স্বপ্ন ভঙ্গ টটেনহ্যামের, কোয়ার্টার ফাইনালে জুভেন্টাস ..।।

টটেনহ্যামের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ৯০ হাজার দর্শকের সামনে জুভরা আবার যা দেখালো তাতে নিশ্চয় তাদের ‘ফুটবল তারুণ্য’ নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই।

প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ২-২ গোলে ড্রয়ের পর টটেনহ্যামের মাঠে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইতালির অন্যতম সেরা এই দলটি।

প্রথমার্ধের শেষের দিকে গোল খেয়েও ২-১ গোলের জয় পেয়েছে জুভরা। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ গোলের ব্যবধান উঠে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে।ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়েছে টটেনহ্যাম খেলোয়াড় ও সমর্থকদের সাত বছর পরে চ্যাম্পিয়ন লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার স্বপ্ন।

টটেনহ্যামের জন্য গলার কাটা হয়ে থাকবে ম্যাচের ৬৪ ও ৬৭ মিনিট। পুরো ম্যাচে যে ওই তিন মিনিটই খেলার উপরে নিয়ন্ত্রণ ছিল না স্পারদের। ম্যাচের ৫৫ শতাংশ বল দখলে রেখেছে। জুভেন্টাসের গোলে নয় শটের বিপরীতে টটেনহ্যাম বুফনের পরীক্ষা নিয়েছে ২৩ বার। কর্ণারও পেয়েছে ছয়টি। যেখানে জুভদের কর্ণার সাকুল্যে একটি। কিন্তু ওই যে, তিন মিনিটের ব্যাখ্যা নেই স্পারদের কাছে।

হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর দেখা সর্বশ্রেষ্ঠ একটি স্বপ্ন !

হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রীতি ছিল এই যে, প্রতিদিন ফজরের নামাযের পর সাহাবীদের দিকে মুখ করে বসতেন এবং কেউ কোনো স্বপ্ন দেখেছে কি না বা কারো কিছু জিজ্ঞাসা আছে কি না জানতে চাইতেন।

কেউ কিছু জানতে চাইলে তাকে তিনি যথাযথ পরামর্শ দিতেন।

একদিন এরূপ জিজ্ঞাসা করার পর কেউ কিছু বলছে না দেখে তিনি নিজেই বলতে আরম্ভ করলেন।

আজ আমি অতি সুন্দর ও আশ্চর্য স্বপ্ন দেখেছি। দেখলাম, দুই ব্যক্তি আমার হাত ধরে আমাকে এক পবিত্র স্থানের দিকে নিয়ে চললো। কিছুদূর গিয়ে দেখলাম, এক ব্যক্তি বসে আছে আর অপর ব্যক্তি তার কাছে দাঁড়িয়ে আছে।

দাঁড়ানো লোকটির হাতে করাতের মত একখানা অস্ত্র আছে।

সেই করাত দিয়ে সে বসে থাকা লোকটির মাথা চিরে ফেলছে। একবার মুখের দিক দিয়ে করাত ঢুকিয়ে দিয়ে কেটে ফেলছে।

আবার বিপরীত দিক দিয়েও তদ্রুপ করছে।

এক দিক দিয়ে কাটার পর যখন অপর দিক দিয়ে কাটতে যায় তখন আগের দিক জোড়া লেগে স্বাভাবিক হয়ে যায়।

এ অবস্থা দেখে আমি আমার সঙ্গীদ্বয়কে জিজ্ঞেস করলাম, এ কি ব্যাপার? তারা বললো, সামনে চলুন।

কিছুদূর গিয়ে দেখলাম, একজন লোক শুয়ে আছে।

অপর একজন একখানা ভারী পাথর নিয়ে তার কাছে দাঁড়িয়ে আছে।

দাঁড়ানো লোকটি ঐ পাথরের আঘাতে শোয়া লোকটির মাথা চূর্ণবিচূর্ণ করে দিচ্ছে।

পাথরটি সে এত জোরে মারে যে, মাথাকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে সে অনেক দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে।

অতঃপর লোকটি যে পাথর কুড়িয়ে আনতে যায়, অমনি ভাঙ্গা মাথা জোড়া লেগে ভাল হয়ে যায়। সে ঐ পাথর কুড়িয়ে এনে পুনরায় মাথায় আঘাত করে এবং মাথা আবার চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায়। এইভাবে ক্রমাগত ভাঙ্গা ও জোড়া লাগার পর্ব চলছে।

