বিসমিল্লাহ শব্দের নাযিলের কাহিনী এবং এর ফজিলত !! জেনে নিন বিস্তারিত ।

পরম করুণাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি। সমস্ত প্রশংসাই আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালার। দরুদ ও সালাম আল্লহর প্রেরিত রসূল (সাঃ) এর প্রতি।
তাফসীর-ই-ইবনে আবি হাতিমে বলেছে যে, হযরত ওসমান বিন আফফান (রাঃ) রাসূল (সাঃ) কে ‘বিসমিল্লাহ’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন তিনি উত্তরে বলেছিলেনঃ ‘এতো আল্লাহতায়ালার নাম। আল্লাহর বড় নাম এবং এই বিসমিল্লাহ এর মধ্যে এতদূর নৈকট্য রয়েছে যেমন রয়েছে চক্ষুর কালো অংশ ও সাদা অংশের মধ্যে।’
ইবনে মরদুওয়াই এর তাফসিরে রয়েছে যে; রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ ‘আমার উপর এমন একটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে যার মত আয়াত হযরত সোলাইমান ছাড়া অন্য কোন নবীর উপর অবতীর্ণ হয় নাই। আয়াতটি হল “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”।
হযরত জাবির (রাঃ) বর্নণা করেন যে, যখন এ আয়াতটি নাযিল হয় তখন পূর্ব দিকে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায়, বায়ুমন্ডলী স্তব্ধ হয়ে যায়, তরঙ্গ বিক্ষুব্দ সমুদ্র প্রশান্ত হয়ে উঠে, জন্তু গুলো কান লাগিয়ে মনযোগ সহকারে শুনতে থাকে, আকাশ থেকে অগ্নিশিখা নিক্ষিপ্ত হয়ে শয়তানকে বিতারন করে এবং বিশ্ব প্রভু স্বীয় সন্মান ও মর্যাদার কছম করে বলেনঃ ‘যে জিনিসের উপর আমার এ নাম নেওয়া যাবে তাতে অবশ্যই বরকত হবে।’

হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন যে, দোযখের ১৯টি দারোগার হাত হতে যে বাঁচতে চায় সে যেন ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পাঠ করে। এতেও ঘটেছে ১৯টি অক্ষরের সমাবেশ। প্রত্যেকটি অক্ষর প্রত্যেক ফেরেশতার জন্য রক্ষক হিসেবে কাজ করবে।’
মুসনাদ-ই-আহমাদের মধ্যে রয়েছে, রাসূল (সাঃ) এর সোয়ারীর উপর তাঁর পিছনে যে সাহাবী (রাঃ) উপবিষ্ট ছিলেন তাঁর বর্ণনাটি এইঃ ‘রাসুল (সাঃ) এর উষ্ট্রীটির কিছু পদস্খলন ঘটলে (হোঁচট খেলে) আমি বললাম যে শয়তানের সর্বনাশ হোক।

তখন তিনি বললেন, এরূপ বলোনা, এতে শয়তান গর্বভরে ফুলে উঠে এবং মনে করে যে, যেন সে-ই স্বীয় শক্তির বলে ফেলে দিয়েছে। তবে হাঁ ‘বিসমিল্লাহ’ বলাতে সে মাছির মত লাঞ্ছিত ও হৃতগর্ব হয়ে পরে।’ ইমাম-নাসাঈ (রঃ) স্বীয় কিতাব ‘আমালুল ইয়াওমে ওয়াল লাইলাহ’ এর মধ্যে এবং ইবনে মরদুওয়াই (রঃ) স্বীয় তাফসীরের মধ্যে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং সাহাবীর নাম বলেছেন ওসামা-বিন-ওমায়ের (রাঃ)।
হাদীসে আছে যে ‘বিসমিল্লাহ’ এর দ্বারা কাজ আরম্ভ করা না হয় তা কল্যাণহীন ও বরকত শূন্য থাকে।
হযরত আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসুল (সাঃ) বলেছেন – যে ব্যাক্তি ওযুর সময় বিসমিল্লাহ বলে না তার ওযু হয় না।
রাসূল (সাঃ) হযরত ওমার বিন আবুসালামা (রাঃ) কে বলেনঃ ‘বিসমিল্লাহ বলে খাও, ডান হাতে খাও এবং তোমার সামনের দিক থেকে খেতে থাক।’
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এর অর্থঃ- ‘পরম করুনাময় ও অসীম মেহেরবান আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি।’
ইবনুল মোবারাক বলেন, ‘রহমান’ তাঁকেই বলে যাঁর কাছে চাইলে তিনি দান করেন, আর ‘রাহিম’ তাঁকে বলে যাঁর কাছে না চাইলে তিনি রাগ্বান্বিত হন। জামে’উত তিরমিযীতে আছে যে, আল্লাহতায়ালার নিকট যে ব্যাক্তি চায় না তিনি তার প্রতি রাগ্বান্বিত হন।

