প্রথম ইনিংসে শেষপর্যন্ত ৫১৩ করল বাংলাদেশ…।

দ্বিতীয় দিনে শুরুটা ভালো হয়নি টাইগারদের। দিনের শুরুতেই হারিয়েছে তিনটি উইকেট। তবে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর লড়াকু ব্যাটিংয়ে ভর করে বাংলাদেশ পার করেছে ৫০০ রানের কোটা। শেষপর্যন্ত স্কোরবোর্ডে ৫১৩ রান জমা করে প্রথম ইনিংস শেষ করেছে টাইগাররা। ৮৩ রান করে শেষপর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন মাহমুদউল্লাহ।

চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনের প্রায় পুরোটা সময়ই দাপট দেখিযেছিলেন মুমিনুল হক। ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং করে তুলে নিয়েছিলেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম টেস্ট শতক। অপরাজিত ছিলেন ১৭৫ রানে।

দ্বিতীয় দিনের শুরুটা করেছিলেন দ্বিশতকের স্বপ্ন চোখে নিয়ে। তবে শেষ পর্যন্ত তেমনটা হলো না। দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই সাজঘরে ফিরতে হয়েছে মুমিনুলকে। প্রথম দিনের সঙ্গে তিনি যোগ করতে পেরেছেন মাত্র ১ রান। খুব বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি মোসাদ্দেক হোসেন। ফিরে গেছেন মাত্র ৮ রান করে।

২০ রানের ইনিংস খেলে দুর্ভাগ্যবশত রানআউটের ফাঁদে পড়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অষ্টম উইকেটে ৫৮ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে দিয়েছিরেন মাহমুদউল্লাহ ও সানজামুল ইসলাম। শেষ উইকেট জুটিতে মুস্তাফিজুর রহমানকে সঙ্গে নিয়েও ৩৫ রান যোগ করেছেন মাহমুদউল্লাহ।

আয়াতুল কুরসি লেখা কাগজ ঘরে ঝুলিয়ে রাখা যাবে কি ?

পবিত্র কোরআনের ১১৪টি সূরার ৬৬৬৬টি আয়াতের সবই ফজিলতপূর্ণ। প্রত্যেকটি আয়াতের রয়েছে আলাদা আলাদা তাৎপর্য ও রহস্য। তার পরও সূরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতটিকে কোরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত বলা হয়। আয়াতটি সমাজে আয়াতুল কুরসি নামে বেশি পরিচিত।

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজ শেষে আয়াতুল কুরসি পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাঁধা থাকে না। -নাসাই শরিফ

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সূরা বাকারায় একটি শ্রেষ্ঠ আয়াত রয়েছে, সেটি হলো আয়াতুল কুরসি। যে ঘরে এটি পাঠ করা হবে সেখান থেকে শয়তান পালাতে থাকে। -মুসতাদরাকে হাকিম

আয়াতুল কুরসির এমন ফজিলতের কথা ভেবে অনেকেই ঘরে আয়াতুল কুরসির লিখিত কাগজ বাঁধাই করে ঝুলিয়ে রাখেন। অনেকে এটাকে খুব গুরুত্বও দেন। কিন্তু এভাবে ঘরে আয়াতুল কুরসি লিখিত কাগজ বাঁধাই করে রাখার আলাদা কোনো উপকারিতা, সুফল কিংবা ফজিলত নেই।

ইসলামি স্কলারদের অভিমত হলো, আয়াতুল কুরসি কোরআনে কারিমের একটি আয়াত বৈ অন্য কিছু নয়। কোরআনে কারিমে এ ছাড়া আরও আয়াত রয়েছে। মুসলমানের ঘরে ঘরে রয়েছে কোরআন। মনে রাখবে, কোরআন ঘরে রাখার মাঝে আলাদা কোনো ফজিলত নেই। ঘরে রাখা কোরআনে কারিম তেলাওয়াত করলেই কেবল ঘরে কোরআন রাখা স্বার্থক হবে। কোরআন তেলাওয়াত না করে কোথাও কোরআনের আয়াত লিখে তা ঝুলিয়ে রাখার কথা বলা হয়নি।

যেহেতু ঘরে কোরআন রয়েছে, তাহলে আবার আয়াতুল কুরসি লিখে বিশেষভাবে ঝুলিয়ে রাখা কেন? এটা আসলে দৃষ্টিভঙ্গিগত বিষয়। এমন কাজ শুদ্ধ নয়, সঠিক কাজ নয়।

আর যদি কোনো ধরনের প্রভাব থেকে ঘরকে মুক্ত রাখার নিয়তে এমন কাজ করতে হয়, সেক্ষেত্রে উত্তম হলো- কোরআনে কারিমের এই আয়াত তেলাওয়াত করা। আয়াতুল কুরসি বেশি বেশি করার অনেক ফজিলত।

যদি নিরাপত্তার জন্য এবং কোনো ধরনের প্রভাব থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার জন্য এ আয়াত তেলাওয়াত করতে হয়, তা যথাসম্ভব উচ্চআওয়াজে তেলাওয়াত করা। এভাবে কোরআন তেলাওয়াত করে ফায়দা নেওয়া। তেলাওয়াত না করে তা শুধু লিখে রাখার আলাদা কোনো ফজিলত নেই।

কোরআন তেলাওয়াত না করলে, কোরআনের বিধান না মানলে শুধু আয়াতুল কুরসি কেন- পুরো কোরআন লিখে ঝুলিয়ে রাখলেও এর মাধ্যমে কোনো সওয়াব হবে না। এমন কাজ সমাজের মানুষে আবেগের বশে করে থাকে।

আল্লাহর কালাম তো অবতীর্ণ হয়েছে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে। এর কাজ কী হবে, এর হক কী হবে- এগুলো স্পষ্ট করে আল্লাহতায়ালা জানিয়ে দিয়েছেন। সেগুলো না করে কোরআন কিংবা কোরআনের আয়াতের এমন ব্যবহার মূলত কোরআনে কারিমকে অবমাননা ছাড়া আর কিছুই নয়। এ কাজ থেকে সবার বিরত থাকা আবশ্যক।