এই লোমহর্ষক দৃশ্য দেখে আমি আতংকিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, ব্যাপারটা কি আমাকে খুলে বলুন। তারা কোনো জবাব না দিয়ে পুনরায় বললেন, আগে চলুন। কিছুদূর এগিয়ে গিয়ে দেখি, একটি প্রকান্ড গর্ত। গর্তটির মুখ সরু, কিন্তু অভ্যন্তর ভাগ অত্যন্ত গভীর ও প্রশস্ত।

এ যেন একটি জ্বলন্ত চুলো, যার ভেতর দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। আর তার ভেতরে বহুসংখ্যক নর-নারী দগ্ধীভূত হচ্ছে।

আগুনের তেজ এত বেশী যেন তাতে ঢেউ খেলছে। ঢেউয়ের সাথে যখন আগুন উচু হয়ে ওঠে, তখন ঐ লোকগুলো উথলে গর্তের মুখের কাছে চলে আসে। আবার যেই আগুন নীচে নেমে যায়, অমনি তারাও সাথে সাথে নীচে নেমে যায়।

আমি আতংকিত হয়ে সঙ্গীদ্বয়কে বললাম, বন্ধুগণ! এবার আমাকে বলুন ব্যাপারটি কি?

কিন্তু এবার তারাও কোনো জবাব না দিয়ে বললেন, আগে চলুন।

আমরা সামনে এগুতে লাগলাম। কিছুদূর গিয়ে দেখলাম, একটি রক্তের নদী বয়ে চলছে। তীরে একটি লোক দাঁড়িয়ে। তার কাছে স্তুপীকৃত রয়েছে কিছু পাথর। নদীর মধ্যে হাবুডুবু খেয়ে একটি লোক অতি কষ্টে কিনারের দিকে আসার চেষ্টা করছে। কিনারের কাছাকাছি আসামাত্রই তীরবর্তী লোকটি তার দিকে এত জোরে পাথর ছুঁড়ে মারছে যে, সে আবার নদীর মাঝখানে চলে যাচ্ছে। এভাবে ক্রমাগত তার হাবুডুবু খেতে খেতে কুলে আসার এবং কুল থেকে পাথর মেরে তাকে মাঝ নদীতে হটিয়ে দেয়ার কার্যক্রম চলছে। এমন নির্মম আচরণ দেখে আমি স্তম্ভিত হয়ে আমার সঙ্গীকে বললামঃ বলুন, এ কি ব্যাপার? কিন্তু এবারও তারা জবাব না দিয়ে বললেন, সামনে চলুন।

আমরা আবার এগুতে লাগলাম। কিছুদূর গিয়ে দেখলাম একটি সুন্দর সবুজ ‍উদ্যান।

উদ্যানের মাঝখানে একটি উঁচু গাছ। তার নীচে একজন বৃদ্ধ লোক বসে আছে।

বৃদ্ধকে বেষ্টন করে বসে আছে বহুসংখ্যক বালক বালিকা। গাছের অপর পারে আরো এক ব্যক্তি বসে রয়েছে। তার সামনে আগুন জ্বলছে। ঐ লোকটি আগুনের মাত্রা বাড়িয়ে চলেছে। সঙ্গীদ্বয় আমাকে গাছে উঠালেন। গাছের মাঝখানে গিয়ে দেখলাম একটি মনোরম প্রাসাদ। এত সুন্দর ভবন আমি আর কখনো দেখি নি। ঐ ভবনে বালক বালিকা ও স্ত্রী পুরুষ-সকল শ্রেণীর মানুষ বিদ্যমান।

সঙ্গীদ্বয় আমাকে আরো উপরে নিয়ে গেলেন। সেখানে আরো একটি মনোরম গৃহ দেখতে পেলাম। তার ভেতরে দেখলাম শুধু কিছু সংখ্যক যুবক ও বৃদ্ধ উপস্থিত। আমি সঙ্গীদ্বয়কে বললাম, আপনারা আমাকে নানা জায়গা ঘুরিয়ে অনেক কিছু দেখালেন।

এবার এ সবের রহস্য আমাকে খুলে বলুন।

সঙ্গীদ্বয় বলতে লাগলেনঃ প্রথম যে লোকটির মাথা করাত দিয়ে চেরাই করতে দেখলেন, তার মিথ্যা বলার অভ্যাস ছিল।

