১৬ টি কুফরি বাক্য যা না জেনে আমরা নিয়মিত বলে থাকি, প্রত্যেক মুসলিমের জেনে রাখা উচিৎ…

১৬ টি কুফরি বাক্য যা আমরা নিয়মিত বলে থাকি, জেনে রাখা উচিৎ প্রত্যেক মুসলিমের!!- না জেনে বুঝে এসব সমাজে প্রচলিত বাক্য আমরা প্রায়ই বলে ফেলি , জেনে নিন সেগুলো …

১. আল্লাহর সাথে হিল্লাও লাগে।

২. তোর মুখে ফুল চন্দন পড়ুক।

( ফুল চন্দন হিন্দুদের পুজা করার সামগ্রী)

৩. কস্ট করলে কেস্ট মেলে

( কেস্ট হিন্দু দেবির নাম, তাকে পাবার জণ্য কস্ট করছেন?)

৪. মহভারত কি অশুদ্ধ হয়ে গেল?

( মহাভারত একটি উপন্যাস, যা সবসময় অশুদ্ধ)

৫. মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত।

( এটি ইসলামের নামে কটূক্তি করা)

৬. লক্ষী ছেলে, লক্ষী মেয়ে, লক্ষী স্ত্রী বলা।

( হিন্দুদের দেব-দেবির নাম লক্ষী তাই ইসলামে এটি হারাম)

৭. কোন ঔষধকে জীবন রক্ষকারী বলা।

( জন্ম- মৃত্য

একমাত্র আল্লাহর হাতে)

৮. দুনিয়াতে কাউকে শাহেনসা বলা।

৯. নির্মল চরিত্র বোঝাতে ধোয়া তুলশি পাতা বলা।

( এটি অনইসলামিক পরিভাষা যা হারাম)

১০. ইয়া খাজাবাবা, ইয়া গাঊস, ইয়া কুতুব ইত্যাদি বলা।

( এটি শির্ক, ইসলামের সবচেয়ে বড় পাপ)

১১. ইয়া আলি, ইয়া রাসুল (সাঃ) বলে ডাকা এবং সাহায্য প্রার্থনা করা (আল্লাহ ছাড়া পৃথীবির কাউকে ডাকা শির্ক)

১২. বিসমিল্লায় গলদ বলা।

( এটি সরাসরি কুফরি)

১৩. মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়া বলা।

( কুফরি বাক্য, সাবধান। )

১৪. মধ্যযুগি বর্বরতা বলা।

( মধ্যযুগ ইসলামের সর্ণযুগ)

১৫. মন ঠিক থাকলে পর্দা লাগে না।

( ইসলাম ধংসকারী মতবাদ)

১৬. নামাজ না পড়লে ঈমান ঠিক আছে বলা।

( ইসলাম থেকে বের করার মূলনিতী। )

এই গুলি অজ্ঞতার কারনে হয়ে থাকে। হে মুসলিম উম্মাহ আসুন আমরা নিজে অতপর নিজের পরিবারকে সচেতন করি, তাদের মাঝে এই গুলি প্রচার করি, আর কত দিন এই অজ্ঞতায় পড়ে থাকবো?

আসুন না একজন আরেকজন কে সচেতন করার জন্য উৎসাহ দেই,

এই বাক্য গুলি আপনি যে কোন ভাবে প্রচার করুন।

মদের বোতলে রাখা পানি পান করা যাবে কী ? ইসলাম কি বলে !!