আজ থেকে শুরু হল এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা।

এবারের এসএসসিতে ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। প্রায় সাড়ে তিন হাজার কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রশ্ন ফাঁস হওয়া আটকাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের সাড়ে ৯টার মধ্যে কেন্দ্রে হাজির হয়ে যার যার আসনে বসতে হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রথম দিনের পরীক্ষা শুরু হয়।

প্রথম দিন এসএসসিতে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথমপত্র, সহজ বাংলা প্রথমপত্র এবং বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংষ্কৃতি বিষয়ের পরীক্ষা চলছে।

এছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে কুরআন মাজিদ ও তাজবিদ এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে এসএসসি ভোকেশনালে বাংলা-২ (১৯২১) বিষয়ের পরীক্ষা দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

এসএসসি ও সমামানের পরীক্ষায় গতবছর পরীক্ষার্থী ছিল ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৩ জন। আর এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৮৯ জন শিক্ষার্থী। সেই হিসেবে এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে দুই লাখ ৪৫ হাজার ২৮৬ জন।

সুন্নাতে খাৎনা উপলক্ষে অনুষ্ঠান করা যাবে কি ?? ইসলাম কি বলে ??

সুন্নাতে খাৎনা উপলক্ষে অনুষ্ঠান করার বিধান —
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আমাদের সমাজে তো আজকাল খাৎনা উপলক্ষে বিশাল বিশাল অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। আত্মীয়-স্বজনসহ সকলকে দাওয়াত দেয়া হয় সাথে সাথে কার্ড ছাপানো হয় আর যারা ধনী আছে তারা তো এই অনুষ্ঠানে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে থাকে। এই বিষয়ে ইসলাম কী বলে?

খাৎনার অনুষ্ঠান করা যাবে না এবং এর দাওয়াতও খাওয়া যাবে না। কারণ এগুলো কুসংস্কার, যা সমাজ থেকে তুলে দেয়া যরূরী। খাৎনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত এবং ইসলামী নিদর্শন সমূহের অন্যতম। যা সন্তানের অভিভাবককে পালন করতে হবে। যেখানে কোন প্রচার থাকবে না বা কোন অনুষ্ঠান থাকবে না। রাসূল ও ছাহাবীগণ এর জন্য কোন অনুষ্ঠান করেননি।

খাৎনা উপলক্ষে লোকদের দাওয়াত করে খাওয়ানো হচ্ছে বিদআত। হযরত উসমানকে (রা) জনৈক ব্যক্তি খাৎনার দাওয়াত দিলে তিনি সেখানে যেতে অস্বীকার করেন এবং বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) -এর যুগে এ ধরণের কোনো অনুষ্ঠানের অস্তিত্ব ছিলো না। [ইমদাদুল মুফতীন ১২১]

ডাকাতের লুকে ‘চকোলেট বয়’ সুশান্ত সিং রাজপুত…।

হঠাৎ হলটা কী? চেহারায় একে‌বারে যেন চম্বলের ডাকাত! এমন অবতারে, কী করছেন অভিনেতা?

ইতিমধ্যেই আর একটি ছবির কাজ নিয়ে ভাবনা শুরু করে ফেলেছেন সুশান্ত। আর সেই ছবির জন্যই নিজের ‘চকোলেট বয়’ লুক ঝেড়ে ফেলে একেবারে অন্য চেহারায় ধরা দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার টুইটারে শেয়ার করেছেন এই ছবি। ক্যাপশনে প্রায় কিছুই লেখেননি নায়ক। শুধুই লেখা ‘সোনচিড়িয়া’।

‘সোনচিড়িয়া’ হল সুশান্তের আসন্ন ছবির নাম। পরিচালক অভিষেক চৌবে। ‘কমিনে’, ‘ইশকিয়া’, ‘উড়তা পঞ্জাব’-এর মতো ছবির পরিচালনা করেছেন অভিষেক। এবার তার নতুন প্রোজেক্ট ‘সোনচিড়িয়া’। সুশান্তের বিপরীতে দেখা যাবে ভূমি পেডনেকরকে।

কখন কখন নামাজ পড়া জায়েজ নেই জানেন কি ??

দ্বিপ্রহরের সময় সূর্য ঠিক মাথার ওপর থাকলে, সূর্যোদয়ের সময় এবং সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় যেকোনো নামাজ আদায় করা কিংবা তিলাওয়াতে সিজদা দেয়া একেবারে নিষিদ্ধ বা হারাম।

ফজরের ওয়াক্তে নামাজ আদায়ের পর সূর্য উদয় না হওয়া পর্যন্ত যেকোনো নামাজ আদায় করা নিষেধ অর্থাৎ জায়েজ নেই। আসর নামাজের পর মাগরিব নামাজের আগে যেকোনো নফল নামাজ আদায় করা জায়েজ নেই।

আর শুক্রবার জুমার ওয়াক্তে ইমাম খুৎবা আরম্ভ করলে যেকোনো নামাজ আদায় করা জায়েজ নেই।

তবে ফজরের ওয়াক্তের সুন্নাত নামাজ কাজা হয়ে থাকলে অন্যত্র সরে গিয়ে তা আদায় করা জায়েজ আছে। ফজরের সুন্নত নামাজ ও ফরজ নামাজের মধ্যবর্তী সময় যেকোনো নামাজ আদায় করা জায়েজ নেই।

আসরের নামাজের নিয়ত করে তিন রাকায়াত নামাজ আদায়ের পর সূর্য অস্ত গেলেও চতুর্থ রাকায়াত আদায় করতে হবে। তবে মাকরূহের সাথে আদায় হবে।

