তিন শ্রেণীর নারীকে বিয়ে করলে সংসারে আল্লাহর গজব নেমে আসবে …জেনে নিন বিস্তারিত !!

এই তিন শ্রেণীর নারীকে বিয়ে করলে – ইসলামে তিন শ্রেনীর নারীদেরকে বিয়ে করতে মানা রয়েছে। যদি কেউ তা অমান্য করে তাহলে তাদের সংসারে আল্লাহ তায়ালা গজব নেমে আসবে।

যথাঃ

১) রক্ত সম্পর্কের কারনে হারাম, এই সম্পর্কের ৭ জন রয়েছে। (মা, কন্যা, বোন, ভাতিজী, ভাগিনী, খালা এবং ফুফু)।

২) দুগ্ধ সম্পর্ক বা দূধ পান করার কারনে হারাম, এই সম্পর্কেরও ৭ জন রয়েছে। (দূধ মা, দূধ কন্যা, দূধ বোন, দূধ ভাতিজী, দূধ ভাগিনী, দূধ খালা এবং দূধ ফুফু)।

৩) বৈবাহিক সম্পর্কের কারনে হারাম: সৎ মা, পুত্র বধু বা পৌত্র বধু (নাতির বউ), শ্বাশুড়ী, দাদি শ্বাশুড়ী বা নানী শ্বাশুড়ী এবং স্ত্রীর অন্য পক্ষের কন্যাসমূহ।

আরও দেখুনঃ
আয়াতুল কুরসির ফজিলত

Apr 4, 2018
এক সাহাবা এক মহিলার গোসল করার দৃশ্য দেখায় যা হয়ে ছিল তার…

Apr 2, 2018
অনুরুপভাবে, স্ত্রী ও তার বোন, স্ত্রী ও তার ফুফু, স্ত্রী ও তার খালাকে একত্রে বিবাহ করে একত্রে স্ত্রী হিসাবে রাখা হারাম।

মহান আল্লাহ বলেছেন, “যে নারীকে তোমাদের পিতা-পিতামহ বিবাহ করেছে তোমরা তাদের বিবাহ করো না।

কিন্তু যা বিগত হয়ে গেছে। এটা অশ্লীল, গযবের কাজ এবং নিকৃষ্ট আচরণ। তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, তোমাদের কন্যা, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভ্রাতৃকণ্যা; ভগিনীকণ্যা তোমাদের সে মাতা, যারা তোমাদেরকে স্তন্যপান করিয়েছে, তোমাদের দুধ-বোন,

তোমাদের স্ত্রীদের মাতা, তোমরা যাদের সাথে সহবাস করেছ সে স্ত্রীদের কন্যা যারা তোমাদের লালন-পালনে আছে। যদি তাদের সাথে সহবাস না করে থাক, তবে এ বিবাহে তোমাদের কোন গোনাহ নেই।

তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা; কিন্তু যা অতীত হয়ে গেছে।

নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকরী, দয়ালু।” (সূরা নিসাঃ আয়াতঃ ৪:২২-২৩ এবং ইমাম বুখারী সংগৃহিত হাদিসঃ ২৬৪৫, ৫১০৯)।

পিতাকে বাবা ডাকা কি ঠিক ?? ইসলাম কি বলে !! জেনে নিন বিস্তারিত ।।

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় বেসরকারি একটি টেলিভিশনের জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

প্রশ্ন : আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা আমাদের যার যার পিতাকে আব্বা, বাবা ইত্যাদি বিভিন্ন নামে ডাকি। কিন্তু আমি শুনেছি, বাবা বলে ডাকা নাকি ঠিক না। হিন্দুরা নাকি বাবা বলে ডাকে। ইসলামের দৃষ্টিতে এটা কতটা যুক্তিসংগত?

উত্তর : এই শব্দগুলো ভাষাগত পার্থক্য ছাড়া আর কিছুই না। বাবা শব্দটি আরবি, উর্দু, ফার্সি, তুর্কি ও বাংলায় ব্যবহার হয়ে থাকে। এই শব্দটি পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই দুটি শব্দ মনে হয় সারা পৃথিবীতে মিলে যায়, একটি হচ্ছে মা, আরেকটি হচ্ছে বাবা। এ দুই শব্দের ক্ষেত্রে প্রায় কাছাকাছি শব্দ ব্যবহার হয়ে থাকে।

বাবা শব্দটি বহুল প্রচলিত, যেহেতু আরবরা সবাই ব্যবহার করে। সুতরাং এটা হারাম বা নিষিদ্ধ হওয়ার কোনো কারণ নেই। এটি বিশেষ কোনো সম্প্রদায়ের শব্দও নয়। এটি একেবারে বৈধ শব্দ।

স্টিফেন হকিং এর পরকাল তত্ত্ব এবং এই বিষয়ে ইসলাম কি বলে ?? জেনে নিন বিস্তারিত

*** স্টিফেন হকিং এর পরকাল তত্ত্ব এবং এই বিষয়ে ইসলাম কি বলে?

তিনি বলেছেন পরকাল বলতে কিছু নাই।আসুন আমরা এর বিষয়ে নিচে দেখি ইসলাম এটা নিয়ে কি বলে।

আপেক্ষিকতা সূত্রের (Law of Relativity) উদ্গাতা জন আইনস্টাইনের পর অনেকের নিকট বর্তমান বিশ্বের সেরা পদার্থ বিজ্ঞানী ড. স্টিফেন হকিং (জন্ম : লন্ডন, ১৯৪২), যিনি মধ্যাকর্ষণ শক্তির উদ্ভাবক স্যার আইজাক নিউটনের ন্যায় কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘লুকাসিয়ান অধ্যাপক’-এর বিরল সম্মাননায় ভূষিত, তিনি স্বীয় গবেষণা বিষয়বস্ত্ত তথা ফিজিক্স-এর বাইরে গিয়ে মেটাফিজিক্স বা থিওলজি সম্পৃক্ত বিষয় নিয়ে সম্প্রতি এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা তাঁর সুউচ্চ সম্মানকে কালিমালিপ্ত করেছে। বৃটেনের প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ানের সাথে এক সাক্ষাৎকারে ‘পরকাল’ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর পরে আর কোন জীবন নেই। স্বর্গ ও নরক মানুষের অলীক কল্পনা মাত্র’। এর আগেও গত বছর তিনি ‘স্রষ্টার অস্তিত্ব ও মহাবিশ্বের শৃংখলা’ নিয়ে তার বই ‘দি গ্রান্ড ডিজাইনে’ অনেক ঔদ্ধত্যপূর্ণ কটাক্ষ করেন। সেখানে তিনি দাবী করেন যে, মহাবিশ্বের অস্তিত্ব ব্যাখ্যার জন্য ঈশ্বর ধারণার কোন প্রয়োজন নেই। তিনি সৃষ্টিকর্তাকে ‘মানব কল্পিত রূপক’ হিসাবে বর্ণনা করেন। হকিং-এর এসব মন্তব্য স্রেফ কল্পনা নির্ভর হলেও যেহেতু তারা বিজ্ঞানী, অতএব তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন বহু মানুষ। বিশেষ করে দুর্বল বিশ্বাসী, কপট বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী ব্যক্তিগণ এইসব মন্তব্যগুলিকে তাদের পক্ষে বড় দলীল হিসাবে সোৎসাহে পেশ করে থাকেন।

