করেছেন।রাসুল (সাঃ) বলেছেন,“যে ব্যাক্তি পাশা খেলল সে যেন শূয়রের গোশত ও রক্তে হাত রাঙাল”।(মুসলিমঃ২২৬০)

আবু মুসা আল আশারি (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসুল (সাঃ) বলেন,“যে পাশা খেলল সে যেন আল্লাহ্ এবং আমাকে অমান্য করল”।(আবু-দাউদঃ৪১২৯,নাসিরুদ্দিন আলবানীর মতে সহীহ)
একদিন দু’জন আনছার ছাহাবী তীর নিক্ষেপ প্রতিযোগিতা করছিলেন। হঠাৎ একজন বসে পড়লেন। তখন অপরজন বিস্মিত হয়ে বললেন, কি ব্যাপার। কষ্ট হয়ে গেল নাকি? জবাবে তিনি বললেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, প্রত্যেক বস্তু যা আল্লাহর স্মরণকে ভুলিয়ে দেয়, সেটাই অনর্থক (لَهْو) … (নাসাঈ, ছহীহাহ হা/৩১৫)। এতে বুঝা যায় যে, বৈধ খেলাও যদি আল্লাহর স্মরণকে ভুলিয়ে দেয়, তবে সেটাও জায়েয হবে না। ইমাম বুখারী (রহঃ) অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন, ‘প্রত্যেক খেলা-ধুলা (لَهْو) বাতিল, যদি তা আল্লাহর আনুগত্য থেকে উদাসীন করে দেয়’ (ফাৎহুলবারী ‘অনুমতি গ্রহণ’ অধ্যায় ৭৯, অনুচ্ছেদ ৫২; ১১/৯৪ পৃঃ)।

ইসলাম কি বলছে – টিভি দেখা জায়েয না হারাম ??- জেনে নিন

ইসলাম কি বলছে – টিভি দেখা জায়েয না হারাম ??- জেনে নিন

আমাদের দেশে এক শ্রেণীর আলেম আছেন, যাদের সৃষ্টিতে টিভি হারাম। চাই ইসলামী হোক কিংবা অনৈসলামী। এবার দেশে ছুটিতে গিয়ে কাদিয়ানীর চেলা বরকতুল্লাহর তনয় হাবীবুল্লাহ ভণ্ড নবুওতদাবীদারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভায় বক্তৃতা করছিলাম।

কথা প্রসঙ্গে টিভিতে কাদিয়ানীদের প্রচার সম্পর্কে বলেছিলাম; যে তারা বিশ্বের অনেক ভাষায় সরাসরি তাদের দাওয়াত প্রচার করছে। এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে আমাকে আলোচনা সংক্ষেপ করতে বলা হলো। উপস্থিত জনতা হতে আওয়াজ আসা শুরু হলো যে, হুজুর টিভির ওয়াজ বন্ধ করুন। আমি আমার আলোচনা যথা সময়ে শেষ করলাম। আমাকে ভিতরে ডাকা হলো, সকলে আমার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে বললো, আপনি তো আজ টিভি দেখা জায়েয করে দিলেন! আমি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম, এবং বললাম: আমি টিভি হালাল করতে যাবো কেন? টিভি তো আগ থেকেই হালাল। এই জবাব শুনে সকলে এক সঙ্গে বলা শুরু করলো, আপনি বলেন কি! টিভি দেখা হারাম, আমরা এই ফতোয়াই দিয়ে আসছি।

তখন আমি বললাম,আপনাদের এই ফতোয়া শুনে কয়জন লোক টিভি দেখা ত্যাগ করেছে? এবং কয়টি বাড়ি দেখাতে পারবেন যে, টিভি নাই? অথচ গ্রামের প্রতিটা ঘরে এখন স্যাটালাইট টিভির লাইন রয়েছে।

আমি তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করলাম,যে এই যুগটা মিডিয়ার যুগ, তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। আমাদেরকেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে দাওয়াতী কাজে ভূমিকা রাখতে হবে।