যেসব বস্তু সেবনে উন্মত্ততা সৃষ্টি হয় ও বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে অথবা বোধশক্তির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে, পরিভাষায় সেগুলোকে মাদকদ্রব্য বলা হয়। ইসলাম সব ধরনের মাদকতা তথা নেশাদ্রব্য হারাম ঘোষণা করেছে। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক নেশাদ্রব্যই মদ, আর যাবতীয় মদই হারাম।’ (মুসলিম ও মেশকাত, হাদিস : ৩৬৩৮)

মাদকাসক্তির কারণে সব জনপদেই চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বেড়ে গিয়ে মানুষের জান-মাল ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। সমাজের বেশির ভাগ অপরাধের জন্য মুখ্যভাবে দায়ী এই মাদকতা। এ জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মদ পান কোরো না। কেননা তা সব অপকর্মের চাবিকাঠি।’ (ইবনে মাজাহ : হাদিস : ৩৩৭১)

ইসলামপূর্ব আরবে মাদকতা মহামারির আকার ধারণ করেছিল। এ অবস্থা থেকে তাদের ফিরিয়ে আনতে ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে মাদকতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুরা বাকারার ২১৯ নম্বর আয়াতে মাদকতা ও জুয়া খেলাকে মহাপাপ বলা হয়েছে। এরপর সুরা নিসার ৪৩ নম্বর আয়াতে মদ্য পান করে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। তারপর সুরা মায়েদার ৯০-৯১ নম্বর আয়াতে মদ চিরতরে হারাম করে দেওয়া হয়েছে। সুরা মায়েদার ৯০ নম্বর আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘তোমরা এসব (মদ, জুয়া ইত্যাদি) থেকে বিরত থাকো। ’ কোরআনের পাশাপাশি বহু হাদিসেও মদ পান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মদ পানকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না। ’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৩৭৬)

মদ ও মাদকদ্রব্য কিছুতেই ইসলামের সঙ্গে যায় না। মদের সঙ্গে সম্পৃক্ত দশ শ্রেণির মানুষকে হাদিসে অভিশাপ দেওয়া হয়েছে। তারা হলো, মদের নির্যাস বেরকারী, মদ্যপায়ী, পরিবেশক, বিক্রেতা, ক্রেতা, উৎপাদনকারী কর্মচারী, উৎপাদক, পরিবাহক, আমদানিকারক ও লভ্যাংশ ভোগকারী। (তিরমিজি ও মেশকাত, হাদিস : ২৭৭)

প্রশ্ন হলো, মদ যখন এতই ঘৃণিত বস্তু, তাহলে যেসব বোতলে মদ রাখা হয়, সেসব বোতলে পানি রেখে তা পান করা কি বৈধ? দেখা যায়, বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে বা অতিথিশালায় মদের বোতলে রাখা পানি পান করতে দেওয়া হয়, এমতাবস্থায় করণীয় কী?

এ প্রশ্নের জবাব হলো, যদি ভালোভাবে মদের বোতল পরিস্কার করা হয়, এর মধ্যে মদের কোনো চিহ্ন না থাকে, তাহলে এমন পাত্র বা বোতলে রাখা পানি পান করা বৈধ। যদিও ইসলামের প্রথম যুগে মদের পাত্রে রাখা পানি পান করতে নিষেধ করা হয়েছিল। ইসলামের প্রথম যুগে মূলত ৩টি কারণে মদের পাত্রে রাখা পানি পান করতে নিষেধ করা হয়েছিল।

এক. সেসব পাত্রে মদের চিহ্ন অবশিষ্ট ছিল।

দুই. সে সময় সবেমাত্র মদ হারাম করা হয়েছিল। তাই মদের পাত্রে পানি পান করলে মদের কথা স্বরণ হয়ে যেতে পারত। তাই সতর্কতামূলক এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।

তিন. মদের প্রতি যেন পরিপূর্ণ ঘৃণা সৃষ্টি হয়, সেজন্য তখন মদের পাত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে যখন মদ হারাম হওয়ার বিষয়টি সবার জানা হয়ে যায়, এবং সাহাবিদের মধ্যে মদের প্রতি প্রচন্ড ঘৃণা জন্মে যায়, তখন ওই সব পাত্র ভালোভাবে পরিস্কার করে তাতে রাখা পানি পান ইত্যাদি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। (তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম : ৩/৩৫১)