খৃষ্টীয় অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে যথাক্রমে শিল্পবিপ্লব ও বিজ্ঞানের নানামুখী আবিষ্কারে হতচকিত হয়ে সাময়িকভাবে অনেক বিজ্ঞানী বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিলেন এবং তারা বিশ্ব চরাচরের সবকিছুকে ‘প্রকৃতির লীলাখেলা’ মনে করতেন। কিন্তু এখন তাদের অধিকাংশের হুঁশ ফিরেছে এবং হোয়াইট হেড, আর্থার এডিংটন, জেম্স জীন্স (১৮৭৭-১৯৪৬) সহ বিরাট সংখ্যক বিজ্ঞানী স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, Nature is alive ‘প্রকৃতি এক জীবন্ত সত্তা’। কেবল জীবন্ত নয়, বরং ডব্লিউ.এন. সুলিভানের ভাষায় বিজ্ঞানীদের বক্তব্যের সার নির্যাস হল, The ultimate nature of the universe is mental. ‘বিশ্বলোকের চূড়ান্ত প্রকৃতি হল মানসিক’। অর্থাৎ সৌরজগত আপনা-আপনি সৃষ্টি হয়নি বা এটা কোন বিগব্যাং বা মহা বিস্ফোরণের ফসল নয় বা অন্ধ-বোবা-বধির কোন ন্যাচার বা প্রকৃতি নয়, বরং একজন প্রজ্ঞাময় সৃষ্টিকর্তার মহা পরিকল্পনার ফসল। আর তিনিই হচ্ছেন ‘আল্লাহ’। যিনি বিশ্ব প্রকৃতির সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা। যাঁর পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনায় সবকিছু চলছে {দেখুন সূরা ইউনুস, আয়াত ৩১}।

হাঁ, বিগব্যাং যদি হয়ে থাকে, তবে সেটা দুনিয়ার মানুষ বিজ্ঞানীদের বহু পূর্বে নিরক্ষর নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর মুখ দিয়ে শুনেছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন,
‘অবিশ্বাসীরা কি দেখে না যে, আসমানসমূহ ও পৃথিবী (এক সময়) ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিলো, অতঃপর আমিই এদের উভয়কে আলাদা করে দিয়েছি এবং আমি প্রাণবান সব কিছুকেই পানি থেকে সৃষ্টি করেছি, (এসব জানার পরও) কি তারা ঈমান আনবে না?’ {সূরা আল আম্বিয়া, আয়াত ৩০}।

অতঃপর পরকাল কেন? কেন মানুষকে পুনরায় সৃষ্টি করা হবে? আল্লাহ বলেন,
‘… নিশ্চয় তিনিই প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, (মৃত্যুর পর) তিনিই আবার তাকে (তার জীবন) ফিরিয়ে দেবেন, যাতে করে যারা (তাঁর ওপর) ঈমান আনে, ভালো কাজ করে, (যথার্থ) ইনসাফের সাথে তিনি তাদের (কাজের) বিনিময় দান করতে পারেন এবং (এ কথাটাও পরিস্কার করে দিতে পারেন,) যারা (আল্লাহ তায়ালাকে) অস্বীকার করে তাদের জন্যে উত্তপ্ত পানীয় ও কঠিন শাস্তি রয়েছে, কেননা তারা (পরকালের এ শাস্তি) অস্বীকার করতো।’ {সূরা ইউনুস, আয়াত ৪}।

আল্লাহ বলেন,
‘(তিনিই সেই মহান সত্তা) যিনি (গোটা) সৃষ্টি (জগত)-কে প্রথমবার পয়দা করেছেন, অতঃপর (কেয়ামতের দিন) তাকে আবার আবর্তিত করবেন, সৃষ্টির (প্রক্রিয়ায়) সে (কাজ)-টি তাঁর জন্যে খুবই সহজ; (কেননা) আসমানসমূহ ও যমীনে সর্বোচ্চ মর্যাদা তো তাঁর জন্যেই নির্ধারিত এবং তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ {সূরা আর রূম, আয়াত ২৭}।

অদৃশ্য জগতের জ্ঞান বিজ্ঞানীদের নেই। তাই তাদের জ্ঞান অপূর্ণ। সেকারণেই বিজ্ঞানী আইনস্টাইন (১৮৭৯-১৯৫৫) বলেছেন, Religion without science is blind and Science without religion is lame. ‘বিজ্ঞান ব্যতীত ধর্ম অন্ধ এবং ধর্ম ব্যতীত বিজ্ঞান পঙ্গু।’

আজকের হকিংদের ন্যায় সেকালে মক্কার মুশরিক নেতাদের অনেকের ধারণা ছিল যে, মানুষ আপনা-আপনি সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রাকৃতিক নিয়মেই তারা ধ্বংস হবে। যেমন আল্লাহ বলেন,
‘এ (মূর্খ) লোকেরা বলে, আমাদের এ পার্থিব দুনিয়া ছাড়া আর কোনো জীবনই নেই, আমরা (এখানেই) মরি বাঁচি, কালের আবর্তন ছাড়া অন্য কিছু আমাদের ধ্বংসও করেনা। (মূলত) এদের এ ব্যাপারে কোনোই জ্ঞান নেই, এরা শুধু আন্দায অনুমানের ভিত্তিতেই কথা বলে।’ {সূরা আল জাছিয়া, আয়াত ২৪}।

আরব নেতারা বলেছিল, ‘আমরা যখন মরে যাবো এবং আমরা যখন মাটি হয়ে যাবো (তখন পুনরায় আমাদের জীবন দান করা হবে), এ তো সত্যিই এক সুদূরপরাহত ব্যাপার!’ {সূরা ক্বাফ, আয়াত ৩}। এ নিয়ে তারা ঝগড়ায় লিপ্ত ছিল। আল্লাহ বলেন,
‘কোন বিষয় সম্পর্কে তারা একে অপরকে জিজ্ঞেস করছে? (তারা কি) সেই (গুরুত্বপূর্ণ) মহাসংবাদের ব্যাপারেই (একে অপরকে জিজ্ঞেস করছে), যে ব্যাপারে তারা নিজেরাও বিভিন্ন মত পোষণ করে; না, (তা আদৌ ঠিক নয়, সঠিক ঘটনা) এরা তো অচিরেই জানতে পারবে, আবারও (তোমরা শুনে রাখো, কেয়ামত আসবেই এবং) অতি সত্বরই তারা (এ সম্পর্কে জানতে পারবে।’ {সূরা আন নাবা, আয়াত ১-৫}।

কি সে মহা সংবাদ? সেটি হল পুনর্জন্মের সংবাদ। কেননা মানবজীবনে সবচেয়ে বড় সুসংবাদ হল জন্মগ্রহণ করা। আর সবচেয়ে দুঃসংবাদ হল মৃত্যুবরণ করা বা বিলীন হয়ে যাওয়া। এ দুনিয়াতে কেউ মরতে চায় না। কিন্তু যে মানুষের জন্য আসমান-যমীন সবকিছু সৃষ্টি হয়েছে, সেই মানুষ গড়ে একশ বছরের মধ্যেই মরে শেষ হয়ে যাচ্ছে। অথচ ইহজীবনে তার আশা-আকাংখার অনেক কিছুই পূরণ হচ্ছে না। তাই এই অস্থায়ী ও অসম্পূর্ণ জগত থেকে চিরস্থায়ী ও পরিপূর্ণ আরেকটি জগতে হিজরত করতে হয়। যেখানে যালেম তার সমুচিত শাস্তি পাবে এবং মযলূম তার যথাযথ পুরস্কার পেয়ে তৃপ্ত হবে। আর সে জগতটাই হল পরজগত। মৃত্যুর পরেই হবে যার শুরু এবং ক্বিয়ামতের দিন হবে যার পূর্ণতা। আল্লাহ বলেন,
‘তোমরা সে দিনটিকে ভয় করো, যেদিন তোমাদের সবাইকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেয়া হবে, সেদিন প্রত্যেক মানব সন্তানকে (জীবনভর) কামাই করা পাপপুণ্যের পুরোপুরি ফলাফল দিয়ে দেয়া হবে, (কারো ওপর সেদিন) কোনো ধরনের যুলুম করা হবে না।’ {সূরা আল বাক্বারা, আয়াত ২৮১}।

