নাপাক অবস্থায় খাবার গ্রহণ করা জায়েজ আছে কী ?? জেনে নিন !!

নাপাক অবস্থায় শুধু কোরআন পড়া, স্পর্শ করা, মসজিদে প্রবেশ ও নামাজ পড়া যাবে না। এ ছাড়া, খাওয়া দাওয়া, লেখাপড়া ও অন্যান্য কাজ করা যাবে।

তবে নাপাক অবস্থায় বেশিক্ষণ থাকা ঠিক নয়। মেয়েরা পিরিয়ডকালীন রোজাও রাখতে পারবেন না। তবে স্বামী-স্ত্রী সহবাসের মাধ্যমে নাপাক হয়েছে এই অবস্থায় সেহেরি খেয়ে রোজা রাখতে পারবে।
এতে রোজার কোনো সমস্যা হবে না। এক্ষেত্রে ফজর নামাজের আগে তাদেরকে গোসলের মাধ্যমে পাক হতে হবে।

আবার রোজা অবস্থায় ঘুমের মধ্যে কারো স্বপ্নদোষের মাধ্যমে নাপাকি ঘটলে রোজা নষ্ট হবে না। ফরজ গোসল করে পবিত্র হয়ে নিতে হবে।

আরও পড়ুন : ফরয গোসলের ইসলামিক সঠিক নিয়ম ও শর্তসমূহ !!

ইসলামি ভাষায় ফরজ গোসল করার সঠিক নিয়ম ও ফরয গোসলের শর্তসমূহ !!ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম না জানার কারণে অসংখ্য মুসলিম ভাই- বোনের সালাত সহ নানা আমল কবুল হয় না। যেটা ঈমানের ক্ষেত্রে চরম ভয়ানক ব্যাপার।

যেসব কারণে গোসল ফরজ হয়ঃ
১. স্বপ্নদোষ বা উত্তেজনাবশত বীর্যপাত হলে।
২. নারী-পুরুষ মিলনে (সহবাসে বীর্যপাত হোক আর নাই হোক)।
৩. মেয়েদের হায়েয-নিফাস শেষ হলে।
৪. ইসলাম গ্রহন করলে(নব-মুসলিম হলে)।

ফরজ গোসলের ফরজ সমূহ হলো-
গোসলের ফরজ মোট তিনটি। এই তিনটির কোনো একটি বাদ পরলে ফরজ গোসল আদায় হবে না। তাই ফরজ গোসলের সময় এই তিনটি কাজ খুব সর্তকতার সাথে আদায় করা উচিত।
১. গড়গড়া কুলি করা।
২. নাকে পানি দেওয়া।
৩. এরপর সারা দেহে পানি ঢালা ও ভালোভাবে গোসল করা

ফরজ গোসলের সঠিক নিয়মঃ
১. গোসলের জন্য মনে মনে নিয়্যাত করতে হবে। বাড়তি মুখে কোন আরবি শব্দ উচ্চারণ করে নিয়্যাত করা বিদ’আত।
২. প্রথমে দুই হাত কব্জি পর্যন্ত ৩ বার ধুতে হবে।
৩. এরপর ডানহাতে পানি নিয়ে বামহাত দিয়ে লজ্জাস্থান এবং তার আশপাশ ভালো করে ধুতে হবে। শরীরের অন্য কোন জায়গায় বীর্য বা নাপাকি লেগে থাকলে সেটাও ধুতে হবে।

৪. এবার বামহাতকে ভালো করে ধুইয়ে পেলতে হবে।
৫. এবার ওজুর নিয়মের মত করে ওজু করতে হবে তবে দুই পা ধুয়া যাবে না।
৬. ওজু শেষে মাথায় তিনবার পানি ঢালতে হবে।
৭. এবার সমস্ত শরীর ধোয়ার জন্য প্রথমে ৩ বার ডানে তারপরে ৩ বার বামে পানি ঢেলে ভালোভাবে ধুতে হবে, যেন শরীরের কোন অংশই বা কোন লোমও শুকনো না থাকে। নাভি, বগল ও অন্যান্য কুঁচকানো জায়গায় পানি দিয়ে ধুতে হবে।
৮. সবার শেষে একটু অন্য জায়গায় সরে গিয়ে দুই পা ৩ বার ভালোভাবে ধুতে হবে।

অবশ্যই মনে রাখতে হবেঃ
১. পুরুষের দাড়ি ও মাথার চুল এবং মহিলাদের চুল ভালোভাবে ভিজতে হবে।
২. এই নিয়মে গোসলের পর নতুন করে আর ওজুর দরকার নাই, যদি ওজু না ভাঙ্গে।

(আল্লাহ আমাদের সঠিকভাবে কুর’আন ও সহিহ সুন্নাহ মেনে চলার তাওফিক দিক এবং পূর্বের না জেনে করা ভুল ক্ষমা করুক।

ইসলাম কি বলে !! ওয়াজ মাহফিলে বক্তার টাকা নেওয়া কি জায়েজ ??