এ প্রসঙ্গে একটি হাদিস পাওয়া যায়। হজরত বুরাইদা (রা.) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‌’আমি তোমাদের কিছু পাত্রের ব্যাপারে (মদ রাখার পাত্র) নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলাম। আসলে পাত্র কোনো কিছুকে হালাল বা হারাম করতে পারে না। তবে প্রতিটি মাদকদ্রব্য হারাম।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর : ৫৩২৬, তিরমিজি, হাদিস নম্বর : ১৮৬৯)

উল্লিখিত হাদিস থেকে জানা যায়, মদের বোতল বা পাত্র ভালোভাবে পরিস্কার করে তাতে পানি রাখলে সে পানি পান করা বৈধ।

প্রত্যেক মুসলিমের জেনে রাখা উচিৎ ..১৬ টি কুফরি বাক্য যা আমরা নিয়মিত বলে থাকি…!!

না জেনে বুঝে সমাজে কিছু প্রচলিত বাক্য আমরা প্রায়ই বলে ফেলি।

১৬ টি কুফরি বাক্য যা আমরা নিয়মিত বলে থাকি, জেনে রাখা উচিৎ প্রত্যেক মুসলিমের!

জেনে নিন সেগুলো …

১. আল্লাহর সাথে হিল্লাও লাগে।

২. তোর মুখে ফুল চন্দন পড়ুক।

( ফুল চন্দন হিন্দুদের পুজা করার সামগ্রী)

৩. কস্ট করলে কেস্ট মেলে

( কেস্ট হিন্দু দেবির নাম, তাকে পাবার জণ্য কস্ট করছেন?)

৪. মহভারত কি অশুদ্ধ হয়ে গেল?

( মহাভারত একটি উপন্যাস, যা সবসময় অশুদ্ধ)

৫. মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত।

( এটি ইসলামের নামে কটূক্তি করা)

৬. লক্ষী ছেলে, লক্ষী মেয়ে, লক্ষী স্ত্রী বলা।

( হিন্দুদের দেব-দেবির নাম লক্ষী তাই ইসলামে এটি হারাম)

৭. কোন ঔষধকে জীবন রক্ষকারী বলা।

( জন্ম- মৃত্য

একমাত্র আল্লাহর হাতে)

৮. দুনিয়াতে কাউকে শাহেনসা বলা।

৯. নির্মল চরিত্র বোঝাতে ধোয়া তুলশি পাতা বলা।
( এটি অনইসলামিক পরিভাষা যা হারাম)

১০. ইয়া খাজাবাবা, ইয়া গাঊস, ইয়া কুতুব ইত্যাদি বলা।

( এটি শির্ক, ইসলামের সবচেয়ে বড় পাপ)

১১. ইয়া আলি, ইয়া রাসুল (সাঃ) বলে ডাকা এবং সাহায্য প্রার্থনা করা (আল্লাহ ছাড়া পৃথীবির কাউকে ডাকা শির্ক)

১২. বিসমিল্লায় গলদ বলা।

( এটি সরাসরি কুফরি)

১৩. মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়া বলা।

( কুফরি বাক্য, সাবধান। )

১৪. মধ্যযুগি বর্বরতা বলা।

( মধ্যযুগ ইসলামের সর্ণযুগ)

১৫. মন ঠিক থাকলে পর্দা লাগে না।

( ইসলাম ধংসকারী মতবাদ)

১৬. নামাজ না পড়লে ঈমান ঠিক আছে বলা।

( ইসলাম থেকে বের করার মূলনিতী। )

এই গুলি অজ্ঞতার কারনে হয়ে থাকে। হে মুসলিম উম্মাহ আসুন আমরা নিজে অতপর নিজের পরিবারকে সচেতন করি, তাদের মাঝে এই গুলি প্রচার করি, আর কত দিন এই অজ্ঞতায় পড়ে থাকবো?

আসুন না একজন আরেকজন কে সচেতন করার জন্য উৎসাহ দেই,

এই বাক্য গুলি আপনি যে কোন ভাবে প্রচার করুন।

আয়াতুল কুরসি লেখা কাগজ ঘরে ঝুলিয়ে রাখা যাবে কি ?