আর এটাই হল জগদ্বাসীর প্রতি আল্লাহর সর্বশেষ নাযিলকৃত আয়াত। অতএব যদি পরকাল বিশ্বাস না থাকত, তাহলে সবল ও দুর্বলের হানাহানিতে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ত। অবিশ্বাসীদের সন্দেহ দূর করার জন্যই আল্লাহ স্বীয় নবীকে মেরাজে নিয়ে জান্নাত-জাহান্নাম স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করিয়েছেন। এরপরেও কি হকিংদের চোখ খুলবে না।

হে বিজ্ঞানী স্টিফেন! কোন সে শক্তি যিনি আপনাকে ১৯৬৩ সাল থেকে বিগত ৪৮ বছর যাবত মাথা ব্যতীত পুরা দেহ প্যারালাইসিসে পঙ্গু করে রেখেছেন? দুনিয়ার সকল চিকিৎসা সুবিধা নাগালের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও কেন আপনি সুস্থ হতে পারছেন না? আপনার বুকের মধ্যের রূহটা কি কখনো দেখতে পেয়েছেন? ওটা কার হুকুমে এসেছে, আর কার হুকুমে চলে যাবে? আপনি কি ১৯৮৬ সালে শিকাগো শহরে আগের বছরের দেয়া তত্ত্বের ভুল স্বীকার করেননি? বিজ্ঞান স্রেফ অনুমিতি নির্ভর বস্ত্ত নয় কি? অথচ ‘আল্লাহর কালাম সত্য ও ন্যায় দ্বারা পরিপূর্ণ..’ {সূরা আল আন’আম, আয়াত ১১৫}। ঐ শুনুন আপনার সৃষ্টিকর্তার বাণী, ‘(হে মানুষ,) নিশ্চয়ই তোমাদের মালিক হচ্ছেন আল্লাহ তায়ালা, যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি ‘আরশে’ সমাসীন হন, তিনি (তার) কাজ (স্বহস্তে) নিয়ন্ত্রণ করেন … {সূরা ইউনুস, আয়াত ৩}।

অতএব তওবা করুন! মুসলিম হয়ে মৃত্যুবরণ করুন!! পরকালে ভাল থাকবেন ইনশাআল্লাহ।

পুরুষ এবং নারী উভয়ের জন্যই পরচুল পরা হারাম..। জেনে নিন বিস্তারিত…।।

প্রশ্ন : একটি হাদিসে দেখলাম পরচুল পরা নিষেধ। কিন্তু যাদের চুলে খোঁপা হয় না, তাঁরা কি পরতে পারবে?

উত্তর : আপনি যে হাদিসের কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি সহিহ। পরচুল তিনি পরে থাকেন তাঁকে রাসুল (সা.) অভিশাপ দিয়েছেন, তাই এটি হারাম। কারো যদি খোঁপা না হয়ে থাকে, তিনি চুল শুধু বেঁধে রাখবেন। চুল খোঁপা করতেই হবে, এটি শর্ত নয়।
চুল খোঁপা হওয়া সৌন্দর্যের বিষয়, কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু যাকে আল্লাহ সুবনাহুতায়ালা সুন্দর করেননি, তিনি কি আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালার ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে থাকবেন? তিনি মনে করবেন আল্লাহ তাঁকে অবশ্যই অন্য দিক থেকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছেন। সব দিক থেকে সৌন্দর্যমণ্ডিত বা সবদিক থেকে সুন্দর এমন কোনো পারফেক্ট মানুষ পৃথিবীতে পাওয়া যাবে না। বরং কোনো না কোনো দিক থেকে কিছু না কিছু ঘাটতি থেকেই যাবে। সুতরাং এই ঘাটতির জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের শুকরিয়া আদায় করা দরকার এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করা দরকার। সামান্য ঘাটতির জন্য আপনি হারাম কাজে লিপ্ত হতে পারেন না।

পুরুষ এবং নারী উভয়ের জন্যই পরচুল পরা হারাম। তবে হাদিসের মধ্যে নারীদের কথা স্পষ্ট এসেছে। একদল ওলামায়ে কেরাম বলেছেন, পুরুষদের ক্ষেত্রেও কিয়াস করা হয়েছে। যেহেতু সৌন্দর্যের জন্য নারীদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সে ক্ষেত্রে নারীদের যেহেতু অনুমোদন দেওয়া হয়নি, সেহেতু পুরুষদের জন্যও এটি অনুমোদিত বিষয় নয়। তবে পুরুষদের জন্য সুস্পষ্ট হাদিস আসেনি।

(উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।)

পুরুষদের টাকনুর নিচে প্যান্ট পরিধানের ভয়াবহতা অনেক ।। জেনে নিন বিস্তারিত।।

অনেকেরই ধারনা সুন্নাত করলে নেকি আছে, না করলে অসুবিধা নেই, নামাজ রোজা ঠিক থাকলেই হল। কিন্তু এমন কিছু সুন্নাত রয়েছে যা পালন করা খুবই জরুরী। যেমন দাড়ি রাখা, পুরুষের ক্ষেত্রে পায়ের টাখনুর উপরে কাপড় পরিধান করা ইত্যাদি। এগুলো হল সেই সুন্নাত যা ছেড়ে দিলে কঠিন গোনাহগার হতে হয় এবং ঐসব সুন্নাত যথাযথভাবে পালন না করলে জাহান্নামে শাস্তি ভোগ করতে হবে।