“একটি শিক্ষানীয় গল্প”

মসজিদে জুতা চুরি করে এক চোর।
কিন্তু একদিন সে ঘোষনা শোনলো
যে তাকবীর ওয়ালার সাথে ৪০ দিন
৫ ওয়াক্ত নামাজ আল্লাহর খুশির জন্য
মনোযোগ দিয়ে পড়বে তার কাছে
বাদশা তার একমাএ মেয়ে বিয়ে দিবে।
তাই, জুতা চোর, জুতা চুরি বাদ দিয়ে
এখন প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ সুন্দর
করে আদায় শুরু করে। এ ভাবে
চলতে চলতে বাদশা ৩৯ দিন খবর নিয়ে
জানতে পারলো জুতা চোর যুবকটিই
একটানা ৩৯ দিন এক টানা ৫ ওয়াক্ত নামাজ
সময়মত আদায় করেছে। তাই বাদশা
আগামিকাল এসে তাকে রাজ দরবারে এসে,
বাদশার মেয়েকে বিয়ে করতে বলে।
কিন্তু, যুবকের ৪০ দিন, ৪১, ৪২ দিন যায়
কিন্তু সে আর আসেনা। বাদশা তালাশ
করতে করতে যুবককে খুজে বলতে
লাগলো – “তোমাকে জোর করে বিয়ে
করতে বলছিনা, কেন আসলেনা তুমি ‘
‘ যুবক বলতে লাগলো : “ও, বাদশা :
আপনি জানেননা ! আমি ভাল
মানুষ নই, জুতা চোর! বাদশা বলে :তবুও
আমি তোমার কাছেই মেয়ে বিয়ে দিব!
এবার, যুবকের চোখ হতে পানি টপ টপ
করে পড়ছে। সে বলতে শুরু করে :৪০ দিনের
দিনও আমি রাজকুমারি আর রাজ্য হাসিল
করার স্বপ্ন দেখছি কিন্তু বাদশা, ৪০ তম
দিনের শেষ নামাজের শেষ রাকাতের
শেষ সেজদায় আমি যেন জান্নাতের প্রশান্তি
পেতে শুরু করলাম।আমার হৃদয় প্রশান্তিতে
ভরে গেছে, জীবনের সব খুশি ভুলে গেলাম।
আমার দয়াময় আল্লাহ যেন ভালবাসা
ভরে দিয়েছে।। আমার হৃদয় পাল্টিয়ে গেছে।
আজ আমি নারী চাই না, রাজ্য চাইনা,
চাই শুধু নামাজের সেজদার সেই জান্নাতি প্রশান্তি……..”

ঠিক তেমনি মহান আল্লাহ তায়ালার রাজি খুশি
উদ্যেশে যদি আমরা নামায, রোজা, হজ্জ,
যাকাত আদাই করি, তাহলে আল্লাহ আমাদের
অনেক এরকম অজানা নেয়ামত দান করবেন

★মহান আল্লাহ আমাকে এবং সবাইকে পাচ
ওয়াক্ত নামাজ সহীহ ভাবে আদায় করার
তৌফিক দান করুন।
……আমিন।

ফরাসি লিগ কাপের ফাইনালে নেইমারের পিএসজি।

মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে সেমি-ফাইনালে লিগ ওয়ানে অষ্টম স্থানে থাকা রেনকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে পিএসজি।

প্রতিপক্ষের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকে বল দখলে রেখে খেলার প্রচেষ্টায় সফল হলেও আক্রমণে ঠিক সুবিধা করতে পারছিল না পিএসজি। এরই মাঝে ২৪তম মিনিটে দারুণ একক নৈপুণ্যে দলকে এগিয়ে দেন ফরাসি ডিফেন্ডার মুনিয়ে।

ফরাসি এই ডিফেন্ডার ডান দিক থেকে এক জনকে কাটিয়ে আরেক জনকে কাটাতে গেলে বল তার পায়ে লেগে উপরে উঠে যায়। দারুণ ক্ষিপ্রতায় ভলিতে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি।

৫৩তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে ভেরাত্তির দারুণ ক্রস নেইমার বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সামনে দি মারিয়াকে বাড়ান। আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডারের জোরালো শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক; কিন্তু বিপদমুক্ত করতে পারেননি। ছয় গজ বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে অনায়াসে লক্ষ্যভেদ করেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মার্কিনিয়োস।

৫৮তম মিনিটে আর ডি-বক্সে দি মারিয়ার ছোট পাস ধরে একটু এগিয়ে কোনাকুনি শটে পিএসজির জার্সিতে প্রথম গোল করেন আরেক আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লো সেলসো। বল গোলরক্ষকের পায়ে লেগে জালে জড়ায়। ৬৪তম মিনিটে বড় একটা ধাক্কা খায় অতিথিরা। এক খেলোয়াড়কে পিছন থেকে মারাত্মক ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন এই ম্যাচ দিয়েই চোট কাটিয়ে ফেরা ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে।

৮৫তম মিনিটে ব্যবধান কমান দুদিন আগে দলে যোগ দেয়া সেনেগালের ফরোয়ার্ড দিয়াফ্রা সাকো। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বসনিয়ার মিডফিল্ডার পেরিসিচ ব্যবধান ২-৩ করে ফেলেন। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি রেনের। অবশেষে জয়ের হাসি নিয়েই মাঠ ছাড়ে পিএসজি।

বলুন এটাই শেষ সিগারেট/ যেভাবে সিগারেট ছাড়বেন…!!