ওয়াজ-নসিহত বা উপদেশ মানবজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। এটি মানবসমাজের উন্নতি ও সংশোধনের অতুলনীয় পন্থা। ইসলামের শুরু থেকেই এর পবিত্র ধারা অদ্যাবধি চলে আসছে। এমনকি ইসলামপূর্ব যুগেও যুগে যুগে মনীষী ও পণ্ডিতদের পক্ষ থেকে জনসাধারণের প্রতি ওয়াজ-নসিহতের বিষয়টি পাওয়া যায়। কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর স্মরণ করো ওই সময়ের কথা, যখন লোকমান তার পুত্রকে ওয়াজ (উপদেশ) করতে গিয়ে বলল, হে পুত্র আমার! আল্লাহর সঙ্গে শরিক কোরো না, নিঃসন্দেহে শিরক মহা অপরাধ।’ (সুরা : লোকমান, আয়াত : ১৩)

ওয়াজ ও নসিহতের এ কল্যাণধারা রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও তাবে-তাবেঈনের যুগ অতিক্রম করে বর্তমান যুগ পর্যন্ত উম্মতের আলেমদের মাধ্যমে অব্যাহত রয়েছে। যদিও যুগ, স্বভাব ও পরিবেশের পরিবর্তনে এতে ব্যবস্থাপনাগত কিছু বৈচিত্র্য এসেছে। তবে বর্তমান অবধি তা অব্যাহত আছে এবং থাকাও অপরিহার্য। বর্তমানে তাতে কিছু বিচ্যুতি সত্ত্বেও এর মৌলিক গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা অনস্বীকার্য। বর্তমানে ওলামায়ে কেরাম ও দ্বিনি ভাইয়েরা যদি কিছু বিচ্যুতির সংশোধনের প্রতি খেয়াল করেন, তাহলে এর উপকারিতা আরো বহু গুণ বৃদ্ধি পাবে।

ওয়ায়েজ বা বক্তা নির্বাচন
অবশ্যই সতর্ক হতে হবে যে বক্তা যেন হক্কানি আলেম তথা দ্বিনের সঠিক জ্ঞানসম্পন্ন ও মুত্তাকি হয়ে থাকেন। অযোগ্য ব্যক্তির হাতে ইসলামের কাজ সোপর্দ করা রাসুল (সা.)-এর বাণী অনুসারে কিয়ামতের নিদর্শন। ইসলামী আইনবিষয়ক বিশ্বকোষ ‘আল মাওসুআতুল ফিকহিয়্যা আল কুয়েতিয়্যা’ নামক গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে : ‘ওয়ায়েজ হওয়ার জন্য কয়েকটি শর্ত আছে। এক. ওয়ায়েজ ব্যক্তি বিবেকবান ও বালেগ হওয়া। দুই. ন্যায়পরায়ণ হওয়া। তিন. হাদিসের শব্দ, অর্থ, ব্যাখ্যা, বিশুদ্ধতা ও অশুদ্ধতা বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকা। চার. কোরআনের তাফসিরকারক হওয়া। কোরআনের কঠিন থেকে কঠিন বিষয়গুলো সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা থাকা। আগের তাফসিরবিদদের ব্যাখ্যা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা। ’ (আল মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ আল কুয়েতিয়্যা : ৪৪/৮১)

‘এলাকার লোক’, ‘সুললিত কণ্ঠের অধিকারী’, রেডিও-টিভির ভাষ্যকার’ ইত্যাদি বক্তা নির্বাচনের শরয়ি মানদণ্ড নয়। তবে হ্যাঁ, হক্কানি আলেম হওয়ার পাশাপাশি এসব গুণ কারো মধ্যে থাকলে তাঁদের আমন্ত্রণ জানাতে কোনো অসুবিধা নেই। (আলমাউসুয়াতুল ফিকহিয়া : ৪৪/৮১, ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়া : ২/৩৬৭)