স্থানীয় এক শাইখুল হাদীস ও মুফতী বললেন, ২৫টি দলীলের ভিত্তিতে টিভি দেখা হারাম।

আমি বললাম, দুই একটা দলীল পেশ করুন। তিনি বললেন, দেখুন টিভিতে উপস্থাপনা মহিলারা করে থাকে, তাই হারাম। এই দলীল শুনে হাসবো না কাঁদবো, বললাম অনেক টিভি চ্যানেল এমন আছে, যার উপস্থাপক পুরুষ। মহিলাদের সেখানে কোন সুযোগ নাই। তখন তিনি বললেন, এমন হতেই পারে না। বললাম, হতে পারে। ক্বানাতে মাজদ, ( সৌদী আরব, ক্বানাতে রিসালা, কুয়েত, তাছাড়া ক্বানাত ইক্বরা, এছাড়াও মধ্যপ্রচ্যের সব দেশেই এমন চ্যানেল রয়েছে, যেগুলোতে ইসলামী আলোচনা, কুরআন তেলাওয়াত, হাদীসে রাসূলের আলোচনা হয়ে থাকে। আমার একথা শুনে শায়খ বললেন, যে তবুও হারাম। আমি বললাম এগুলোতে তো আর মহিলারা উপস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে না। তিনি বললেন, টিভির আবিষ্কারকরা অমুসলিম, তাই টিভি দেখার হারাম। (এটা তার দ্বিতীয় দলীল) আমি বললাম, মাশা আল্লাহ! আজব দলীল পেশ করলেন। এটা যদি হারাম হওয়ার দলীল হয়, তাহলে তো আজ আর এখান থেকে বাড়িতেই যেতে পারবনে না! কারণ, যে গাড়িতে চড়ে বাসায় যাবেন, তাও তো অমুসলিমদের আবিষ্কার, আপনার হাতের মোবাইল সেটটি অমুসলিমদের আবিষ্কার, আপনি হজ্জ করতে সৌদী আরব গিয়েছিলেন, প্যালেনে চড়ে তাও অমুসলিমদের আবিষ্কার, এই দলীলে যদি টিভি দেখা হারাম হয়, তাহলে তো আপনার হজ্জ হয় নাই, বাড়িতে যাওয়া হারাম হবে, মোবাইল ফোন রাখতে পারবেন না।

তাদের সবগুলো দলীল এমন খোড়া যা একজন সাধারণ গবেষক জবাব দিতে পারবেন। কুরআন ও হাদীস হতে একটি দলীলও দিতে পারেন নি। আরো কত কথা। আমার ইমেইজ বিলীন করে দিলাম, কারণ আমি টিভির পক্ষে কেন কথা বললাম। জনগণ আমার কোন কথাই আর শুনবে না। আমি বললাম, আপনাদের এমন ফতোয়ায় কি কোন বাড়ি টিভি ছাড়া হয়েছে, মোবাইল ছাড়া কোন লোক দেখাতে পারবেন। আপনার নিজের হাতেও অমুসলিমদের তৈরী হারাম মোবাইল রয়েছে।

একসময় এই শ্রেণীর আলেমরা ইংরেজি পড়া হারাম ফতোয়া দিয়েছিলেন। এখন অবশ্য তাড়াও ইংরেজি পড়ান।

হক্কানী ওলামেয় কেরামগণ যদি এমন ফতোয়া না দিয়ে ইসলাম প্রচারের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতো, তাহলে ইসলামের সঠিক কথাগুলো বিশ্বব্যাপী সহজে পৌঁছে যেতো। বর্তমানে বাংলাদেশের কয়েকটি টিভিতে ইসলামী আলোচনা হয়, তাদের মধ্য হতে কিছু কিছু চ্যানেলে বেদআতী আলেমগণ অনুষ্ঠান চালিয়ে যাচ্ছে, আবার কিছু চ্যানেলে সঠিক কথা-বার্তা প্রচার হচ্ছে।

