নাপাক অবস্থায় খাবার গ্রহণ করা জায়েজ আছে কী ?? জেনে নিন !!

নাপাক অবস্থায় শুধু কোরআন পড়া, স্পর্শ করা, মসজিদে প্রবেশ ও নামাজ পড়া যাবে না। এ ছাড়া, খাওয়া দাওয়া, লেখাপড়া ও অন্যান্য কাজ করা যাবে।

তবে নাপাক অবস্থায় বেশিক্ষণ থাকা ঠিক নয়। মেয়েরা পিরিয়ডকালীন রোজাও রাখতে পারবেন না। তবে স্বামী-স্ত্রী সহবাসের মাধ্যমে নাপাক হয়েছে এই অবস্থায় সেহেরি খেয়ে রোজা রাখতে পারবে।
এতে রোজার কোনো সমস্যা হবে না। এক্ষেত্রে ফজর নামাজের আগে তাদেরকে গোসলের মাধ্যমে পাক হতে হবে।

আবার রোজা অবস্থায় ঘুমের মধ্যে কারো স্বপ্নদোষের মাধ্যমে নাপাকি ঘটলে রোজা নষ্ট হবে না। ফরজ গোসল করে পবিত্র হয়ে নিতে হবে।

আরও পড়ুন : ফরয গোসলের ইসলামিক সঠিক নিয়ম ও শর্তসমূহ !!

ইসলামি ভাষায় ফরজ গোসল করার সঠিক নিয়ম ও ফরয গোসলের শর্তসমূহ !!ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম না জানার কারণে অসংখ্য মুসলিম ভাই- বোনের সালাত সহ নানা আমল কবুল হয় না। যেটা ঈমানের ক্ষেত্রে চরম ভয়ানক ব্যাপার।

যেসব কারণে গোসল ফরজ হয়ঃ
১. স্বপ্নদোষ বা উত্তেজনাবশত বীর্যপাত হলে।
২. নারী-পুরুষ মিলনে (সহবাসে বীর্যপাত হোক আর নাই হোক)।
৩. মেয়েদের হায়েয-নিফাস শেষ হলে।
৪. ইসলাম গ্রহন করলে(নব-মুসলিম হলে)।

ফরজ গোসলের ফরজ সমূহ হলো-
গোসলের ফরজ মোট তিনটি। এই তিনটির কোনো একটি বাদ পরলে ফরজ গোসল আদায় হবে না। তাই ফরজ গোসলের সময় এই তিনটি কাজ খুব সর্তকতার সাথে আদায় করা উচিত।
১. গড়গড়া কুলি করা।
২. নাকে পানি দেওয়া।
৩. এরপর সারা দেহে পানি ঢালা ও ভালোভাবে গোসল করা

ফরজ গোসলের সঠিক নিয়মঃ
১. গোসলের জন্য মনে মনে নিয়্যাত করতে হবে। বাড়তি মুখে কোন আরবি শব্দ উচ্চারণ করে নিয়্যাত করা বিদ’আত।
২. প্রথমে দুই হাত কব্জি পর্যন্ত ৩ বার ধুতে হবে।
৩. এরপর ডানহাতে পানি নিয়ে বামহাত দিয়ে লজ্জাস্থান এবং তার আশপাশ ভালো করে ধুতে হবে। শরীরের অন্য কোন জায়গায় বীর্য বা নাপাকি লেগে থাকলে সেটাও ধুতে হবে।

৪. এবার বামহাতকে ভালো করে ধুইয়ে পেলতে হবে।
৫. এবার ওজুর নিয়মের মত করে ওজু করতে হবে তবে দুই পা ধুয়া যাবে না।
৬. ওজু শেষে মাথায় তিনবার পানি ঢালতে হবে।
৭. এবার সমস্ত শরীর ধোয়ার জন্য প্রথমে ৩ বার ডানে তারপরে ৩ বার বামে পানি ঢেলে ভালোভাবে ধুতে হবে, যেন শরীরের কোন অংশই বা কোন লোমও শুকনো না থাকে। নাভি, বগল ও অন্যান্য কুঁচকানো জায়গায় পানি দিয়ে ধুতে হবে।
৮. সবার শেষে একটু অন্য জায়গায় সরে গিয়ে দুই পা ৩ বার ভালোভাবে ধুতে হবে।

অবশ্যই মনে রাখতে হবেঃ
১. পুরুষের দাড়ি ও মাথার চুল এবং মহিলাদের চুল ভালোভাবে ভিজতে হবে।
২. এই নিয়মে গোসলের পর নতুন করে আর ওজুর দরকার নাই, যদি ওজু না ভাঙ্গে।

(আল্লাহ আমাদের সঠিকভাবে কুর’আন ও সহিহ সুন্নাহ মেনে চলার তাওফিক দিক এবং পূর্বের না জেনে করা ভুল ক্ষমা করুক।

মাথা ছুঁয়ে, কোরআন ছুঁয়ে কি শপথ করা যায়? এই ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা কী.. !!