আমাদের নবীজী মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন যে, পুরুষদের নিচের অংশের পরিধেয় পোশাকের যে অংশ টাখনুর নিচে ঝুলানো থাকে, সে অংশটা জাহান্নামে যাবে। (সহীহ বুখারী, ৭নং খন্ড, পোশাক অধ্যায়, হাদীসে নং- ৬৭৮)
এছাড়া একই গ্রন্থের ৫ নং অধ্যায়ের ৬৭৯-৬৮৩ পর্যন্ত হাদীসগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি বেপরোয়াভাবে অহংকার বশত চলাফেরা করে, যার প্যান্ট টাখনুর নিচে মাটিতে ঝুলানো থাকে আল্লাহ্‌ তাকে অভিশাপ দেবেন।
এখানে আল্লাহ্‌ রাসুলের (সাঃ) কথাটা ভালভাবে একটু বোঝার চেষ্টা করুনঃ
মিথ্যা বললে জাহান্নামে যেতে হবে একথা আল্লাহ্‌র রাসুল (সাঃ) বলেন নি, অথচ মিথ্যা বলা মহাপাপ, গীবত করলে জাহান্নামে যেতে হবে একথা আল্লাহ্‌র রাসুল (সাঃ) বলেন নি, অথচ গীবত করা মহাপাপ, একটু খেয়াল করে দেখুন অন্যসব সুন্নাতের ক্ষেত্রে আল্লাহ্‌র রাসুল (সাঃ) একথা বলেন নি যে এই কাজের জন্য সরাসরি জাহান্নামে যেতে হবে। কিন্তু যে পুরুষে পায়ের টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে কাপড় পরিধান করবে তাঁর ক্ষেত্রে আল্লাহ্‌র রাসুল (সাঃ) সরাসরি বললেন যে- সে জাহান্নামী। সুতরাং আমাদের নবী করীম (সাঃ) এর আদেশ অনুযায়ী টাখনুর নিচে যায় এমন প্যান্ট বা অন্য কোন কাপড় পরা যাবে না। আশা করি বিষয়টি স্পষ্ট।
এক্ষেত্রে আমি দোষ দিব পিতাকে। কারন সে যখন বাজার থেকে প্যান্ট বা অন্য কোন কাপড় কিনে আনে তখন সে দেখছে ঐ প্যান্টটা আমার ছেলের টাখনুর নিচে চলে যাবে। এর পরেও সে ঐ প্যান্ট কিনে কি করে? যদিও সে কিনল তারপরে তো দর্জির দোকান থেকে প্যান্ট টা কেটে ঠিক করে যাতে টাখনুর উপরে থাকে তারপর বাসায় নিয়ে তার ছেলের হাতে দিতে পারত! তাহলে কি এটাই বুঝা যায় না যে পিতাই ছেলেকে রাসুলের (সাঃ) অবাধ্য হিসেবে বড় করে তুলছে?
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেছেনঃ “যে কেউ আল্লাহ ও তার রসূলের অবাধ্যতা করে এবং তার সীমা অতিক্রম করে, তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সে সেখানে চিরকাল থাকবে। তার জন্যে রয়েছে অপমানজনক শাস্তি। (সূরা নিসাঃ ১৪)
আল্লাহ্‌ তায়ালা আমাদের আদেশ করছেনঃ “ হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ। তারা আল্লাহ তা’আলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে।(সূরা আত তাহরীমঃ ৬)
এখানে বিষয়টি ভালভাবে খেয়াল করুনঃ
১. আল্লাহ্‌ তায়ালা আমাদের আদেশ করলেন- আমাদের পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততিকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাতে।
২. নবী (সাঃ) বললেনঃ টাখনুর নিচে প্যান্ট পড়লে জাহান্নামে যাবে।
তাহলে ঐ পিতা তার সন্তানকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাল কোথায়? ঐ পিতা তো উল্টো নিজের সন্তানকে জাহান্নামের আগুনে ঠেলে দিল!!
আশা করি বিষয়টি স্পষ্ট।
সুতরাং যাদের আল্লাহ্‌ভীতি রয়েছে, যারা পরকালকে ভয় করে তাদের উচিৎ টাখনুর উপর প্যান্ট পরা।
এটা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এই বিষয়টি যদি কেউ গাফেলতি করে তবে হাশরের দিন তার পরিণতি হবে খুবই করুন।

মহান আল্লাহ্‌ বলেনঃ “যেদিন অগ্নিতে তাদের মুখমন্ডল ওলট পালট করা হবে; সেদিন তারা বলবে, হায়। আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম ও রসূলের আনুগত্য করতাম”। (সূরা আল আহযাবঃ ৬৬)

ইসলামের দৃষ্টিতে পীর-মুরীদি এবং মাযার কি ?? জেনে নিন বিস্তারিত ।।

ইসলামী বিধান অনুসারে পীর ও মুরীদ এবং মাযার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ একটি লিখাঃ

পীর-মুরীদ কাকে বলে?

পীর শব্দটি ফার্সি। আরবীতে বলা হয় মুরশীদ। মুরশীদ শব্দের অর্থ হল পথপ্রদর্শক। যিনি আল্লাহর আদেশ নিষেধ আল্লাহ তাআলা যেভাবে চান সেভাবে পালন করার প্রশিক্ষণ দেন তার নাম মুরশীদ বা পথপ্রদর্শক। যাকে ফার্সীতে বলে পীর।

“মুরীদ” শব্দটিও আরবী। যার অর্থ হল ইচ্ছাপোষণকারী। যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ নিষেধ আল্লাহ তাআলা যেভাবে চান সেভাবে পালন করার ইচ্ছা পোষণ করে কোন বুযুর্গ ব্যক্তির হাত ধরে শপথ করে সে ব্যক্তির নাম হল “মুরীদ”।
এ ব্যাখ্যা থেকে একথা স্পষ্ট হল যে, পীর হবেন শরীয়তের আদেশ নিষেধ পালন করার প্রশিক্ষণদাতা। আর যিনি সে প্রশিক্ষণ নিতে চায় সে শিক্ষার্থীর নাম হল “মুরীদ”।

সুতরাং যে ব্যক্তি নিজেই শরীয়তের বিধান মানে না, নামায পড়ে না, পর্দা করে না, সতর ঢেকে রাখে না বা শরীয়তের আবশ্যকীয় কোন বিধান পালন করে না, সে ব্যক্তি কিছুতেই পীর তথা মুর্শীদ হতে পারে না। কারণ তার নিজের মাঝেই যখন শরীয়ত নেই, সে কিভাবে অন্যকে শরীয়তের উপর আমল করা প্রশিক্ষণ দিবে? নিজেইতো প্রশিক্ষিত নয়।

আর পীর মুরীদির এ পদ্ধতি রাসূল (সাঃ) থেকে চলে আসছে। রাসূল (সাঃ) সাহাবাদের আল্লাহমুখী হওয়ার প্রশিক্ষণ দিতেন। সাহাবারা রাসূল (সাঃ) এর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিতেন। বলা যায় রাসূল (সাঃ) হলেন সবচেয়ে প্রথম ও বড় পীর, ও সাহাবায়ে কিরাম হলেন প্রথম মুরীদ।

কুরআন হাদীসে পীর মুরিদীর প্রমাণঃ-

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ

অনুবাদ-হে মুমিনরা! আল্লাহকে ভয় কর, আর সৎকর্মপরায়নশীলদের সাথে থাক। {সূরা তাওবা-১১৯)

এ আয়াতে কারীমায় সুষ্পষ্টভাবে বুযুর্গদের সাহচর্যে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ

অনুবাদ- আমাদের সরল সঠিক পথ [সীরাতে মুস্তাকিম] দেখাও। তোমার নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দাদের পথ। {সূরা ফাতিহা-৬,৭}

সূরায়ে ফাতিহায় মহান রাব্বুল আলামীন তাঁর নিয়ামাতপ্রাপ্ত বান্দারা যে পথে চলেছেন সেটাকে সাব্যস্ত করেছেন সীরাতে মুস্তাকিম।
আর তার নিয়ামত প্রাপ্ত বান্দা হলেন-

الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ

অনুবাদ-যাদের উপর আল্লাহ তাআলা নিয়ামত দিয়েছেন, তারা হল নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ, ও নেককার বান্দাগণ। {সূরা নিসা-৬৯}

এ দু’ আয়াত একথাই প্রমাণ করছে যে, নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দা হলেন নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ, আর নেককারগণ, আর তাদের পথই সরল সঠিক তথা সীরাতে মুস্তাকিম। অর্থাৎ তাদের অনুসরণ করলেই সীরাতে মুস্তাকিমের উপর চলা হয়ে যাবে।