ধূমপান বর্তমান যুগের বড় সমস্যার একটি। ধূমপানের ফলে সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সমাজে বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি দেখা দিচ্ছে। ধূমপায়ীরা ধীরে ধীরে রোগাক্রান্ত হচ্ছে। ধূমপান তাদের অন্তর দুর্বল ও শক্তি ক্ষয় করে দিচ্ছে। ধূমপান “নীরব ঘাতক” এ ব্যাপারে এখন কারো দ্বিমত নেই। যারা মৃত্যুশ্বাস ধূমপান গ্রহণ করেন তাদের অবশ্যই নীরব ঘাতক ধূমপান বা তামাক সম্পর্কে জানা প্রয়োজন, কারণ ধূমপান তাদেরকে ধীরে ধীরে কবরে নিয়ে যাচ্ছে বা রোগা-শোকা দুঃসহ ও অভিশপ্ত জীবন বয়ে আনছে তাদের জন্য। অধূমপায়ীদের জন্য শুভ বার্তা যে, আল্লাহ তাদেরকে ধূমপানের বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন। তারা ধূমপান জনিত ধ্বংসের গহ্বর থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি, তিনি আমার এ লেখা থেকে উপকৃত হওয়ার তাওফিক দিন এবং ধূমপানের অনিষ্ট থেকে মুসলিম সমাজকে রক্ষা করুন।

ধূমপানের ইতিহাস:
ইউরোপীয়রা ১৪৯২ইং সালে তামাক সম্পর্কে প্রথম ধারণা লাভ করে, যখন কলম্বাস তার বাহিনীসহ আমেরিকায় অবতরণ করেন। আমেরিকান আদিবাসী তথা “রেড ইন্ডিয়ান”রা তাদের ভূমিতে তামাক চাষ করত ও তা জ্বালিয়ে ধোঁয়া গ্রহণ করত। তাদের থেকে কলম্বাস ও তার সাথীরা তামাকের প্রথম ধারণা লাভ করেন। খ্রিষ্টীয় ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে ইউরোপে তামাক চাষের সূচনা হয়। প্রথমে ফ্রান্স, অতঃপর পর্তুগাল, স্পেন এবং সর্বশেষ বৃটেন ক্রমানুসারে তামাক চাষ করে। ইউরোপ থেকে পর্তুগাল ও স্পেনের ব্যবসায়ীগণ আফ্রিকা ও ভারত উপমহাদেশে তামাক রফতানি করেন।

মুসলিম দেশে ধূমপানের প্রবেশ:
খ্রিষ্ট সপ্তদশ শতাব্দীতে ভারত, ইরান ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তামাক আমদানি হয়। অতঃপর হিজরি দশম শতাব্দীতে তুর্কীদের দ্বারা আরব ও অন্যান্য মুসলিম দেশে তামাকের প্রবেশ ঘটে।

মুসলিম দেশে ধূমপান আমদানিকারক:
হিজরি দশম শতাব্দীর আগে ধূমপান সম্পর্কে মুসলিমদের কোন ধারণা ছিল না। পরবর্তীতে ইসলামের শত্রুরা মুসলিম দেশে তামাকের প্রচলন শুরু করার জন্য আদাজল খেয়ে মাঠে নামে। জনৈক খৃস্টান ইংরেজ তুরস্কে সর্বপ্রথম ধূমপান নিয়ে আসে। জনৈক ইহুদি মরক্কোতে সর্বপ্রথম ধূমপানের প্রচলন ঘটায়। সুদানে সর্বপ্রথম ধূমপানের প্রচলন করে জনৈক অগ্নিপূজক। অতঃপর মিসর, আরব উপদ্বীপ, ইয়ামান, হিন্দুস্তান ও অধিকাংশ মুসলিম দেশে তার প্রসার ঘটতে থাকে এবং ধীরে ধীরে এ ব্যাধি ব্যাপক আকার ধারণ করে। ১৮৮১ইং সনে আমেরিকায় সর্বপ্রথম সিগারেটের কারখানা তৈরি হয়।
হে মুসলিম, তুমি কখনো শত্রুদের শিকারে পরিণত হয়ো না!

ধূমপানের বিরুদ্ধে গোটা বিশ্বের যুদ্ধ ঘোষণা:
গোটা বিশ্ব আজ তামাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। কতক দেশ তামাকের বিরুদ্ধে কঠিন অবস্থান নিয়েছে, যে তামাকের সূচনা আমেরিকা থেকে। রাশিয়া তামাক বিক্রেতা ও ক্রেতার ওপর কঠিন শাস্তি নির্ধারণ করেছিল। তাদের নিকট ধূমপায়ীর শাস্তি ছিল নাক ভেঙ্গে দেয়া অথবা সাইবেরিয়ায় নির্বাসনে পাঠানো।
উসমানী বাদশাহ চতুর্থ মুরাদ ধূমপায়ীদের ওপর কঠোরতা করতেন ও তাদের সভা-সমাবেশ নজরদারিতে রাখতেন। তার নিকট ধূমপায়ীর শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড। কথিত আছে ইরানের সাথে তার যুদ্ধের সময় ধূমপায়ীদের তিনি হত্যা করতেন, ধূমপায়ী তার সৈন্য পক্ষ বা পারস্যের দলভুক্ত যেই হত।
১৬২৯ইং সনে বাদশাহ “প্রথম আব্বাস” এর যুগে ধূমপায়ীর শাস্তি ছিল নাক ছিদ্র করা ও মুখে লাঠি ভরে দেয়া। পরবর্তীতে তার ছেলে বাদশাহ “সাফি” ধূমপায়ীদের মুখে তীর নিক্ষেপ করতেন।