অনেককেই দেখা যায়, কোরআন ছুঁয়ে, মাথা ছুঁয়ে, মাজার বা পীরের নামে শপথ করে। ইসলামী বিধান মতে, তা শিরক ও সবচেয়ে বড় গুনাহ। হাদিস শরিফে আছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করে, সে অবশ্যই কুফরি বা শিরক করল।’ (তিরমিজি শরিফ, হাদিস : ১৫৩৫)

শপথ আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নামে করতে হয়। কিন্তু কোরআন স্পর্শ করে যদি কেউ শপথ করে, তাহলে সে শপথও রক্ষা করতে হবে। কেননা কোরআন আল্লাহর কালাম। এটি রাব্বুল আলামিনের কথা। তাই এটিও এক ধরনের কসম। এই ধরনের কসম করলে অবশ্যই তা পূরণ করতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কালাম হওয়ার কারণে কোরআনের মর্যাদা কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন করার সুযোগ নেই। আল্লাহর নামে কসম করলে যেমন তার মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি, তেমনি কোরআন ছুঁয়ে শপথ করলে এর মর্যাদা কোনোভাবে ক্ষুণ্ন করা যাবে না।

কোনো ব্যক্তি আল্লাহর নামে করা শপথ ভঙ্গ করলে কাফফারাস্বরূপ তিনটি কাজের মধ্যে যেকোনো একটি কাজ করতে হবে।

এক. ১০ জন দরিদ্রকে মধ্যম শ্রেণির খাদ্য সকাল-বিকাল দুই বেলা খাওয়াতে হবে। এটি অর্থমূল্যে দিতে চাইলে প্রত্যেককে পৌনে দুই সের গম বা তার অর্থমূল্য দিতে হবে।

দুই. ১০ জন দরিদ্রকে ন্যূনতম ‘সতর ঢাকা’ পরিমাণ পোশাক-পরিচ্ছদ দান করতে হবে।

তিন. ক্রীতদাস থাকলে একজন ক্রীতদাস মুক্ত করে দিতে হবে। কেউ যদি এ আর্থিক কাফফারা দিতে সমর্থ্য না হয়, তার জন্য কাফফারা হলো তিনটি রোজা রাখা। হানাফি মাজহাব মতে, ওই রোজা উপর্যুপরি ও ধারাবাহিকভাবে রাখতে হবে।

কেউ যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কসম করে, তাহলে তার কাফফারা হলো কালেমা ত্বাইয়েবা ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করা। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি শপথ করতে গিয়ে লাত ও উজজার (আরবের মূর্তির) নামে শপথ করে বসে, সে যেন বলে, ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’। (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত, হাদিস : ৩৪০৯

স্মরণ রাখতে হবে, অহেতুক শপথ করা ইসলাম সমর্থন করে না। আবার শপথ ভঙ্গ করাও ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

শয়তানকে সৃষ্টি করা হলো যে কারণে !

আল্লাহ তাআলার সেরা ও প্রিয় সৃষ্টি মানুষ। এ মানুষের পরীক্ষা গ্রহণের জন্যই আল্লাহ তাআলা অভিশপ্ত শয়তানকে সৃষ্টি করেছেন। কে আল্লাহকে প্রকৃত পক্ষে ভালোবাসে; আর কে আল্লাহকে লোভ-লালসায় পড়ে ভুলে যায়; তা নির্বাচনের সেরা মাধ্যম হলো বিতাড়িত শয়তান ও তার ধোঁকা ও প্রতারণা।আল্লাহ তাআলা ইবলিসকে কেয়ামত পর্যন্ত হায়াত দিয়ে মানুষের ঈমান ও আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতার পরীক্ষায় স্বাধীন কাজের ক্ষমতা দিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন।

শয়তানের কাজ হলো মানুষকে ছলে-বলে; কলে-কৌশলে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করা; আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুৎ করে তাকে ধোঁকা দেয়া। এ কারণেই ইবলিস মানুষকে কুমন্ত্রণা দেয়ার সময় এ কৌশল অবলম্বন করে-‘(ওরা) শয়তানের মতো যে মানুষকে বলে, ‘কুফরি কর’, অতঃপর যখন সে (মানুষ) কুফরি করেতখন শয়তান বলে, তোমার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। নিশ্চয় আমি বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’ (সুরা হাশর আয়াত ১৬)
আল্লাহ তাআলা মানুষকে শয়তানের বলয়মুক্ত করে সঠিক পথের ওপর রাখার জন্য যুগে যুগে জীবন-ব্যবস্থা স্বরূপ আসমানি কিতাবসহ অসংখ্য নবি-রাসুলকে পাঠিয়েছেন।

