পিতাকে বাবা ডাকা কি ঠিক ?? ইসলাম কি বলে !! জেনে নিন বিস্তারিত ।।

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় বেসরকারি একটি টেলিভিশনের জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

প্রশ্ন : আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা আমাদের যার যার পিতাকে আব্বা, বাবা ইত্যাদি বিভিন্ন নামে ডাকি। কিন্তু আমি শুনেছি, বাবা বলে ডাকা নাকি ঠিক না। হিন্দুরা নাকি বাবা বলে ডাকে। ইসলামের দৃষ্টিতে এটা কতটা যুক্তিসংগত?

উত্তর : এই শব্দগুলো ভাষাগত পার্থক্য ছাড়া আর কিছুই না। বাবা শব্দটি আরবি, উর্দু, ফার্সি, তুর্কি ও বাংলায় ব্যবহার হয়ে থাকে। এই শব্দটি পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই দুটি শব্দ মনে হয় সারা পৃথিবীতে মিলে যায়, একটি হচ্ছে মা, আরেকটি হচ্ছে বাবা। এ দুই শব্দের ক্ষেত্রে প্রায় কাছাকাছি শব্দ ব্যবহার হয়ে থাকে।

বাবা শব্দটি বহুল প্রচলিত, যেহেতু আরবরা সবাই ব্যবহার করে। সুতরাং এটা হারাম বা নিষিদ্ধ হওয়ার কোনো কারণ নেই। এটি বিশেষ কোনো সম্প্রদায়ের শব্দও নয়। এটি একেবারে বৈধ শব্দ।

১৬ টি কুফরি বাক্য যা না জেনে আমরা নিয়মিত বলে থাকি, প্রত্যেক মুসলিমের জেনে রাখা উচিৎ…

১৬ টি কুফরি বাক্য যা আমরা নিয়মিত বলে থাকি, জেনে রাখা উচিৎ প্রত্যেক মুসলিমের!!- না জেনে বুঝে এসব সমাজে প্রচলিত বাক্য আমরা প্রায়ই বলে ফেলি , জেনে নিন সেগুলো …

১. আল্লাহর সাথে হিল্লাও লাগে।

২. তোর মুখে ফুল চন্দন পড়ুক।

( ফুল চন্দন হিন্দুদের পুজা করার সামগ্রী)

৩. কস্ট করলে কেস্ট মেলে

( কেস্ট হিন্দু দেবির নাম, তাকে পাবার জণ্য কস্ট করছেন?)

৪. মহভারত কি অশুদ্ধ হয়ে গেল?

( মহাভারত একটি উপন্যাস, যা সবসময় অশুদ্ধ)

৫. মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত।

( এটি ইসলামের নামে কটূক্তি করা)

৬. লক্ষী ছেলে, লক্ষী মেয়ে, লক্ষী স্ত্রী বলা।

( হিন্দুদের দেব-দেবির নাম লক্ষী তাই ইসলামে এটি হারাম)

৭. কোন ঔষধকে জীবন রক্ষকারী বলা।

( জন্ম- মৃত্য

একমাত্র আল্লাহর হাতে)

৮. দুনিয়াতে কাউকে শাহেনসা বলা।

৯. নির্মল চরিত্র বোঝাতে ধোয়া তুলশি পাতা বলা।

( এটি অনইসলামিক পরিভাষা যা হারাম)

১০. ইয়া খাজাবাবা, ইয়া গাঊস, ইয়া কুতুব ইত্যাদি বলা।

( এটি শির্ক, ইসলামের সবচেয়ে বড় পাপ)

১১. ইয়া আলি, ইয়া রাসুল (সাঃ) বলে ডাকা এবং সাহায্য প্রার্থনা করা (আল্লাহ ছাড়া পৃথীবির কাউকে ডাকা শির্ক)

১২. বিসমিল্লায় গলদ বলা।

( এটি সরাসরি কুফরি)

১৩. মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়া বলা।

( কুফরি বাক্য, সাবধান। )

১৪. মধ্যযুগি বর্বরতা বলা।

( মধ্যযুগ ইসলামের সর্ণযুগ)

১৫. মন ঠিক থাকলে পর্দা লাগে না।

( ইসলাম ধংসকারী মতবাদ)

১৬. নামাজ না পড়লে ঈমান ঠিক আছে বলা।

( ইসলাম থেকে বের করার মূলনিতী। )

এই গুলি অজ্ঞতার কারনে হয়ে থাকে। হে মুসলিম উম্মাহ আসুন আমরা নিজে অতপর নিজের পরিবারকে সচেতন করি, তাদের মাঝে এই গুলি প্রচার করি, আর কত দিন এই অজ্ঞতায় পড়ে থাকবো?

আসুন না একজন আরেকজন কে সচেতন করার জন্য উৎসাহ দেই,

এই বাক্য গুলি আপনি যে কোন ভাবে প্রচার করুন।

ইসলাম কি বলে ? ঘুষের টাকায় চাকুরীর, আয় হালাল নাকি হারাম হবে ??

আমরা অনেকেই চাকরি পাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘুষ ব্যবহার করে থাকি। তবে ঘুষের টাকায় হওয়া চাকরির প্রাপ্ত বেতন আমাদের জন্য আদৌও হালাল না হারাম তা নিয়ে অকনেকেই সংশয়ে থাকি। আসুন জেনে নেই ঘুষের টাকায় চাকরির বেতন আপনার জন্য কতটুকু কার্যকরী। ঘুষের টাকার চাকরি, আয় হালাল নাকি হারাম?

প্রথমত ঘুষ দেওয়াটাই হারাম। ঘুষ দেওয়ার পর আপনি যে চাকরিটা নিয়েছেন সেখানে দুইটি বিষয় হতে পারে। একটা হচ্ছে চাকরিটা পাওয়ার জন্য আপনি যোগ্য ছিলেন, কিন্তু ঘুষ না দেওয়ার জন্য চাকরিটা হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে ঘুষ দিয়ে চাকরি পেলে আপনার চাকরিটা জায়েজ হবে। কিন্তু ঘুষ দেওয়াটা নাজায়েজ হবে। আবার চাকরির জন্য যোগ্য না হওয়ার পরও যদি ঘুষ দিয়ে চাকরি নেন, তাহলে পুরো জীবনে যা উপার্জন করেছেন তার সবটাই হারাম হবে।

মৃত্য ব্যক্তির নামে কোরআন খতম-চল্লিশা …. ইসলাম কি বলে…?

