তিন শ্রেণীর নারীকে বিয়ে করলে সংসারে আল্লাহর গজব নেমে আসবে …জেনে নিন বিস্তারিত !!

এই তিন শ্রেণীর নারীকে বিয়ে করলে – ইসলামে তিন শ্রেনীর নারীদেরকে বিয়ে করতে মানা রয়েছে। যদি কেউ তা অমান্য করে তাহলে তাদের সংসারে আল্লাহ তায়ালা গজব নেমে আসবে।

যথাঃ

১) রক্ত সম্পর্কের কারনে হারাম, এই সম্পর্কের ৭ জন রয়েছে। (মা, কন্যা, বোন, ভাতিজী, ভাগিনী, খালা এবং ফুফু)।

২) দুগ্ধ সম্পর্ক বা দূধ পান করার কারনে হারাম, এই সম্পর্কেরও ৭ জন রয়েছে। (দূধ মা, দূধ কন্যা, দূধ বোন, দূধ ভাতিজী, দূধ ভাগিনী, দূধ খালা এবং দূধ ফুফু)।

৩) বৈবাহিক সম্পর্কের কারনে হারাম: সৎ মা, পুত্র বধু বা পৌত্র বধু (নাতির বউ), শ্বাশুড়ী, দাদি শ্বাশুড়ী বা নানী শ্বাশুড়ী এবং স্ত্রীর অন্য পক্ষের কন্যাসমূহ।

আরও দেখুনঃ
আয়াতুল কুরসির ফজিলত

Apr 4, 2018
এক সাহাবা এক মহিলার গোসল করার দৃশ্য দেখায় যা হয়ে ছিল তার…

Apr 2, 2018
অনুরুপভাবে, স্ত্রী ও তার বোন, স্ত্রী ও তার ফুফু, স্ত্রী ও তার খালাকে একত্রে বিবাহ করে একত্রে স্ত্রী হিসাবে রাখা হারাম।

মহান আল্লাহ বলেছেন, “যে নারীকে তোমাদের পিতা-পিতামহ বিবাহ করেছে তোমরা তাদের বিবাহ করো না।

কিন্তু যা বিগত হয়ে গেছে। এটা অশ্লীল, গযবের কাজ এবং নিকৃষ্ট আচরণ। তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, তোমাদের কন্যা, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভ্রাতৃকণ্যা; ভগিনীকণ্যা তোমাদের সে মাতা, যারা তোমাদেরকে স্তন্যপান করিয়েছে, তোমাদের দুধ-বোন,

তোমাদের স্ত্রীদের মাতা, তোমরা যাদের সাথে সহবাস করেছ সে স্ত্রীদের কন্যা যারা তোমাদের লালন-পালনে আছে। যদি তাদের সাথে সহবাস না করে থাক, তবে এ বিবাহে তোমাদের কোন গোনাহ নেই।

তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা; কিন্তু যা অতীত হয়ে গেছে।

নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকরী, দয়ালু।” (সূরা নিসাঃ আয়াতঃ ৪:২২-২৩ এবং ইমাম বুখারী সংগৃহিত হাদিসঃ ২৬৪৫, ৫১০৯)।

আল্লাহর ঘর কাবা শরিফের ইতিকথা জেনে নিন !!

বিশ্ব মুসলিমের সম্মিলনস্থল।কাবা আল্লাহর ঘর।

এ স্থানে প্রতিবছর সমগ্র বিশ্বের মুসলমানগণ আল্লাহর নির্দেশ পালনে একত্রিত হয়। গড়ে তোলে আত্মার বন্ধন। কিন্তু আমরা কী জানি এ কাবা নির্মাণের ইতিকথা? সংক্ষেপে কাবা নির্মাণের ইতিকথা তুলে ধরা হলো-

>> আল্লামা বাগভি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, আল্লাহ তাআলা জমিন সৃষ্টির দুই হাজার বছর পূর্বে কাবা শরিফের স্থান সৃষ্টি করেছিলেন। এ স্থানটি ছিলো একটি সাদা ফেনা, যা পানি রাশির ওপর স্থির হয়েছিল। তার নীচে জমিন বিস্তার লাভ করে।

আল্লাহ তাআলা যখন হজরত আদম আলাইহিস সালামকে জমিনে পাঠিয়ে দেন, তখন তিনি অত্যন্ত ভীত হয়ে আশ্রয় লাভের জন্য তাঁর নিকট আরজি পেশ করেন। তখন আল্লাহ তাআলা জান্নাত থেকে ইয়াকুতের তৈরি বাইতুল মামুর অবতীর্ণ করে বর্তমান কাবা ঘরের স্থানে স্থাপন করেন। ইয়াকুত পাথরে নির্মিত বাইতুল মামুরের দুটি দরজা ছিল জমরূদের তৈরি। যার একটি ছিল পূর্ব দিকে অপরটি পশ্চিম দিকে।

অতপর আল্লাহ তাআলা হজরত আদম আলাইহিস সালামকে নির্দেশ দিলেন, ‘হে আদম! আমি তোমার জন্য একটি ঘর অবতীর্ণ করেছি। ঘরটিতে তুমি এমনভাবে তাওয়াফ কর যেমনিভাবে আরশের চারিদিকে তাওয়াফ করতে এবং এর নিকট এমনভাবে নামাজ আদায় কর যেভাবে আরশের নিকট নামাজ আদায় করতে।

হজরত আদম আলাইহিস সালাম আল্লাহর হুকুম শুনে হিন্দুস্থান থেকে পায়ে হেঁটে মক্কা মুয়াজ্জামায় পৌঁছলেন। তাঁকে কা’বা শরিফের রাস্তা দেখাতে আল্লাহ তাআলা একজন ফেরেশতা নিয়োগ করেছিলেন। হজরত আদম আলাইহিস সালাম মক্কায় পৌঁছেই হজ সম্পাদন করেন। হজ পালন করার পর একজন ফেরেশতা ঘোষণা করেছিলেন, ‘হে আদম! আপনার হজ কবুল হয়েছে। আর আমরা আপনার দু’হাজার বছর পূর্বে এ ঘরে হজ সম্পাদন করেছি। (তাফসিরে মাজহারি)

>> হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, হজরত আদম আলাইহিস সালাম ৪০ বার হজ করেছেন। হজরত নুহ আলাইহিস সালামের যুগের মহাপ্লাবনের পূর্ব পর্যন্ত বাইতুল মামুর দুনিয়াতেই ছিল। এরপর আল্লাহ তাআলা বাইতুল মামুরকে আসমানে উঠিয়ে নেন।

>> পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে কা’বা ঘর পুনঃনির্মাণের নির্দেশ প্রদান করেন। বর্ণনায় এসেছে, একটি মেঘখণ্ড বাইতুল্লাহ শরিফের স্থানে ছায়া ফেলে, যা দেখে দেখে হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম সে ছায়ার পরিমাপ মোতাবেক বর্তমান পবিত্র বাইতুল্লাহ নির্মাণ করেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পবিত্র বাইতুল্লাহ যিয়ারাতের তাওফিক দান করুন। আমিন।