সে মতে হজরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবি ও রাসুল হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত অসংখ্য নবি-রাসুল দুনিয়ায় দ্বীনের সঠিক পথের দাওয়াত দিয়েছেন।বর্তমানে সর্বশেষ ঐশীগ্রন্থ পবিত্র কুরআনের ধারক ও বাহক মুসলিম ওলামায়ে কেরামও শেষ নবির ‘ওয়ারিছ’ হিসাবে আল্লাহর প্রেরিত ওহির বিধানসমূহ বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দেবার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। যাতে মানুষ শয়তানের ধোঁকা বা প্রতারণামুক্ত থাকতে পারে। ইবলিসের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে।

যা কেয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত জারি থাকবে।প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ‘পৃথিবীর এমন কোনো বস্তি ও ঝুপড়ি ঘরও বাদ থাকবে না; যেখানে আল্লাহ পাক ইসলামের বাণী পৌঁছে দেবেন না।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত)এমন এক সময় আসবে যখন পৃথিবীতে ‘আল্লাহ’ বলার মতো কোনো লোক থাকবে না। তখন আল্লাহর হুকুমে মহাপ্রলয় কেয়ামত সংঘটিত হবে। মানুষের দেহগুলো মাটিতে মিশে যাবে; রূহ গুলো স্ব স্ব আমল অনুযায়ী ইল্লিন বা সিজ্জিনে অবস্থান করবে। (সুরা মুতাফফিফিন)মানুষের দেহগুলো আল্লাহর হুকুমে কেয়ামতের পর স্ব স্ব দেহে পুনরায় প্রবেশ করবে (সুরা ফরজ) এবং চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশের জন্য সব মানুষ সশরীরে আল্লাহর দরবারে উপনীত হবে। (সুরা মুতাফফিফিন)সুতরাং মানুষের জন্য এ দুনিয়া হলো পরীক্ষাগার। আর ইবলিসের মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলা এ পরীক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন। যারা শয়তানের ধোঁকা ও প্রতারণামুক্ত থাকবে তারাই সফলকাম। পরীক্ষার সফলতা লাভ করে তারা ফিরে যাবে জান্নাতে।যে জান্নাত থেকে একবার ইবলিসই হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালামকে বিতাড়িত করেছিল। জান্নাতই হবে সফল মানুষদের চিরস্থায়ী আবাস।আল্লাহ তা্অলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়ায় ইবলিসের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার তাওফিক দান করুন।

ইসলাম কি বলে ! চুল-দাড়িতে কলপ ব্যবহার করা যাবে কি ??

বার্ধক্য এলে অনেকের চুল-দাড়ি ধবধবে সাদা হয়ে যায়। সাদা দাড়িওয়ালা অনেকে দাড়ি ও চুলে খেজাব বা মেহেদি ব্যবহার করেন। আবার বার্ধক্যজনিত কারণ ছাড়াও অপরিণত বয়ইে অনেক যুবকের মাথার চুল পেকে যায়। চুল কালো করতে তারাও বিভিন্ন পদ্ধতির আশ্রয় নেন। চুল-দাড়িতে কলপ, খেজাব বা মেহেদি যাই হোক, তা ব্যবহারের আগে মুসলমানদের উচিত ইসলামের দৃষ্টিতে তা কতটা বৈধ তা জেনে নেওয়া।

বার্ধক্যজনিত কারণে কারো চুল-দাড়ি পেকে গেলে তাতে খেজাব ব্যবহার করা বৈধ। তবে তা কালো খেজাব হতে পারবে না। নবীজি (সা.) মূলত মেহেদি বা এ ধরণের রঙের কোনো জিনিস দ্বারা চুল-দাড়ি রাঙাতে উৎসাহ দিয়েছেন। হজরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, মক্কা বিজয়ের দিন নবীজি (সা.) হজরত আবুবকরের পিতা আবু কুহাফার (রা.) চুল-দাড়ি পাকা দেখে তাকে বললেন, ‘এটাকে কোনো কিছু দ্বারা পরিবর্তন করো। তবে কালো থেকে বিরত থাকো।’ (সহিহ মুসলিম : ৫৪৬৬)। এ হাদিসে কালো ছাড়া মেহেদি রঙ বা অন্য খেজাব ব্যবহারের উৎসাহ দেওয়া হয়েছে এবং কালো খেজাব ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে।

বার্ধক্য গোপন করার জন্য বৃদ্ধের জন্য সাদা চুল-দাড়িতে কালো খেজাব ব্যবহার একেবারেই নাাজায়েজ। কালো খেজাব ব্যবহারকারী ব্যক্তি জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘শেষ যুগে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা (চুল-দাড়িতে) কবুতরের বুকের রঙের মতো কালো খেজাব বা কলপ ব্যবহার করবে। তারা জানানতের সুগন্ধও পাবে না। (আবু দাউদ : ৪২১২)। যারা চুল-দাড়িতে কালো রঙ ব্যবহার করবে তারা জান্নাত থেকে তো বঞ্চিত হবে আবার তাদেরকে ভয়াবহ শাস্তির হুশিয়ারিও দিয়েছেন মহানবী (সা.)। হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন, কালো কলপ ব্যবহারকারী ব্যক্তির চেহারা কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা কালো করে দেবেন।’ কেমিক্যালযুক্ত যে মেহেদির রং সম্পূর্ণ কালো সেটার নাম মেহেদি হলেও তা ব্যবহার নাজায়েজ। তবে কোনো খেজাব যদি একোবরে কালো না হয়ে মিশ্র রঙের হয তা ব্যবহার করা যেতে পারে।