আমাদের সমাজে একটা রীতি প্রচলিত রয়েছে সেটা হলো- কোন ব্যক্তি যদি মারা যায়, তাহরের মারা যাওয়ার সাত দিনের পর অথবা মারা যাওয়ার পর প্রথম শুক্রবার আল কোরআনের হাফেজদের ডেকে কোরআন খতম করানো। এছাড়া মৃত্যুর চল্লিশ দিনের মাথায় বিশাল মজলিশের মাধ্যমে মেজবানের আয়োজন করা হয়। ইসলামে মূলত এগুলো জায়েজ আছে কিনা জানতে হলে নিচের বর্ণনাটি পড়ুন।

মেজবান বলতে বোঝায় মানুষকে খাওয়ানো। লোকদের খাওয়ানো একটি ভালো কাজ। বুখারি শরিফের মধ্যে রাসুল (সা.) বলেছেন, এটি একটি আফতারুল ইসলাম, ইসলামের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ কাজ। সুতরাং আপনি লোকদের খাওয়াইতে পারেন; কিন্তু সেখানে আনুষ্ঠানিকতা চার দিনে, ১০ দিনে, চল্লিশা ইত্যাদি করেন তাহলে আপনি সুন্নাহ পরিপন্থী কাজ করলেন।
সে ক্ষেত্রে সওয়াব তো দূরের কথা, বেদাত হওয়ার কারণে আপনি বড় ধরনের কবিরা গুনাহর মধ্যে লিপ্ত হয়ে গেলেন। সুতরাং এ ধরনের কাজ করবেন না, তাহলে আমলও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একাধিক হাদিস দ্বারা এই ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

তাই মেজবান বা চল্লিশা এ জাতীয় নাম না দিয়ে আপনি যেকোনো দিন আপনার সুবিধামতো আত্মীয়স্বজন বা গরিবদের খাওয়াতে পারেন, মৃত ব্যক্তিদের জন্য দোয়া করতে পারেন।
এরপর কোরআন খতম আপনি নিজে করবেন। কোরআন খতম করে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করবেন। মৃত ব্যক্তির জন্য কোরআন খতম করার বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (সা.) অথবা সাহাবিদের আমল দ্বারা সাব্যস্ত হয়নি। এটাও আমরা নিজেরাই আবিষ্কার করে নিয়েছি।

মৃত ব্যক্তির জন্য কোরআন খতম না করে কোরআন খতম আমরা নিজেরাই করব, তারপর আমরা লোকদের মেজবান খাওয়াব। আমরা মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান-খয়রাত করব, ছদকায়ে জারিয়া করব। আর বেশি বেশি করে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করব। এটা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

শুধু নামাজের সময়ই কি কাপড় টাখনুর ওপর তুলতে হবে ?? জেনে নিন ইসলাম কি বলে !!

অনেক সময় দেখা যায় নামাজের জামাত শুরু হওয়ার আগে মুসল্লিদের কেউ কেউ নিজেদের পায়জামা, প্যান্ট, লুঙ্গি ইত্যাদি টাখনু গিরার ওপর তুলে নিচ্ছেন বা ইমাম সাহেব বলে দিচ্ছেন, ‘কাপড় টাখনুর ওপর তুলে নিন’। এতে মনে হয় শুধু নামাজের সময়ই কাপড় টাখনুর ওপর তুলতে হবে; অথচ বিষয়টি শুধু নামাজের সাথে সম্পৃক্ত নয়। পুরুষের জন্য নামাজের ভেতরে-বাইরে সর্বাবস্থায় কাপড় টাখনুর নিচে পরিধান করা কবিরা গুনাহ। এ বিষয়ে হাদিসে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারিত হয়েছে। নিচে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হাদিস তুলে ধরা হলোÑ

হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, লুঙ্গির যে অংশ টাখনুর নিচে থাকবে তা জাহান্নামে যাবে। [বুখারি : হাদিস নং- ৫৭৮৭]

হজরত আবু যর রা. বলেন, রাসুল সা. বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তিন ব্যক্তির সঙ্গে কথা তো বলবেনই না বরং তাদের দিকে তাকিয়েও দেখবেন না। এমনকি তিনি তাদেরকে গুনাহ থেকে পবিত্র করবেন না বরং তাদের জন্য রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তারা কারা? তবে এরা তো ধ্বংশ, তাদের বাঁচার কোনো রাস্তা নেই। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ কথা তিনবার বলেছেন। তারা হলো ক. যে ব্যক্তি টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে কাপড় পরে। খ .যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম খেয়ে ব্যাবসার পণ্য বিক্রি করে। গ. যে ব্যক্তি কারো উপকার করে আবার খোটা দেয়। [মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ]‌।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আ. থেকে বর্ণনা করে হজরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, লুঙ্গির যে অংশ টাখনুর নিচে থাকবে তা আগুনে প্রজ্জ্বলিত হবে। [বুখারি]

রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, পুরুষের শরীরের যে কোনো পোশাক টাখনুর নিচে ঝুলে পড়া হারাম। পোশাক যদি টাখনুর নিচে ঝুলে যায়, তাহলে টাখনুর নিচের ওই অংশকে জাহান্নামের অংশ বলে ধরা হবে। [বুখারি]

হজরত জাবের ইবনে সুলাইম রা. হতে বর্ণিত, রাসুল সা. বলেন, টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে কাপড় পড়ার ব্যাপারে সাবধান হও। কারণ, তা অহংকারের অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহ অহংকার করাকে পছন্দ করেন না। [আবু দাউদ]

ইবনু উমার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, অহংকারবশত যে ব্যক্তি তার বস্ত্র বা কাপড় পায়ের গিঁটের নিচে (টাখনুর নিচে) ঝুলিয়ে চলবে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কিয়ামতের দিন তার দিকে ফিরেও তাকবেন না। উম্মে সালমা রা. বললেন, তাহলে মহিলারা তাদের আঁচলের ব্যাপারে কি করবে? তিনি বললেন, তারা পায়ের গিঁট থেকে এক বিঘত পরিমাণ ঝুলিয়ে রাখবে। উম্মে সালমা রা. বললেন, এতে তো তাদের পা অনাবৃত হয়ে পড়বে। রাসুলুল্লাহ সা. বললেন তাহলে তারা একহাত পরিমাণ নিচে পর্যন্ত ঝুলতে পারে, এর চাইতে বেশি যেন না ঝুলায়। এ হাদিসটি আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন। [আবু দাউদ : হাদিস নং- ৩৪৬৭, ৪০৮৫, তিরমিজি : হাদিস ১৭৩১]

