নামাজে ভুল হলে পড়ে নিন সাহু সিজদা, নতুবা হবে না নামাজ….!!

নামাজে যদি কোনও ওয়াজিব তরক হয়ে যায় তাহলে আপনাকে অবশ্যই সাহু সিজদা দিতে হবে। তা না হলে আপনার নামাজ হবে না। সাহু সিজদার এ মাসালাগুলো ছেলে-মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

সিজদা সাহু করার সঠিক নিয়ম হচ্ছে – “সালাতে কম বেশি যাই হোক, আত্তাহিয়্যাতু, দরুদ, দুয়া মাসুরা পড়ে তাকবীর দিয়ে পর পর দুটি সিজদাহ দিয়ে সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করতে হবে।”
বুখারি ও মুসলিম, মিশকাত সালাত অধ্যায় সাহো অনুচ্ছেদ, ১১৮ নাম্বার হাদিস।
অথবা, “সালাতে কম বেশি যাই হোক, সালামের ফেরানোর আগে বা পরে দুইটি (অতিরিক্ত) সাহু সিজদা দিতে হবে।”
সহীহ মুসলিম, নাওয়াতুল আওতার ৩/৪১১।

অর্থাৎ দুইটাই জায়েজ, সালামের আগে বা পরে দুইটা অতিরিক্ত সিজদা দেওয়া।
সালাম ফেরানোর আগে সিজদা সাহু যেভাবে করবেন: সিজদা সাহু দেওয়া ওয়াজিব হয় এমন কোন ভুল করলে, শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু, দরুদ, দুয়া মাসুরা পরে ডানে ও বামে দুইদিকে সালাম ফেরাবেন। এরপরে আল্লাহু আকবার বলে দুইটি সিজদা সাহু দেবেন। দুই সিজদার মাঝখানে বা সিজদাতে তাসবিহর পরে দুয়া করতে পারবেন। ২টা অতিরিক্ত সিজদা দিয়ে আর কিছু পড়তে হবেনা, আবার ডানে ও বামে দুইদিকেই সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করবেন।

তবে নামাজে যদি কোনো ফরজ তরক হয়ে যায় তাইলে আবার নতুন করে নামাজ পড়তে হবে। তিনটি কারণে নামাযে সাহু সিজদা দিতে হয়
১) নামায বৃদ্ধি হওয়া। যেমন, কোন রুকু, সিজদা বা বসা ইত্যাদি বৃদ্ধি হওয়া।
২) কোন রুকন বা ওয়াজিব কম হওয়া।
৩) সন্দেহ হওয়া।

নামায বৃদ্ধি হওয়া:
যদি নামাযের অন্তর্ভুক্ত এমন কিছু কাজ ভুলবশত বৃদ্ধি করে যেমন: দাঁড়ানো, বসা, রুকু, সিজদা ইত্যাদি- যেমন দু‘বার করে রুকু করা, তিন বার সিজদা করা, অথবা যোহর পাঁচ রাকাত আদায় করা। তবে সাহু সিজদা করবে। নামাজরত অবস্থায় যদি উক্ত বৃদ্ধি স্মরণ হয়- যেমন চার রাকাত শেষ করে পাঁচ রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেছে- তবে সে ফিরে আসবে এবং শেষে সিজদায়ে সাহু করবে।

সালাত পূর্ণ হওয়ার আগেই সালাম ফেরানো:
নামায পূর্ণ হওয়ার আগেই সালাম ফেরানো নামায বৃদ্ধি করার অন্তর্গত। যদি অনেক পরে এ ভুলের কথা মনে পড়ে তবে নামায পুনরায় ফিরিয়ে পড়বে। আর যদি একটু পরেই (যেমন দু/এক মিনিট) মনে পড়ে, তবে সে অবশিষ্ট নামায পূর্ণ করবে এবং সাহু সিজদা করে সালাম ফিরাবে।