যেহেতু আমরা নবী দেখিনি, দেখিনি সিদ্দীকগণও, দেখিনি শহীদদের। তাই আমাদের সাধারণ মানুষদের কুরআন সুন্নাহ থেকে বের করে সীরাতে মুস্তাকিমের উপর চলার চেয়ে একজন পূর্ণ শরীয়তপন্থী হক্কানী বুযুর্গের অনুসরণ করার দ্বারা সীরাতে মুস্তাকিমের উপর চলাটা হবে সবচেয়ে সহজ। আর একজন শরীয়ত সম্পর্কে প্রাজ্ঞ আল্লাহ ওয়ালা ব্যক্তির সাহচর্য গ্রহণ করার নামই হল পীর মুরিদী।

রাসূলে কারীম (সাঃ) একাধিক স্থানে নেককার ব্যক্তিদের সাহচর্য গ্রহণ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। যেমন-

عن أبي موسى رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه و سلم قال ( مثل الجليس الصالح والسوء كحامل المسك ونافخ الكير فحامل المسك إما أن يحذيك وإما أن تبتاع منه وإما أن تجد منه ريحا طيبة ونافخ الكير إما أن يحرق ثيابك وإما أن تجد ريحا خبيثة )

অনুবাদ- হযরত আবু মুসা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন-সৎসঙ্গ আর অসৎ সঙ্গের উদাহরণ হচ্ছে মেশক বহনকারী আর আগুনের পাত্রে ফুঁকদানকারীর মত। মেশক বহনকারী হয় তোমাকে কিছু দান করবে কিংবা তুমি নিজে কিছু খরীদ করবে। আর যে ব্যক্তি আগুনের পাত্রে ফুঁক দেয় সে হয়তো তোমার কাপড় জ্বালিয়ে দিবে, অথবা ধোঁয়ার গন্ধ ছাড়া তুমি আর কিছুই পাবে না।

{সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫২১৪, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৬৮৬০, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৩১৯০, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪৮৩১, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৬১, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৪২৯৫, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৯৬৬০, মুসনাদুল হুমায়দী, হাদীস নং-৭৭০, মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-২৬২২, মুসনাদুশ শিহাব, হাদীস নং-১৩৭৭, মুসনাদে তায়ালিসী, হাদীস নং-৫১৫}

এছাড়াও অনেক হাদীস নেককার ও বুযুর্গ ব্যক্তিদের সাহচর্য গ্রহণের প্রতি তাগিদ বহন করে। আর সবচে’ বড় কথা হল-বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মানুষই দ্বীন বিমুখ। যারাও দ্বীনমুখী, তাদের অধিকাংশই কুরআন হাদীসের আরবী ইবারতই সঠিকভাবে পড়তে জানে না, এর অর্থ জানবেতো দূরে থাক। আর যারাও বাংলা বা অনুবাদ পড়ে বুঝে, তাদের অধিকাংশই আয়াত বা হাদীসের পূর্বাপর হুকুম, বা এ বিধানের প্রেক্ষাপট, বিধানটি কোন সময়ের জন্য, কাদের জন্য ইত্যাদী বিষয়ে সম্যক অবহিত হতে পারে না। তাই বর্তমান সময়ে একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে কুরআন সুন্নাহ থেকে নিজে বের করে আল্লাহ তাআলার উদ্দিষ্ট সীরাতে মুস্তাকিমে চলা বান্দার জন্য কষ্টসাধ্য। তাই আল্লাহ তাআলা সহজ পথ বাতলে দিলেন একজন বুযুর্গের পথ অনুসরণ করবে, তো সীরাতে মুস্তাকিমেরই অনুসরণ হয়ে যাবে।

কিন্তু কথা হচ্ছে যার অনুসরণ করা হবে সে অবশ্যই সীরাতে মুস্তাকিমের পথিক হতে হবে। অর্থাৎ লোকটি {মুরশীদ বা পীর} এর মাঝে থাকতে হবে শরীয়তের পূর্ণ অনুসরণ। বাহ্যিক গোনাহ থেকে হতে হবে মুক্ত। কুরআন সুন্নাহ সম্পর্কে হতে হবে প্রাজ্ঞ। রাসূল সাঃ এর সুন্নাতের উপর হতে হবে অবিচল। এমন গুনের অধিকারী কোন ব্যক্তি যদি পাওয়া যায়, তাহলে তার কাছে গিয়ে তার কথা মত দ্বীনে শরীয়ত মানার নামই হল পীর মুরিদী। এরই নির্দেশ আল্লাহ তাআলা কুরআনে দিয়েছেন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ

অনুবাদ-হে মুমিনরা! আল্লাহকে ভয় কর, আর সৎকর্মপরায়নশীলদের সাথে থাক। {সূরা তাওবা-১১৯)

বিঃদ্রঃ আখেরাতে নাজাত পাওয়ার জন্য মুরীদ হওয়া জরুরী নয়। তবে একজন হক্কানী পীরের কাছে মুরীদ হলে শরীয়তের বিধান পালন ও নিষিদ্ধ বিষয় ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষ্ঠা আসে মুরুব্বীর কাছে জবাবদিহিতা থাকার দরুন। সেই সাথে আল্লাহর ভয়, ইবাদতে আগ্রহ সৃষ্টি হয়। পক্ষান্তরে বেদআতি, ভন্ড, মাজারপূজারী, বেপর্দা পীরের কাছে মুরিদ হলে ঈমানহারা হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে আটরশী, দেওয়ানবাগী, কুতুববাগী, মাইজভান্ডারী, রাজারবাগী, ফুলতলী, মানিকগঞ্জী, কেল্লাবাবা ইত্যাদী পীর সাহেবের দরবারে গেলে ঈমানহারা হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সাবধান পীর নির্ধারণের ক্ষেত্রে।

প্রসঙ্গ মাযারঃ-

“মাযার” শব্দটি আরবী। বাংলা অর্থ হল যিয়ারতের স্থান। যে স্থানকে যিয়ারত করা হয়, তার নামই মাযার। মুসলমানের কবর যিয়ারত করা জায়েজ। রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন-

عن ابن بريدة عن أبيه قال قال رسول الله -صلى الله عليه وسلم- « نهيتكم عن زيارة القبور فزوروها فإن فى زيارتها تذكرة

অনুবাদ-হযরত ইবনে বুরাইদা (রাঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন-আমি তোমাদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন যিয়ারত কর। [কোন সমস্যা নেই।]।

কেননা কবর যিয়ারত মৃত্যুকে স্মরণ করে দেয়। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৭০০, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৩০৫, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৫৭১, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-৬৯}

কবর যিয়ারত করা ছাড়া কবর তথা মাযার ঘিরে আরো যত কাজ করা হয়, তা সবই বিদআত। এসব করা জায়েজ নেই। যেমন-

১-মাযার ঘিরে উরস করা।
২-মাযারে বাতি প্রজ্বলন করা
৩-মাযারে মান্নত করা।
৪-মাযারে গিয়ে দুআ করা। মৃত ব্যক্তির কাছে নিজের প্রয়োজন পূর্ণ করে দেওয়ার আবেদন করা।
৫-মাযারে শিন্নি পাকানো ইত্যাদী সকল কাজই বিদআত ও শরীয়ত গর্হিত কাজ। এসব করা খুবই গোনাহের কাজ। এসবের কোন ভিত্তি ইসলামে নেই। সম্পূর্ণ হারাম এ সকল কাজ।