উল্লেখিত ছয়টি হাদিসে টাখনুর ওপর কাপড় পরিধানের ক্ষেত্রে সাধারণ বিধান বর্ণিত হয়েছে। এখানে বলা হয়নি যেÑ শুধু নামাজের সময় টাখনুর নিচের কাপড় ওঠাতে হবে বা টেনে পড়তে হবে। তাই পরিধেয় পোশাক যেমনÑ পায়জামা, প্যান্ট, লুঙ্গি ইত্যাদি সর্বাবস্থায় টাখনুর ওপরে পরিধান করা আবশ্যক। বিষয়টি নিজে অনুধাবন করে আমল করুন এবং অন্যকে এর কঠিক শাস্তির ব্যাপারে সতর্ক করুন। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমিন।

বি.দ্র. : মহিলারা সর্বাবস্থায় টাখনুর নিচে কাপড় পরবে।

ইসলাম কি বলে !! ওয়াজ মাহফিলে বক্তার টাকা নেওয়া কি জায়েজ ??

ওয়াজ-নসিহত বা উপদেশ মানবজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। এটি মানবসমাজের উন্নতি ও সংশোধনের অতুলনীয় পন্থা। ইসলামের শুরু থেকেই এর পবিত্র ধারা অদ্যাবধি চলে আসছে। এমনকি ইসলামপূর্ব যুগেও যুগে যুগে মনীষী ও পণ্ডিতদের পক্ষ থেকে জনসাধারণের প্রতি ওয়াজ-নসিহতের বিষয়টি পাওয়া যায়। কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর স্মরণ করো ওই সময়ের কথা, যখন লোকমান তার পুত্রকে ওয়াজ (উপদেশ) করতে গিয়ে বলল, হে পুত্র আমার! আল্লাহর সঙ্গে শরিক কোরো না, নিঃসন্দেহে শিরক মহা অপরাধ।’ (সুরা : লোকমান, আয়াত : ১৩)

ওয়াজ ও নসিহতের এ কল্যাণধারা রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও তাবে-তাবেঈনের যুগ অতিক্রম করে বর্তমান যুগ পর্যন্ত উম্মতের আলেমদের মাধ্যমে অব্যাহত রয়েছে। যদিও যুগ, স্বভাব ও পরিবেশের পরিবর্তনে এতে ব্যবস্থাপনাগত কিছু বৈচিত্র্য এসেছে। তবে বর্তমান অবধি তা অব্যাহত আছে এবং থাকাও অপরিহার্য। বর্তমানে তাতে কিছু বিচ্যুতি সত্ত্বেও এর মৌলিক গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা অনস্বীকার্য। বর্তমানে ওলামায়ে কেরাম ও দ্বিনি ভাইয়েরা যদি কিছু বিচ্যুতির সংশোধনের প্রতি খেয়াল করেন, তাহলে এর উপকারিতা আরো বহু গুণ বৃদ্ধি পাবে।

ওয়ায়েজ বা বক্তা নির্বাচন
অবশ্যই সতর্ক হতে হবে যে বক্তা যেন হক্কানি আলেম তথা দ্বিনের সঠিক জ্ঞানসম্পন্ন ও মুত্তাকি হয়ে থাকেন। অযোগ্য ব্যক্তির হাতে ইসলামের কাজ সোপর্দ করা রাসুল (সা.)-এর বাণী অনুসারে কিয়ামতের নিদর্শন। ইসলামী আইনবিষয়ক বিশ্বকোষ ‘আল মাওসুআতুল ফিকহিয়্যা আল কুয়েতিয়্যা’ নামক গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে : ‘ওয়ায়েজ হওয়ার জন্য কয়েকটি শর্ত আছে। এক. ওয়ায়েজ ব্যক্তি বিবেকবান ও বালেগ হওয়া। দুই. ন্যায়পরায়ণ হওয়া। তিন. হাদিসের শব্দ, অর্থ, ব্যাখ্যা, বিশুদ্ধতা ও অশুদ্ধতা বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকা। চার. কোরআনের তাফসিরকারক হওয়া। কোরআনের কঠিন থেকে কঠিন বিষয়গুলো সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা থাকা। আগের তাফসিরবিদদের ব্যাখ্যা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা। ’ (আল মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ আল কুয়েতিয়্যা : ৪৪/৮১)

‘এলাকার লোক’, ‘সুললিত কণ্ঠের অধিকারী’, রেডিও-টিভির ভাষ্যকার’ ইত্যাদি বক্তা নির্বাচনের শরয়ি মানদণ্ড নয়। তবে হ্যাঁ, হক্কানি আলেম হওয়ার পাশাপাশি এসব গুণ কারো মধ্যে থাকলে তাঁদের আমন্ত্রণ জানাতে কোনো অসুবিধা নেই। (আলমাউসুয়াতুল ফিকহিয়া : ৪৪/৮১, ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়া : ২/৩৬৭)

ওয়াজের বিষয়
ওয়াজ যেন দ্বিন ও শরিয়তের বিভিন্ন শাখা থেকে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হয়ে থাকে। অপ্রয়োজনীয় ও বেহুদা হাসি-মজায় যেন সময় নষ্ট না হয়। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘ব্যক্তির (জীবনে) ইসলামের সৌন্দর্য হলো অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকা। ’ (তিরমিজি, হাদিস ২৩১৭)

জাল হাদিস ও জাল কাহিনিমুক্ত হওয়া
কোরআন, তাফসির, গ্রহণযোগ্য হাদিস এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামের বাণী এবং সত্য ও শিক্ষণীয় ঘটনাবলির আলোকেই ওয়াজ করা অপরিহার্য। জাল হাদিস ও অসত্য কাহিনি বর্ণনা করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। যাচাই করা ছাড়া যেকোনো বই থেকে কোনো কথা বা ঘটনা পেয়েই বয়ান শুরু করবে না। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে বিজ্ঞ আলেমদের দিকনির্দেশনা গ্রহণ করবে। জেনেশুনে উপদেশস্বরূপ জাল হাদিস বর্ণনা করা কবিরা গুনাহ। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি জেনেশুনে আমার নামে কোনো মিথ্যা হাদিস বর্ণনা করে, সে মিথ্যাবাদীদের একজন। ’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৬৬২) অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি আমি যা বলিনি, এমন কথা আমার পক্ষ থেকে ইচ্ছাকৃত বর্ণনা করে, সে যেন জাহান্নামে তার স্থান বানিয়ে নেয়। (বুখারি, হাদিস : ১০৭)