ধূমপানে মজুদ বিষাক্ত উপাদান:
১. নিকোটিন: পর্তুগালে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত “জন নিকোট” এর নাম থেকে নিকোটিন শব্দের উদ্ভব। সে-ই ফ্রান্সে ধূমপানের প্রথম প্রচলন করেছিল।
নিকোটিন বর্ণহীন তরল পদার্থ, যা সিগারেট জ্বালানোর সময় বাতাসে বাদামি রং ধারণ করে। ধূমপায়ী যখন সিগারেটে টান দেয় অতঃপর বাইরে ধোঁয়া ত্যাগ করে, তখন নিকোটিনের খুব সামান্য বা সূক্ষ্ম অংশ ফুসফুসে প্রবেশ করে। যদি কোনো মানুষের শিরায় নির্দিষ্ট পরিমাণ নিকোটিন প্রবেশ করানো হয়, তাহলে তার ক্রিয়ায় মৃত্যু অনিবার্য। বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষার নিমিত্তে জীবিত খরগোশের গায়ে নিকোটিনের উপাদান পুশ করে দেখেছেন যে, নিকোটিনের প্রভাবে খরগোশটি অবশ হয়ে পড়ল এবং কিছুক্ষণের মধ্যে মারা গেল।
নাকের নিশ্বাস থেকে ফুসফুসে এবং সেখান থেকে রক্তের শিরায় শিরায় নিকোটিন প্রবেশ করে। ধূমপান আরম্ভের আট সেকেন্ডের মধ্যে মস্তিষ্কে নিকোটিন প্রবেশ করে ও গভীরভাবে আঘাত হানে।
২- কার্বন মনো অক্সাইড: ধূমপানে মজুদ দ্বিতীয় বিষাক্ত উপাদান কার্বন মনো অক্সাইড। এ বিষ ক্রমাগত শরীরে প্রবেশ করে দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্ণতার সৃষ্টি করে, যার ফলে মানসিক ক্লান্তি, মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা ও শ্বাসকষ্টের জন্ম হয়। এ গ্যাস এমন ঘাতক যে, কোনো ব্যক্তি যদি দীর্ঘ সময় বায়ুহীন আবদ্ধ ঘরে তা গ্রহণ করে, তাহলে তার মৃত্যু অনিবার্য অথবা তার মস্তিষ্ক স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিশ্চিত। রক্তে কার্বন মনো অক্সাইডের উপস্থিতি থাকলে মস্তিষ্ক ও হার্টে অক্সিজেন পৌঁছতে বাধার সম্মুখীন হয়।
৩- অ্যামোনিয়া: ধূমপানে মজুদ এ উপাদান ধূমপায়ীর মধ্যে কাশির রোগ সৃষ্টি করে।
৪- ক্যান্সারের উপাদান: ধূমপানে ক্যান্সারের উপাদান রয়েছে বিধায় ধূমপায়ীরা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় ও তাদের মধ্যে ক্ষয়রোগ দেখা দেয়।
৫- বেনজিন: এক প্রকার জৈবযৌগ যা মুখের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী, গলনালি ও শ্বাসনালীর ওপর পর্দার সৃষ্টি করে। এ কারণে ধূমপায়ীদের মধ্যে ফুসফুস ফোলা ও ফুসফুসে ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এ থেকে শ্বাসকষ্ট রোগ হয়, যা ধীরে ধীরে ধূমপায়ীকে চলার অযোগ্য করে দেয়। যার পরিসমাপ্তি ঘটে হার্টের নিষ্ক্রিয়তা ও ধূমপায়ীর মৃত্যুর মাধ্যমে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ধূমপানের অনিষ্ট:
সুস্থতা মানুষের জীবনে অমূল্য সম্পদ। সুস্থতাই মানুষের ব্যক্তি জীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক জীবনে সফলতার স্বাক্ষর রাখতে সাহায্য করে। অসুস্থ লোক এক পায়ের অধিকারী ব্যক্তির ন্যায় পঙ্গুত্ব বয়ে বেড়ায়। ধূমপান জীবন বিধ্বংসী অনেক রোগের জন্ম দেয়। সিগারেট কোম্পানিগুলো মানুষের কাফনের ওপর দিয়ে তাদের সম্পদ বাড়িয়ে তুলছে। ধূমপান থেকে সৃষ্ট কয়েকটি রোগের বর্ণনা এখানে আমি আপনার সামনে পেশ করছি, যার কতক দীর্ঘস্থায়ী, কতক দ্রুত প্রভাব বিস্তারকারী, অতঃপর পরিণতি মৃত্যু:
১- শ্বাসকষ্ট: ধূমপানের ফলে ফুসফুসে ক্যান্সার, গলনালির ক্যান্সার, ফুসফুস ফোলা ও শ্বাসকষ্ট হয়।
২- হৃদ রোগ: ধূমপানের ফলে হার্ট এ্যাটাক ও হঠাৎ মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে।
৩- বদ হজম: ধূমপানের ফলে ঠোঁট, মুখ, গলনালি ও খাদ্যনালীর মধ্যে ক্যান্সার দেখা দেয়, পেটে ক্ষতের সৃষ্টি হয়।
৪- মূত্রনালি: ধূমপানের ফলে মূত্র থলি বা কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৫- স্নায়ুযন্ত্র: ধূমপানের ফলে মাথা ব্যথা, স্মৃতি শক্তি হ্রাস ও খিটখিটে মেজাজ তৈরি হয়। বর্তমান সুস্থতা দেখে আপনি ধোঁকায় পতিত হবেন না, মনে করবেন না ধূমপান আপনার শরীরে প্রভাব ফেলে নি। অবশ্যই ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব প্রকাশ পাবে, দেরি হওয়ার অর্থ ধূমপানে বিষাক্ত উপাদান নেই এমন নয়। অবশ্যই তাতে বিষ রয়েছে, দেরিতে হলেও শরীর তার দ্বারা আক্রান্ত হবে।

চিকিৎসকদের মতামত:
‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: “ধূমপানের প্রসার যেখানে ঘটেছে, সেখানে রোগ-ব্যাধি ও দ্রুত মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে ধূমপানকে দেখা হচ্ছে”।
সিরিয়ার চিকিৎসক ডা. কিনআন আল-জাবি ঘোষণা করেছেন: “ক্যান্সারের ওপর আমার চিকিৎসার ২৫ বছর গত হয়েছে, আমার নিকট গলনালির ক্যান্সার আক্রান্ত কোন রোগী আসেনি যে ধূমপায়ী ছিল না”।
ব্রিটেনের ফিজিয়াসন্স রয়েল কলেজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: “এক সিগারেটে মজুদ নিকোটিন সুস্বাস্থের অধিকারী এক ব্যক্তির মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট, যদি তা ইনজেকশন দ্বারা রক্তের শিরায় পুশ করা হয়”।