সে যে সব মিথ্যা রটাতো, তা সমগ্র সমাজে প্রসিদ্ধ হয়ে যেতো। কিয়ামত পর্যন্ত তার এরূপ শাস্তি হতে থাকবে।

তারপর যার মাথা পাথরের আঘাতে চূর্ণ বিচূর্ণ হতে দেখলেন, সে ছিল একজন মস্ত বড় আলেম।

নিজে কুরআন হাদীস শিখেছিল, কিন্তু তা অন্যকে শিখায়নি এবং নিজেও তদনুসারে আমল করে নি। হাশরের দিন পর্যন্ত তার এ রকম শাস্তি হতে থাকবে।

তারপর যাদেরকে আগুনের বদ্ধ চুলায় জ্বলতে দেখলেন তারা ব্যভিচারী নারী ও পুরুষ।

কিয়ামত পর্যন্ত তাদের এই আযাব চলতে থাকবে।

রক্তের নদীতে হাবুডুবু খাওয়া লোকটি দুনিয়ায় সুদ ও ঘুষ খেতো এবং এতিম ও বিধবার সম্পদ আত্মসাৎ করতো।

গাছের নীচে যে বৃদ্ধকে বালক বালিকা পরিবেষ্টিত দেখলেন, উনি হযরত ইবরাহীম এবং বালক বালিকারা হচ্ছে নাবালক অবস্থায় মৃত ছেলেমেয়ে। আর যাকে আগুন জ্বালাতে দেখলেন, তিনি দোযখের দারোগা মালেক। গাছের উপর প্রথম যে ভবনটি দেখেছেন, ওটা সাধারণ ঈমানদারদের বেহেশতের বাড়িঘর। আর দ্বিতীয় যে প্রাসাদটি দেখেছেন, তা হচ্ছে ইসলামের জন্য আত্মত্যাগকারী শহীদদের বাসস্থান।

আর আমি জিবরাঈল এবং আমার সংগী ইনি মিকাইল। অতঃপর জিবরীল আমাকে বললেন, উপরের দিকে তাকান। আমি ওপরের দিকে তাকিয়ে একখন্ড সাদা মেঘের মত দেখলাম। জিবরীল বললেন, ওটা আপনার বাসস্থান।

আমি বললাম, আমাকে ঐ বাড়িতে যেতে দিন। জিবরীল বললেন, এখনো সময় হয় নি। পৃথিবীতে এখনো আপনার আয়ুকাল বাকী আছে। দুনিয়ার জীবন শেষ হলে আপনি ওখানে যাবেন।

শিক্ষাঃ এ হাদীসটিতে রাসূল(সা) কে স্বপ্নের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধের পরকালীন শাস্তির নমুনা দেখানোর বিবরণ রয়েছে।

নবীদের স্বপ্ন ওহীর অন্তর্ভুক্ত এবং অকাট্য সত্য। সুতরাং এ শাস্তির ব্যাপারে আমাদের সুদৃঢ় ঈমান রাখা এবং এগুলিকে স্মরণে রেখে এসব অপরাধ থেকে নিবৃত্ত থাকা উচিত। বিশেষতঃ এমন কয়েকটি অপরাধের ওপর এখানে আলোকপাত করা হয়েছে, যা সামাজিক অপরাধের অন্তর্ভুক্ত।

অর্থাৎ যা গোটা সমাজকে অন্যায় ও অনাচারের কবলে নিক্ষেপ করে। যেমনঃ মিথ্যাচার, সুদ, ঘুষ ও পরের অর্থ আত্মসাৎ করা এবং ইসলামের প্রত্যক্ষ জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও তা প্রচারে বিমুখ হওয়া ও সে অনুসারে আমল না করা।

একজন মিথ্যাবাদী যেমন মিথ্যা গুজব, অপবাদ ও কুৎসা রটিয়ে জনমতকে বিভ্রান্ত, বিপথগামী ও গোটা দেশবাসীকে অন্যায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্ররোচিত করে থাকে।

একজন আলেম তেমনি তার নিষ্ক্রিয়তা ও বদআমলী দ্বারা অন্য যে কোনো খারাপ লোকের চেয়ে সমাজকে অধিকতর অপকর্মে প্ররোচিত করে থাকে।

আর পরের সম্পদ আত্মসাৎকারী এবং সুদখোর ও ঘুষখোর যে গোটা সমাজকে কিভাবে জুলুম, নিপীড়ন ও শোষণ করে তা

ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না।