সুরা রূমের ৩০ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই।’ অর্থাৎ প্রকৃতিগতভাবে আল্লাহর সৃষ্ট কোনো সৃষ্টিকে পরিবর্তন সাধন করা যাবে না। সাদা কিংবা কালো চুল-দাড়িও প্রকৃতিগতভাবে আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি। তা পরিবর্তন হারাম। কালো রঙ দ্বারা পাকা চুল-দাড়িকে কালো করে নিজেকে যুবক কিংবা অপেক্ষাকৃত কম বয়সী জাহির করেন অনেকে। বার্ধক্যজনিত কারণে চুল-দাড়ি পেকে গেলে তা তো আশীর্বাদ। অনেকে পাকা চুল ও দাড়ি উঠিয়ে ফেলে যুবক সাজতে চান অথচ মুমিনের একটি চুল সাদা হলে একটি গুনাহ ঝড়ে যায়। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, তোমরা পাকা চুল তুলে ফেলো না। কেননা পাকা চুল হলো মুসলমানের জ্যোতি। কোনো মুসলমানের একটি চুল পেকে গেল আল্লাহ তার জন্য একটি নেকি লিখে দেন, একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন, একটি গুনাহ ক্ষমা করেন।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৬৯৬২)।

বার্ধক্যজনিত কারণে সাদা হয়ে যাওয়া চুল-দাড়িতে কালো খেজাব ব্যবহারে নিষেধের মূল কারণ হলো, এর দ্বারা আল্লাহপ্রদত্ত বার্ধক্যকে গোপন করে মানুষের সামনে নিজেকে তরুণ হিসেবে উপস্থাপন করা। এর ফলে ব্যক্তিগত আচরণেও প্রভাব পড়ে। এটা এক ধরণের প্রতারণা। আল্লাহর ফায়সালাকে মেনে না নেওয়ার নামান্তর। তবে অসুস্থতা, চুলের যত্ন না নেওয়া, কোনো ওষুধ ব্যবহারের কারণে বা অন্য কোনো কারণে অপরিণত বয়সেই যে যুবকের চুল-দাড়ি সাদা হয়ে গেছে যেহেতু সে আসলে বৃদ্ধ নয়, এখানে বার্ধক্য গোপন করা হচ্ছে না তাই সে কালো খেজাব ব্যবহার বৈধ বলেই অকে আলেম মত দিয়েছেন। (ফায়জুল কাদির : ১/৩৩৬)। বার্ধক্যের আগেই সাদা হয়ে যাওয়া চুলে কোনো

কোনো পূর্ববর্তী আলেমও কালো খেজাব ব্যবহার করেছেন। ইমাম জুহরি (রহ.) বলেন, আমাদের চেহারা যখন সতেজ ছিল তখন আমরা কালো খেজাব ব্যবহার করেছি। কিন্তু যখন চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ পড়েছে, চেহারা মলিন হয়ে গেছে, দাঁত নড়বড়ে হয়ে গেছে তখন আর কালো খেজাব ব্যবহার করিনি। (ফাতহুল বারি : ১০/৩৩৬)। তবে যেহেতু হাদিসে কালো খেজাবকে বিশেষভাবে নিষেধ করা হয়েছে তাই যুবকদের জন্য উচিত এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করে একেবারে কালো খেজাব ব্যবহার না করে লাল কালো মিশ্রিত খেজাব ব্যবহার করা। (তুহফাতুল অহওয়াজি : ৫/১৫৪)।

মদের বোতলে রাখা পানি পান করা যাবে কী ? ইসলাম কি বলে !!

যেসব বস্তু সেবনে উন্মত্ততা সৃষ্টি হয় ও বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে অথবা বোধশক্তির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে, পরিভাষায় সেগুলোকে মাদকদ্রব্য বলা হয়। ইসলাম সব ধরনের মাদকতা তথা নেশাদ্রব্য হারাম ঘোষণা করেছে। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক নেশাদ্রব্যই মদ, আর যাবতীয় মদই হারাম।’ (মুসলিম ও মেশকাত, হাদিস : ৩৬৩৮)

মাদকাসক্তির কারণে সব জনপদেই চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বেড়ে গিয়ে মানুষের জান-মাল ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। সমাজের বেশির ভাগ অপরাধের জন্য মুখ্যভাবে দায়ী এই মাদকতা। এ জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মদ পান কোরো না। কেননা তা সব অপকর্মের চাবিকাঠি।’ (ইবনে মাজাহ : হাদিস : ৩৩৭১)