আর্থিক ক্ষতি:
ধূমপানের ফলে অর্থ বিনষ্ট ও সম্পদ ধ্বংস হয়। ধূমপায়ী তার ধূমপান দ্বারা না দুনিয়ার উপকার করে, না আখেরাতে আল্লাহর দরবারে এর কোনো সঠিক অজুহাত পেশ করতে পারবে! কোনো ব্যক্তি যদি প্রতি দিন একটাকা নদীতে নিক্ষেপ করে, মানুষ তাকে পাগল বলবে, যার চিকিৎসা অতীব জরুরী, কারণ আগামীতে যেন বেশী, আরো বেশী টাকা নদীতে নিক্ষেপ না করে। যে ব্যক্তি তার শরীরের ক্ষতি ও ধ্বংসের পেছনে বারবার টাকা খরচ করে তার বিষয়টা কেমন?! যদি কোনো ব্যক্তি প্রতিদিন আপনার এক টাকা চুরি করে, তাহলে আপনি তাকে শত্রু জ্ঞান করবেন, তার থেকে সতর্ক থাকবেন। ধূমপান তো তার মতই! প্রতিদিন আপনার পকেট কাটছে আপনাকে হত্যার জন্য! ধূমপানের টাকা দিয়ে যদি আপনার বাচ্চার জন্য প্রতিদিন উপহার ক্রয় করেন, তাহলে আপনি আদর্শ পিতা হবেন সন্দেহ নেই, অতএব কোনটি উত্তম? আপনার সন্তান না ধূমপান?! আপনি আরো চিন্তা করুন ধূমপান আপনার সম্পদ বৃদ্ধি করছে? বা ভবিষ্যতের প্রয়োজনে তা সঞ্চয় করছে?
ধূমপানের টাকা কেন কোনো গরিবকে দেন নি যে আপনার জন্য দো‘আ করবে? চিন্তা করুন আপনার টাকা কোথায় যাচ্ছে? ধূমপানের টাকার দ্বারা কে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে? আপনি নিজেই এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না?!!

ধূমপায়ীর ভদ্রতা কোথায়:
ধূমপানের দুর্গন্ধ ধোঁয়ায় ঘরটা পূর্ণ, কাপড়ে পোড়ার দাগ, ঘর ও অফিস সর্বত্র ধূমপানের ছাই, সিগারেটের পরিত্যক্ত অংশ প্রভৃতি দেখে ধূমপায়ী নিজেও বিরক্ত।
ধূমপায়ী বাথরুম ও আবর্জনার স্থানেও ধূমপান করে। ধূমপায়ী তার ধূমপান দ্বারা সমাজকে কোনো সভ্যতা বা উন্নতি দিচ্ছে না, বরং সে সমাজের বোঝা, পরিবেশ নষ্টকারী ও মানুষের বিরক্তির কারণ। ধূমপানের অনিষ্ট দ্বারা সন্তান, স্ত্রী ও গর্ভের ভ্রূণ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধূমপানের বদ অভ্যাস দূর করার জন্য ধূমপান প্রতিরোধ সংস্থা গঠন করা হয়েছে। ধূমপানের কোনো বৈশিষ্ট্য বা বিশেষত্ব নেই, সমাজে প্রতিষ্ঠিত, সুশীল ও অগাধ সম্পদের মালিক যেমন ধূমপান করে, তেমন সমাজের গরিব, নাম-যশ ও খ্যাতিহীন নিম্ন পেশার লোকও ধূমপান করে। ড্রাইভার, চাকর, কর্মচারী ও সুইপার সবাই ধূমপান করে। অতএব ভেবে দেখুন আপনার ধূমপানের আভিজাত্য কোথায়!
ভুলে যাবেন না আপনি সমাজে অসুস্থদের একজন এবং দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। অতএব ধূমপান ত্যাগ করতে বিলম্ব কিসের!
আপনি জানেন মাদক সেবী প্রত্যেকেই ধূমপানে অভ্যস্ত, ধূমপান করে আপনি তাদের কাতারে শামিল হতে চান!

ধূমপায়ীর চেহারা:
ধূমপায়ীর আঙুল হলুদ, দাঁতগুলো ময়লাযুক্ত, কাপড় পোড়া-ফাটা, চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ। ধূমপায়ীর শরীর ও কাপড় অপরিচ্ছন্ন, অপবিত্র, গায়ে দুর্গন্ধ, বেশভূষা পুরনো কাপড়ের ন্যায়। কণ্ঠস্বর ভাঙা ও কাশিযুক্ত।
ধূমপায়ীর স্মরণশক্তি দুর্বল হয়, তার মধ্যে ক্লান্তি, অক্ষমতা ও রুচিহীনতা ভেসে ওঠে। সে নিজের উপার্জনের টাকা দ্বারা নিজের ক্ষতি করে। বার্ধক্যের আলামত তার চেহারায় সুস্পষ্ট। ধূমপান তার শরীরের চামড়া ও চেহারার সৌন্দর্য খতম করে দিয়েছে।
ধূমপান প্রমাণ করে যে, ধূমপায়ী অসৎ সঙ্গ দোষে দুষ্ট। ধূমপায়ী নিজ পিতা ও নিজ সন্তানের নিকট হীনবল, ব্যক্তিত্বশূন্য। তাদের নিকট লজ্জিত, ধূমপানের কারণে তাদের ভর্ৎসনার স্বীকার হয়। নিজ সন্তানকে ধূমপান থেকে সর্তক করার হিম্মত পায় না, নিষেধ করবে কি করবে-না দ্বিধায় ভোগে।