ওয়াজের বিষয়
ওয়াজ যেন দ্বিন ও শরিয়তের বিভিন্ন শাখা থেকে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হয়ে থাকে। অপ্রয়োজনীয় ও বেহুদা হাসি-মজায় যেন সময় নষ্ট না হয়। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘ব্যক্তির (জীবনে) ইসলামের সৌন্দর্য হলো অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকা। ’ (তিরমিজি, হাদিস ২৩১৭)

জাল হাদিস ও জাল কাহিনিমুক্ত হওয়া
কোরআন, তাফসির, গ্রহণযোগ্য হাদিস এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামের বাণী এবং সত্য ও শিক্ষণীয় ঘটনাবলির আলোকেই ওয়াজ করা অপরিহার্য। জাল হাদিস ও অসত্য কাহিনি বর্ণনা করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। যাচাই করা ছাড়া যেকোনো বই থেকে কোনো কথা বা ঘটনা পেয়েই বয়ান শুরু করবে না। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে বিজ্ঞ আলেমদের দিকনির্দেশনা গ্রহণ করবে। জেনেশুনে উপদেশস্বরূপ জাল হাদিস বর্ণনা করা কবিরা গুনাহ। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি জেনেশুনে আমার নামে কোনো মিথ্যা হাদিস বর্ণনা করে, সে মিথ্যাবাদীদের একজন। ’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৬৬২) অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি আমি যা বলিনি, এমন কথা আমার পক্ষ থেকে ইচ্ছাকৃত বর্ণনা করে, সে যেন জাহান্নামে তার স্থান বানিয়ে নেয়। (বুখারি, হাদিস : ১০৭)

অপব্যয়মুক্ত হওয়া
ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা, সৌন্দর্যসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচে মধ্যপন্থা কাম্য। অপব্যয় থেকে মুক্ত হওয়া জরুরি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমাদের অর্থ-সম্পদ অপ্রয়োজনীয় কাজে খরচ করবে না। জেনে রেখো, যারা অপব্যয় করে তারা শয়তানের ভাই, আর শয়তান নিজ প্রতিপালকের ঘোর অকৃতজ্ঞ। ’ (সুরা : বনি ইসরাইল, আয়াত : ২৬-২৭)

মাইক ব্যবহারে সতর্কতা
সভাস্থলে প্রয়োজনীয় মাইক ব্যবহার কাম্য। দূর-দূরান্তে ও বাজার-ঘাটে অপ্রয়োজনীয় মাইক ব্যবহারে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি। এতে শরিয়তবিরোধী অনেক কার্যকলাপ পরিলক্ষিত হয়, যেমন—নামাজির নামাজে ও ঘুমন্ত ব্যক্তির ঘুমে ব্যাঘাত হয়, অসুস্থ ব্যক্তির কষ্ট হয় এবং বিভিন্ন বৈধ কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের কাজে ব্যাঘাত হয়। আলেমরা মানুষের ঘুমে ব্যাঘাত হয়, এমন জোরে কোরআন তেলাওয়াতও অবৈধ বলেছেন। (ফাতহুল কদির ১/২৯৮, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ৩/৫৫২, জিকর ও ফিকির, পৃষ্ঠা ২৬)

হজরত ওমর (রা.)-এর যুগে জনৈক ব্যক্তি মসজিদে-নববীতে এসে প্রতিদিন বিকট আওয়াজে ওয়াজ শুরু করে, এতে পাশেই হুজরায় অবস্থানরত হজরত আয়েশা (রা.)-এর কাজে ব্যাঘাত হতো, তাই তিনি হজরত ওমর (রা.)-কে বিষয়টি অবহিত করলে ওমর (রা.) ওই লোককে নিষেধ করে দেন। লোকটি কিছুদিন পর আবার ওয়াজ শুরু করলে ওমর (রা.) এসে তাকে শাস্তি দেন। (আখবারু মাদিনা : ১/১৫)