ইসলামপূর্ব আরবে মাদকতা মহামারির আকার ধারণ করেছিল। এ অবস্থা থেকে তাদের ফিরিয়ে আনতে ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে মাদকতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুরা বাকারার ২১৯ নম্বর আয়াতে মাদকতা ও জুয়া খেলাকে মহাপাপ বলা হয়েছে। এরপর সুরা নিসার ৪৩ নম্বর আয়াতে মদ্য পান করে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। তারপর সুরা মায়েদার ৯০-৯১ নম্বর আয়াতে মদ চিরতরে হারাম করে দেওয়া হয়েছে। সুরা মায়েদার ৯০ নম্বর আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘তোমরা এসব (মদ, জুয়া ইত্যাদি) থেকে বিরত থাকো। ’ কোরআনের পাশাপাশি বহু হাদিসেও মদ পান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মদ পানকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না। ’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৩৭৬)

মদ ও মাদকদ্রব্য কিছুতেই ইসলামের সঙ্গে যায় না। মদের সঙ্গে সম্পৃক্ত দশ শ্রেণির মানুষকে হাদিসে অভিশাপ দেওয়া হয়েছে। তারা হলো, মদের নির্যাস বেরকারী, মদ্যপায়ী, পরিবেশক, বিক্রেতা, ক্রেতা, উৎপাদনকারী কর্মচারী, উৎপাদক, পরিবাহক, আমদানিকারক ও লভ্যাংশ ভোগকারী। (তিরমিজি ও মেশকাত, হাদিস : ২৭৭)

প্রশ্ন হলো, মদ যখন এতই ঘৃণিত বস্তু, তাহলে যেসব বোতলে মদ রাখা হয়, সেসব বোতলে পানি রেখে তা পান করা কি বৈধ? দেখা যায়, বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে বা অতিথিশালায় মদের বোতলে রাখা পানি পান করতে দেওয়া হয়, এমতাবস্থায় করণীয় কী?

এ প্রশ্নের জবাব হলো, যদি ভালোভাবে মদের বোতল পরিস্কার করা হয়, এর মধ্যে মদের কোনো চিহ্ন না থাকে, তাহলে এমন পাত্র বা বোতলে রাখা পানি পান করা বৈধ। যদিও ইসলামের প্রথম যুগে মদের পাত্রে রাখা পানি পান করতে নিষেধ করা হয়েছিল। ইসলামের প্রথম যুগে মূলত ৩টি কারণে মদের পাত্রে রাখা পানি পান করতে নিষেধ করা হয়েছিল।

এক. সেসব পাত্রে মদের চিহ্ন অবশিষ্ট ছিল।

দুই. সে সময় সবেমাত্র মদ হারাম করা হয়েছিল। তাই মদের পাত্রে পানি পান করলে মদের কথা স্বরণ হয়ে যেতে পারত। তাই সতর্কতামূলক এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।

তিন. মদের প্রতি যেন পরিপূর্ণ ঘৃণা সৃষ্টি হয়, সেজন্য তখন মদের পাত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে যখন মদ হারাম হওয়ার বিষয়টি সবার জানা হয়ে যায়, এবং সাহাবিদের মধ্যে মদের প্রতি প্রচন্ড ঘৃণা জন্মে যায়, তখন ওই সব পাত্র ভালোভাবে পরিস্কার করে তাতে রাখা পানি পান ইত্যাদি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। (তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম : ৩/৩৫১)

এ প্রসঙ্গে একটি হাদিস পাওয়া যায়। হজরত বুরাইদা (রা.) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‌’আমি তোমাদের কিছু পাত্রের ব্যাপারে (মদ রাখার পাত্র) নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলাম। আসলে পাত্র কোনো কিছুকে হালাল বা হারাম করতে পারে না। তবে প্রতিটি মাদকদ্রব্য হারাম।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর : ৫৩২৬, তিরমিজি, হাদিস নম্বর : ১৮৬৯)

উল্লিখিত হাদিস থেকে জানা যায়, মদের বোতল বা পাত্র ভালোভাবে পরিস্কার করে তাতে পানি রাখলে সে পানি পান করা বৈধ।

মানত করা সম্পর্কে ইসলাম কি বলে? ইসলামে কোন কিছু মানত করা জায়েজ?

