জেনে নিন… মৃত্যুর পরও যে সকল আমল চলমান থাকে !!!

‘কুল্লু নাফসিন জায়েক্বাতুল মাউত’ অর্থাৎ প্রত্যেক জানদারকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে। মানুষ এক সময় মৃত্যুবরণ করে চলে যাবে পরপারে। যেমনিভাবে চলে গেছে আমাদের পূর্ববর্তীরা। চলে যাব আমরা। আমাদের পরে যারা আসবে তারাও মৃত্যু বরণ করবে। মৃত্যুর এ ধারা থাকবে বহমান। মৃত্যু পরকালীন জীবনে মানুষের কোনো নেক আমল করার সুযোগ নেই। কিন্তু এমন কিছু কাজ রয়েছে যা করলে কিয়ামত পর্যন্ত তার ছাওয়াব বা প্রতিদান বহমান থাকবে। এ বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদিস তুলে ধরা হলো :

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,‘যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তিনটি আমল ব্যতীত। এই তিনটি আমল হলো, প্রবহমান ছাদাকা, এমন ইলম যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় এবং এমন সুসন্তান যে তার জন্য দোয়া করে। (মুসলিম, তিরমিজি, মিশকাত)

১ প্রবাহমান ছাদাকা
এমন দান-অনুদান করা। এই অনুদানের অস্তিত্ব যতদিন থাকবে, তার ছাওয়াবা বা প্রতিদান ততদিন চলতে থাকবে। হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে মুসলিম অপর মুসলিমকে একটি কাপড় পড়াবে, যতক্ষণ ঐ কাপড়ের একটি টুকরাও তার গায়ে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত দানকারী আল্লাহর হেফাজতে থাকবে (মিশকাত)

২ উপকারী ইলম
যে ইলম আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা প্রচারে কাজে আসে। যে ইলমে আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বীনে দাওয়াতে কাজে আসে। যে লোক ইলম অর্জন করে সে ইলম অন্যকে শিক্ষা দিয়ে যায়। এভাবে ধারা চলতে থাকে যতদিন এ ধারা অব্যাহত থাকবে এর ছাওয়াব বা প্রতিদান মৃতব্যক্তি পেতে থাকবে।

৩ . সু-সন্তান-
মানুষ মৃত্যুর পূর্বে যদি এমন সন্তান রেখে যায়, যে সন্তান ইসলামের খেদমতে তথা আল্লাহর বিধি-বিধান পালন করে। নামাজ রোজাসহ আল্লাহর আনুগত্য হয়ে কাজ করে। সে সন্তানের দোয়া পিতা-মাতার আমল নামায় যোগ হতে থাকে। এভাবে প্রত্যেক সন্তান যদি তার পরবর্তী প্রজন্মকে সৎ শিক্ষা দিয়ে যান। যতদিন এ ধারা অব্যাহত থাকবে। তার আমল নামায় এর ছাওয়াব বা প্রতিদান যোগ হতে থাকবে।

পরিশেষে :
আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা, পৃথিবীতে প্রতি মানুষকে মৃত্যুর পূর্বে এই তিনটি আমল বা এর কোনো একটি করার তাওফিক দান করেন। আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথে মতে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

রাসুল (সা:) এর মৃত্যুর করুন কাহিনি !

ফাতিমা (রাঃ) তার চোখ বন্ধ করে ফেললেন,আলী (রাঃ)তার দিকে উপুড় হয়ে বসলেন,জিবরাঈল তার মুখটা উল্টা দিকে ফিরিয়ে নিলেন।মোহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনের শেষ মূহুর্ত চলছে। হঠাৎ সেখানে একজনলোক এসে বললেন’সালাম’আমি কি ভিতরে আসতে পারি?ফাতিমা (রাঃ)বললেন,দুঃখিত আমার পিতা খুবই অসুস্থ।ফাতিমা (রাঃ)দরজা বন্ধ করে রাসূলের কাছে গেলেন।
মুহাম্মদ (সাঃ)বললেন,কে সেই লোক?ফাতিমা বললেন, এইপ্রথম আমি তাকে দেখেছি।আমি তাকে চিনি না।রাসূল বললেন”শুনো ফাতিমা,সে হচ্ছে আমাদের এই ছোট্ট জীবন কবজ করা ফেরেশতা “আজরাঈল।”এটা শুনে ফাতিমার অবস্থা তখন ক্রন্দনরত বোবার মতো হয়ে গিয়েছে।

রাসূল (সাঃ)বললেন,হে জিবরাঈল আমার উম্মতের কি হবে?আমার উম্মতের নাজাতের কি হবে?জিবরাঈল (আঃ) বললেন,”হে রাসুল আপনি চিন্তা করবেননা,আল্লাহ ওয়াদা করেছেন আপনার উম্মতের নাজাতের জন্যে।

”মৃত্যুর ফেরেশতা ধীরে ধীরে রাসূলের কাছে এলেন জান কবজ করার জন্যে।মালাইকাতমউত আজরাইল আরো কাছে এসে ধীরে ধীরে রাসূলের জান কবজ করতে থাকলেন।পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জিব্রাইলকে রাসূল বললেন,গোঙানির সাথে, “ওহ জিবরাঈল এটা কেমন বেদনা দায়ক জান কবজ করা।”ফাতিমা (রাঃ) তার চোখ বন্ধ করে ফেললেন,আলী (রাঃ)তার দিকে উপুড় হয়ে বসলেন,জিবরাঈল তার মুখটা উল্টা দিকে ফিরিয়ে নিলেন।রাসুল(সাঃ) বললেন,”হে জিবরাঈল তুমি মুখটা উল্টা দিকে ঘুরালে কেন?”আমার প্রতি কি তুমি বিরক্ত?জিবরাঈল বললেন, “হে রাসূলুল্লাহ সাকারাতুল মউতের অবস্থায় আমি আপনাকে কিভাবে দেখে সহ্য করতে পারি।”ভয়াবহ ব্যাথায় রাসূল ছোট্ট একটা গোঙানি দিলেন।

রাসূলুল্লাহ বললেন,হে আল্লাহ সাকারাতুলমউতটা (জান কবজের সময়)যতইভয়াবহ হোক,সমস্যা নেই,আমাকে সকল ব্যথা দাও আমি বরণ করবো,কিন্তু আমার উম্মাতকে ব্যথা দিওনা।“রাসূলের শরীরটা ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে আসতে লাগলো।তার পা, বুক কিছুই নড়ছে না এখন আর।রাসূলের চোখের পানির সাথে তার ঠোঁটটা কম্পিত ছিলো,তিনি কিছু বলবেন মনে হয়। আলি (রাঃ) তার কানটা রাসূলের মুখের কাছে নিয়ে গেলো।রাসূল বললেন,”নামাজ কায়েম করো এবং তোমাদের মাঝে থাকা দূর্বলদের যত্ন নাও।”রাসূলের ঘরের বাইরে চলছে কান্নার আওয়াজ,সাহাবীরা একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে উচ্চস্বরে কান্নারত।আলী (রাঃ) আবার তার কানটা রাসূলের মুখের কাছে ধরলো,রাসূল চোখ ভেজা অবস্থায় বলতে থাকলেন, “ইয়া উম্মাতি,ইয়া উম্মাতি,ইয়া উম্মাতি।” এই ছিল আমাদের মহানবী (সাঃ)মৃত্যুর সময়তার প্রার্থনা।