গভীর রাত না হওয়া
গভীর রাত পর্যন্ত ওয়াজ হলে সাধারণ মানুষের ঘুমে ব্যাঘাত হওয়াসহ পরদিন ফজরের নামাজে ব্যাঘাত হবে, তাই গভীর রাত পর্যন্ত ওয়াজ না হওয়াই কাম্য। এ বিষয়ে রদ্দুল মুহতার নামক কিতাবে এসেছে : ‘এশার নামাজের আগে ঘুমানো এবং এর পরে কথা বলা হাদিস শরিফে নিষেধ করা হয়েছে। অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এশার পর কোনো কাজ নেই। কিন্তু মুসল্লির জন্য নামাজ আদায় আর মুসাফিরের জন্য সফর করা বৈধ। ’ (রদ্দুল মুহতার : ১/৩৬৮)

বক্তাকে ওয়াজের হাদিয়া দেওয়ার বিধান
আগের যুগে আলেমদের ভরণ-পোষণ ছিল রাষ্ট্রের অধীনে। সে সময় তাঁদের জন্য অন্যের থেকে অর্থ গ্রহণ বৈধ ছিল না। পরবর্তী যুগের ইসলামী পণ্ডিতরা কিছু কিছু দ্বিনি কাজের বিনিময় দেওয়া-নেওয়া জায়েজ বলেছেন। অনেক আলেম ওয়াজকেও ওই সব কাজের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কিন্তু ‘এত টাকা দিতে হবে, অন্যথায় ওয়াজ করব না’—এভাবে বলা উচিত নয়। তবে হ্যাঁ, এ অবস্থায়ও টাকা নেওয়া অবৈধ হবে না। এ বিষয়ে ‘দুররুল মুখতার’ নামক কিতাবে এসেছে : ‘বর্তমানে কোরআন শেখানো, ফিকাহচর্চা, ইমামতি, আজান ইত্যাদির বিনিময় গ্রহণের ব্যাপারে বৈধতার ফতোয়া দেওয়া হয়। কেউ কেউ আজান, ইকামত ও ওয়াজকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।’ (আদ দুররুল মুখতার : ৬/৫৫)

ওয়াজ-নসিহতের মাধ্যমে সমাজের দ্বিনি প্রয়োজন পুরা করাও ইসলামের একটি জরুরি শাখা। তাই যদি কেউ ওয়াজের জন্য নিজেকে ফারেক রাখে, তার জন্য ওয়াজের পারিশ্রমিক গ্রহণ বৈধ হবে, চাই চুক্তি করে হোক বা পূর্বচুক্তিবিহীন। তবে উত্তম হলো, এভাবে চুক্তি করে টাকা ধার্য না করা। (রদ্দুল মুহতার : ৬/৫৫, ইমদাদুল ফাতাওয়া : ৩/৩৮৯)

কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক দায়িত্ব ছাড়া হঠাৎ কাউকে বয়ানের জন্য বলার পর পারিশ্রমিক চাওয়া বৈধ নয়, যেমন মসজিদে নামাজ পড়ানোর জন্য যদি কেউ ইমাম নিযুক্ত হয়, যে নামাজ পড়ানোর জন্য নিজের সময়কে খালি করে রাখে, ওই ব্যক্তির জন্য ইমামতির পারিশ্রমিক নেওয়া বৈধ। কিন্তু দায়িত্বে নিয়োগবিহীন নামাজ শুরু হওয়ার প্রাক্কালে একজনকে নামাজ পড়াতে বললে ওই ব্যক্তি নামাজ পড়ানোর কারণে পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েজ হবে না। (ইমদাদুল ফাতাওয়া : ৩/৩৮৯, আহসানুল ফাতাওয়া : ৭/৩০০)

অতিরিক্ত বিনিময়ের চাহিদা
বিনিময় বৈধ হলেও এটা নিছক কোনো পণ্য বিক্রির মূল্যের মতো নয়। তাই তা নিয়ে দর-কষাকষি বা বেশি চাহিদা পেশ করা ঠিক নয়। পণ্য কেনাবেচার মতো দরদাম করে, অগ্রিম বুকিং মানি নেওয়া ওলামায়ে কেরামের শান, মান ও ইজ্জতের সঙ্গে মানানসই নয়, এতে দ্বিনের অসম্মান হয়, তাই তা মাকরুহে তাহরিমি তথা নাজায়েজ হবে। (কিফায়াতুল মুফতি : ৭/৩১৯, ৩৩০, আহসানুল ফাতাওয়া : ৭/২৮০)