পবিত্র কোরআনের ১১৪টি সূরার ৬৬৬৬টি আয়াতের সবই ফজিলতপূর্ণ। প্রত্যেকটি আয়াতের রয়েছে আলাদা আলাদা তাৎপর্য ও রহস্য। তার পরও সূরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতটিকে কোরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত বলা হয়। আয়াতটি সমাজে আয়াতুল কুরসি নামে বেশি পরিচিত।

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজ শেষে আয়াতুল কুরসি পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাঁধা থাকে না। -নাসাই শরিফ

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সূরা বাকারায় একটি শ্রেষ্ঠ আয়াত রয়েছে, সেটি হলো আয়াতুল কুরসি। যে ঘরে এটি পাঠ করা হবে সেখান থেকে শয়তান পালাতে থাকে। -মুসতাদরাকে হাকিম

আয়াতুল কুরসির এমন ফজিলতের কথা ভেবে অনেকেই ঘরে আয়াতুল কুরসির লিখিত কাগজ বাঁধাই করে ঝুলিয়ে রাখেন। অনেকে এটাকে খুব গুরুত্বও দেন। কিন্তু এভাবে ঘরে আয়াতুল কুরসি লিখিত কাগজ বাঁধাই করে রাখার আলাদা কোনো উপকারিতা, সুফল কিংবা ফজিলত নেই।

ইসলামি স্কলারদের অভিমত হলো, আয়াতুল কুরসি কোরআনে কারিমের একটি আয়াত বৈ অন্য কিছু নয়। কোরআনে কারিমে এ ছাড়া আরও আয়াত রয়েছে। মুসলমানের ঘরে ঘরে রয়েছে কোরআন। মনে রাখবে, কোরআন ঘরে রাখার মাঝে আলাদা কোনো ফজিলত নেই। ঘরে রাখা কোরআনে কারিম তেলাওয়াত করলেই কেবল ঘরে কোরআন রাখা স্বার্থক হবে। কোরআন তেলাওয়াত না করে কোথাও কোরআনের আয়াত লিখে তা ঝুলিয়ে রাখার কথা বলা হয়নি।

যেহেতু ঘরে কোরআন রয়েছে, তাহলে আবার আয়াতুল কুরসি লিখে বিশেষভাবে ঝুলিয়ে রাখা কেন? এটা আসলে দৃষ্টিভঙ্গিগত বিষয়। এমন কাজ শুদ্ধ নয়, সঠিক কাজ নয়।

আর যদি কোনো ধরনের প্রভাব থেকে ঘরকে মুক্ত রাখার নিয়তে এমন কাজ করতে হয়, সেক্ষেত্রে উত্তম হলো- কোরআনে কারিমের এই আয়াত তেলাওয়াত করা। আয়াতুল কুরসি বেশি বেশি করার অনেক ফজিলত।

যদি নিরাপত্তার জন্য এবং কোনো ধরনের প্রভাব থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার জন্য এ আয়াত তেলাওয়াত করতে হয়, তা যথাসম্ভব উচ্চআওয়াজে তেলাওয়াত করা। এভাবে কোরআন তেলাওয়াত করে ফায়দা নেওয়া। তেলাওয়াত না করে তা শুধু লিখে রাখার আলাদা কোনো ফজিলত নেই।

কোরআন তেলাওয়াত না করলে, কোরআনের বিধান না মানলে শুধু আয়াতুল কুরসি কেন- পুরো কোরআন লিখে ঝুলিয়ে রাখলেও এর মাধ্যমে কোনো সওয়াব হবে না। এমন কাজ সমাজের মানুষে আবেগের বশে করে থাকে।

আল্লাহর কালাম তো অবতীর্ণ হয়েছে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে। এর কাজ কী হবে, এর হক কী হবে- এগুলো স্পষ্ট করে আল্লাহতায়ালা জানিয়ে দিয়েছেন। সেগুলো না করে কোরআন কিংবা কোরআনের আয়াতের এমন ব্যবহার মূলত কোরআনে কারিমকে অবমাননা ছাড়া আর কিছুই নয়। এ কাজ থেকে সবার বিরত থাকা আবশ্যক।

দাড়ি রাখা সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা দূর করুন…!!