মাযার ঘিরে উরস করা হারামঃ-

স্বীয় কবরকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠান করাকে নিষিদ্ধ করে আল্লাহর নবী ইরশাদ করেন-

عن أبى هريرة قال قال رسول الله -صلى الله عليه وسلم- « لا تجعلوا بيوتكم قبورا ولا تجعلوا قبرى عيدا وصلوا على فإن صلاتكم تبلغنى حيث كنتم (سنن ابى داود-كتاب المناسك، باب زيارة القبور، رقم الحديث-2044)

“তোমরা স্বীয় ঘরকে কবর বানিয়োনা। (অর্থাৎ কবরের ন্যায় ইবাদত-নামায, তেলাওয়াত ও যিকির ইত্যাদি বিহীন করনা।) এবং আমার কবরে উৎসব করোনা।(অর্থাৎ বার্ষিক, মাসিক বা সাপ্তাহিক কোন আসরের আয়োজন করনা। তবে হ্যাঁ আমার উপর দুরূদ পাঠ কর। নিশ্চয় তোমরা যেখানেই থাক না কেন তোমাদের দরূদ আমার নিকট পৌঁছে থাকে।(আল্লাহ তায়ালার ফেরেশতারা পৌঁছিয়ে দেন।)” {সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং-২০৪৪/৪০}

এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে- রাসূলে (সাঃ) নিজ রওযা মুবারকে উৎসব (উরস) পালন করতে বারণ করেছেন। তাহলে অন্য কে আর এমন আছে যার কবরে তা বৈধ হবে?

হাদিসের বিখ্যাত ব্যাখ্যাকার আল্লামা মুনাভী (রাহঃ) এই হাদিসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন-

قال المناوي ويؤخذ منه أن اجتماع العامة في بعض أضرحة الأولياء في يوم أو شهر مخصوص من السنة ويقولون هذا يوم مولد الشيخ ويأكلون ويشربون وربما يرقصون فيه منهي عنه شرعا وعلى ولي الشرع ردعهم على ذلك وإنكاره عليهم وإبطاله (عون المعبود-كتاب المناسك باب زيارة القبور-6/23)

“এ হাদিস থেকে বুঝা যায় যে, সাধারণ মানুষ যারা বছরের কোন নির্দিষ্ট মাসে বা দিনে (উরসের নামে) ওলীদের মাযারে একত্রিত হয় এবং বলে-আজ পীর সাহেবের জন্ম বার্ষিকী (মৃত্যু বার্ষিকী), সেখানে তারা পানাহারেরও আয়োজন করে, আবার নাচ গানেরও ব্যবস্থা করে থাকে, এ সবগুলিই শরীয়ত পরিপন্থী ও গর্হিত কাজ। এ সব কাজ প্রশাসনের প্রতিরোধ করা জরুরী। (আউনুল মা’বুদ-৬/২৩)

মাযার ঘিরে বাতি প্রজ্বলন হারামঃ-

عن ابن عباس قال : لعن رسول الله صلى الله عليه و سلم زائرات القبور والمتخذين عليها المساجد والسرج (سنن الترمذى- أبواب الصلاة عن رسول الله صلى الله عليه و سلم ، باب ما جاء في كراهية أن يتخذ على القبر مسجدا-2/136)

“হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর নবী (সাঃ) অভিশম্পাত করেছেন (বেপর্দা) কবর যিয়ারতকারীনী মহিলাদের উপর, এবং সেসব লোকদের উপর যারা কবরকে মসজিদ বানায় (কবরকে সেজদা করে) এবং সেখানে বাতি প্রজ্জ্বলিত করে। {জামি তিরমীযী-২/১৩৬}

উক্ত হাদিসে সুষ্পষ্ট কবরে বাতি প্রজ্জ্বলনকারীর উপর আল্লাহ তায়ালার অভিশম্পাত করেছেন আল্লাহর নবী (সাঃ)।

মাযারে মান্নত করা হারামঃ-

আল্লাহ ছাড়া কারো নামে মান্নত বা কুরবানী করা যায়না। কারণ মান্নত ও কুরবানী হচ্ছে ইবাদত। আর ইবাদত আল্লাহ ছাড়া কারা জন্য করা জায়েজ নয়। মহান রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন-

قُلْ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (162) لاَ شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَاْ أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ (163) (سورة الأنعام-162-163)

“আপনি বলুনঃ আমার নামায, আমার কুরবানী এবং আমার জীবন ও আমার মরণ বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহর জন্যই। তাঁর কোন অংশিদার নেই। আমি তা-ই করতে আদিষ্ট হয়েছি এবং প্রথম আনুগত্যশীল। (সূরা আনআম-১৬২-১৬৩)

সূরা কাউসারে মহান রাব্বুর আলামীন বলেন- فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কুরবানী করুন। {সূরা কাউসার-২}

আল্লাহ তাআলা আমাদের দ্বীন পালনের নামে বদ দ্বীনী কাজ করা থেকে হিফাযত করুন। আমীন। ছুম্মা আমীন।

ইসলামে কোন নারী নবী নেই !! জানেন কি কেন ??? জানুন বিস্তারিত।।

ইসলাম ধর্মে এই একটি জিনিসই ব্যতিক্রম যে, এই ধর্মে কোন মহিলা নবীর আগমন ঘটেনি। কিন্তু মহান আল্লাহ তা’য়ালা ঠিক কি কারণে কোন মহিলাকে নবী হিসেবে প্রেরণ করেন নি? পিসটিভি বাংলায় একজন মহিলা এই প্রশ্নটি সরাসরি জাকির নায়েকের কাছে করেন।

উত্তরে ডাক্তার জাকির নায়েক বলেন, যদি নবী বলতে আপনি বোঝেন, এমন এক ব্যক্তি যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে বাণী গ্রহণ করেন এবং যিনি মানবজাতির নেতা হিসেবে কাজ করেন; তাহলে সেই অর্থে নিশ্চিত করে বলতে পারি, ইসলামে কোনো নারী নবী আসেনি এবং এটাই সঠিক। কারণ একজন নারীকে যদি নবী হতে হয় তাহলে তাকে সমগ্র মানুষের নেতৃত্ব দিতে হবে। কিন্তু কুরআনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে পুরুষরা হলো পরিবারের প্রধান। সুতরাং পুরুষ যদি পরিবারের প্রধান হয়ে থাকে তবে কিভাবে নারী সমগ্র মানুষের নেতৃত্ব দেবে? এছাড়াও একজন নবীকে নামাজের ইমামতি করতে হয়। আর আপনারা জানেন, নামাজে বেশ কিছু অঙ্গভঙ্গি রয়েছে যেমন- কিয়াম, রুকু, সাজদাহ ইত্যাদি। যদি একজন নারী নবী নামাজের নেতৃত্ব দিত তবে

জামাআতের পেছনে যে সকল পুরুষ সলাত আদায় করত এটা তাদের এবং ইমাম উভয়ের জন্যই বেশ বিব্রতকর হত।

এখানে আরো অনেক ব্যাপার রয়েছে। যেমন- একজন নবীকে সাধারণ মানুষের সাথে সর্বদা দেখা সাক্ষাৎ করতে হয়। কিন্তু এটা একজন মহিলা নবীর পক্ষে অসম্ভব। কারণ ইসলাম নারী-পুরুষ পরস্পরের মেলামেশার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে। যদি মহিলা নবী হতো এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সে যদি গর্ভবতী হতো, তবে তার পক্ষে কয়েক মাস নবুওয়াতের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হতো না।