স্টিফেন হকিং এর পরকাল তত্ত্ব এবং এই বিষয়ে ইসলাম কি বলে ?? জেনে নিন বিস্তারিত

*** স্টিফেন হকিং এর পরকাল তত্ত্ব এবং এই বিষয়ে ইসলাম কি বলে?

তিনি বলেছেন পরকাল বলতে কিছু নাই।আসুন আমরা এর বিষয়ে নিচে দেখি ইসলাম এটা নিয়ে কি বলে।

আপেক্ষিকতা সূত্রের (Law of Relativity) উদ্গাতা জন আইনস্টাইনের পর অনেকের নিকট বর্তমান বিশ্বের সেরা পদার্থ বিজ্ঞানী ড. স্টিফেন হকিং (জন্ম : লন্ডন, ১৯৪২), যিনি মধ্যাকর্ষণ শক্তির উদ্ভাবক স্যার আইজাক নিউটনের ন্যায় কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘লুকাসিয়ান অধ্যাপক’-এর বিরল সম্মাননায় ভূষিত, তিনি স্বীয় গবেষণা বিষয়বস্ত্ত তথা ফিজিক্স-এর বাইরে গিয়ে মেটাফিজিক্স বা থিওলজি সম্পৃক্ত বিষয় নিয়ে সম্প্রতি এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা তাঁর সুউচ্চ সম্মানকে কালিমালিপ্ত করেছে। বৃটেনের প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ানের সাথে এক সাক্ষাৎকারে ‘পরকাল’ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর পরে আর কোন জীবন নেই। স্বর্গ ও নরক মানুষের অলীক কল্পনা মাত্র’। এর আগেও গত বছর তিনি ‘স্রষ্টার অস্তিত্ব ও মহাবিশ্বের শৃংখলা’ নিয়ে তার বই ‘দি গ্রান্ড ডিজাইনে’ অনেক ঔদ্ধত্যপূর্ণ কটাক্ষ করেন। সেখানে তিনি দাবী করেন যে, মহাবিশ্বের অস্তিত্ব ব্যাখ্যার জন্য ঈশ্বর ধারণার কোন প্রয়োজন নেই। তিনি সৃষ্টিকর্তাকে ‘মানব কল্পিত রূপক’ হিসাবে বর্ণনা করেন। হকিং-এর এসব মন্তব্য স্রেফ কল্পনা নির্ভর হলেও যেহেতু তারা বিজ্ঞানী, অতএব তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন বহু মানুষ। বিশেষ করে দুর্বল বিশ্বাসী, কপট বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী ব্যক্তিগণ এইসব মন্তব্যগুলিকে তাদের পক্ষে বড় দলীল হিসাবে সোৎসাহে পেশ করে থাকেন।

খৃষ্টীয় অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে যথাক্রমে শিল্পবিপ্লব ও বিজ্ঞানের নানামুখী আবিষ্কারে হতচকিত হয়ে সাময়িকভাবে অনেক বিজ্ঞানী বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিলেন এবং তারা বিশ্ব চরাচরের সবকিছুকে ‘প্রকৃতির লীলাখেলা’ মনে করতেন। কিন্তু এখন তাদের অধিকাংশের হুঁশ ফিরেছে এবং হোয়াইট হেড, আর্থার এডিংটন, জেম্স জীন্স (১৮৭৭-১৯৪৬) সহ বিরাট সংখ্যক বিজ্ঞানী স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, Nature is alive ‘প্রকৃতি এক জীবন্ত সত্তা’। কেবল জীবন্ত নয়, বরং ডব্লিউ.এন. সুলিভানের ভাষায় বিজ্ঞানীদের বক্তব্যের সার নির্যাস হল, The ultimate nature of the universe is mental. ‘বিশ্বলোকের চূড়ান্ত প্রকৃতি হল মানসিক’। অর্থাৎ সৌরজগত আপনা-আপনি সৃষ্টি হয়নি বা এটা কোন বিগব্যাং বা মহা বিস্ফোরণের ফসল নয় বা অন্ধ-বোবা-বধির কোন ন্যাচার বা প্রকৃতি নয়, বরং একজন প্রজ্ঞাময় সৃষ্টিকর্তার মহা পরিকল্পনার ফসল। আর তিনিই হচ্ছেন ‘আল্লাহ’। যিনি বিশ্ব প্রকৃতির সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা। যাঁর পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনায় সবকিছু চলছে {দেখুন সূরা ইউনুস, আয়াত ৩১}।