বিনিময় নিলে সওয়াব হবে?
যদি দ্বিনের খেদমতের নিয়তে ওয়াজ করে, প্রয়োজনের কারণে বিনিময় নিয়ে থাকে, তাহলে ওয়াজের সওয়াব পাবে। আর যদি শুধু টাকার জন্যই এ পেশা গ্রহণ করে, তাহলে সওয়াব পাবে না। তাই বিনিময় নিয়ে বাড়াবাড়ি করা, কম দিলে এ কারণে পরবর্তী বছর দাওয়াত গ্রহণ না করা এবং দুই স্থানের যেখানে টাকা বেশি দেওয়া হয় তা গ্রহণ করা ইত্যাদি কারণেও সওয়াব পাবে না। তবে প্রত্যেকের নিয়ত তার অন্তরের বিষয়, তাই কারো নিয়তের ওপর আঘাত করার অধিকার কারো নেই। তাই কোনো বক্তাকে নিয়তের ব্যাপারে আঘাত করা যাবে না। (ইমদাদুল ফাতাওয়া : ৩/৩৪০

লেখক : ফতোয়া গবেষক ও মুহাদ্দিস

মানত করা সম্পর্কে ইসলাম কি বলে? ইসলামে কোন কিছু মানত করা জায়েজ?