মানত করা সম্পর্কে ইসলাম কি বলে?
ইসলামে কোন কিছু মানত করা জায়েজ?
=========================
মানত কিঃ
—————–
‘মানত’ বা ‘মান্নত’ আমাদের সমাজে বহুল
প্রচলিত একটি শব্দ। যেমনআমরা কখনো
কখনো বলি, যদি আমি পরীক্ষায় পাশ করি
তাহলে মাদরাসায়একটি ছাগল দান করব।
এটি একটি মানত।ইত্যাদি আরো অনেক মানত আছে।
_________
রাসূল সাঃ মানত করতে নিষেধ করছেন
——————————————————-
১.আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম
(সাঃ) আমাদের মানত করতে নিষেধ করেছেন। আর
বলেছেন, মানত কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না। এটা শুধু
কৃপণ ব্যক্তি থেকে মাল খসায়।
সহিহ মুসলিমঃ ৪৩২৭, মুসনাদে আহমাদ।
:
২. আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)
বলেছেন, তোমরা মানত করবে না। কেননা মানত
তাকদীরের কোনো কিছুকে ফেরাতে পারে না। এটা শুধু
কৃপণ ব্যক্তি থেকে সম্পদ খসায়।
সহিহ বুখারি, মুসলিমঃ ৪৩২৯, সহিহ সুনানে আত-
তিরমিজি, সহিহ সুনানে নাসায়ি।
:
৩. সাহাবী আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম
(সাঃ) বলেছেন, যেই বস্তু মহান আল্লাহ আদম সন্তানের
জন্য নির্ধারণ করেননি মানত সেটি তার নিকটবর্তী
করে না। বরং তাকদীরে যা আছে মানত সেটাই নিয়ে
আসে। এর মাধ্যমে কৃপণ ব্যক্তির সম্পদ বের করা হয় যা
সে খরচ করতে চায়নি।
সহিহ মুসলিমঃ ৪৩৩১।
_______________
উদ্ধৃত হাদীসগুলো থেকে আমরা জানতে পারলাম,
———————————————-
এক. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
মানত করতে নিষেধ করেছেন। অতএব মানত করা ঠিক নয়।
আমরা অনেকে বিপদ-আপদে পতিত হলে মানত করে
থাকি। আর মনে করি এটা সওয়াবের কাজ। আল্লাহ খুশী
হবেন। কিন্তু আসলে তা সওয়াবের কাজ নয়। আল্লাহর
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করতে
নিষেধ করেছেন তাতে আল্লাহ খুশী হবেন না। এবং
এতে কোনো সওয়াবও হয় না। তাই আমাদের উচিত হবে
কোনো অবস্থায় মানত না করা। অবশ্য মানত করে
ফেললে তা পালন করতেই হবে কারণ মানত করলে তা
পূর্ণ করা ওয়াজিব হয়ে যায়।
:
দুই. মানত করার মাধ্যমে কৃপণ ব্যক্তির সম্পদ বের করা হয়।
এ কথা বলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বুঝিয়েছেন, মানত করা
একটি অনর্থক কাজ। সাধারণত কৃপণ স্বভাবের লোকেরা
মানত করে থাকে। তারা সুস্থ ও নিরাপদ থাকা কালে
দানসদকা করে না। কিন্তু বিপদে পড়লে আল্লাহর পথে
খরচ বা দান সদকা করার বড় বড় মানত করে।
:
তিন. তাকদীরে যা লেখা আছে তা হবেই। মানত করার
মাধ্যমে তাকদীরের লেখা পরিবর্তন করা যায় না।
তাকদীরের প্রতি যাদের যথাযথ ঈমান নেই সাধারণত
তারাই মানত করে থাকে।
:
চার. মানত করা হোক বা না হোক। ফলাফল একই হবে।
তাকদীরে যা লেখা আছে সেটাই আসবে
অবধারিতভাবে।
:
পাঁচ. আলোচিত সবগুলো হাদীসই মানত না করার জন্য
মুসলিমদেরকে নিরোৎসাহিত ও নিষেধ করেছে। বলেছে,
এটি কোনো ফল বয়ে আনে না বরং শুধু কৃপণের সম্পদ খরচ
করায়।
এ সকল বিষয় জানার পর কোনো মুসলিমের পক্ষে কোনো
প্রকার মানত করা উচিত নয়।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, যে কাজটি করতে
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ
করেছেন, আমরা সেটাকে সুন্নাত মনে করি।
________________
মানত করলে তা পূরন করতে হবেঃ
———————————————–
মানত পূরণ করা সম্পর্কে হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
ﻣﻦ ﻧﺬﺭ ﺃﻥ ﻳﻄﻴﻊ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻠﻴﻄﻌﻪ ، ﻭﻣﻦ ﻧﺬﺭ ﺃﻥ ﻳﻌﺼﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻼ ﻳﻌﺼﻪ
যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার আনুগত্য করার মানত করে
সে যেন (তা পূরণ করে) তাঁর আনুগত্য করে । আর যে
অবাধ্যতার কোনো বিষয়ে মানত করে সে যেন তাঁর
অবাধ্যতা না করে। (সহিহ বুখারি, আবু দাউদ, ইবনে
মাজা, নাসায়ি)
:
আমরা এই হাদীস থেকে জানতে পারলাম,
ভাল কাজের মানত করলে শর্ত পূরণ হলে সেই মানত পূরণ
করতে হয়। তবে শরিয়ত নিষিদ্ধ-মন্দ ও আল্লাহর
অবাধ্যতামূলক কাজ
করার মানত। যেমন কেউ বলল, আজ যদি অমুক দল খেলায়
জিতে যায় তাহলে আমি তোমাদেরকে মদ পান করাব।
এ মানত পূরণ করা মোটেই জায়েয নয়। মানতের শর্ত পূরণ
হোক বা না হোক। কারণ এতে আল্লাহ তাআলার
অবাধ্যতা বিদ্যমান।
///////////////////////////////////
বিঃদ্রঃ অনেক হুজুর মাওলানা বলে অমুক জায়গায়
মানত করলে অমুক কাজটা হয়ে যাবে। এই ব্যক্তি হচ্ছে
জাহেল, মূর্খ। এর কোনো কথা শোনা যাবেনা – এর কাছ
থেকে দূরে থাকতে হবে।
আর মাজার বা পীরের নামে কোনো কিছু মানত করা
শিরক। কারণ, এখানে আল্লাহর সন্তুষ্টির সাথে অলী
আওলিয়াদের সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত থাকে । আল্লাহ্
ছাড়া অন্য কারো সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কোনো ইবাদত
করলে সেটা শিরক।