ধূমপায়ী লাঞ্ছিত:
সমাজ ধূমপায়ীদের বাঁকা চোখে দেখে, মানুষের নজরে তারা মূল্যহীন। সম্মানজনক অনেক চাকুরী থেকে ধূমপায়ীদের বঞ্চিত করে অধূমপায়ীদের সেখানে নিয়োগ দেয়া হয়। ধূমপায়ীদের জন্য রাখা হয় নিচুমানের চাকুরী। বিমানে ধূমপান নিষেধ, যারা অগত্যা ধূমপান করতে চায়, বাথরুম সংলগ্ন তাদের আসন দেয়া হয়। আপনি বাথরুম সংলগ্ন আসনে সন্তুষ্ট!
এমন অনেক যুবক রয়েছে যারা ধূমপানের কারণে সুন্দরী নারীর পানি গ্রহণ থেকে বঞ্চিত, কারণ অভিভাবক ধূমপায়ী ছেলের নিকট তাদের মেয়ে পাত্রস্থ করতে রাজি হয় নি।
বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী থমাস এডিসন (Thomas Edison)বলেছেন: “তামাক স্নায়ুতন্ত্রে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে, যার ফলে মস্তিষ্ক আক্রান্ত হয়। এ জন্য কোন ধূমপায়ীকে আমার কোম্পানিতে কাজ করার সুযোগ দেই না”।

সমাজের চোখে ধূমপায়ী:
সমাজ আপনাকে নেশাগ্রস্ত অসুস্থ ব্যক্তির মতই দেখে, আপনি পকেটে সিগারেট বহন করেন, যেমন মদ্যপ ব্যক্তি নেশার দ্রব্য বহন করে চলে ও নিজ হাতে টাকা অপচয় করে।
মনোবিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে আপনি অপরিপক্ব, মনের চাহিদা মেটাতে বাচ্চাদের ন্যায় মুখে কোনো বস্তু না চুষলে আনন্দ পান না। এ জন্য জ্ঞানীরা আপনার জন্য বিশেষ চিকিৎসা কেন্দ্র খুলেছে, কারণ আপনি অসুস্থ, আপনি সেখানে চিকিৎসা নিন, আপনার থেকে ধূমপানের বদ অভ্যাস দ্রুত দূর করুন।

কিছু বাস্তবতা:
আপনি জানেন, কোন জন্তু বা পাখি তামাক গাছের নিকটবর্তী হয় না!
আপনি জানেন, কয়েক ফোঁটা নিকোটিন একটি কুকুর হত্যার জন্য যথেষ্ট!
আপনি জানেন, ধূমপায়ী নিজের টাকায় নিজকে হত্যা করছে!
আপনি জানেন, ধূমপান প্রায় ২৫টি রোগের কারণ, প্রত্যেক রোগ জীবনের জন্য বড় হুমকি!
আপনি জানেন, প্রতি বছর তামাকের কারণে আমেরিকায় ৪২০ হাজার মানুষ মারা যায়।
আপনি জানেন, প্রতি বছর তামাকের প্রচার ও বিজ্ঞাপন খরচ হিসেবে ৪ মিলিয়ন ডলার অপচয় হয়!
আপনি জানেন, ৭৫% অপরাধী ধূমপায়ী, আপনি কি তাদের একজন হতে চান!
আপনি জানেন, আপনার ধূমপানের টাকা দিয়ে দু’দিন পরপর একটি কুরআন খরিদ করে মসজিদে দান করতে পারেন! চিন্তা করে দেখেছেন কুরআন খরিদ করার পরিবর্তে কি পরিমাণ টাকা ধূমপানের পেছনে ব্যয় করছেন!
আপনি জানেন, এমন কোনো ধূমপায়ী নেই যে ধূমপানের জন্য অনুশোচনা করে না, ধূমপান থেকে মুক্তির পথ খোঁজে না!
আপনি জানেন, উন্নত দেশে ধূমপানের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ!
আপনি জানেন, ব্রিটেন তার ভূমিতে তামাক চাষের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে!

ধূমপানের পূর্বে চিন্তা করুন:
আপনি ধূমপায়ী নামে পরিচিত হবেন!
সভ্য মজলিসে আপনি অনাকাঙ্ক্ষিত, আপনি তাদের কষ্টের কারণ, আপনার কারণে তাদের বাড়ি-অফিস দুর্গন্ধময় হবে!
আপনি নিজ সাথীদের নিকট মূল্যহীন, যদিও প্রকাশ্যে তারা আপনার প্রতি মহব্বত প্রকাশ করে, কিন্তু আপনাকে নিয়ে তারা শঙ্কিত তাদের সন্তান না আপনার থেকে ধূমপান শিখে!
ধূমপান করে প্রতি দিন আপনি আল্লাহর নাফরমানি করছেন!
ধূমপানের উপকারিতা কী?! ধূমপানের আগে একটু চিন্তা করুন!
সুস্থতা আল্লাহর নিয়ামত আর ধূমপান হচ্ছে অসুস্থতা, ভেবে দেখুন কোনটা গ্রহণ করবেন!
মালাকুল মউতের সাথে কিভাবে সাক্ষাত করবেন, অথচ আপনার মুখে রয়েছে তামাকের গন্ধ!
আপনি কিভাবে মুনকার ও নাকিরের সাক্ষাত করবেন, অথচ কবরেও আপনার মুখে ধূমপানের নিদর্শন!
ধূমপানের খাতে ব্যয় করা প্রতি টাকার জন্য কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে আপনাকে জবাবদিহি করতে হবে!

