শেষ ওভারের নাটকীয়টায় বাংলাদেশের হতাশাজনক হার …।।

১৬৭ রানের লক্ষ্য, ফাইনালের মতো চাপের ম্যাচের যেন আদর্শ। ১৮০ কিংবা ২০০ হলে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকত, আবার ২০ রান কম হলে ভারত। উত্তেজনা জিইয়ে রাখতেই যেন বাংলাদেশ ঠিক মাপে মাপেই রানটা করেছিল!

ভারতের রান তাড়ার প্রতিটি পদক্ষেপও যেন ঠিক সেই মাপেই হলো। ঝোড়ো শুরুতে মাত্র ১৫ বলেই ৩২ রান ভারতের। বাংলাদেশের কাঁধগুলো মাত্র ঝুলতে শুরু করেছিল, এমন অবস্থায় আউট ধাওয়ান! রানটা নড়ার আগেই সুরেশ রায়না আউট। ৩২ রানে ২ উইকেট হারাল ভারত। বাংলাদেশই তো এগিয়ে গেল, তাই না?
ভুল, রোহিত শর্মা যে উইকেটে ছিলেন। চার-ছক্কা মারতে লাগলেন নিজের ইচ্ছা মতো, অন্য প্রান্তে তাঁকে অনুসরণ করলেন লোকেশ রাহুল। ১০ম ওভারেই তাই লক্ষ্যের অর্ধেক তুলে ফেলল ভারত। ২ উইকেটে ৮৩ রান, পরিষ্কার এগিয়ে ভারত। এমন অবস্থায় ওভারের তৃতীয় বলে রুবেলের বাউন্সার। হুক করতে গিয়ে সাব্বিরের হাতে ধরা পড়লেন রাহুল। জমে উঠল ম্যাচটা।

ম্যাচটা তবু জমছিল না। ওই যে রোহিত যে আউটই হচ্ছিলেন না। ক্যারিয়ারের ১৪তম ফিফটি পেয়ে গেছেন, ইনিংসের ১০ ওভারও পেরিয়ে গেছে। ইনিংসের দ্বিতীয় ভাগেই যে বেশি ভয়ংকর এই ওপেনার। ১৪তম ওভারে তাই ম্যাচটা জমালেন নাজমুল ইসলাম। তাঁর সৃষ্ট নাগিন নাচটা বিখ্যাত হয়ে গেলেও পুরো টুর্নামেন্টে নাজমুলের উদ্‌যাপন দেখা যাচ্ছিল না। আগের চার ম্যাচে যে একটা উইকেটও পাননি! ফাইনালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটা তাঁর ভাগ্যে ছিল বলেই হয়তো। লং অন দিয়ে ছক্কা মারতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহর কাছে ধরা পড়লেন রোহিত। ভারত তখন জয় থেকে ৬৯ রান দূরে, হাতে ৪০ বল।

এভাবেই চলল ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত। এক মুহূর্তে মনে হচ্ছে ভারতই জিতবে, পরের মুহূর্তেই বাংলাদেশ! সেটা বাংলাদেশের দিকে ঘুরিয়ে দিলেন মোস্তাফিজ। ৩ ওভারে ৩৫ রান দরকার ছিল ভারতের। মোস্তাফিজ এলেন, প্রথম ৪ বলই ডট! পরের বলে ১ রান। শেষ বলে আউট মনিষ পান্ডে। ম্যাচ তো বাংলাদেশের!

কিন্তু রুবেলের ৩ বলেই আবারও ভারত ফেবারিট! প্রথম বলেই ছক্কা, পরের বলে চার, আবার ছক্কা! ১২ বলে ৩৪ রান থেকে ৯ বলে ১৮ রানের দূরত্বে ভারত। রুবেলের ওভারে এল ২২ রান। শেষ ওভারে মাত্র ১২ রান লাগবে ভারতের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঠিক ১২ রানই দরকার ছিল। সমস্যা একটাই, বাংলাদেশের মূল বোলারদের আর কারও ওভার বাকি নেই!

সৌমের প্রথম বলটা ওয়াইড। ৬ বলে ১১ রান। ডট, ১। ৪ বলে ১০ রান! আবারও ১, ৩ বলে ৯ রান। চতুর্থ বলে দুর্ভাগ্যক্রমে ৪, ২ বলে ৫ রান। পরের বল, উড়িয়ে মারলেন শংকর। দুই ফিল্ডার ধাক্কা খেলেন, তবে বল হাতছাড়া হলো না। আউট!