মানত করা সম্পর্কে ইসলাম কি বলে?
ইসলামে কোন কিছু মানত করা জায়েজ?
=========================
মানত কিঃ
—————–
‘মানত’ বা ‘মান্নত’ আমাদের সমাজে বহুল
প্রচলিত একটি শব্দ। যেমনআমরা কখনো
কখনো বলি, যদি আমি পরীক্ষায় পাশ করি
তাহলে মাদরাসায়একটি ছাগল দান করব।
এটি একটি মানত।ইত্যাদি আরো অনেক মানত আছে।
_________
রাসূল সাঃ মানত করতে নিষেধ করছেন
——————————————————-
১.আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম
(সাঃ) আমাদের মানত করতে নিষেধ করেছেন। আর
বলেছেন, মানত কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না। এটা শুধু
কৃপণ ব্যক্তি থেকে মাল খসায়।
সহিহ মুসলিমঃ ৪৩২৭, মুসনাদে আহমাদ।
:
২. আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)
বলেছেন, তোমরা মানত করবে না। কেননা মানত
তাকদীরের কোনো কিছুকে ফেরাতে পারে না। এটা শুধু
কৃপণ ব্যক্তি থেকে সম্পদ খসায়।
সহিহ বুখারি, মুসলিমঃ ৪৩২৯, সহিহ সুনানে আত-
তিরমিজি, সহিহ সুনানে নাসায়ি।
:
৩. সাহাবী আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম
(সাঃ) বলেছেন, যেই বস্তু মহান আল্লাহ আদম সন্তানের
জন্য নির্ধারণ করেননি মানত সেটি তার নিকটবর্তী
করে না। বরং তাকদীরে যা আছে মানত সেটাই নিয়ে
আসে। এর মাধ্যমে কৃপণ ব্যক্তির সম্পদ বের করা হয় যা
সে খরচ করতে চায়নি।
সহিহ মুসলিমঃ ৪৩৩১।
_______________
উদ্ধৃত হাদীসগুলো থেকে আমরা জানতে পারলাম,
———————————————-
এক. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
মানত করতে নিষেধ করেছেন। অতএব মানত করা ঠিক নয়।
আমরা অনেকে বিপদ-আপদে পতিত হলে মানত করে
থাকি। আর মনে করি এটা সওয়াবের কাজ। আল্লাহ খুশী
হবেন। কিন্তু আসলে তা সওয়াবের কাজ নয়। আল্লাহর
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করতে
নিষেধ করেছেন তাতে আল্লাহ খুশী হবেন না। এবং
এতে কোনো সওয়াবও হয় না। তাই আমাদের উচিত হবে
কোনো অবস্থায় মানত না করা। অবশ্য মানত করে
ফেললে তা পালন করতেই হবে কারণ মানত করলে তা
পূর্ণ করা ওয়াজিব হয়ে যায়।
:
দুই. মানত করার মাধ্যমে কৃপণ ব্যক্তির সম্পদ বের করা হয়।
এ কথা বলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বুঝিয়েছেন, মানত করা
একটি অনর্থক কাজ। সাধারণত কৃপণ স্বভাবের লোকেরা
মানত করে থাকে। তারা সুস্থ ও নিরাপদ থাকা কালে
দানসদকা করে না। কিন্তু বিপদে পড়লে আল্লাহর পথে
খরচ বা দান সদকা করার বড় বড় মানত করে।
:
তিন. তাকদীরে যা লেখা আছে তা হবেই। মানত করার
মাধ্যমে তাকদীরের লেখা পরিবর্তন করা যায় না।
তাকদীরের প্রতি যাদের যথাযথ ঈমান নেই সাধারণত
তারাই মানত করে থাকে।
:
চার. মানত করা হোক বা না হোক। ফলাফল একই হবে।
তাকদীরে যা লেখা আছে সেটাই আসবে
অবধারিতভাবে।
:
পাঁচ. আলোচিত সবগুলো হাদীসই মানত না করার জন্য
মুসলিমদেরকে নিরোৎসাহিত ও নিষেধ করেছে। বলেছে,
এটি কোনো ফল বয়ে আনে না বরং শুধু কৃপণের সম্পদ খরচ
করায়।
এ সকল বিষয় জানার পর কোনো মুসলিমের পক্ষে কোনো
প্রকার মানত করা উচিত নয়।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, যে কাজটি করতে
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ
করেছেন, আমরা সেটাকে সুন্নাত মনে করি।
________________
মানত করলে তা পূরন করতে হবেঃ
———————————————–
মানত পূরণ করা সম্পর্কে হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
ﻣﻦ ﻧﺬﺭ ﺃﻥ ﻳﻄﻴﻊ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻠﻴﻄﻌﻪ ، ﻭﻣﻦ ﻧﺬﺭ ﺃﻥ ﻳﻌﺼﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻼ ﻳﻌﺼﻪ
যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার আনুগত্য করার মানত করে
সে যেন (তা পূরণ করে) তাঁর আনুগত্য করে । আর যে
অবাধ্যতার কোনো বিষয়ে মানত করে সে যেন তাঁর
অবাধ্যতা না করে। (সহিহ বুখারি, আবু দাউদ, ইবনে
মাজা, নাসায়ি)
:
আমরা এই হাদীস থেকে জানতে পারলাম,
ভাল কাজের মানত করলে শর্ত পূরণ হলে সেই মানত পূরণ
করতে হয়। তবে শরিয়ত নিষিদ্ধ-মন্দ ও আল্লাহর
অবাধ্যতামূলক কাজ
করার মানত। যেমন কেউ বলল, আজ যদি অমুক দল খেলায়
জিতে যায় তাহলে আমি তোমাদেরকে মদ পান করাব।
এ মানত পূরণ করা মোটেই জায়েয নয়। মানতের শর্ত পূরণ
হোক বা না হোক। কারণ এতে আল্লাহ তাআলার
অবাধ্যতা বিদ্যমান।
///////////////////////////////////
বিঃদ্রঃ অনেক হুজুর মাওলানা বলে অমুক জায়গায়
মানত করলে অমুক কাজটা হয়ে যাবে। এই ব্যক্তি হচ্ছে
জাহেল, মূর্খ। এর কোনো কথা শোনা যাবেনা – এর কাছ
থেকে দূরে থাকতে হবে।
আর মাজার বা পীরের নামে কোনো কিছু মানত করা
শিরক। কারণ, এখানে আল্লাহর সন্তুষ্টির সাথে অলী
আওলিয়াদের সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত থাকে । আল্লাহ্
ছাড়া অন্য কারো সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কোনো ইবাদত
করলে সেটা শিরক।

পবিত্র কোরআন শরীফ স্পর্শ করে কসম করা কি জায়েজ …?? ইসলাম কি বলে …।।

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় বেসরকারি একটি টেলিভিশনের জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

প্রশ্ন: কোরআনকে স্পর্শ করে কসম করার বিধান আছে কি?