হাঁ, বিগব্যাং যদি হয়ে থাকে, তবে সেটা দুনিয়ার মানুষ বিজ্ঞানীদের বহু পূর্বে নিরক্ষর নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর মুখ দিয়ে শুনেছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন,
‘অবিশ্বাসীরা কি দেখে না যে, আসমানসমূহ ও পৃথিবী (এক সময়) ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিলো, অতঃপর আমিই এদের উভয়কে আলাদা করে দিয়েছি এবং আমি প্রাণবান সব কিছুকেই পানি থেকে সৃষ্টি করেছি, (এসব জানার পরও) কি তারা ঈমান আনবে না?’ {সূরা আল আম্বিয়া, আয়াত ৩০}।

অতঃপর পরকাল কেন? কেন মানুষকে পুনরায় সৃষ্টি করা হবে? আল্লাহ বলেন,
‘… নিশ্চয় তিনিই প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, (মৃত্যুর পর) তিনিই আবার তাকে (তার জীবন) ফিরিয়ে দেবেন, যাতে করে যারা (তাঁর ওপর) ঈমান আনে, ভালো কাজ করে, (যথার্থ) ইনসাফের সাথে তিনি তাদের (কাজের) বিনিময় দান করতে পারেন এবং (এ কথাটাও পরিস্কার করে দিতে পারেন,) যারা (আল্লাহ তায়ালাকে) অস্বীকার করে তাদের জন্যে উত্তপ্ত পানীয় ও কঠিন শাস্তি রয়েছে, কেননা তারা (পরকালের এ শাস্তি) অস্বীকার করতো।’ {সূরা ইউনুস, আয়াত ৪}।

আল্লাহ বলেন,
‘(তিনিই সেই মহান সত্তা) যিনি (গোটা) সৃষ্টি (জগত)-কে প্রথমবার পয়দা করেছেন, অতঃপর (কেয়ামতের দিন) তাকে আবার আবর্তিত করবেন, সৃষ্টির (প্রক্রিয়ায়) সে (কাজ)-টি তাঁর জন্যে খুবই সহজ; (কেননা) আসমানসমূহ ও যমীনে সর্বোচ্চ মর্যাদা তো তাঁর জন্যেই নির্ধারিত এবং তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ {সূরা আর রূম, আয়াত ২৭}।

অদৃশ্য জগতের জ্ঞান বিজ্ঞানীদের নেই। তাই তাদের জ্ঞান অপূর্ণ। সেকারণেই বিজ্ঞানী আইনস্টাইন (১৮৭৯-১৯৫৫) বলেছেন, Religion without science is blind and Science without religion is lame. ‘বিজ্ঞান ব্যতীত ধর্ম অন্ধ এবং ধর্ম ব্যতীত বিজ্ঞান পঙ্গু।’

আজকের হকিংদের ন্যায় সেকালে মক্কার মুশরিক নেতাদের অনেকের ধারণা ছিল যে, মানুষ আপনা-আপনি সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রাকৃতিক নিয়মেই তারা ধ্বংস হবে। যেমন আল্লাহ বলেন,
‘এ (মূর্খ) লোকেরা বলে, আমাদের এ পার্থিব দুনিয়া ছাড়া আর কোনো জীবনই নেই, আমরা (এখানেই) মরি বাঁচি, কালের আবর্তন ছাড়া অন্য কিছু আমাদের ধ্বংসও করেনা। (মূলত) এদের এ ব্যাপারে কোনোই জ্ঞান নেই, এরা শুধু আন্দায অনুমানের ভিত্তিতেই কথা বলে।’ {সূরা আল জাছিয়া, আয়াত ২৪}।