অপরদিকে একজন পুরুষের পক্ষে পিতৃত্ব এবং নবুওয়াতের দায়িত্ব পালন করা একজন মহিলার মাতৃত্ব এবং নবুওয়াতের দায়িত্ব পালন করা থেকে তুলনামূলক সহজ। কিন্তু আপনি যদি নবী বলতে শুধু বোঝেন, এমন একজন ব্যক্তি যিনি আল্লাহ পছন্দের এবং যিনি পবিত্র ও খাঁটি ব্যক্তি, তবে সেখানে কিছু নারীর উদাহরণ রয়েছে- আমি এখানে উত্তম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করব মারইয়াম আ. এর নাম। তিনি ছিলেন মনোনীত এবং পরিশুদ্ধ। তিনি ছিলেন ঈসা আ. এর মা।

সুরাহ আল ইমরানের ৪২ নং আয়াতে উল্লেখ আছে- ‘যখন ফেরেশতারা বলেছিল, হে মারইয়াম! আল্লাহ আপনাকে মনোনীত করেছেন, পবিত্র করেছেন এবং নির্বাচিত করেছেন বিশ্বজগতের নারীদের ওপর।’

এছাড়াও সুরাহ তাহরিম-এ ফেরাউনের স্ত্রী আছিয়ার কথা উদাহরণ হিসেবে নিতে পারেন- ‘আল্লাহ বিশ্বাসীদের জন্য ফেরাউনের স্ত্রীর (আছিয়া) অবস্থা বর্ণনা করেছেন।’

ফিরাউনের স্ত্রী আল্লাহর কাছে দু’আ করেছিলেন- ‘হে আমার রব! আমার জন্য বেহেশতের মধ্যে আপনার সন্নিকটে ঘর নির্মাণ করে দিন, আর আমাকে ফেরাউন থেকে এবং তার (কুফুরি) আচরণ থেকে রক্ষা করুন, আর আমাকে সমস্ত অত্যাচারী লোকজন থেকে হিফাজত করুন।

আত-তাহরিম, আয়াত ১১

একটু কল্পনা করুন, তিনি ছিলেন তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী সম্রাট ফারাও-এর স্ত্রী। অথচ তিনি আল্লাহর ভালবাসার জন্য নিজের আরাম-আয়েশ ও বিলাসিতা ত্যাগ করতে চেয়েছেন। সুতরাং আপনি যদি বুঝাতে চান আল্লাহর পছন্দের, পবিত্র ও খাঁটি তাহলে আপনি তাদের উদাহরণ হিসেবে নিতে পারেন।

নামাজে কাতার সোজা রাখার গুরুত্ব অনেক !! জেনে নিন বিস্তারিত…।।

নামাজ এমন একটি ফরজ ইবাদত, যা দিনে পাঁচবার মুসলমানদের পরস্পরে একত্রিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। নামাজ পরস্পরের মাঝে সৌহার্দ সৃষ্টি করে একে অন্যের কাছাকাছি আনে। নামাজ সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করে থাকে। নামাজে ধনী-গরিবের মাঝে কোনো ব্যবধান থাকে না। নামাজের বিশেষ শিক্ষা হলো একতা, শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ববোধ। নামাজে যাবতীয় কল্যাণ নিহিত রয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সান্নিধ্যে আসার বড় নেয়ামত। হাশরের ময়দানে শেষ বিচারের দিন প্রথম নামাজের হিসাব নেয়া হবে। যার নামাজ শুদ্ধভাবে কবুল হবে, তার অন্যান্য আমলনামা অনেক সহজ হয়ে যাবে। কোরআনের বহু আয়াতে নামাজের গুরুত্বের কথা বলা হয়েছে।

বিশেষ করে জামাতে নামাজ পড়ার ব্যাপারে আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.) বিশেষ ফজিলতের কথা বলেছেন। মুসলমান কোনো বিপদে পড়লে, কোনো শুকরিয়া আদায় করলে নামাজের মাধ্যমই করে থাকে। নামাজ সব ধরনের পাপ কাজ থেকেও বিরত রাখে মোমিন বান্দাকে। তাই নামাজ কেন, সর্বাগ্রে এটা আমাদের বুঝতে হবে। জানতে হবে নামাজের বিধান ও নামাজে কাতার সোজা করে দাঁড়ানোর তাৎপর্য। নামাজের কাতারে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানো, কাতারের মাঝখানে ফাঁকা না রাখাÑ এসব নামাজের অন্যতম সৌন্দর্য। ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা সবাই এক কাতারে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজে দাঁড়াবে। নামাজে কাতারের প্রতি উদাসীন হলে নামাজ পূর্ণ হবে না। তাই মসজিদে যখন জামাতের সময় হয়, তখন ইমাম প্রথমেই কাতার ঠিক করার ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করেন।

সমাজের অনেক লোক আছেন, তারা গুরুত্ব দিয়ে নামাজ আদায় করেন ঠিকই; কিন্তু নামাজের কাতার সোজা হলো-না বাঁকা হলো, সেদিকে লক্ষ করেন না। তারা মনে করেন, মসজিদে তো অনেক জায়গাই রয়েছে, তাই একটু ফাঁকা হয়ে দাঁড়ালে ক্ষতি কী? এ মনোভাব ইসলামসম্মত নয়। হাদিসে এভাবে নামাজে দাঁড়ানোকে নিষেধ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে হাদিসে এরশাদ হচ্ছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কাতার সোজা করো, কাঁধের সঙ্গে কাঁধ বরাবর করো, ফাঁক বন্ধ করো, শয়তানের জন্য কোনো ফাঁক রাখবে না। যে ব্যক্তি কাতারের সংযোগ স্থাপন করে আল্লাহ তার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেন। আর যে কাতার ছিন্ন করে, আল্লাহ তার সঙ্গে সংযোগ ছিন্ন করেন।’ (আবু দাউদ)।

আমাদের দেশে সাধারণ নিয়ম অনুসারে ইমাম একামত হওয়ার পর বলেন, ‘কাতারের মাঝখানে ফাঁকা রাখবেন না, কাছাকাছি দাঁড়ান, কাতার সোজা করে দাঁড়ান।’ তারপর আল্লাহু আকবর বলে নামাজ শুরু করে থাকেন। নামাজের জন্য ইমাম আমাদের অনুকরণীয়, ইমামের কথা অবশ্যপালনীয়। আমরা কি মানি? কাতারে সোজা হয়ে দাঁড়াই না। তাই আমাদের মধ্যে একতা নেই, সম্প্রীতি নেই, ভালোবাসা নেই।

নামাজের কাতার সোজা করা জামাতের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এ বিধানকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, নামাজের কাতারের মাঝে ফাঁকা থাকার কারণে মুসলমানদের মাঝে বিভেদ ও অনৈক্যের সৃষ্টি হয়। কাতারে ফাঁকা থাকলে সেখানে শয়তান অনুপ্রবেশ করে আমাদের নামাজ ও ঐক্যে ফাটল ধরায়। ফলে আমরা নামাজের প্রকৃত শিক্ষা ও সামাজিক উপকারিতা থেকে বঞ্চিত হই, যা মোটেও কাম্য নয়।

আমাদের সমাজে এবং বিশ্বে মুসলিম জাতির মাঝে যে বিভেদ-দ্বন্দ্ব, ধনী-গরিবের যে বৈষম্য সবকিছুই দূর হয়ে যাবে নিয়মিত জামাতের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের মাধ্যমে।

ইমামের পেছনে নামাজ পড়ার আদব কি ?? জেনে নিন বিস্তারিত।

একজন ইমামের পেছনে নামাজ পড়ার সময় কী করণীয় আছে?
ইমামের পেছনে নামাজ পড়লে কী কোনো সূরা পড়তে হবে?