আমাদের দেশে দাড়ি রাখা সম্পর্কে
একটি ভ্রান্ত ধারণা আছে, সেটা হল
”দাড়ি রাখা সুন্নত; অতএব দাড়ি রাখলে ভাল
আর না রাখলেতেমন কোন সমস্যা
নেই, একটা সুন্নত পালন করা হল না এই
আর কি।” জেনে রাখুন, এটা সম্পূর্ণ
একটা ভুল ধারণা।
দাড়ি রাখা কোন অর্থে সুন্নত আর
কোন অর্থে ফরয বা ওয়াজিব আগে
সেটা বুঝার চেষ্টা করুন। ইসলামে
শরীয়তের বিধানের প্রধান সুত্র
হচ্ছে কুরআন ও রাসুল (সাঃ) এর সহীহ
সুন্নাহ অর্থাৎ সহীহ হাদিস। পবিত্র
কুরআনে আল্লাহ্পাক যেসকল বিষয়ে
আদেশ দিয়েছেন ও নিষেধ
করেছেন তা পালন করা আমাদের জন্য
ফরয। আশা করি বিষয়টি সকলের কাছেই
পরিষ্কার অর্থাৎ বুঝতে কষ্ট হবার কথা
নয়।
এবার আসুন, দাড়ি রাখা কোন অর্থে
সুন্নত আর কোন অর্থে ফরয বা
ওয়াজিব সেটা জানার ও বুঝার চেষ্টা করি।
আল্লাহ্পাক পবিত্র কুরআনে বহু
আয়াতে রাসুল (সাঃ) এর নির্দেশ মেনে
চলার জন্য আমাদের বলেছেন। তাঁর
মানে হল, রাসুল (সাঃ) যে সকল বিষয়ে
আমাদের আদেশ ও নিষেধ
করেছেন তা মেনে চলাও আমাদের
জন্য ফরয/ওয়াজিব । কুরআনের
আয়াতগুলো এখানে দেয়া হল –
রাসূলের আহবানকে তোমরা
তোমাদের একে অপরকে
আহ্বানের মত গণ্য করো না। আল্লাহ
তাদেরকে জানেন, যারা তোমাদের
মধ্যে চুপিসারে সরে পড়ে। অতএব
যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে,
তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে,
বিপর্যয় তাদেরকে স্পর্শ করবে
অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদেরকে
গ্রাস করবে। [আন-নুরঃ ৬৩]
আর তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ ও
রাসূলের, যাতে তোমাদের উপর
রহমত করা হয়। [আল-ইমরানঃ ১৩২]
যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস,
তাহলে আমাকে [মুহাম্মদ সঃ] অনুসরণ
কর, যাতে আল্লাহও তোমাদিগকে
ভালবাসেন [আল ইমরানঃ ৩১]
হে ঈমানদারগণ, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের
নির্দেশ মান্য কর এবং শোনার পর তা
থেকে বিমুখ হয়ো না। [আল-আনফালঃ
২০]
আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের
আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ
ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন
ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর
রসূলের আদেশ অমান্য করে সে
প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট তায় পতিত হয়। [সূরা
আল আহজাবঃ ৩৬]
বলুনঃ আল্লাহর আনুগত্য কর এবং
রসূলের আনুগত্য কর। অতঃপর যদি
তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তার
উপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্যে সে
দায়ী এবং তোমাদের উপর ন্যস্ত
দায়িত্বের জন্যে তোমরা দায়ী।
তোমরা যদি তাঁর আনুগত্য কর, তবে সৎ
পথ পাবে। রসূলের দায়িত্ব তো
কেবল সুস্পষ্টরূপে পৌছে দেয়া।
[আন-নুরঃ ৫৪]
রাসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা
গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা
থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয়
কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।
[আল-হাশরঃ ৭]
দাড়ি রাখার জন্য রাসুল (সাঃ) এর নির্দেশ –
ইবনে ওমর (রাঃ) সূত্রে নবী
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে
বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তোমরা
মুশরিকদের বিপরীত করবেঃ দাড়ি লম্বা
রাখবে, গোঁফ ছোট করবে ।
(বুখারী শরীফ, নবম খণ্ড, হাদিস নং –
৫৪৭২ ইফা)
তাহলে বুঝা গেল যে, শরীয়তের
বিধানের দ্বিতীয় সুত্র যেহেতু
সহীহ হাদিস কাজেই সেই অর্থে দাড়ি
রাখা সুন্নত। আর পবিত্র কুরআনে
আল্লাহ্পাক রাসুল (সাঃ) এর আদেশ ও
নিষেধ মেনে চলার জন্য সরাসরি
নির্দেশ দিয়েছেন কাজেই সেই
অর্থে রাসুল (সাঃ) এর নির্দেশ মেনে
চলা আমাদের জন্য ফরয। আরও একটি
বিষয় সরন রাখা প্রয়োজন যে, রাসুল
(সাঃ) জিবরাঈল (আঃ) এর মাধ্যমে প্রাপ্ত
আল্লাহ্পাকের নির্দেশ ব্যতিত কোন
কথা বা কাজের নির্দেশ বা নিষেধ
করতেন না।
দাড়ি রাখা সম্পর্কে উলামাগনের কেউ
বলেছেন যে, দাড়ি রাখা ফরজ। কারন
রাসূল (সা) আল্লাহ্ তা’আলার নির্দেশ
ব্যতিত কোন কথা বলতেন না আর তাই
দাড়ি রাখার ব্যাপারে রাসূল (সা) এর নির্দেশ
মানে আল্লাহ্ তা’আলারই নির্দেশ। আবার
কেউ বলেছেন যে, দাড়ি রাখা ওয়াজিব
আবার কেউ বলেছেন সুন্নাতে
মুয়াক্কাদা। আল্লাহ্ তা’আলা ভাল জানেন।
আশা করি, এবার সকলের দাড়ি রাখার
বিষয়ে আর কোন সন্দেহ থাকবে না।
আল্লাহ্পাক আমাদের সকলকে কুরআন
ও সহীহ সুন্নাহ মেনে জীবন চলার
তৌফিক দান করুন। আমীন।
দাড়ির বিধানটি শরীয়তের একটি মৌলিক ও
সাধারণ বিধান। একে নিছক আরবীয়
রীতি বা বিশেষ স্থান-কালের মধ্যে
সীমাবদ্ধ মনে করা মারাত্মক ভ্রান্তি।
সব কিছু আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা
জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন –
আমি প্রত্যেক বস্তু জোড়ায়
জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা
হৃদয়ঙ্গম কর। [আয-যারিয়াতঃ ৪৯]
পবিত্র তিনি যিনি যমীন থেকে উৎপন্ন
উদ্ভিদকে, মানুষকে এবং যা তারা জানে
না, তার প্রত্যেককে জোড়া জোড়া
করে সৃষ্টি করেছেন। [ইয়াসিনঃ ৩৬]
আমি (আল্লাহ) তোমাদেরকে জোড়া
জোড়া সৃষ্টি করেছি [আন্-নাবাঃ আয়াত ৮]
উপরের আয়াতত্রয় অনুযায়ী দাড়ির
মাধ্যমে মানুষকে দুই ভাগে ভাগ করা
যায়-
যথাঃ ১) দাড়িযুক্ত মানুষ (পুরুষ) ও ২)
দাড়িবিহীন মানুষ (মহিলা)।
কোন পুরুষকে যদি বলা হয় আপনি কি
মহিলা হতে চান ? কোন বিবেকবান
লোকই তা চাবে না । তাহলে আমরা
কেন আল্লাহ ও রাসুলের নির্দেশের
বিপরীত কাজ করি । অর্থাৎ দাড়ি ক্লিন
করে মহিলাদের আকার ধারন করি!!
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা বলেন,
“আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই
। ” [আর-রুমঃ ৩০]
এ প্রসঙ্গে শয়তানের একটা উদ্ধত
ঘোষণাও আল্লাহ তাআলা বান্দাদেরকে
জানিয়ে দিয়েছেন । আল্লাহ তা’আলা
বলেন,
শয়তান বললঃ আমি অবশ্যই তোমার