অপব্যয়মুক্ত হওয়া
ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা, সৌন্দর্যসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচে মধ্যপন্থা কাম্য। অপব্যয় থেকে মুক্ত হওয়া জরুরি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমাদের অর্থ-সম্পদ অপ্রয়োজনীয় কাজে খরচ করবে না। জেনে রেখো, যারা অপব্যয় করে তারা শয়তানের ভাই, আর শয়তান নিজ প্রতিপালকের ঘোর অকৃতজ্ঞ। ’ (সুরা : বনি ইসরাইল, আয়াত : ২৬-২৭)

মাইক ব্যবহারে সতর্কতা
সভাস্থলে প্রয়োজনীয় মাইক ব্যবহার কাম্য। দূর-দূরান্তে ও বাজার-ঘাটে অপ্রয়োজনীয় মাইক ব্যবহারে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি। এতে শরিয়তবিরোধী অনেক কার্যকলাপ পরিলক্ষিত হয়, যেমন—নামাজির নামাজে ও ঘুমন্ত ব্যক্তির ঘুমে ব্যাঘাত হয়, অসুস্থ ব্যক্তির কষ্ট হয় এবং বিভিন্ন বৈধ কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের কাজে ব্যাঘাত হয়। আলেমরা মানুষের ঘুমে ব্যাঘাত হয়, এমন জোরে কোরআন তেলাওয়াতও অবৈধ বলেছেন। (ফাতহুল কদির ১/২৯৮, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ৩/৫৫২, জিকর ও ফিকির, পৃষ্ঠা ২৬)

হজরত ওমর (রা.)-এর যুগে জনৈক ব্যক্তি মসজিদে-নববীতে এসে প্রতিদিন বিকট আওয়াজে ওয়াজ শুরু করে, এতে পাশেই হুজরায় অবস্থানরত হজরত আয়েশা (রা.)-এর কাজে ব্যাঘাত হতো, তাই তিনি হজরত ওমর (রা.)-কে বিষয়টি অবহিত করলে ওমর (রা.) ওই লোককে নিষেধ করে দেন। লোকটি কিছুদিন পর আবার ওয়াজ শুরু করলে ওমর (রা.) এসে তাকে শাস্তি দেন। (আখবারু মাদিনা : ১/১৫)

গভীর রাত না হওয়া
গভীর রাত পর্যন্ত ওয়াজ হলে সাধারণ মানুষের ঘুমে ব্যাঘাত হওয়াসহ পরদিন ফজরের নামাজে ব্যাঘাত হবে, তাই গভীর রাত পর্যন্ত ওয়াজ না হওয়াই কাম্য। এ বিষয়ে রদ্দুল মুহতার নামক কিতাবে এসেছে : ‘এশার নামাজের আগে ঘুমানো এবং এর পরে কথা বলা হাদিস শরিফে নিষেধ করা হয়েছে। অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এশার পর কোনো কাজ নেই। কিন্তু মুসল্লির জন্য নামাজ আদায় আর মুসাফিরের জন্য সফর করা বৈধ। ’ (রদ্দুল মুহতার : ১/৩৬৮)

বক্তাকে ওয়াজের হাদিয়া দেওয়ার বিধান
আগের যুগে আলেমদের ভরণ-পোষণ ছিল রাষ্ট্রের অধীনে। সে সময় তাঁদের জন্য অন্যের থেকে অর্থ গ্রহণ বৈধ ছিল না। পরবর্তী যুগের ইসলামী পণ্ডিতরা কিছু কিছু দ্বিনি কাজের বিনিময় দেওয়া-নেওয়া জায়েজ বলেছেন। অনেক আলেম ওয়াজকেও ওই সব কাজের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কিন্তু ‘এত টাকা দিতে হবে, অন্যথায় ওয়াজ করব না’—এভাবে বলা উচিত নয়। তবে হ্যাঁ, এ অবস্থায়ও টাকা নেওয়া অবৈধ হবে না। এ বিষয়ে ‘দুররুল মুখতার’ নামক কিতাবে এসেছে : ‘বর্তমানে কোরআন শেখানো, ফিকাহচর্চা, ইমামতি, আজান ইত্যাদির বিনিময় গ্রহণের ব্যাপারে বৈধতার ফতোয়া দেওয়া হয়। কেউ কেউ আজান, ইকামত ও ওয়াজকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।’ (আদ দুররুল মুখতার : ৬/৫৫)

ওয়াজ-নসিহতের মাধ্যমে সমাজের দ্বিনি প্রয়োজন পুরা করাও ইসলামের একটি জরুরি শাখা। তাই যদি কেউ ওয়াজের জন্য নিজেকে ফারেক রাখে, তার জন্য ওয়াজের পারিশ্রমিক গ্রহণ বৈধ হবে, চাই চুক্তি করে হোক বা পূর্বচুক্তিবিহীন। তবে উত্তম হলো, এভাবে চুক্তি করে টাকা ধার্য না করা। (রদ্দুল মুহতার : ৬/৫৫, ইমদাদুল ফাতাওয়া : ৩/৩৮৯)

কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক দায়িত্ব ছাড়া হঠাৎ কাউকে বয়ানের জন্য বলার পর পারিশ্রমিক চাওয়া বৈধ নয়, যেমন মসজিদে নামাজ পড়ানোর জন্য যদি কেউ ইমাম নিযুক্ত হয়, যে নামাজ পড়ানোর জন্য নিজের সময়কে খালি করে রাখে, ওই ব্যক্তির জন্য ইমামতির পারিশ্রমিক নেওয়া বৈধ। কিন্তু দায়িত্বে নিয়োগবিহীন নামাজ শুরু হওয়ার প্রাক্কালে একজনকে নামাজ পড়াতে বললে ওই ব্যক্তি নামাজ পড়ানোর কারণে পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েজ হবে না। (ইমদাদুল ফাতাওয়া : ৩/৩৮৯, আহসানুল ফাতাওয়া : ৭/৩০০)

অতিরিক্ত বিনিময়ের চাহিদা
বিনিময় বৈধ হলেও এটা নিছক কোনো পণ্য বিক্রির মূল্যের মতো নয়। তাই তা নিয়ে দর-কষাকষি বা বেশি চাহিদা পেশ করা ঠিক নয়। পণ্য কেনাবেচার মতো দরদাম করে, অগ্রিম বুকিং মানি নেওয়া ওলামায়ে কেরামের শান, মান ও ইজ্জতের সঙ্গে মানানসই নয়, এতে দ্বিনের অসম্মান হয়, তাই তা মাকরুহে তাহরিমি তথা নাজায়েজ হবে। (কিফায়াতুল মুফতি : ৭/৩১৯, ৩৩০, আহসানুল ফাতাওয়া : ৭/২৮০)