আরব নেতারা বলেছিল, ‘আমরা যখন মরে যাবো এবং আমরা যখন মাটি হয়ে যাবো (তখন পুনরায় আমাদের জীবন দান করা হবে), এ তো সত্যিই এক সুদূরপরাহত ব্যাপার!’ {সূরা ক্বাফ, আয়াত ৩}। এ নিয়ে তারা ঝগড়ায় লিপ্ত ছিল। আল্লাহ বলেন,
‘কোন বিষয় সম্পর্কে তারা একে অপরকে জিজ্ঞেস করছে? (তারা কি) সেই (গুরুত্বপূর্ণ) মহাসংবাদের ব্যাপারেই (একে অপরকে জিজ্ঞেস করছে), যে ব্যাপারে তারা নিজেরাও বিভিন্ন মত পোষণ করে; না, (তা আদৌ ঠিক নয়, সঠিক ঘটনা) এরা তো অচিরেই জানতে পারবে, আবারও (তোমরা শুনে রাখো, কেয়ামত আসবেই এবং) অতি সত্বরই তারা (এ সম্পর্কে জানতে পারবে।’ {সূরা আন নাবা, আয়াত ১-৫}।

কি সে মহা সংবাদ? সেটি হল পুনর্জন্মের সংবাদ। কেননা মানবজীবনে সবচেয়ে বড় সুসংবাদ হল জন্মগ্রহণ করা। আর সবচেয়ে দুঃসংবাদ হল মৃত্যুবরণ করা বা বিলীন হয়ে যাওয়া। এ দুনিয়াতে কেউ মরতে চায় না। কিন্তু যে মানুষের জন্য আসমান-যমীন সবকিছু সৃষ্টি হয়েছে, সেই মানুষ গড়ে একশ বছরের মধ্যেই মরে শেষ হয়ে যাচ্ছে। অথচ ইহজীবনে তার আশা-আকাংখার অনেক কিছুই পূরণ হচ্ছে না। তাই এই অস্থায়ী ও অসম্পূর্ণ জগত থেকে চিরস্থায়ী ও পরিপূর্ণ আরেকটি জগতে হিজরত করতে হয়। যেখানে যালেম তার সমুচিত শাস্তি পাবে এবং মযলূম তার যথাযথ পুরস্কার পেয়ে তৃপ্ত হবে। আর সে জগতটাই হল পরজগত। মৃত্যুর পরেই হবে যার শুরু এবং ক্বিয়ামতের দিন হবে যার পূর্ণতা। আল্লাহ বলেন,
‘তোমরা সে দিনটিকে ভয় করো, যেদিন তোমাদের সবাইকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেয়া হবে, সেদিন প্রত্যেক মানব সন্তানকে (জীবনভর) কামাই করা পাপপুণ্যের পুরোপুরি ফলাফল দিয়ে দেয়া হবে, (কারো ওপর সেদিন) কোনো ধরনের যুলুম করা হবে না।’ {সূরা আল বাক্বারা, আয়াত ২৮১}।

আর এটাই হল জগদ্বাসীর প্রতি আল্লাহর সর্বশেষ নাযিলকৃত আয়াত। অতএব যদি পরকাল বিশ্বাস না থাকত, তাহলে সবল ও দুর্বলের হানাহানিতে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ত। অবিশ্বাসীদের সন্দেহ দূর করার জন্যই আল্লাহ স্বীয় নবীকে মেরাজে নিয়ে জান্নাত-জাহান্নাম স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করিয়েছেন। এরপরেও কি হকিংদের চোখ খুলবে না।

হে বিজ্ঞানী স্টিফেন! কোন সে শক্তি যিনি আপনাকে ১৯৬৩ সাল থেকে বিগত ৪৮ বছর যাবত মাথা ব্যতীত পুরা দেহ প্যারালাইসিসে পঙ্গু করে রেখেছেন? দুনিয়ার সকল চিকিৎসা সুবিধা নাগালের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও কেন আপনি সুস্থ হতে পারছেন না? আপনার বুকের মধ্যের রূহটা কি কখনো দেখতে পেয়েছেন? ওটা কার হুকুমে এসেছে, আর কার হুকুমে চলে যাবে? আপনি কি ১৯৮৬ সালে শিকাগো শহরে আগের বছরের দেয়া তত্ত্বের ভুল স্বীকার করেননি? বিজ্ঞান স্রেফ অনুমিতি নির্ভর বস্ত্ত নয় কি? অথচ ‘আল্লাহর কালাম সত্য ও ন্যায় দ্বারা পরিপূর্ণ..’ {সূরা আল আন’আম, আয়াত ১১৫}। ঐ শুনুন আপনার সৃষ্টিকর্তার বাণী, ‘(হে মানুষ,) নিশ্চয়ই তোমাদের মালিক হচ্ছেন আল্লাহ তায়ালা, যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি ‘আরশে’ সমাসীন হন, তিনি (তার) কাজ (স্বহস্তে) নিয়ন্ত্রণ করেন … {সূরা ইউনুস, আয়াত ৩}।