দেখুন টিভি একটি যন্ত্র, এর মাধ্যমে আপনি যা দেখাতে চাইবেন,তাই সে দেখাবে,এক কথায় টিভি আয়নার মতো,আয়নার সামনে যে ছবি ধরা হবে,সে তাই দেখাবে, ছবি সুন্দর না হলে যেমন আয়নাকে দোষারোপ করা যায় না, টিভিতেও খারাপ কিছু দেখালে, টিভিকে খারাপ বলা যুক্তি সঙ্গত হবে না। বরং যিনি পরিচালনা করছেন, তাকেই দোষারোপ করতে হবে। টিভিতে যদি ইসলামী অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়,সেই ক্ষেত্রেও টিভিকে হারাম ফাতাওয়া দেওয়া এক প্রকারের অজ্ঞতা বা গোঁড়ামী।

আমার এই কথাগুলো একটি বাস্তব ঘটনার প্রেক্ষিতে লেখা, কাউকে হ্যায় করা উদ্দেশ্য নয়, আসুন আমরা প্রচারের যতগুলো প্রযুক্তি রয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করে, ইসলামের সঠিক আলো সারা বিশ্বে পৌঁছে দেই। কারণ ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং শোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যতদ্রুত সংবাদ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, অন্য কোন উপায়ে এত দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব না।

আল্লাহ আমাদের সঠিক জ্ঞান অর্জন করে তদানুযায়ী আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন

তাবিজ কবজ মানেই শিরক ও হারাম…..সাবধান !!… (হাদিস সহ)

এক ভাই প্রশ্ন করেছেন, আমার মা এক বড় হুজুরের নিকট থেকে (বড় হুজেরের নিকট থেকে!) খুব দামী দুটি তাবিজ এনে দিয়েছে। কিন্তু এখানে সৌদি আরবে কিছু লোক বলে তাবিজ নাকি শিরক। তাদের কথায় আমি তাবিজ খুলেছি, কিন্তু এখন মন খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে, ভয় করছে। আপনি কিছু বলুন।

উত্তরঃ দেখুন নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, “আত-তামায়িমু শিরকুন” – তাবিজ হচ্ছে শিরক। এটা আল্লাহর নবীর কথা (হাদীস), কোনো আলেমের ফতোয়া না! ফতোয়া হলে ভাবতেন মানুষের মত, ভুল-ত্রুটি হতে পারে। কিন্তু এটি কার কথা? নবী (সাঃ) এর কথা। আচ্ছা কেউ যদি বলে, তাবিজ যার মধ্যে শিরক থাকবে সেটা শিরক, আর যেটা কুরানের দুয়া দিয়ে করবো, কুরানের সুরা বা নবীর হাদীসের দুয়া দিয়ে করবো সেগুলোতে কোনো সমস্যা নেই। নবী (সাঃ) এগুলোর মাঝে কোনো পার্থক্য করেননি, যদি পার্থক্য করতেন তাহলে তিনি অবশ্যই বলে দিতেন, দেখো তোমরা কুরআন হাদীসের দুয়া দিয়ে তাবিজ করিও কোনো অসুবিধা নেই। আর শিরকি কথা দিয়ে বা বুঝা যায়না এমন কথা বার্তা দিয়ে তাবিজ করিওনা। এভাবে তিনি ভেঙ্গে দুইটাকে আলাদা করে বলতেন, কারণ তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে শরীয়ত স্পষ্ট করে মানুষের কাছে পোঁছে দেওয়ার জন্যই এসেছিলেন। কিন্তু তিনি এইরকম কোনো পার্থক্য করেন নি, সব তাবিজকেই শিরক বলেছেন। সুতরাং, তাবিজ তা যেকোনো রকমেরই হোকনা কেনো, আল্লাহর নবী বলেছেন – তাবিজ হচ্ছে শিরক সুতরাং শিরক।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাবিজ শিরক হয় কিভাবে? তাবিজ পূজার শিরক নয়, সেজদা করার শিরক না কারণ তাবিজকে কেউ পূজা বা সেজদা করেনা। কিন্তু এটা হচ্ছে ভরসা করার শিরক। আল্লাহর উপর ভরসা করতে হবে, আস্থা রাখতে হবে আর আস্থা ও ভরসা পুরোপুরি হয়ে গেছে তাবিজের উপরে। এইজন্য যারা তাবিজ ঝুলায় তারা গর্বের সাথে বলে, তাবিজ আছে, কোনো যাদু আমার ক্ষতি করতে পারবেনা, তাবিজ আছে কোনো পরোয়া নেই – কোনো জিন আমাকে স্পর্শ করতে পারবেনা। তাদের মনে বল কিজন্য? তাদের মনের বল পুরোপুরি এই তাবিজের উপরে। এইযে প্রশ্নকারীর মন খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে ভয় লাগছে, কেনো? তার আস্থা ছিলো এই তাবিজের উপরে। আল্লাহর উপর ভরসা না করে তাবিজের উপর ভরসা করা সেটা কি? সেটা হচ্ছে শিরক – সেটা কুরানের দুয়া দিয়েই তাবিজ করুক না কেনো আর শিরকি কথা বা গাছ-গাছড়া দিয়ে তাবিজ করা হোকনা কেনো।

