ঐ দিন কি হয়েছিল ? নবীজির নামাজ কেন কাজা হয়েছিল ? কি হলো তারপর…..

এক রাতে নবীজি (সা.) সাহাবিদের নিয়ে সফর করছিলেন। রাত শেষে বিশ্রামের বিরতি হয়। হজরত বেলাল (রা.) কে ফজরের নামাজের জন্য জাগিয়ে দেয়ার দায়িত্ব দিলেন। এরপর সবাই ঘুমিয়ে পড়লেন। এ দিকে হজরত বেলালও (রা.) ক্লান্ত। তিনিও ঘুমে আচ্ছন্ন। ফজরে কাউকে জাগাতে পারেননি। সবার ফজরের নামাজ কাজা হয়ে যায়।

নবীজি (সা.) ঘুম থেকে জেগে সূর্য ওঠার কিছুক্ষণ পর সবাইকে নিয়ে ফজরের নামাজ কাজা করলেন। বোখারি শরিফ : ৫৯৭ জুমা নামাজের কাজা নেই : জুমা নামাজের কাজা নেই। জুমা পড়তে না পারলে চার রাকাত জোহার কাজা পড়তে হবে। কাজা নামাজের সময় : কাজা নামাজ পড়ার কোন নির্দিষ্ট সময় নেই। যখনই স্মরণ হবে এবং সুযোগ হবে পড়ে নিতে হবে। তবে নিষিদ্ধ সময়গুলোতে মনে পড়লে অপেক্ষা করতে হবে।

দীর্ঘ কাজা হলে : কারো যদি কয়েক মাস এবং বছর নামাজ কাজা হয়ে যায়, তাহলে তার উচিত কাজা নামাজ একটা অনুমান করে নিয়ে কাজা পড়া শুরু করা। এ অবস্থায় কাজা নামাজ পড়ার নিয়ম এই যে, সে যে ওয়াক্তের কাজা পড়তে চাইবে সে ওয়াক্তের নাম নিয়ে বলবে যে, অমুক ওয়াক্তের সবচেয়ে প্রথম বা শেষ নামাজ পড়ছি। যেমন কাজা হওয়া নামাজের মধ্যে ফজরের নামাজের কাজা পড়তে চায়। তাহলে বলবে, ফজরের সবচেয়ে প্রথম অথবা শেষ নামাজ পড়ছি। এভাবে পড়তে থাকবে যাতে সকল কাজা নামাজ পুরা হয়ে যায়। ভ্রমণের সময়ের কাজা : সফরে যে নামাজ কাজা হবে তা মুকিম হয়ে পড়তে গেলে কসর পড়বে। কসর মানে চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজ দুই রাকাত পড়বে। তেমনি মুকিম অবস্থায় কাজা হলে সফরে তা পুরা পড়তে হবে।

ফরজ বা ওয়াজিব নামাজ সময় মতো পড়তে না পারলে, সময় উত্তীর্ণ হওয়ার পর পড়া হলে তাকে কাজা নামাজ বলে। পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ নামাজ ছুটে গেলে কাজা করা ফরজ। এশার নামাজের সময় বেতরসহ যে কোনো ওয়াজিব নামাজের কাজা করা ওয়াজিব। নফল নামাজ শুরু করার পর ওয়াজিব হয়ে যায়। কোন কারণে নফল নামাজ নষ্ট হলে অথবা শুরু করার পর কোন কারণে যদি ছেড়ে দিতে হয়, তাহলে তার কাজা করাও ওয়াজিব। সুন্নতে মুয়াক্কাদা এবং নফলের কাজা নেই। তবে ফজরের নামাজ সুন্নত-ফরজ উভয়টা পড়তে না পারলে সুন্নত-ফরজ এক সঙ্গে কাজা করা উত্তম। দুপুরের চার রাকাত সুন্নত পড়তে না পারলে ফরজের পরও পড়ে নেওয়া যায়। ফরজের পর যে দুই রাকাত সুন্নাত আছে তার আগেও পড়া যায় এবং পরেও পড়া যায়। তবে দুপুরের ওয়াক্ত চলে গেলে কাজা ওয়াজিব হবে না।

কাজা নামাজ আদায় করার হুকুম জানেন কি ???

ফরজ বা ওয়াজিব নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় না করে সময় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আদায় করলেই তাকে কাজা নামাজ বলা হয়। কাজা নামাজ আদায় করার অনুমতি শরিয়ত দিলেও ইচ্ছাকৃত নামাজ কাজা করা কবিরা গোনা। সুতরাং কোনো কারণে সময় মতো নামাজ আদায় করতে না পারলে তা কাজা করে নেয়া জরুরি। কাজা আদায়ের হুকুম তুলে ধরা হলো-
কাজা আদায়ের হুকুম

০১. ফরজ নামাজের কাজাও ফরজ এবং ওয়াজিব নামাজের (বিতর) কাজাও ওয়াজিব।

০২. কোনো মানুষ কোনো নির্ধারিত সময়ে কোনো নামাজ আদায় করার মানত করলে তা যথাসময়ে আদায় করতে না পারলে পরবর্তীতে কাজা করা ওয়াজিব।

০৩. কোনো ব্যক্তি নফল নামাজ পড়া আরম্ভ করার পর তা ওয়াজিব হয়ে যায়। কোনো কারণে নফল নামাজ নষ্ট হয়ে গেলে বা নামাজ ছেড়ে দিলে; সে নামাজ কাজা করা ওয়াজিব হয়ে যায়।

০৪. সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (ফজর ও জোহরের পূর্বে যথাক্রমে দুই ও চার রাকাআত নামাজ) এবং নফল নামাজের কাজা নেই। তবে ফজর নামাজের সুন্নাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে ফজরের সুন্নাতের ব্যাপারে খুবই তাকিদ করা হয়েছে। তাই ফজরের সুন্নাত কাজা হলে জোহরের নামাজের পূর্বেই কাজা পড়তে হবে। আর জোহরের সময় অতিবাহিত হলে শুধু ফরজ দু’রাকাআত পড়তে হবে। ফজরের সুন্নাত কাজা পড়তে হবে না।

০৫. জোহরের ফরজের পূর্বে চার রাকাআত সুন্নাত কোনো কারণ বশত পড়া না হলে ফরজের পর পড়ে নিতে হবে। জোহরের পর দু’রাকাআত সুন্নাতের পূর্বে বা পরে পড়া যাবে। আর জোহরের ওয়াক্ত শেষ হয়ে গেলে কাজা করা ওয়াজিব নয়। (ফতোয়ায়ে আলমগীরী)
সুতরাং উল্লেখিত নিয়মে যে নামাজগুলো কাজা আদায় করা জরুরি, আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তা যথাযথভাবে যথা সময়ে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।