উত্তর: না, কোরআনে কারিমকে স্পর্শ করে কসম করার বিধান নেই। কসম আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নামে হয়। কিন্তু কোরআনকে স্পর্শ করে যদি কেউ কসম করে যেহেতু আল্লাহর কালাম, আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কথা, তাই এটিও একধরনের কসম। অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম এ কথা বলেছেন যে, কসমের হুকুমের মধ্যে আসবে। তাই এই কসম যদি কেউ করে থাকেন, তাহলে সেই ব্যক্তিকে অবশ্যই সেই কসমটি পূরণ করতে হবে। এটি বিধান নয় কিন্তু কসম করলে সেটি পূরণ করতে হবে, ভঙ্গ করা যাবে না। কারণ এটি আল্লাহর কালাম।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কালাম হওয়ার কারণে কোরআনের মর্যাদা কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ করা সুযোগ নেই। আল্লাহর নামে কসম করলে যেমন তার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা জায়েজ নেই তেমনিভাবে কোরআন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কালাম হওয়ার কারণে এর মর্যাদা কোনোভাবে ক্ষুণ্ণ করা জায়েজ নেই। তাই এটি কসমের হুকুমের মধ্যে আসবে, তিনি কসমটি ভঙ্গ করতে পারবেন না, তিনি কসম রক্ষা করবেন।

ইসলাম কী বলছে ?? জন্ম দিবস, মৃত্যু দিবস পালন করা কী জায়েজ ?? জেনে নিন বিস্তারিত !!

জন্ম বার্ষিকী পালন ও মৃত্যু বার্ষিকী পালন এমন এক সামাজিক প্রথা হিসাবে চালু হয়ে গেছে যে, কেউ যদি এটা পালন না করে তাহলে তাকে অপরাধী মনে করা হয়। এটা শরীআত পরিপন্থি। আমাদের দেশের প্রথা অনুযায়ী জন্ম দিবস, মৃত্যু দিবস ইত্যাদি দিবস পালন করে থাকে।
অনুরূপভাবে শহীদ দিবস, বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয়ে থাকে।

শরীআতের দৃষ্টিতে এই কর্মকান্ড বৈধ্য আছে কি?

বর্তমানে আমাদের দেশে জন্ম বার্ষিকী, মৃত্যু বার্ষিকী পালন করার যে রেওয়াজ প্রচলিত আছে তা বিদআত ও না জায়েয। কারণ এই সকল কাজের জন্য আগে থেকেই দিন তারিখ নির্ধারণ করে রাখা হয় এবং সেদিন খুব ধুমধাম সহকারে দিনটি পালন করা হয়।

জন্ম বার্ষিকী পালন ও মৃত্যু বার্ষিকী পালন এমন এক সামাজিক প্রথা হিসাবে চালু হয়ে গেছে যে, কেউ যদি এটা পালন না করে তাহলে তাকে অপরাধী মনে করা হয়। এটা শরীআত পরিপন্থি।

অনুরূপভাবে শহীদ দিবস পালন করাও না জায়েয। শহীদ দিবস পালন করা যদি পুণ্যের কাজ হতো তাহলে সাহাবায়ে কেরাম উহুদের দিনকে শহীদ দিবস হিসাবে পালন করতেন।

কখন কখন নামাজ পড়া জায়েজ নেই জানেন কি ??

দ্বিপ্রহরের সময় সূর্য ঠিক মাথার ওপর থাকলে, সূর্যোদয়ের সময় এবং সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় যেকোনো নামাজ আদায় করা কিংবা তিলাওয়াতে সিজদা দেয়া একেবারে নিষিদ্ধ বা হারাম।

ফজরের ওয়াক্তে নামাজ আদায়ের পর সূর্য উদয় না হওয়া পর্যন্ত যেকোনো নামাজ আদায় করা নিষেধ অর্থাৎ জায়েজ নেই। আসর নামাজের পর মাগরিব নামাজের আগে যেকোনো নফল নামাজ আদায় করা জায়েজ নেই।

আর শুক্রবার জুমার ওয়াক্তে ইমাম খুৎবা আরম্ভ করলে যেকোনো নামাজ আদায় করা জায়েজ নেই।

তবে ফজরের ওয়াক্তের সুন্নাত নামাজ কাজা হয়ে থাকলে অন্যত্র সরে গিয়ে তা আদায় করা জায়েজ আছে। ফজরের সুন্নত নামাজ ও ফরজ নামাজের মধ্যবর্তী সময় যেকোনো নামাজ আদায় করা জায়েজ নেই।

আসরের নামাজের নিয়ত করে তিন রাকায়াত নামাজ আদায়ের পর সূর্য অস্ত গেলেও চতুর্থ রাকায়াত আদায় করতে হবে। তবে মাকরূহের সাথে আদায় হবে।