১ বলে ৫ রান দরকার ভারতের। বাংলাদেশের দরকার ৪-এর নিচে যে কোনো কিছু! এমন চাপ নিয়ে কখনো কি বল করেছেন সৌম্য? বাংলাদেশের কোনো বোলার?! কার্তিকের এক ছক্কায় সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল!

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস,মুশফিকের ‘নাগিন’ নাচ

শ্রীলংকার দেওয়া ২১৫ রানের পাহাড় সম রান টপকিয়ে এই ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এর আগে এতরান তাড়া করে কখনও জেতেনি। আজকের ম্যাচে শ্রীলংকাকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ।

ওপেনিংয়ে ঝড় তুলে সুরটা বেধে দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। মিডল অর্ডারে তাণ্ডব চালিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। খেলেছেন ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস। শেষ দিকে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ কাছ থেকে এসেছেও যোগ্য সঙ্গত। শ্রীলঙ্কার দেওয়া প্রায় অবিশ্বাস্য এক লক্ষ্য তাড়া করে ৫ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ।

অসাধারণ জয়ে তৈরি হলো দুর্দান্ত ইতিহাস এবং যে ইতিহাসের নায়কের নাম অবশ্যই মুশফিকুর রহিম!

জয়ের জন্য বাংলাদেশের লক্ষ্য ২১১ রানের পাহাড়…।।

দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ২১১ রানের বড় লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। টসে হেরে ব্যাট করে লঙ্কানরা তুলেছে ৪ উইকেটে ২১০ রান।

ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে টসে হেরেও ঝড়ো সূচনা করে শ্রীলঙ্কা। দুই ওপেনারের ব্যাটে চড়ে পাওয়ার প্লে’র প্রথম ৬ ওভারে বিনা উইকেটেই ৬৩ রান তুলে ফেলে দিনেশ চান্দিমালের দল।

উদ্বোধনী জুটিটা এরপরও থামেনি। দানুশকা গুনাথিলাকা আর কুশল মেন্ডিসের জুটিটি কিছুতেই ভাঙা যাচ্ছিল না। অবশেষে পার্টটাইমার সৌম্য সরকারকে বোলিংয়ে নিয়ে আসেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

বল হাতে নিয়ে প্রথম ওভারেই অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দেন সৌম্য। গুনাথিলাকাকে ফিরিয়ে ৯৮ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন তিনি। ডানহাতি এই মিডিয়াম পেসারকে তুলে মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন লঙ্কান এই ব্যাটসম্যান। ৩৭ বলে ৪২ রান করেন তিনি।

ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা আবু জায়েদ রাহির শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের বাকি বোলারদের মতোই। প্রথম দুই ওভারে মারও খেয়েছিলেন এই পেসার। তবে দারুণভাবে ফেরেন তৃতীয় ওভারে। তুলে নেন ভয়ংকর থিসারা পেরেরার উইকেটটি।

১৭ বলে ৩১ রান করা থিসারা পেরেরা রাহিকে তুলে মেরেছিলেন মিড অনে, বাউন্ডারিতে দাঁড়িয়ে সহজেই ক্যাচটি তালুবন্দী করেন সৌম্য সরকার।

এরপর লঙ্কান দলের আরেক ওপেনার কুশল মেন্ডিসকে সাজঘরের পথ দেখান কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। ৪২ বলে ৭০ রান করেন মেন্ডিস। ১২ বলে ২৫ করে ইনিংসের শেষ ওভারে এসে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের শিকার হন উপুল থারাঙ্গা। তবে ততক্ষণে লঙ্কানদের রান দুইশ পার হয়ে গেছে।

২১৫ রানে অসহায় আত্মসমর্পণ বাংলাদেশের ।

দ্বিতীয় টেস্টে এমন প্রদর্শনীতে শনিবার বাংলাদেশ শুধু ২১৫ রানে হারেনি, ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খুইয়েছে আর নাকানিচুবানি খেয়ে প্রতিপক্ষের কাছে করেছে মাথা নিচু। শ্রীলঙ্কা আগে ব্যাট করে ২২২ রান করেছিল। জবাবে বাংলাদেশ ১১০ রানে গুটিয়ে যায়। বাংলাদেশ মূলত নিজেদের কবর খুঁড়েছিল এই ইনিংসে। তৃতীয়দিন দুপুর গড়িয়ে বিকেল আসতে আসতে সেই কবরে সমাধিস্থ!