বিনিময় নিলে সওয়াব হবে?
যদি দ্বিনের খেদমতের নিয়তে ওয়াজ করে, প্রয়োজনের কারণে বিনিময় নিয়ে থাকে, তাহলে ওয়াজের সওয়াব পাবে। আর যদি শুধু টাকার জন্যই এ পেশা গ্রহণ করে, তাহলে সওয়াব পাবে না। তাই বিনিময় নিয়ে বাড়াবাড়ি করা, কম দিলে এ কারণে পরবর্তী বছর দাওয়াত গ্রহণ না করা এবং দুই স্থানের যেখানে টাকা বেশি দেওয়া হয় তা গ্রহণ করা ইত্যাদি কারণেও সওয়াব পাবে না। তবে প্রত্যেকের নিয়ত তার অন্তরের বিষয়, তাই কারো নিয়তের ওপর আঘাত করার অধিকার কারো নেই। তাই কোনো বক্তাকে নিয়তের ব্যাপারে আঘাত করা যাবে না। (ইমদাদুল ফাতাওয়া : ৩/৩৪০

লেখক : ফতোয়া গবেষক ও মুহাদ্দিস

ইসলাম কি বলে ! চুল-দাড়িতে কলপ ব্যবহার করা যাবে কি ??

বার্ধক্য এলে অনেকের চুল-দাড়ি ধবধবে সাদা হয়ে যায়। সাদা দাড়িওয়ালা অনেকে দাড়ি ও চুলে খেজাব বা মেহেদি ব্যবহার করেন। আবার বার্ধক্যজনিত কারণ ছাড়াও অপরিণত বয়ইে অনেক যুবকের মাথার চুল পেকে যায়। চুল কালো করতে তারাও বিভিন্ন পদ্ধতির আশ্রয় নেন। চুল-দাড়িতে কলপ, খেজাব বা মেহেদি যাই হোক, তা ব্যবহারের আগে মুসলমানদের উচিত ইসলামের দৃষ্টিতে তা কতটা বৈধ তা জেনে নেওয়া।

বার্ধক্যজনিত কারণে কারো চুল-দাড়ি পেকে গেলে তাতে খেজাব ব্যবহার করা বৈধ। তবে তা কালো খেজাব হতে পারবে না। নবীজি (সা.) মূলত মেহেদি বা এ ধরণের রঙের কোনো জিনিস দ্বারা চুল-দাড়ি রাঙাতে উৎসাহ দিয়েছেন। হজরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, মক্কা বিজয়ের দিন নবীজি (সা.) হজরত আবুবকরের পিতা আবু কুহাফার (রা.) চুল-দাড়ি পাকা দেখে তাকে বললেন, ‘এটাকে কোনো কিছু দ্বারা পরিবর্তন করো। তবে কালো থেকে বিরত থাকো।’ (সহিহ মুসলিম : ৫৪৬৬)। এ হাদিসে কালো ছাড়া মেহেদি রঙ বা অন্য খেজাব ব্যবহারের উৎসাহ দেওয়া হয়েছে এবং কালো খেজাব ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে।

বার্ধক্য গোপন করার জন্য বৃদ্ধের জন্য সাদা চুল-দাড়িতে কালো খেজাব ব্যবহার একেবারেই নাাজায়েজ। কালো খেজাব ব্যবহারকারী ব্যক্তি জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘শেষ যুগে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা (চুল-দাড়িতে) কবুতরের বুকের রঙের মতো কালো খেজাব বা কলপ ব্যবহার করবে। তারা জানানতের সুগন্ধও পাবে না। (আবু দাউদ : ৪২১২)। যারা চুল-দাড়িতে কালো রঙ ব্যবহার করবে তারা জান্নাত থেকে তো বঞ্চিত হবে আবার তাদেরকে ভয়াবহ শাস্তির হুশিয়ারিও দিয়েছেন মহানবী (সা.)। হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন, কালো কলপ ব্যবহারকারী ব্যক্তির চেহারা কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা কালো করে দেবেন।’ কেমিক্যালযুক্ত যে মেহেদির রং সম্পূর্ণ কালো সেটার নাম মেহেদি হলেও তা ব্যবহার নাজায়েজ। তবে কোনো খেজাব যদি একোবরে কালো না হয়ে মিশ্র রঙের হয তা ব্যবহার করা যেতে পারে।

সুরা রূমের ৩০ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই।’ অর্থাৎ প্রকৃতিগতভাবে আল্লাহর সৃষ্ট কোনো সৃষ্টিকে পরিবর্তন সাধন করা যাবে না। সাদা কিংবা কালো চুল-দাড়িও প্রকৃতিগতভাবে আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি। তা পরিবর্তন হারাম। কালো রঙ দ্বারা পাকা চুল-দাড়িকে কালো করে নিজেকে যুবক কিংবা অপেক্ষাকৃত কম বয়সী জাহির করেন অনেকে। বার্ধক্যজনিত কারণে চুল-দাড়ি পেকে গেলে তা তো আশীর্বাদ। অনেকে পাকা চুল ও দাড়ি উঠিয়ে ফেলে যুবক সাজতে চান অথচ মুমিনের একটি চুল সাদা হলে একটি গুনাহ ঝড়ে যায়। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, তোমরা পাকা চুল তুলে ফেলো না। কেননা পাকা চুল হলো মুসলমানের জ্যোতি। কোনো মুসলমানের একটি চুল পেকে গেল আল্লাহ তার জন্য একটি নেকি লিখে দেন, একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন, একটি গুনাহ ক্ষমা করেন।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৬৯৬২)।

বার্ধক্যজনিত কারণে সাদা হয়ে যাওয়া চুল-দাড়িতে কালো খেজাব ব্যবহারে নিষেধের মূল কারণ হলো, এর দ্বারা আল্লাহপ্রদত্ত বার্ধক্যকে গোপন করে মানুষের সামনে নিজেকে তরুণ হিসেবে উপস্থাপন করা। এর ফলে ব্যক্তিগত আচরণেও প্রভাব পড়ে। এটা এক ধরণের প্রতারণা। আল্লাহর ফায়সালাকে মেনে না নেওয়ার নামান্তর। তবে অসুস্থতা, চুলের যত্ন না নেওয়া, কোনো ওষুধ ব্যবহারের কারণে বা অন্য কোনো কারণে অপরিণত বয়সেই যে যুবকের চুল-দাড়ি সাদা হয়ে গেছে যেহেতু সে আসলে বৃদ্ধ নয়, এখানে বার্ধক্য গোপন করা হচ্ছে না তাই সে কালো খেজাব ব্যবহার বৈধ বলেই অকে আলেম মত দিয়েছেন। (ফায়জুল কাদির : ১/৩৩৬)। বার্ধক্যের আগেই সাদা হয়ে যাওয়া চুলে কোনো