অতএব তওবা করুন! মুসলিম হয়ে মৃত্যুবরণ করুন!! পরকালে ভাল থাকবেন ইনশাআল্লাহ।

পুরুষ এবং নারী উভয়ের জন্যই পরচুল পরা হারাম..। জেনে নিন বিস্তারিত…।।

প্রশ্ন : একটি হাদিসে দেখলাম পরচুল পরা নিষেধ। কিন্তু যাদের চুলে খোঁপা হয় না, তাঁরা কি পরতে পারবে?

উত্তর : আপনি যে হাদিসের কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি সহিহ। পরচুল তিনি পরে থাকেন তাঁকে রাসুল (সা.) অভিশাপ দিয়েছেন, তাই এটি হারাম। কারো যদি খোঁপা না হয়ে থাকে, তিনি চুল শুধু বেঁধে রাখবেন। চুল খোঁপা করতেই হবে, এটি শর্ত নয়।
চুল খোঁপা হওয়া সৌন্দর্যের বিষয়, কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু যাকে আল্লাহ সুবনাহুতায়ালা সুন্দর করেননি, তিনি কি আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালার ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে থাকবেন? তিনি মনে করবেন আল্লাহ তাঁকে অবশ্যই অন্য দিক থেকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছেন। সব দিক থেকে সৌন্দর্যমণ্ডিত বা সবদিক থেকে সুন্দর এমন কোনো পারফেক্ট মানুষ পৃথিবীতে পাওয়া যাবে না। বরং কোনো না কোনো দিক থেকে কিছু না কিছু ঘাটতি থেকেই যাবে। সুতরাং এই ঘাটতির জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের শুকরিয়া আদায় করা দরকার এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করা দরকার। সামান্য ঘাটতির জন্য আপনি হারাম কাজে লিপ্ত হতে পারেন না।

পুরুষ এবং নারী উভয়ের জন্যই পরচুল পরা হারাম। তবে হাদিসের মধ্যে নারীদের কথা স্পষ্ট এসেছে। একদল ওলামায়ে কেরাম বলেছেন, পুরুষদের ক্ষেত্রেও কিয়াস করা হয়েছে। যেহেতু সৌন্দর্যের জন্য নারীদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সে ক্ষেত্রে নারীদের যেহেতু অনুমোদন দেওয়া হয়নি, সেহেতু পুরুষদের জন্যও এটি অনুমোদিত বিষয় নয়। তবে পুরুষদের জন্য সুস্পষ্ট হাদিস আসেনি।

(উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।)

সালাতুল তাসবীহ পড়ার ফজিলত এবং সালাতুল তাসবিহ নামাজের নিয়ম…!!

——————— সালাতুল তাসবীহ ——————
———————- 👇👇👇————————-

سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ خَمْسَ عَشْرَةَ

উচ্চারনঃ সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার

অর্থঃ আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করিতেছি, এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বুদ নাই, তিনি সর্বশ্রষ্ঠ।

উৎসঃ {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-১২৯৯, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৩৮৭, সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-১২১৬, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৪৬৯৫}

বিস্তারিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) তাঁর চাচা সাইয়্যিদুনা আব্বাস (রা:) কে বলেন, আমি আপনাকে রহমতের কথা বলব? আমি আপনাকে পুরস্কারের কথা বলব? আমি আপনাকে প্রাপ্তির কথা বলব? আমি আপনাকে স্রষ্টার অনুগ্রহের কথা বলব? আমি আপনাকে সৃষ্টিকর্তার দয়া-অনুগ্রহ ও অনুকম্পার কথা বলব? যখন আপনি নামায-টি পড়বেন তখন আল্লাহতা’লা আপনার অতীত ও ভবিষ্যতের, নতুন ও পুরোনো , জানা এবং অজানা, ছোট-বড়, গুপ্ত ও প্রকাশিত সব পাপ মাফ করে দিবেন। তারপর নবীজী (দ:) সালাতুল তাসবীহ পড়ার পুরো ব্যাপারটি দেখিয়ে দিলেন এবং আরো বলেন, যদি পারেন তবে এই নামাজ দিনে একবার পরবেন, নাহলে প্রতি জুমআর দিনে , যদি তাও না পারেন তবে মাস এ একবার, আর তাও না সম্ভব হলে বছর এ একবার, আর এটাও যদি সম্ভব না হয় তবে পুরো জীবদ্দশায় একবার।