নামাযে রুকন বা ওয়াজিব কম হওয়া।:
ক) যদি ভুলক্রমে ওয়াজিব পরিত্যাগ হয় আর উক্ত স্থান ছেড়ে যাওয়ার আগেই যদি স্মরণ হয়ে যায় তবে তা আদায় করবে এতে কোন দোষ নেই- সাহু সিজদা দিতে হবে না। কিন্তু যদি উক্ত ওয়াজিব ছেড়ে পরবর্তী রুকন শুরু করার আগেই স্মরণ হয়ে যায় তবে ফিরে গিয়ে সেই ওয়াজিব আদায় করবে এবং শেষে সাহু সিজদা করবে। কিন্তু পরবর্তী রুকন শুরু করার পর যদি স্মরণ হয় তবে উক্ত ছুটে যাওয়া ওয়াজিব রহিত হয়ে যাবে। অবশিষ্ট নামায আদায় করে সালামের পূর্বে সাহু সিজদা করলেই নামায পূর্ণ হয়ে যাবে।

যেমন কেউ দ্বিতীয় রাকাতের দ্বিতীয় সিজদা থেকে উঠে না বসে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াতে যাচ্ছে। এমন সময় স্মরণ হল নিজ ভুলের কথা। তখন সে বসে পড়বে এবং তাশাহুদ পড়ে সালাত পূর্ণ করবে। কোন সাহু সিজদা লাগবে না।
আর যদি কিছুটা দাঁড়ায় কিন্তু পরিপূর্ণরূপে দাঁড়ায়নি তবে সে বসে যাবে এবং তাশাহুদ পড়বে ও সালাত শেষে সাহু সিজদা করে সালাম ফিরাবে। কিন্তু যদি পূর্ণরূপে দাঁড়িয়ে পড়ে তবে আর বসবে না। তাশাহুদ রহিত হয়ে যাবে। ঐভাবেই নামায পূর্ণ করবে এবং সালাম ফিরানোর পূর্বে সাহু সিজদা করবে।

খ) ফরজ নামাজের প্রথম ২ রাকাতে সুরা ফাতেহা পড়ার পর অন্য একটি সুরা মিলানো ওয়াজিব। যদি আপনি ভুল করে ফরজ নামাজের প্রথম ২ রাকাতে সুরা ফাতেহা পড়ার পর অন্য কোনো সুরা না পড়েন, তাহলে আপনাকে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে। আপনি যদি যে কোনো সুন্নাত/নফল নামাজের যে কোনো রাকাতে সুরা ফাতেহা বা সুরা ফাতেহার পর অন্য একটি সুরা না পড়েন তাহলে আপনাকে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে।

সন্দেহ হওয়া:
নামাযের মধ্যে সন্দেহের দু‘টি অবস্থা: প্রথম অবস্থা: সন্দেহযুক্ত দু‘টি বিষয়ের মধ্যে যেটির প্রাধান্য পাবে সে অনুযায়ী কাজ করবে এবং নামায পূর্ণ করে সাহু সিজদা করে সালাম ফিরাবে।
উদাহরণ: একজন লোক যোহরের নামায আদায় করছে। কিন্তু সন্দেহ হল এখন সে কি দ্বিতীয় রাকাতে না তৃতীয় রাকাতে? এ সময় সে অনুমান করে স্থির করবে কোনটা ঠিক। যদি অনুমান প্রাধান্য পায় যে এটা তৃতীয় রাকাত, তবে তা তৃতীয় রাকাত গণ্য করে নামায পূর্ণ করবে এবং সালাম ফেরানোর পর সাহু সিজদা করবে।

দ্বিতীয় অবস্থা: সন্দেহযুক্ত দু‘টি দিকের কোনটাই প্রাধান্য পায় না। এ অবস্থায় নিশ্চিত দিকটির উপর ভিত্তি করবে। অর্থাৎ কম সংখ্যাটি নির্ধারণ করে বাকী নামায পূর্ণ করবে। তারপর সাহু সিজদা করে সালাম ফিরাবে।
একই নামাজে সিজদায়ে সাহু করার একাধিক কারণ পাওয়া গেলেও একটি সিজদায়ে সাহু করলেই হবে।