কোনো পূর্ববর্তী আলেমও কালো খেজাব ব্যবহার করেছেন। ইমাম জুহরি (রহ.) বলেন, আমাদের চেহারা যখন সতেজ ছিল তখন আমরা কালো খেজাব ব্যবহার করেছি। কিন্তু যখন চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ পড়েছে, চেহারা মলিন হয়ে গেছে, দাঁত নড়বড়ে হয়ে গেছে তখন আর কালো খেজাব ব্যবহার করিনি। (ফাতহুল বারি : ১০/৩৩৬)। তবে যেহেতু হাদিসে কালো খেজাবকে বিশেষভাবে নিষেধ করা হয়েছে তাই যুবকদের জন্য উচিত এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করে একেবারে কালো খেজাব ব্যবহার না করে লাল কালো মিশ্রিত খেজাব ব্যবহার করা। (তুহফাতুল অহওয়াজি : ৫/১৫৪)।

মদের বোতলে রাখা পানি পান করা যাবে কী ? ইসলাম কি বলে !!

যেসব বস্তু সেবনে উন্মত্ততা সৃষ্টি হয় ও বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে অথবা বোধশক্তির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে, পরিভাষায় সেগুলোকে মাদকদ্রব্য বলা হয়। ইসলাম সব ধরনের মাদকতা তথা নেশাদ্রব্য হারাম ঘোষণা করেছে। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক নেশাদ্রব্যই মদ, আর যাবতীয় মদই হারাম।’ (মুসলিম ও মেশকাত, হাদিস : ৩৬৩৮)

মাদকাসক্তির কারণে সব জনপদেই চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বেড়ে গিয়ে মানুষের জান-মাল ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। সমাজের বেশির ভাগ অপরাধের জন্য মুখ্যভাবে দায়ী এই মাদকতা। এ জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মদ পান কোরো না। কেননা তা সব অপকর্মের চাবিকাঠি।’ (ইবনে মাজাহ : হাদিস : ৩৩৭১)

ইসলামপূর্ব আরবে মাদকতা মহামারির আকার ধারণ করেছিল। এ অবস্থা থেকে তাদের ফিরিয়ে আনতে ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে মাদকতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুরা বাকারার ২১৯ নম্বর আয়াতে মাদকতা ও জুয়া খেলাকে মহাপাপ বলা হয়েছে। এরপর সুরা নিসার ৪৩ নম্বর আয়াতে মদ্য পান করে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। তারপর সুরা মায়েদার ৯০-৯১ নম্বর আয়াতে মদ চিরতরে হারাম করে দেওয়া হয়েছে। সুরা মায়েদার ৯০ নম্বর আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘তোমরা এসব (মদ, জুয়া ইত্যাদি) থেকে বিরত থাকো। ’ কোরআনের পাশাপাশি বহু হাদিসেও মদ পান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মদ পানকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না। ’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৩৭৬)

মদ ও মাদকদ্রব্য কিছুতেই ইসলামের সঙ্গে যায় না। মদের সঙ্গে সম্পৃক্ত দশ শ্রেণির মানুষকে হাদিসে অভিশাপ দেওয়া হয়েছে। তারা হলো, মদের নির্যাস বেরকারী, মদ্যপায়ী, পরিবেশক, বিক্রেতা, ক্রেতা, উৎপাদনকারী কর্মচারী, উৎপাদক, পরিবাহক, আমদানিকারক ও লভ্যাংশ ভোগকারী। (তিরমিজি ও মেশকাত, হাদিস : ২৭৭)

প্রশ্ন হলো, মদ যখন এতই ঘৃণিত বস্তু, তাহলে যেসব বোতলে মদ রাখা হয়, সেসব বোতলে পানি রেখে তা পান করা কি বৈধ? দেখা যায়, বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে বা অতিথিশালায় মদের বোতলে রাখা পানি পান করতে দেওয়া হয়, এমতাবস্থায় করণীয় কী?

এ প্রশ্নের জবাব হলো, যদি ভালোভাবে মদের বোতল পরিস্কার করা হয়, এর মধ্যে মদের কোনো চিহ্ন না থাকে, তাহলে এমন পাত্র বা বোতলে রাখা পানি পান করা বৈধ। যদিও ইসলামের প্রথম যুগে মদের পাত্রে রাখা পানি পান করতে নিষেধ করা হয়েছিল। ইসলামের প্রথম যুগে মূলত ৩টি কারণে মদের পাত্রে রাখা পানি পান করতে নিষেধ করা হয়েছিল।

এক. সেসব পাত্রে মদের চিহ্ন অবশিষ্ট ছিল।

দুই. সে সময় সবেমাত্র মদ হারাম করা হয়েছিল। তাই মদের পাত্রে পানি পান করলে মদের কথা স্বরণ হয়ে যেতে পারত। তাই সতর্কতামূলক এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।

তিন. মদের প্রতি যেন পরিপূর্ণ ঘৃণা সৃষ্টি হয়, সেজন্য তখন মদের পাত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে যখন মদ হারাম হওয়ার বিষয়টি সবার জানা হয়ে যায়, এবং সাহাবিদের মধ্যে মদের প্রতি প্রচন্ড ঘৃণা জন্মে যায়, তখন ওই সব পাত্র ভালোভাবে পরিস্কার করে তাতে রাখা পানি পান ইত্যাদি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। (তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম : ৩/৩৫১)

এ প্রসঙ্গে একটি হাদিস পাওয়া যায়। হজরত বুরাইদা (রা.) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‌’আমি তোমাদের কিছু পাত্রের ব্যাপারে (মদ রাখার পাত্র) নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলাম। আসলে পাত্র কোনো কিছুকে হালাল বা হারাম করতে পারে না। তবে প্রতিটি মাদকদ্রব্য হারাম।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর : ৫৩২৬, তিরমিজি, হাদিস নম্বর : ১৮৬৯)

উল্লিখিত হাদিস থেকে জানা যায়, মদের বোতল বা পাত্র ভালোভাবে পরিস্কার করে তাতে পানি রাখলে সে পানি পান করা বৈধ।

মানত করা সম্পর্কে ইসলাম কি বলে? ইসলামে কোন কিছু মানত করা জায়েজ?