রঙ্গিন ও ডিজাইন করা বোরকা পরিধান কি বৈধ ?? ইসলাম কি বলে !!

প্রশ্ন : শ্রদ্ধেয় মুফতি সাহেব, আমার একটি বোরকা কাপড়ের দোকান আছে। আমি বিভিন্ন ধরণের বোরকা বিক্রি করি। বোরকার বিভিন্ন ডিজাইন রয়েছে। বিভিন্ন রংয়ের হিজাব রয়েছে। অনেক কারুকার্য করা বোরকা। আমার প্রশ্ন হলো, এসব বোরকা পরিধান করার হুকুম কী? আর আমি যে ডিজাইন করা রঙ্গিন বোরকার ব্যবসা করি, এতে কি আমি গোনাহাগার হবো?

উত্তর : بسم الله الرحمن الرحيم

বোরকার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে দেওয়া, যাতে করে পরপুরুষের দৃষ্টি শরীরে না পড়ে। উপরোক্ত উদ্দেশ্য শরীর ঢেকে দেয়, এমন প্রতিটি বোরকা দ্বারাই অর্জিত হয়ে যায়।

তবে খেয়াল রাখতে হবে, যেনো বোরকা এমন না হয়, যার ওপরের অংশই পুরুষদের আকর্ষিত করে। এ হিসেবে কালো বোরকা পরিধান করাই সর্বোত্তম।

যদি পরপুরুষকে আকৃষ্ট করার জন্য ডিজাইন করা বোরকা পরিধান করা হয়, তাহলে খারাপ নিয়তের কারণে ওই নারী গোনাহগার হবে। কিন্তু এ কারণে এসব বিক্রিকারীর ওপর গোনাহ অর্পিত হবে না। তাই সব ধরনের বোরকা বিক্রি করা যাবে।

أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ: لَقَدْ «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي الفَجْرَ، فَيَشْهَدُ مَعَهُ نِسَاءٌ مِنَ المُؤْمِنَاتِ مُتَلَفِّعَاتٍ فِي مُرُوطِهِنَّ، ثُمَّ يَرْجِعْنَ إِلَى بُيُوتِهِنَّ مَا يَعْرِفُهُنَّ أَحَدٌ

অর্থ আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায় করতেন আর তাঁর সঙ্গে অনেক মুমিন নারী চাদর দিয়ে গা ঢেকে শরীক হতো। অতঃপর তারা নিজ নিজ ঘরে ফিরে যেতো। আর তাদের কেউ চিনতে পারতো না । (সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৭২)

أن النساء ايضا مأمورات بغض البصر عن الرجال الأجانب كما ان الرجل مأمورون بغض البصر من النساء الأجنبيات (احكام القرآن للتهانوى-3/43)

وإنما تحصل المعصية بفعل فاعل مختار (رد المحتار-9/562)

وان قامت المعصية بعينه يكره بيعه تحريما والا فتنزيها (رد المحتار-9/561

والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে : লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

মানুষের কামড়ে বিষধর সাপের মৃত্যু…!! অবাক করা কাণ্ড ।।

সাপের কামড়ে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। তবে মানুষের কামড়ে সাপের মৃত্যুর ঘটনা কখনো শুনেছেন কি? এমনই অবাক করার মতো ঘটনা ঘটেছে ভারতের মধ্য প্রদেশের মরিনা জেলার সাবালপুর টেহসিলের পাছের গ্রামে।

ওই গ্রামের জালিম সিং কুশওহা নামের এক ব্যক্তি গত শনিবার নিজের খামারে কালো রঙের একটি সাপ দেখতে পান। তখন জালিম কিছুটা মাতাল অবস্থায় ছিলেন। তিনি সাপ ধরে কামড়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পরই সাপটি মারা যায় আর জালিম জ্ঞান হারান।