নামাজে কাতার সোজা রাখার গুরুত্ব অনেক !! জেনে নিন বিস্তারিত…।।

নামাজ এমন একটি ফরজ ইবাদত, যা দিনে পাঁচবার মুসলমানদের পরস্পরে একত্রিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। নামাজ পরস্পরের মাঝে সৌহার্দ সৃষ্টি করে একে অন্যের কাছাকাছি আনে। নামাজ সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করে থাকে। নামাজে ধনী-গরিবের মাঝে কোনো ব্যবধান থাকে না। নামাজের বিশেষ শিক্ষা হলো একতা, শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ববোধ। নামাজে যাবতীয় কল্যাণ নিহিত রয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সান্নিধ্যে আসার বড় নেয়ামত। হাশরের ময়দানে শেষ বিচারের দিন প্রথম নামাজের হিসাব নেয়া হবে। যার নামাজ শুদ্ধভাবে কবুল হবে, তার অন্যান্য আমলনামা অনেক সহজ হয়ে যাবে। কোরআনের বহু আয়াতে নামাজের গুরুত্বের কথা বলা হয়েছে।

বিশেষ করে জামাতে নামাজ পড়ার ব্যাপারে আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.) বিশেষ ফজিলতের কথা বলেছেন। মুসলমান কোনো বিপদে পড়লে, কোনো শুকরিয়া আদায় করলে নামাজের মাধ্যমই করে থাকে। নামাজ সব ধরনের পাপ কাজ থেকেও বিরত রাখে মোমিন বান্দাকে। তাই নামাজ কেন, সর্বাগ্রে এটা আমাদের বুঝতে হবে। জানতে হবে নামাজের বিধান ও নামাজে কাতার সোজা করে দাঁড়ানোর তাৎপর্য। নামাজের কাতারে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানো, কাতারের মাঝখানে ফাঁকা না রাখাÑ এসব নামাজের অন্যতম সৌন্দর্য। ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা সবাই এক কাতারে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজে দাঁড়াবে। নামাজে কাতারের প্রতি উদাসীন হলে নামাজ পূর্ণ হবে না। তাই মসজিদে যখন জামাতের সময় হয়, তখন ইমাম প্রথমেই কাতার ঠিক করার ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করেন।

সমাজের অনেক লোক আছেন, তারা গুরুত্ব দিয়ে নামাজ আদায় করেন ঠিকই; কিন্তু নামাজের কাতার সোজা হলো-না বাঁকা হলো, সেদিকে লক্ষ করেন না। তারা মনে করেন, মসজিদে তো অনেক জায়গাই রয়েছে, তাই একটু ফাঁকা হয়ে দাঁড়ালে ক্ষতি কী? এ মনোভাব ইসলামসম্মত নয়। হাদিসে এভাবে নামাজে দাঁড়ানোকে নিষেধ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে হাদিসে এরশাদ হচ্ছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কাতার সোজা করো, কাঁধের সঙ্গে কাঁধ বরাবর করো, ফাঁক বন্ধ করো, শয়তানের জন্য কোনো ফাঁক রাখবে না। যে ব্যক্তি কাতারের সংযোগ স্থাপন করে আল্লাহ তার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেন। আর যে কাতার ছিন্ন করে, আল্লাহ তার সঙ্গে সংযোগ ছিন্ন করেন।’ (আবু দাউদ)।

আমাদের দেশে সাধারণ নিয়ম অনুসারে ইমাম একামত হওয়ার পর বলেন, ‘কাতারের মাঝখানে ফাঁকা রাখবেন না, কাছাকাছি দাঁড়ান, কাতার সোজা করে দাঁড়ান।’ তারপর আল্লাহু আকবর বলে নামাজ শুরু করে থাকেন। নামাজের জন্য ইমাম আমাদের অনুকরণীয়, ইমামের কথা অবশ্যপালনীয়। আমরা কি মানি? কাতারে সোজা হয়ে দাঁড়াই না। তাই আমাদের মধ্যে একতা নেই, সম্প্রীতি নেই, ভালোবাসা নেই।

নামাজের কাতার সোজা করা জামাতের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এ বিধানকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, নামাজের কাতারের মাঝে ফাঁকা থাকার কারণে মুসলমানদের মাঝে বিভেদ ও অনৈক্যের সৃষ্টি হয়। কাতারে ফাঁকা থাকলে সেখানে শয়তান অনুপ্রবেশ করে আমাদের নামাজ ও ঐক্যে ফাটল ধরায়। ফলে আমরা নামাজের প্রকৃত শিক্ষা ও সামাজিক উপকারিতা থেকে বঞ্চিত হই, যা মোটেও কাম্য নয়।

আমাদের সমাজে এবং বিশ্বে মুসলিম জাতির মাঝে যে বিভেদ-দ্বন্দ্ব, ধনী-গরিবের যে বৈষম্য সবকিছুই দূর হয়ে যাবে নিয়মিত জামাতের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের মাধ্যমে।

নামাজে মনোযোগী হবার কার্যকরী পদ্ধতি শিখে নিন..!