সর্বপ্রথম কী করতে হবে? নামাজে দাঁড়াতে কোনো দোয়া দুরুদ কী পড়তে হবে?

ইমাম সাহেব যখন সূরা পড়বেন তখন মুসল্লিরা কী করবে?
অনুগ্রহপূর্বক এই বিষয় পুরোপুরি জানাবেন। দেখা যাচ্ছে, ইমাম সাহেব নামাজ পড়াচ্ছেন, কিন্তু একজন মুসল্লি দুই রাকাআত /এক রাকাআত/ তিন রাকাআত / নামাজ পায়নি। তখন ওই মুসল্লীর করণীয় কী?

উত্তর:
ইমাম যখন নামাজে আওয়াজ দিয়ে কেরাত পড়েন তখন মোক্তাদির শুধু কেরাত শুনলে চলবে (ফজর, মাগরিব, এশার নামাজে)। আর নীরবে কেরাত শোনার সময় মোক্তাদি শুধু সূরা ফাতিহা আস্তে আস্তে পড়বেন। এরপর আর কোনো সূরা পড়তে হবে না। নামাজের অন্য কাজ ইমামের মতই করবেন। তাকবির দিয়ে নামাজ শুরু করে ছানা পড়া, রুকু সিজদার দোয়া, তাশাহুদ, দুরুদশরীফসহ সকল কিছুই মোক্তাদির করতে হবে ইমামকে অনুসরণ করে। ইমামের আগে করা যাবে না।

জামাতে নামাজ পড়াকালীন কোনো রাকাআতের রুকুতে গিয়ে যদি এক তাসিবহ পরিমাণ সময় আপনি পান তাহলে ঐ রাকাআতকে এক রাকাআত হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ- আপনি বাহির থেকে এসে দেখলেন ইমাম সাহেব রুকুতে গেছেন, আপনিও তার সাথে রুকুতে গিয়ে একবার তাসবিহ পাঠ করতে পারলেন। এরমধ্যে ইমাম রুকু থেকে দাঁড়িয়ে গেলেন। এতে আপনি পুরো এক রাকাআত পেয়ে গেলেন।

এখন আপনি যদি নামাজের প্রথম রাকাআত মিস করেন তাহলে ইমাম সালাম ফিরানো শেষ করার পর দাঁড়িয়ে এক রাকাআত নামাজ আদায় করবেন। এই এক রাকাআত নামাজে আপনি সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা বা আয়াত পড়বেন। রুকু করবেন, সিজদা করবেন এরপর বসে তাশাহুদ, দুরুদ ও দোয়া পড়ে সালামের মাধ্যমে নামাজ শেষ করবেন।

প্রথম দুই রাকাআত না পেলে আপনি দুই রাকাআত নামাজ ফাতিহা ও সূরা মিলিয়ে পড়বেন। আগের মতো রুকু সিজদা করবেন। দ্বিতীয় রাকাআতের সিজদার পর তাশাহুদ ইত্যাদি পড়ে নামাজ শেষ করবেন।

তিন রাকাআত নামাজ ছুটে গেলে:
প্রথম এক রাকাআত সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা মিলিয়ে রুকু করবেন। দুই সিজদার পর বসে যাবেন। এরপর তাশাহুদ পড়ে দ্বিতীয় রাকাআতের জন্য দাঁড়াবেন। পরে আবার সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা পড়ে রুকু করবেন। দুই সিজদাহ দিয়ে দাঁড়িয়ে যাবেন। এরপর শুধু সূরা ফাতিহা পড়ে আরো এক রাকাআত নামাজ পড়ে শেষ বৈঠকের মাধ্যমে নামাজ শেষ করবেন।

আর যদি চার রাকাআত নামাজ মিস করেন। অর্থাৎ- আপনি জামাতে শরিক হয়েছেন চার রাকাআতের রুকুর পর। এতে আপনি ইমামের সাথে জামাতে যুক্ত হলেন। কিন্তু চার রাকাআত নামাজ আপনার ছুটে গেছে। এই অবস্থায় ইমাম সালাম ফিরানোর পর পুরো চার রাকাআত নামাজ আপনি পড়ে নিবেন। প্রথম দুই রাকাআতে সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা এবং শেষ দুই রাকাআতে শুধু সূরা ফাতিহা দিয়ে নামাজ পড়বেন।

মাগরিবের প্রথম দুই রাকাআত ছুটে গেলে করণীয়:
ইমাম নামাজ শেষ করলে আপনি দাঁড়িয়ে প্রথম এক রাকাআত সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা মিলিয়ে রুকু করবেন। এরপর দুই সিজদাহ করার পর দাঁড়িয়ে যাবেন না। তাশাহুদ পড়ে তারপর দাঁড়াবেন এবং আবারো সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা মিলিয়ে পড়ে আরো এক রাকাআত নামাজ পড়বেন এবং শেষ বৈঠক দিয়ে নামাজ শেষ করবেন।

এখানে চার রাকাআত ওয়ালা নামাজের প্রথম দুই রাকাআত ছুটে যাওয়া নামাজ আদায় এবং তিন রাকাআত ওয়ালা (মাগরিব) নামাজের প্রথম দুই রাকাআত ছুটে যাওয়া নামাজ আদায়ের মধ্যে একটু পার্থক্য আছে। মাগরিবের ছুটে যাওয়া দুই রাকাআতেই বৈঠক দিতে হয়। প্রথম রাকাআতের পর শুধু তাশাহুদ পরের রাকাআত শেষে শেষ বৈঠকে দিয়ে শেষ করতে হয়।

প্রশ্নফাঁস এড়াতে কখন কখন ইন্টারনেট বন্ধ থাকবে ?? জেনে নিন বিস্তারিত…।।

জানা গেছে, প্রশ্নফাঁস রোধে আজকে রাতে আধা ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট বন্ধ রেখে ট্রায়াল দেয়া হয়েছে। বিটিআরসি তথ্য জানানো হয়েছে।

এছাড়া আরো জানা গেছে, এসএসসি পরীক্ষা যেদিন যেদিন চলবে সেদিন সকাল ৮টা থেকে সাড়ে দশটা পর্যন্ত সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ থাকবে।

সবাই যার যার মত ইন্টারনেট চালাচ্ছে। রাত দশটার পরেই বন্ধ হয়ে যায় নেট। তবে শুধুমাত্র ঢাকায় নয়। সারাদেশেই এই নেট বন্ধ ছিল।

জেনে নিন, কখন ও কয়টায় পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ইন্টারনেট

১১-০২-১৮ সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০
১২-০২-১৮ সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০
১৩-০২-১৮ সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০
১৫-০২-১৮ সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০
১৭-০২-১৮ সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০
১৮-০২-১৮ সকাল ৮টা থেকে সাড়ে দশটা আর দুপুর ১২টা থেকে ২.৩০
১৯-০২-১৮ সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০
২০-০২-১৮ সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০
২২-০২-১৮ সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০
২৪-০২-১৮ সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০