পরে গ্রামবাসী অচেতন অবস্থায় কুশওহাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালের চিকিৎসক রগভিন্দ্র যাদব বলেন, সাপটিকে কামড়ানোর পর ভয়ে ও আতঙ্কে অজ্ঞান হয়ে যান জালিম। আর সাপটি খুব বিষধর ছিল। যদি বিষ তাঁর রক্তে প্রবেশ করত, তা কুশওহার জন্য মারাত্মক হতে পারত।

তবে কুশওহা সুস্থ আছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এর আগে ভারতের উত্তর প্রদেশের এক ব্যক্তি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে এক বিষধর সাপের মাথায় কামড় দেন। এতে সাপটি মারা যায়।

ভ্রু প্লাক করা কি গুনাহ ?? জেনে নিন ইসলাম কি বলে !!

জ্বী, ইসলামী শরীয়তে ভ্রু প্লাক করা গুনাহ। ভ্রু প্লাক করা ইসলামে জায়েজ না। এমনকি স্বামী চাইলেও তা জায়েজ হবে না।

হাদিসে আছে- যে নিজের ধারণায় সৌন্দর্য চর্চা করতে গিয়ে পূর্ণ ভ্রু বা আংশিক ভ্রু ফেলে দেয় আর যে এ কাজ করে তাকে রাসূল [সা] অভিসম্পাত করেছেন। [সুনানে নাসায়ি]

চেঁছে অথবা ছেঁটে অথবা লোম নাশক দ্রব্য ব্যবহার করে ভ্রুর পশম সম্পূর্ণ বা আংশিক দূর করা মুসলিম নারীর জন্য হারাম ।

হাদিসে আছে- যে নিজের ধারণায় সৌন্দর্য চর্চা করতে গিয়ে পূর্ণ ভ্রু বা আংশিক ভ্রু ফেলে দেয় আর যে এ কাজ করে তাকে রাসূল [সা] অভিসম্পাত করেছেন। [সুনানে নাসায়ি]

এটা আসলে সৃষ্টিকে এক ধরনের বিকৃত করা । শয়তান বনী আদমকে দিয়ে এ নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করার প্রতিজ্ঞা করে এসেছে।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, (শয়তান বলেছে) আমরা অবশ্যই তাদেরকে নির্দেশ করব, যেন তারা আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করে। [সূরা আন-নিসা, আয়াত, ১১৯]

ভ্রূ চিকন করা বৈধ নয়। স্বামী চাইলেও তা করা জায়েয হবে না। কেননা হাদীস শরীফে এ জাতীয় মহিলাদের উপর অভিসম্পাত করা হয়েছে। কারণ রসূলুল্লাহ (সাঃ) সেই নারীকে অভিসম্পাত করেছেন যে এরূপ করে থাকে। [সহীহ বুখারী হাদীস : ৫৫৩৯; সহীহ মুসলিম হাদীস : ৫৫২৯; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ৪/১৯৫; ফাতহুল বারী ১০/৩৯০; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৭৩; আলবাহরুর রায়েক ৮/২০৫; হাশিয়া তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/১৮৬]

পবিত্র কোরআন শরীফ স্পর্শ করে কসম করা কি জায়েজ …?? ইসলাম কি বলে …।।

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় বেসরকারি একটি টেলিভিশনের জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

প্রশ্ন: কোরআনকে স্পর্শ করে কসম করার বিধান আছে কি?

উত্তর: না, কোরআনে কারিমকে স্পর্শ করে কসম করার বিধান নেই। কসম আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নামে হয়। কিন্তু কোরআনকে স্পর্শ করে যদি কেউ কসম করে যেহেতু আল্লাহর কালাম, আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কথা, তাই এটিও একধরনের কসম। অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম এ কথা বলেছেন যে, কসমের হুকুমের মধ্যে আসবে। তাই এই কসম যদি কেউ করে থাকেন, তাহলে সেই ব্যক্তিকে অবশ্যই সেই কসমটি পূরণ করতে হবে। এটি বিধান নয় কিন্তু কসম করলে সেটি পূরণ করতে হবে, ভঙ্গ করা যাবে না। কারণ এটি আল্লাহর কালাম।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কালাম হওয়ার কারণে কোরআনের মর্যাদা কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ করা সুযোগ নেই। আল্লাহর নামে কসম করলে যেমন তার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা জায়েজ নেই তেমনিভাবে কোরআন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কালাম হওয়ার কারণে এর মর্যাদা কোনোভাবে ক্ষুণ্ণ করা জায়েজ নেই। তাই এটি কসমের হুকুমের মধ্যে আসবে, তিনি কসমটি ভঙ্গ করতে পারবেন না, তিনি কসম রক্ষা করবেন।