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঢাকা টেস্ট জিততে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল ৩৩৯ রান। এই লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ওপেনার তামিম ইকবালের উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। এরপর কিছুটা ঘুরেও দাঁড়িয়েছিল স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ইমরুল কায়েস ও মুমিনুল হক জুটি ৪৬ রান যোগ করেছিল। কিন্তু দলীয় ৪৯ রানের মাথায় ইমরুল ফিরে যান। কিছুটা আশা জাগিয়ে লাঞ্চের পর ফিরে যান মুমিনুল হকও (৩৩)। উইকেটে বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি লিটন দাস।

লাঞ্চের পর উইকেট হারানোর যে হিড়িক শুরু হয় এতে যোগ হয়েছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লহও। তিনি ব্যক্তিগত ৬ রানের মাথায় আকিলা ধনঞ্জয়ার শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন। কিছুটা আশা ছিল সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের ওপর। তিনি ২৫ রান করে উইকেটে অনেকটাই সেট ছিলেন। তিনিও পারেননি বাংলাদেশের চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে হাল ধরতে। এরপর কেউই পারেননি দলের বিপর্যয়ে রুখে দাঁড়াতে। তাই ১২৩ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। সফরকারী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে ২১৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরের লজ্জা পায় স্বাগতিকরা।

প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টসে জিতে ব্যাটিং করছে বাংলাদেশ… ভাল সূচনা বাংলাদেশের

শুরুতেই টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। তামিম ইকবালের সঙ্গে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি গড়েছেন ইমরুল কায়েস। শুরু থেকেই ঝড়ো গতিতে ব্যাটিং করে চলেছেন তামিম।

তবে অর্ধশতক পূর্ণ করার পর আর বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি বাঁহাতি এই ওপেনার। সাজঘরে ফিরেছেন ৫২ রান করে।

তবে তামিম ফিরে গেলেও ইমরুল ও মুমিনুলের দৃঢ়তাপূর্ণ ব্যাটিংয়ে ভর করে ১০০ রানের কোটা পেরিয়েছে বাংলাদেশ। এ প্রতিবেদন লেখার সময় বাংলাদেশের স্কোর : ১১৭/১। ৩৯ রান করে অপরাজিত আছেন ইমরুল। আর মুমিনুল ২৫।

সাকিব আল হাসান ইনজুরির কবলে পড়ায় দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ।

বাংলাদেশ দল : তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, সানজামুল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান।

শ্রীলঙ্কা দল : দিমুথ করুনারত্নে, ধনঞ্জয় ডি সিলভা, কুশল মেন্ডিস, দিনেশ চান্দিমাল, নিরোশান ডিকওয়েলা, রোসেন সিলভা, দিলরুয়ান পেরেরা, থিসারা পেরেরা, রঙ্গনা হেরাথ, সুরঙ্গা লাকমল, লক্ষন সান্দাকান ও লাহিরু কুমারা।

জয়ের জন্য বাংলাদেশের লক্ষ্য ২২২ রান ।

ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খুব ঝড়ো গতিতেই করেছিল শ্রীলঙ্কা।

২২ ওভারের মধ্যেই স্কোরবোর্ডে জমা করে ফেলেছিল ১০০ রান। কিন্তু পরে দারুণ বোলিং করে লঙ্কানদের রান সংগ্রহের গতি অনেকটাই কমিয়ে এনেছিলেন মুস্তাফিজ-মাশরাফিরা।

উপুল থারাঙ্গা, নিরোশান ডিকওয়েলা ও দিনেশ চান্দিমালের লড়াকু ব্যাটিংয়ে ভর করে শেষপর্যন্ত লঙ্কান স্কোরবোর্ডে জমা হয়েছে ২২১ রান। ফলে প্রথমবারের মতো বড় কোনো শিরোপা জয়ের জন্য বাংলাদেশকে করতে হবে ২২২ রান।

ঘরের মাটিতে এর আগে তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল বাংলাদেশকে। তিন তিনবার শিরোপার খুব কাছাকাছি গিয়েও হতাশ হতে হয়েছিল সাকিব-মাশরাফিদের। এবারের ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে সেই আক্ষেপ ঘোঁচানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে টাইগাররা।

এখন দেখার বিষয় বাংলাদেশকি পারবে ?? শিরোপা জিততে ??