মানত করা সম্পর্কে ইসলাম কি বলে?
ইসলামে কোন কিছু মানত করা জায়েজ?
=========================
মানত কিঃ
—————–
‘মানত’ বা ‘মান্নত’ আমাদের সমাজে বহুল
প্রচলিত একটি শব্দ। যেমনআমরা কখনো
কখনো বলি, যদি আমি পরীক্ষায় পাশ করি
তাহলে মাদরাসায়একটি ছাগল দান করব।
এটি একটি মানত।ইত্যাদি আরো অনেক মানত আছে।
_________
রাসূল সাঃ মানত করতে নিষেধ করছেন
——————————————————-
১.আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম
(সাঃ) আমাদের মানত করতে নিষেধ করেছেন। আর
বলেছেন, মানত কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না। এটা শুধু
কৃপণ ব্যক্তি থেকে মাল খসায়।
সহিহ মুসলিমঃ ৪৩২৭, মুসনাদে আহমাদ।
:
২. আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)
বলেছেন, তোমরা মানত করবে না। কেননা মানত
তাকদীরের কোনো কিছুকে ফেরাতে পারে না। এটা শুধু
কৃপণ ব্যক্তি থেকে সম্পদ খসায়।
সহিহ বুখারি, মুসলিমঃ ৪৩২৯, সহিহ সুনানে আত-
তিরমিজি, সহিহ সুনানে নাসায়ি।
:
৩. সাহাবী আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম
(সাঃ) বলেছেন, যেই বস্তু মহান আল্লাহ আদম সন্তানের
জন্য নির্ধারণ করেননি মানত সেটি তার নিকটবর্তী
করে না। বরং তাকদীরে যা আছে মানত সেটাই নিয়ে
আসে। এর মাধ্যমে কৃপণ ব্যক্তির সম্পদ বের করা হয় যা
সে খরচ করতে চায়নি।
সহিহ মুসলিমঃ ৪৩৩১।
_______________
উদ্ধৃত হাদীসগুলো থেকে আমরা জানতে পারলাম,
———————————————-
এক. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
মানত করতে নিষেধ করেছেন। অতএব মানত করা ঠিক নয়।
আমরা অনেকে বিপদ-আপদে পতিত হলে মানত করে
থাকি। আর মনে করি এটা সওয়াবের কাজ। আল্লাহ খুশী
হবেন। কিন্তু আসলে তা সওয়াবের কাজ নয়। আল্লাহর
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করতে
নিষেধ করেছেন তাতে আল্লাহ খুশী হবেন না। এবং
এতে কোনো সওয়াবও হয় না। তাই আমাদের উচিত হবে
কোনো অবস্থায় মানত না করা। অবশ্য মানত করে
ফেললে তা পালন করতেই হবে কারণ মানত করলে তা
পূর্ণ করা ওয়াজিব হয়ে যায়।
:
দুই. মানত করার মাধ্যমে কৃপণ ব্যক্তির সম্পদ বের করা হয়।
এ কথা বলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বুঝিয়েছেন, মানত করা
একটি অনর্থক কাজ। সাধারণত কৃপণ স্বভাবের লোকেরা
মানত করে থাকে। তারা সুস্থ ও নিরাপদ থাকা কালে
দানসদকা করে না। কিন্তু বিপদে পড়লে আল্লাহর পথে
খরচ বা দান সদকা করার বড় বড় মানত করে।
:
তিন. তাকদীরে যা লেখা আছে তা হবেই। মানত করার
মাধ্যমে তাকদীরের লেখা পরিবর্তন করা যায় না।
তাকদীরের প্রতি যাদের যথাযথ ঈমান নেই সাধারণত
তারাই মানত করে থাকে।
:
চার. মানত করা হোক বা না হোক। ফলাফল একই হবে।
তাকদীরে যা লেখা আছে সেটাই আসবে
অবধারিতভাবে।
:
পাঁচ. আলোচিত সবগুলো হাদীসই মানত না করার জন্য
মুসলিমদেরকে নিরোৎসাহিত ও নিষেধ করেছে। বলেছে,
এটি কোনো ফল বয়ে আনে না বরং শুধু কৃপণের সম্পদ খরচ
করায়।
এ সকল বিষয় জানার পর কোনো মুসলিমের পক্ষে কোনো
প্রকার মানত করা উচিত নয়।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, যে কাজটি করতে
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ
করেছেন, আমরা সেটাকে সুন্নাত মনে করি।
________________
মানত করলে তা পূরন করতে হবেঃ
———————————————–
মানত পূরণ করা সম্পর্কে হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
ﻣﻦ ﻧﺬﺭ ﺃﻥ ﻳﻄﻴﻊ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻠﻴﻄﻌﻪ ، ﻭﻣﻦ ﻧﺬﺭ ﺃﻥ ﻳﻌﺼﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻼ ﻳﻌﺼﻪ
যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার আনুগত্য করার মানত করে
সে যেন (তা পূরণ করে) তাঁর আনুগত্য করে । আর যে
অবাধ্যতার কোনো বিষয়ে মানত করে সে যেন তাঁর
অবাধ্যতা না করে। (সহিহ বুখারি, আবু দাউদ, ইবনে
মাজা, নাসায়ি)
:
আমরা এই হাদীস থেকে জানতে পারলাম,
ভাল কাজের মানত করলে শর্ত পূরণ হলে সেই মানত পূরণ
করতে হয়। তবে শরিয়ত নিষিদ্ধ-মন্দ ও আল্লাহর
অবাধ্যতামূলক কাজ
করার মানত। যেমন কেউ বলল, আজ যদি অমুক দল খেলায়
জিতে যায় তাহলে আমি তোমাদেরকে মদ পান করাব।
এ মানত পূরণ করা মোটেই জায়েয নয়। মানতের শর্ত পূরণ
হোক বা না হোক। কারণ এতে আল্লাহ তাআলার
অবাধ্যতা বিদ্যমান।
///////////////////////////////////
বিঃদ্রঃ অনেক হুজুর মাওলানা বলে অমুক জায়গায়
মানত করলে অমুক কাজটা হয়ে যাবে। এই ব্যক্তি হচ্ছে
জাহেল, মূর্খ। এর কোনো কথা শোনা যাবেনা – এর কাছ
থেকে দূরে থাকতে হবে।
আর মাজার বা পীরের নামে কোনো কিছু মানত করা
শিরক। কারণ, এখানে আল্লাহর সন্তুষ্টির সাথে অলী
আওলিয়াদের সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত থাকে । আল্লাহ্
ছাড়া অন্য কারো সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কোনো ইবাদত
করলে সেটা শিরক।

মেয়েদের প্যান্ট পরার ক্ষেত্রে হুকুম কি ?? ইসলাম কি বলে…!!

