মৃত মানুষের গোসলের পানিতে বড়ই পাতা কেন দেওয়া হয় ??

সৃষ্টি শব্দটার সাথে শুরু শব্দটার যেমন মিল আছে, তেমনি শেষ শব্দটার সাথেও মৃত্যু শব্দটার অনেক মিল।

এই মৃত্যুর পরও রীতির অভাব নেই। কবরে নিয়ে দাফন সম্পন্ন করার আগে শেষ গোসলের রীতি অবশ্যই পালন করতে হয়। তবে এর মাঝেও পালন করার মত অনেক কিছু রয়েছে।

মৃতের গোসলের পানিতে বড়ই বা কুলপাতা দেয়া শরীয়ত সম্মত। অনেকে অবশ্য এটাকে ওয়াজিব বলে থাকে তবে এটা ওয়াজিব নয়। আলেমগণ হাদিসের নির্দেশকে মুস্তাহাব বলেছেন। কারণ কুলপাতা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য খুব কার্যকরী।

কুলপাতা না পাওয়া গেলে সাবান বা এ জাতীয় কিছু ব্যবহার করাই যথেষ্ট। ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ (রহ) উম্মে আতিয়্যা আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যা যায়নাব রা.-এর ইন্তিকাল হলে তিনি আমাদের কাছে এসে বললেন : তোমরা তাকে তিন, পাঁচ প্রয়োজন মনে করলে তার চাইতে অধিকবার বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও।

শেষবার কর্পূর বা (তিনি বলেছেন) কিছু কর্পূর ব্যবহার করবে। তোমরা শেষ করে আমাকে জানাও। আমরা শেষ করার পর তাকে জানালাম। তখন তিনি তাঁর চাদরখানা আমাদের দিয়ে বললেন: এটি তাঁর গায়ের সাথে জড়িয়ে দাও।

মানুষের কামড়ে বিষধর সাপের মৃত্যু…!! অবাক করা কাণ্ড ।।

সাপের কামড়ে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। তবে মানুষের কামড়ে সাপের মৃত্যুর ঘটনা কখনো শুনেছেন কি? এমনই অবাক করার মতো ঘটনা ঘটেছে ভারতের মধ্য প্রদেশের মরিনা জেলার সাবালপুর টেহসিলের পাছের গ্রামে।

ওই গ্রামের জালিম সিং কুশওহা নামের এক ব্যক্তি গত শনিবার নিজের খামারে কালো রঙের একটি সাপ দেখতে পান। তখন জালিম কিছুটা মাতাল অবস্থায় ছিলেন। তিনি সাপ ধরে কামড়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পরই সাপটি মারা যায় আর জালিম জ্ঞান হারান।

পরে গ্রামবাসী অচেতন অবস্থায় কুশওহাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালের চিকিৎসক রগভিন্দ্র যাদব বলেন, সাপটিকে কামড়ানোর পর ভয়ে ও আতঙ্কে অজ্ঞান হয়ে যান জালিম। আর সাপটি খুব বিষধর ছিল। যদি বিষ তাঁর রক্তে প্রবেশ করত, তা কুশওহার জন্য মারাত্মক হতে পারত।

তবে কুশওহা সুস্থ আছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এর আগে ভারতের উত্তর প্রদেশের এক ব্যক্তি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে এক বিষধর সাপের মাথায় কামড় দেন। এতে সাপটি মারা যায়।

মানুষের অঙ্গ-প্রতঙ্গের বেচাকেনা কি ঠিক ?? ইসলাম কি বলে !!

ইসলামী শরীয়ত কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানব অস্তিত্ব ও তার অঙ্গকে মূল্যযোগ্য সম্পদ হিসাবেও স্বীকার করেছে। যেমন, যদি কোনো মানুষকে হত্যা করা হয় অথবা তার কোনো অঙ্গ ধ্বংস করা হয় তাহলে তখন তার বিনিময়ে প্রদেয় অর্থকে শরীয়তের ভাষায় রক্তমূল্য বলা হয়। তবে এ বিষয়ে সকলেই একমত, কোনো স্বাধীন মানুষের পুরো অস্তিত্বের বেচাকেনা জায়েজ নেই। আর অতীতকালে মানুষের সৌন্দর্য রক্ষার জন্যে তো চুলের ব্যবহার ব্যাপকতর ছিল। তাই আমাদের ফকীহগণ চুলের বেচাকেনাকে নিষেধ করেছেন। আর এর কারণ হিসাবে উল্লেখ করেছেন, এতে করে মানুষের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়। (আল বাহরুর রায়েক)।

আল্লামা শামী (রহ.) চুলের সঙ্গে মানুষের নখেরও কেনা-বেচাকে নিষেধ করেছেন। (রদ্দল মুহতার) তবে দুধের বিষয়ে ফকীহগণের মতভিন্নতা রয়েছে। হানাফি ফকীহগণ মানবীয় মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে দুধের বেচাকেনাকেও নিষেধ করেছেন (আল বাহরুর রায়েক) অবশ্য ইমাম শাফঈ (রহ.) -এর দৃষ্টিতে প্রয়োজন অনুপাতে দুধের কেচাবেচাকে জায়েজ বলেছেন।

আমরা ইবনে কুদামা (রহ.) -এর ব্যাখ্যার আলোকেই বলা যায় কিছু শর্ত মেনে মানুষের অঙ্গ কেচাবেচা জায়েজ হবে। কেননা মূল কথা হলো- ১.বর্তমানে প্রচলিত চিকিৎসা-বিজ্ঞান মানুষের জন্য মর্যাদার হানিকর নয়। ২. সুতরাং কারও দৃষ্টি ফিরিয়ে আনা বা এ জাতীয় কোনো উপকারার্থে কিংবা কারও জীবন রক্ষার উদ্দেশ্যে কাউকে অঙ্গ দান জায়েজ। শর্ত হলো- অঙ্গদানের দ্বারা অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়ে উঠবে এমন প্রবল ধারণা থাকতে হবে। আর তা হতে হবে কোনো অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মতামত অনুযায়ী।

কোনো মৃত ব্যক্তির অঙ্গ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে শর্ত হলো- সেই তার শরীরের মালিক। অধিকন্তু তার ওয়ারিশদেরও এ বিষয়ে রাজি থাকতে হবে। কোনো জীবিত ব্যক্তির অঙ্গ গ্রহণের জন্য স্বয়ং তার অনুমতি লাগবে। তা ছাড়া সে অঙ্গ দিয়ে যেন বড় কোন ক্ষতির মধ্যে না পড়ে সে বিষয়ের প্রতিও খেয়াল রাখতে হবে। শাফঈ ও হাম্বলি আলেমগণের মতে, মানব অঙ্গের বেচাকেনা উভয়টিই জায়েজ। তবে হানাফি আলেমগণের মতে একান্ত অনুনোপ্যায় হয়ে পড়লে শুধু কেনা জায়েজ আছে, কিন্তু বেচা জায়েজ নেই। (জাদিদ ফিকহি মাসাইল)।