বান্দাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট অংশ
গ্রহণ করব। তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব,
তাদেরকে আশ্বাস দেব; তাদেরকে
পশুদের কর্ণ ছেদন করতে বলব এবং
তাদেরকে আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতি
পরিবর্তন করতে আদেশ দেব। যে
কেউ আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে
বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, সে প্রকাশ্য
ক্ষতিতে পতিত হয়। [আন-নিসাঃ ১১৮-১১৯]
”এবং তাদেরকে আদেশ করব, ফলে
তারা আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করবে।”
আয়াতের এ অংশের আলোচনায়
শাববীর আহমদ উসমানী রাহ.
বলেছেন, ‘দাড়ি মুন্ডানোও এ আকৃতি
পরিবর্তনের মধ্যে পড়ে ।’ (দেখুন :
তাফসীরে উসমানী (মূল) পৃ. ১২৫;
(অনুবাদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১/৪৪৬)
আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করার
প্রসঙ্গে তাফসীরে বয়ানুল কুরআন
বলেছেন, এটা ফাসেকী
কাজকর্মের অন্তর্ভুক্ত । যেমন দাড়ি
মুন্ডানো, শরীরে উল্কি আঁকা ইত্যাদি
।-তাফসীরে বয়ানুল কুরআন ১/২/১৫৭
বিখ্যাত তাবেয়ী ইমাম উবায়দুল্লাহ ইবনে
আবদুল্লাহ ইবনে উতবা রাহ. বলেন,
জনৈক অগ্নিপূজক আল্লাহর রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট
এসেছিল। তার দাড়ি মুন্ডানো ছিল ও
মোচ লম্বা ছিল। আল্লাহর রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
‘এটা কী?’ সে বলল, ‘এটা আমাদের
ধর্মের নিয়ম।’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘কিন্তু
আমাদের দ্বীনের বিধান, আমরা
মোচ কাটব ও দাড়ি লম্বা
রাখব।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা
১৩/১১৬-১১৭, হাদীস : ২৬০১৩)
পারস্যের সম্রাট কিসরা ইয়েমেনের
শাসকের মাধ্যমে রসুলুল্লাহ (সাঃ) এর
কাছে দু’জন দূত পাঠান। এদের দাড়ি ছিল
কামানো আর গোঁফ ছিল বড় বড়।
রসুলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে তাদের এই
অবয়ব এতই কুৎসিত লেগেছিল যে তিনি
মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে জিজ্ঞাসা
করেন, তোমাদের ধ্বংস হোক,
এমনটি তোমাদের কে করতে
বলেছে? তারা উত্তর দিল, আমাদের
প্রভু কিসরা। তিনি (সাঃ) তখন উত্তর দেন,
আমার রব্ব, যিনি পবিত্র ও সম্মানিত
আদেশ করেছেন যেন আমি দাড়ি
ছেড়ে দেই এবং গোঁফ ছোট রাখি।
(ইবনে জারির আত তাবারি, ইবন সা’দ ও
ইবন বিশরান কর্তৃক নথিকৃত। আল আলবানি
এক হাসান বলেছেন। দেখুন আল
গাযালির ফিক্বহুস সিরাহ ৩৫৯ পৃষ্ঠা)

* দাড়ি রাখা যাই হোক না কেন প্রকৃত
মুসলমান দাড়ি রাখবে, এটাই স্বাভাবিক ।
আমাদের দাড়িতে মানাক বা না মানাক আমরা
আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ) কে ভালবেসে
দাড়ি রাখব ।
এখন আপনি নিজেই ভেবে দেখুন,
আপনি কি করবেন। আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ)
এর নির্দেশ মানবেন নাকি সমাজের
মানুষের কাছে লজ্জার ভয়ে কিংবা
কাফির-মুশরিকদের অন্ধ অনুসরণ
করবেন?