মেয়েদের প্যান্ট পরার ব্যাপারে ইসলাম কি বলে?

মেয়েদের জন্য যে জিন্স/প্যান্ট আছে তা পড়লে কি ছেলেদের সাদৃশ্য ধারণ করার গুনাহ হবে? মেয়েদের প্যান্ট পরার ক্ষেত্রে হুকুম কি?

উত্তরঃ
মেয়েদের জিন্স প্যান্ট পরিধান করা বেশ কিছু কারণে নাজায়েজ।

১- পোশাক-পরিচ্ছদের ক্ষেত্রে শরীয়তের একটি মূলনীতি হল, পোশাক এমন হতে হবে যার দ্বারা সতর পূর্ণভাবে আবৃত হয়ে যায়। যা পরিধান করলে শরীরের আকার আকৃতি বাহির থেকে ফুটে উঠে না। পোশাক এমন পাতলা বা আঁটসাঁট না হতে হবে যা পরলে সতরের রঙ বা আকৃতি বাহির থেকে বুঝা যায়।

*** হাদীস শরীফে এ ধরনের আঁটসাঁট ও পাতলা পোশাক পরিধানকারীদের প্রতি কঠোর ধমকি ও অভিসম্পাত এসেছে।

** আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : দুই শ্রেণীর জাহান্নামীকে আমি দেখিনি, (অর্থাৎ পরবর্তী যুগে এদের সন্ধান পাওয়া যাবে) এক শ্রেণী ঐ সকল মানুষ যাদের সাথে গরুর লেজের ন্যায় চাবুক থাকবে, যার দ্বারা তারা মানুষকে প্রহার করবে। দ্বিতীয় শ্রেণী হল ঐ সকল নারী যারা পোশাক পরিহিতা হয়েও উলঙ্গ (কেননা তারা এমন পোশাক পরবে যার দ্বারা সতর পূর্ণরূপে ঢাকা হয় না। পাতলা হওয়ার কারণে সতরের আকৃতি ফুটে উঠে।) যারা নিজে গুনাহর দিকে ধাবিত এবং অন্যকেও অশ্লীলতার প্রতি আকৃষ্ট করে। তাদের মাথা হবে লম্বা গর্দান বিশিষ্ট উটের হেলে পড়া কুঁজের ন্যায়। (অর্থাৎ তারা চুল কিংবা কৃত্রিম কোনো বস্তু মাথায় পেঁচাবে। যার ফলে তাদের মস্তক ফুলে থাকবে) এরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এমনকি জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ জান্নাতের ঘ্রাণ অনেক অনেক দূর থেকেও পাওয়া যায়। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১২৮; শরহে নববী ১৪/১১০

** উসামা ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, দিহয়া কালবী রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে কাপড় হাদিয়া দিয়েছেন সেগুলোর মধ্য থেকে একটি মোটা কুবতী কাপড় (যা খুব নরম হয়ে থাকে) তিনি আমাকে পরিধান করার জন্য দেন। আমি কাপড়টি আমার স্ত্রীকে পরতে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, কী ব্যাপার, তুমি কুবতী কাপড়টি পরিধান করনি কেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তা আমার স্ত্রীকে পরতে দিয়েছি। তখন তিনি আমাকে বললেন, তুমি তাকে নির্দেশ দাও সে যেন এর নিচে আরেকটা কাপড় পরে নেয়। কারণ, আমার ভয় হচ্ছে যে, ঐ কাপড়টি তার হাড়ের আকৃতি বর্ণনা করবে। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২১৭৮৬

উল্লেখিত বর্ণনাগুলো থেকে একথা স্পষ্ট হয় যে, এমন পোশাক পরা যাবে না যার দ্বারা সতর যথাযথভাবে আবৃত হয় না বা যা পরার পরও সতরের আকৃতি বুঝা যায়।

অতএব জিন্স বা প্যান্ট আঁটসাঁট হওয়ার কারণে তা পরলে সতরের আকৃতি বাহির থেকে ফুটে উঠে। তাই এটিও হাদীসের নিষিদ্ধ পোশাকেরই অন্তর্ভুক্ত। অতএব এ ধরনের জিন্স প্যান্ট পরা যাবে না।

অবশ্য শীতপ্রধান দেশে , প্রচন্ড শীতের কারণে কেউ যদি ঐ জিন্সের উপর এমন লম্বা জামা পরে নেয় যার দ্বারা সতরের অংশ ঢেকে থাকে এবং চলাফেরা উঠাবসার সময় সতরের অবস্থা প্রকাশ না পায় তবে তা পরতে পারবে।

২- মেয়েদের জিন্স পরিধান করা মুসলিমদের সংস্কৃতি না। এটা অন্য জাতি বিশেষত পশ্চিমাদের থেকে ধার করা , হাল আমলে গজিয়ে উঠা একটা প্রচলন। এই ভিন্নজাতির সংস্কৃতি গ্রহণের ব্যপারে ইসলাম বেশ কঠোর।

** হাদীস শরীফে এসেছে-‘যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে সামঞ্জস্য রাখে সে তাদের দলভুক্ত।’ (সুনানে আবু দাউদ ২/৫৫৯)

** অন্য এক হাদীসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি তাদের পোশাক পরবে সে আমার দলভুক্ত নয়। (তবারানী আওসাত ৩৯২১; ফাতহুল বারী ১০/২৮৪)

৩- পুরুষের জন্য নারীদের পোশাক পরা বা নারীদের জন্য পুরুষের পোশাককে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের নারী পুরুষের জন্য অভিষাপ দেয়া হয়েছে।

** হাদীস শরীফে এসেছে-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিসম্পাত করেছেন ঐ পুরুষকে যে মহিলার পোশাক পরে এবং ঐ মহিলাকে যে পুরুষের পোশাক পরে। (সুনানে আবু দাউদ ৪০৯৮; মুসনাদে আহমদ ২/৩২৫, মুসান্নাফে ইবনে আব্দুর রাজ্জাক ৭৯৩১)

——

উত্তর প্রদানেঃ মুহতারাম শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