***কিভাবে সালাতুল তাসবীহ পড়তে হয়?***

>>জাওয়াল, সুর্যাস্ত, সূর্যোদয়, নামায এর জন্য নিষিদ্ধ ও মাকরুহ সময় বাদে দিন অথবা রাতের যেকোন সময় একবারে চার রাকাত এ এই নামায আদায় করতে হয়।

>>সালাতুল তাসবীহ তে যে তাসবীহ পড়তে হবেঃ
“সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার”

>>বিস্তারিত নিয়মঃ
নিম্নোক্ত উপায়ে পুরো চার রাকাত এ মোট ৩০০ বার উপর্যুক্ত তাসবীহ পড়তে হবে>

1. ১ম রাকাত এ সানা পড়ার পরে তাসবীহ টি ১৫ বার পড়তে হবে
2. তারপর স্বাভাবিক নিয়মে সুরা ফাতিহা ও অন্য আরেকটি সুরা অথবা অন্তত তিন আয়াত পড়ার পরে তাসবীহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।
3. এরপর রুকুতে গিয়ে রুকুর তাসবীহ পরার পরে তাসবীহ টি ১০ বার পড়তে হবে
4. এরপর কিয়াম এ গিয়ে”রাব্বানা লাকাল হামদ”পড়ার পরে তাসবীহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।
5. এরপর সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবীহ পরে তাসবীহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।
6. প্রথম সিজদা থেকে বসে তাসবীহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।
7. এরপর আবার সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবীহ পরে তাসবীহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।
8. তারপর একই ভাবে ২য় রাকাত পড়তে হবে, কিন্তু ২য় রাকাত এ সুরা ফাতিহা পড়ার আগে তাসবীহ টি ১৫ বার পড়তে হবে ।
9. অতপর ২য় রাকাত এর ২য় সিজদার পর”আত্তহিয়্যাতু পড়ার পরে সালাম না ফিরিয়ে , ১ম রাকাত এর মতো ৩য় রাকাত শুরু করতে হবে (তাসবীহ টি ১৫ বার পড়ে স্বাভাবিক নিয়মে সুরা ফাতিহা ও অন্য আরেকটি সুরা পড়তে হবে) একই প্রক্রিয়া পরবর্তী ২রাকাত শেষ করতে হবে।

সিদ্ধার্থ এবং রাকুল প্রীত এর ভিডিও ভাইরাল …..।।

সম্প্রতি সিদ্ধার্থ মালহোত্রা রাকুল প্রীতের সাথে তাদের ছবির সম্প্রচারের জন্য দিল্লি পৌঁছেছিলেন। এখানে তাঁরা তাদের ছবির “লে ডুবা” গানে পারফর্ম করছিলেন।

তখন সিদ্ধার্থ রাকুল প্রীত সিংকে কোলে তুলে নেন। এই কারণে রাকুল প্রীত অস্বস্তি বোধ করেন। তিনি এমন পোষাক পড়েছিলেন যার মধ্যে তাঁকে কোলে তোলা উচিত ছিল না।

এই ইভেন্টের ভিডিও আইয়ারির অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা হয়েছে। ভিডিওতে সিদ্ধার্থ মালহোত্রা এবং রাকুল প্রীতকে “লে ডুবা” গানে পারফর্ম করতে দেখা যাচ্ছে।

কিন্তু ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে সিদ্ধার্থ রাকুলকে কোলে তোলার পর তাঁর জামা ওপর দিকে উঠে যায়। এরপর তিনি তাঁর কাপড় ঠিক করতে থাকেন।

রাকুল ভালোভাবে বিষয়টিকে পরিচালনা করেছেন। তিনি পুরো ইভেন্টে হাঁসতে থাকেন এবং কাউকে এই ঘটনার সম্পর্কে জানতে দেননি।

দেখুন ভিডিও