আর্জেন্টিনাকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে স্পেন !!

স্পেনের সামনে দাঁড়াতেই পারলো না মেসিবিহীন আর্জেন্টিনা। সবশেষ ম্যাচে জার্মানির সঙ্গে ১-১ ড্র করা স্পেন এবার ইসকোর হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনাকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে। মেসির শিবির শেষ কবে এক ম্যাচে এতো গোল হজম করেছে তা-ও খুঁজে বের করতে হবে।

মঙ্গলবার রাতে ইস্তাদিও ওয়ান্ডা মেট্রোপলিটেনো মাঠে ম্যাচের ১২ মিনিটেই ডিয়েগো কস্তার গোলে লিড নেয় ২০১০ এর বিশ্বকাপজয়ীরা। ২৭ মিনিটে প্রতিপক্ষে শিবিরে আঘাত হানের ইসকো। ৩৯ মিনিটে আর্জেন্টিনার হয়ে ওটামেন্ডি গোল করলে বিরতির আগে ব্যবধান কমায় আর্জেন্টিনা।

বিরতি থেকে ফিরে যেন আরও ধারালো হয়ে ওঠে স্পেনের আক্রমণ। ৫২ মিনিজে ইসকো নিজের দ্বিতীয় গোল, ৫৫ মিনিটে থিয়াগো আলকানটারা ও ৭৩ মিনিটে লাগো অ্যাসপাস গোল করলে ৫-১ ব্যবধানে অনেকটাই জয়ের কাছে চলে যায় স্পেন।

৭৪ মিনিটে শেষ তুলির টান দিয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ইসকো।

এর পর আর কোনও গোল না হলে ৬-১ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আসন্ন রাশিয়া বিশ্বকাপে ফেবারিটের তকমাধারী স্পেন।

এদিকে রাতের অপর ম্যাচে বার্লিনে জার্মানিকে ১-০ গোল হারিয়ে ৪ বছর আগের ক্ষত মুছে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে ব্রাজিল। জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেছেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস।

এক্সট্রা মিনিটের গোলে রিয়ালের নাটকীয় হার ।।

রোনালদো ছাড়া রিয়াল যে কতটা ছন্নছাড়া এই ম্যাচই তার প্রমাণ।

যোগ করা সময়ে নাটকীয়ভাবে ড্র হতে চলা ম্যাচের রং বদলে দেয় এসপানিয়ল। যোগ করা সময়ে মারিনোর একমাত্র গোলে লিগে টানা চার ম্যাচ জেতার পর হারল রিয়াল।

আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ ৯০ মিনিট পার করে। ফলাফল ড্র ধরে নিয়ে অনেকেই তখন টিভি রিমোট হাতে নিয়ে কাচুমুচু করছেন। প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঘুমের। তখনই নাটকীয় সেই গোল।

ম্যাচের যোগ হওয়া সময়ের ৩য় মিনিটে রিয়ালের রক্ষণভাগে নিজেকে একা করে নেন এসপানিওল তারকা মরিনো। তাঁর নেওয়া শটে নাটকীয় সমাপ্তি ঘটে। ১–০ গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে লা–লিগার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ।

এই হারে শীর্ষে থাকা বার্সার সঙ্গে রিয়ালের ব্যবধান গিয়ে দাঁড়াতে পারে ১৭ পয়েন্টে। বার্সা যদি পরের ম্যাচটা জেতে। আর এসপানিওল পয়েন্ট টেবিলের ১৫ থেকে উঠে ১৩তে জায়গা করে নিল। রিয়ালের এই হার বার্সেলোনা শহর উদ্যাপন করতে পারে যৌথভাবে। আশা খুঁজে নিতে পারে প্যারিসও!

নেইমারের পিএসজিকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।

ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে শেষ ষোলোর প্রথম লেগের লড়াইয়ে শক্তিশালী পিএসজির মুখোমুখি হয়েছিল গত দুইবারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল।

ম্যাচের প্রথম থেকেই পিএসজিকে চাপে রেখেছিল রিয়াল। তবে সফরকারীরাই দেখা পায় প্রথম গোলের। পিএসজির ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে নেইমারের উদ্দেশ্যে ক্রস করেছিলেন। তবে রিয়ালের স্প্যানিশ ডিফেন্ডার নাচো হার্নান্দেজ আটকানোর চেষ্টা করলে বল চলে যায় দলটির ফরাসি মিডফিল্ডার আদ্রিওঁ রাবিওর কাছে। রিয়ালের গোলরক্ষক কেইলর নাভাসের মাথার উপর দিয়ে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি তিনি।

ম্যাচের ৪৫ মিনিটে পেনাল্টি পায় রিয়াল। পিএসজির গোলরক্ষক আলফঁসে আরিওলাকে পরাস্ত করে গোল করেন রোনালদো। দলকে সমতায় ফেরানো ছাড়াও এটি ছিল রিয়ালের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার শততম গোল।
প্রথমার্ধে বেশ কিছু ভাল সুযোগ পেয়েছিল দু’দলই। দ্বিতীয়ার্ধেও ঠিক তাই হয়েছিল। কিন্তু জালের দেখা পাচ্ছিল না কেউই। অবশেষে ম্যাচের ৮৩ মিনিটে আবার গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রোনালদো। স্প্যানিশ মিডফিল্ডার মার্কো অ্যাসেনসিওর একটি নিচু ক্রস ঠেকান আরিওলা। কিন্তু ছয় গজের বক্সের ভেতর থেকে বলে হাঁটু ঠেকিয়ে বুদ্ধিদীপ্ত গোলটি করেন রোনালদো।