এ সম্পর্কে কুরআনে অনেক আয়াত আছে, “যদি তুমি মুমিন হয়ে থাকে তাহলে শুধুমাত্র আল্লাহর উপরেই ভরসা করো” তাহলে তাবিজের উপর যে ভরসা করবে সে মুমিন না মুশরেক? সে মুশরকে হয়ে যাবে। আবার অনেকে বলে, কুরআন হাদীস দিয়ে তাবিজ করবো এটা এমন কি খারাপ কথা? হ্যা আরেকটি খারাপ কথা আছে। বাথরুমে প্রস্রাব-পায়খানা করতে গিয়ে আলাহর আয়াতের কত অবমাননা করা হচ্ছে। এটা কি হারাম নয় আপনার জন্য? আপনি দিনে কতবার গুনাহগার হচ্ছেন, আল্লাহর আয়াত বা নবীর দুয়া দিয়ে তাবিজ ঝুলিয়ে টয়লেটে বা গোসল খানায় গিয়ে, স্বামী বা স্ত্রীর কাছে গিয়ে। সুবহা’ন আল্লাহ! আপনি কি একবারের জন্যও চিন্তা করেন না? তাহলে এই তাবিজে শিরকও আছে আবার কুরআন হাদীস বা আল্লাহর আয়াত ও নবীর দুয়ায় অবমাননা বা মানহানির অপরাধও আছে যা আপনার জন্য কুফুরী হওয়ার আশংকা আছে।

সুতরাং, খবরদার তাবিজের উপর ভরসা না করে আল্লাহর উপর ভরসা করেন। আমরা যারা তাবিজ করিনা বা লিখিনা তাদের কি এমন ক্ষতি হয়ে গেছে বলুন দেখি? আল্লাহ না চাইলে কারো কোনো ক্ষতি হবেনা, আর আল্লাহ যদি চান কারো বালা-মুসিবত তাহলে ভালো মানুষের উপরেও বালা মুসিবত আসতে পারে। খারাপ লোকের উপর বালা মুসিবত খারাপ কাজের আজাব হিসেবে আসতে পারে আর ভালো লোক বা সৎ লোকের উপরে পরীক্ষা হিসেবে বিপদ-আপদ বা বালা মুসিবত আসতে পারে। আল্লাহ ইব্রাহিম (আঃ) কে আগুনে ফেলে, ইউসুফ (আঃ) কে দীর্ঘদিন জেলে রেখে, আইয়ুব (আঃ) কে কঠিন অসুস্থতা দিয়ে, ইউনুস (আঃ) কে মাছের পেটে রেখে পরীক্ষা করেছিলেন। সুতরাং তাবিজ না করে আল্লাহর উপরে ভরসা করুন।