আমরা যখন নামাজে দাড়াই তখন শয়তান আমাদের অন্তরে নানারকম প্ররোচনা দিয়ে নামাজে অমনোযোগী করে তোলার চেষ্টা করে, এতে অনেকের বেলায় শয়তান সফল হয় আবার অনেকের বেলায় শয়তান সফল হতে পারেনা।

এর থেকে বাঁচতে হলে ও নামাজ শুদ্ধভাবে পড়তে হলে আমরা যদি নামাযে যাহা পড়ি মেশিনের মতো না পড়ে বুঝে পড়ার চেষ্টা করতাম তাহলে ইনশাল্লাহ শয়তান আমাদের নামাজকে নষ্ট করতে সফল হতে পারবে না ….

নামাযে সূরা ফাতিহা পড়ার সময় এ হাদীসটির কথা খেয়ালে রাখলে এক একটি আয়াত পড়ার পর আল্লাহর প্রেমময় জওয়াবটা মনের কানে শুনবার জন্য বান্দাহকে থামতেই হবে। আল্লাহর জওয়াবে যে তৃপ্তি ও শান্তি তা তারাই বোধ করতে পারে, যারা আয়াতগুলো ধীরে ধীরে মজা নিয়ে পড়ে।

আউ’যুবিল্লা-হি মিনাশ শায়ত্বানির রাজিম’ ও বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
পড়ে সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত করতে হবে।

হাদীসে আছে যে সূরা ফাতিহার এক এক আয়াত তিলাওয়াত করার সাথে সাথে আল্লাহ এর জওয়াব দেন। এ হাদীসের কথাগুলো এমন আবেগময় ভাষায় বলা হয়েছে যা বান্দাহর মনে গভীর দোলা দেয়। হাদীসটি নিম্নরূপ :

হাদিসটির অর্থ :
আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেলন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি :আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি নামাজকে Salat আমার ও আমার বান্দাহর মধ্যে দু-ভাগে ভাগ করেছি। আর আমার বান্দাহ আমার নিকট যা চায় তাই পাবে।

বান্দাহ যখন বলে, ‘‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন।”
অর্থ : যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তালার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা। তখন আল্লাহ বলেন , “ আমার বান্দাহ আমার প্রশংসা করল।”

যখন বান্দাহ বলে “আর রাহমানির রাহীম”।
অর্থ :যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু। তখন আল্লাহ বলেন আমার বান্দাহ আমার গুণ গাইল”

যখন বান্দাহ বলে “মালিকি ইয়াওমিদ্দীন ”
অর্থ :যিনি বিচার দিনের মালিক। তখন আল্লাহ বলেন “আমার বান্দাহ আমার গৌরব বর্ণনা করল”

যখন বান্দাহ বলে, “ইয়্যাকা না বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন
অর্থ :আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।

তখন আল্লাহ বলেন “এ বিষয়টা আমার ও আমার বান্দাহর মাঝেই রইল । আর আমার বান্দাহর জন্য তাই যা সে চাইল (অর্থাৎ আমার ও আমার বান্দাহর মধ্যে এ চুক্তি হলো যে সে আমার কাছে চাইবে, আর আমি তাকে দেব)।

যখন বান্দাহ বলে “ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আন আমতা আলাইহিম গাইরিল মাগদূবি আলাইহিম ওয়ালাদ দোয়াললীন” আমিন।
অর্থ :আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।”

তখন আল্লাহ বলেন এটা আমার বান্দাহর জন্যই রইল আর আমার বান্দাহর জন্য তা ই যা সে চাইল।”

“ সুবহানাল্লাহ লেখাটা শেয়ার করে সোওয়াব এর অংশীদার হতে ভুলবেন না।