রিয়ালের পরের গোলটিতেও ছিল অ্যাসেনসিওর ছোঁয়া। ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার নিচু ক্রসে দারুণ শটে গোল করেন ব্রাজিলিয়ান ফুলব্যাক মার্সেলো।

ম্যাচের ৮৬ মিনিটের এই গোলে নিশ্চিত হয়ে যায় পিএসজির পরাজয়।
এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৭ ম্যাচে ১১ গোল হল রোনালদোর। সব মিলিয়ে ১১৬ গোল। যেখানে এই প্রতিযোগিতায় ১০০ গোল নেই আর কারো।

রিয়ালের মাঠে হেরে বেশ বিপদেই পড়ে গেছেন উনাই এমেরির শিষ্যরা। মার্চের ৭ তারিখ দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে অন্তত ২-০ গোলে জিততে হবে। তাহলেই পূর্ণ হবে পিএসজির কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন। আর ম্যাচটি জিতলে বা ড্র করলেও রিয়াল উঠে যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে।

৪২

মেসি- সুয়ারেজের গোলে বার্সার জয়।

রবিবার নূ-ক্যাম্পে দেপোর্তিভো আলাভেসকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা। এরআগে গত আগস্টে লিগ পর্যায়ে প্রথম দেখায় একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আরনাস্তে ভালভার্দের শিষ্যরা জিতেছিল ২-০ গোলে।

ঘরের মাঠে অবশ্য ম্যাচের শুরুতেই পেছনে পড়েছিল বার্সেলোনা। ২৫তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে দেপোর্তিভো আলাভেসকে এগিয়ে দেন ইয়োন গিদেত্তি।

৩২তম মিনিটে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল বার্সেলোনা। কিন্তু ফিলিপ্পে কৌতিনহোর বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঠিক মতো পারেননি শট নিতে। বিরতির আগে ফ্রি কিক থেকেও কাতালানদের গোল এনে দিতে পারেননি লিওনেল মেসি।

বিরতির পর আক্রমণের গতি বাড়াতে থাকে বার্সেলোনা। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মোটেও পাচ্ছিলো না দলটি। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক যেন রবিবার কাতালানদের সামনে হয়ে দাঁড়িয়েছিল প্রাচীরের মতো। তবে ৭২তম মিনিটে সব অনিশ্চতায় অবসান ঘটিয়ে ঠিকই স্বাগতিকদের গোল এনে দেন লুইস সুয়ারেজ। বাঁ-দিক থেকে আন্দ্রে ইনিয়েস্তার দারুণ ক্রস ডান দিকে পেয়ে দুরূহ কোণ থেকে ভলিতে বল জালে জড়ান তিনি। এই নিয়ে লিগে টানা আট ম্যাচে জালের দেখা পেলেন উরুগুইয়েন ফরোয়ার্ড।

এদিকে ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে জয় সূচক গোলটি করেন মেসি। ২০ গজ দূরে বল পেয়ে দুর্দান্ত শটে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়ে স্বাগতিক সমর্থকদের শেষ পর্যন্ত আনন্দে ভাসান এ আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।

এ জয়ে ২১ ম্যাচে ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেই থাকল বার্সেলোনা।

মঁপেলিয়েকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে পিএসজি।

শনিবার রাতে মঁপেলিয়েকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে পিএসজি।
চোট কাটিয়ে ফেরা নেইমারের জোড়া গোল, এডিনসন কাভানির গোলের রেকর্ড ও ডি মারিয়ার এক গোলে জয়ে ফিরেছে পিএসজি।

লিওঁর কাছে হারের পরের ম্যাচেই এমন জয় কোচ উনাই এমেরির জন্য স্বস্তির। তাতে শীর্ষে থাকা পিএসজির টেবিলে পয়েন্ট দাঁড়াল ২৩ ম্যাচে ৫৯।

ম্যাচের ১১ মিনিটেই এগিয়ে যায় পিএসজি। নেইমারের দেয়া পাস রাবিওর সঙ্গে দেয়া-নেয়া করে জালে জড়ান কাভানি।

উরুগুয়ে ফরোয়ার্ডের পিএসজির জার্সিতে এটি ১৫৭তম গোল, যাতে টপকে গেছেন দলটির সাবেক তারকা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের আগের রেকর্ড ১৫৬ গোলকে।

ম্যাচের ৪০ মিনিটে স্পট কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নেইমার।

বিরতির পর ৭০ মিনিটে ডি মারিয়া আরেকদফা ব্যবধান বাড়ান। তুলিতে শেষ আঁচর টানেন নেইমারই। ৮২ মিনিটে কাভানির বাড়ানো বলে চলতি লিগে নিজের ১৭তম গোলটি আদায় করে নেন ব্রাজিলিয়ান ওয়ান্ডারবয়।