ধূমপান ব্যবসায়ীদের মূল টার্গেট যুবক শ্রেণি:
ছোট ও কম বয়সীরা জীবনের মূল্য তেমন বুঝে না, যেমন বুঝেন প্রাপ্ত বয়স্করা। ছোটরা যৌবনের কৌতূহলে এমন অনেক কিছুই করে পরবর্তীতে যার জন্য দুঃখিত হয়।
আপনি এমন কাউকে পাবেন না, যে যৌবনে ধূমপান মুক্ত থেকে চল্লিশ বছরে পা রেখে ধূমপান আরম্ভ করেছে। কারণ তখন তার জ্ঞান পরিপক্ব, ধূমপানের অনিষ্ট ও তার পরিণতি সম্পর্কে সে সচেতন, তাই এ বয়সে কেউ ধূমপান আরম্ভ করে না। এ জন্য ধূমপান ব্যবসায়ীরা যুবকদের সরলতা ও তাদের অজ্ঞতাকে লুফে নেয়। তাদের সকল প্রচার ও বিজ্ঞাপন হয় যুবক কেন্দ্রিক। যেন যুবকরা তাদের তৈরি ধূমপান থেকে সৃষ্ট রোগ-ব্যাধির প্রথম ও প্রধান শিকার হয়, আর তারা তাদের সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলে!
ধূমপান প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর বক্তব্য:
১- “বিজ্ঞাপনের মূল লক্ষ্য উঠতি যুবকরা। তারা যেন বারো ও তেরো বছর থেকে ধূমপানে অভ্যস্ত হয়। এ জন্য আমাদের সব ধরণের প্রচেষ্টা করতে হবে”।
২- “আমরা অবশ্যই তামাক ব্যবহারের কালচার মুখের দ্বারা বাজারজাত করব। এ জন্য কম বয়সী যুবকদের আকর্ষণ করার কোন বিকল্প নেই”।
হে যুবক সতর্ক হও, তুমি তাদের শিকারে পরিণত হয়ো না!

নারী ও ধূমপান:
ধূমপান নারীদের জরায়ু ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, জরায়ু মুখের ক্যান্সারের কারণে মৃত্যু বরণকারী নারী ও গর্ভের সন্তানের ক্ষেত্রে ২৯% মায়েরা ধূমপান করেছেন। নারীর ধূমপানের ফলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ে, গর্ভের সন্তান বিকলাঙ্গ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়, অকাল গর্ভপাত ও প্রসব কঠিন থেকে কঠিনতর হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। অধিকন্তু প্রসবকালে মৃত্যুর সম্ভাবনা ও গর্ভের সন্তানের ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও কম নয়।
মায়ের ধূমপানের কারণে বাচ্চার মধ্যে ঘনঘন খিচুনি, রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয় এবং বুক ও চামড়া সংবেদনশীল হয়। বমি হয়, রুচি নষ্ট হয়, বাচ্চার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় ও তার স্মৃতি শক্তি দুর্বল হয়।
অতএব নারীর ধূমপানের অর্জন কি?!

ধূমপানের বিধান:
ধূমপান শরীরের জন্য ক্ষতিকর সবার নিকট প্রমাণিত। এতে আরো রয়েছে অর্থের অপচয় ও মানুষের কষ্ট। হাদিসে এসেছে: “মানুষের জন্য যা কষ্টদায়ক, ফেরেশতাদের জন্য তা কষ্টদায়ক”।

ধূমপান হারাম মর্মে শায়খ আব্দুল আযিয ইব্‌ন বায রাহিমাহুল্লাহ ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফতোয়া লক্ষ্য করুন:
প্রশ্ন-১: ধূমপানের হুকুম কী? ধূমপান হারাম না মকরুহ? ধূমপান ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান কি?
উত্তর: ধূমপান হারাম। ধূমপান কুরআনে বর্ণিত নিষিদ্ধ খবিস বস্তুর অন্তর্ভুক্ত। ধূমপানে রয়েছে বিভিন্ন রোগের উপাদান। আল্লাহ তা‘আলা বান্দার ওপর পবিত্র খাদ্য-পানীয় হালাল করেছেন। অপবিত্র ও খারাপ বস্তু তিনি বান্দার ওপর হারাম করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন:
﴿ يَسۡ‍َٔلُونَكَ مَاذَآ أُحِلَّ لَهُمۡۖ قُلۡ أُحِلَّ لَكُمُ ٱلطَّيِّبَٰتُ ٤ ﴾ [المائ‍دة: ٤]
“তারা তোমাকে প্রশ্ন করে, তাদের জন্য কী বৈধ ‎করা হয়েছে? বল, ‘তোমাদের জন্য বৈধ করা ‎হয়েছে সব ভাল বস্তু”।
আল্লাহ তা‘আলা সূরা আরাফে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাগুণ বর্ণনায় বলেন:
﴿ يَأۡمُرُهُم بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَيَنۡهَىٰهُمۡ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ ٱلطَّيِّبَٰتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيۡهِمُ ٱلۡخَبَٰٓئِثَ ١٥٧ ﴾ [الاعراف: ١٥٦]
“যে তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ দেয় ও বারণ ‎করে অসৎ কাজ থেকে এবং তাদের জন্য ‎পবিত্র বস্তু হালাল করে আর অপবিত্র বস্তু ‎হারাম করে”।
সর্বপ্রকার ধূমপান খবিস বস্তুর অন্তর্ভুক্ত, অনুরূপ নেশাদ্রব্য সকল প্রকার বস্তু বিক্রয় করা খবিস কর্মের অন্তর্ভুক্ত। তাই ধূমপানের ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসা-বাণিজ্য মদের মতই হারাম। যারা ধূমপান করেন অথবা তার ব্যবসায় জড়িত তাদের সবার ওপর ওয়াজিব দ্রুত তাওবা করে আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করা। পূর্বের কর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় অঙ্গিকার করা। সত্যিকার অর্থে যে তাওবা করবে, আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ وَتُوبُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ ٣١ ﴾ [النور : ٣١]
“হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট ‎তাওবা কর”।‎ তিনি আরো বলেন:
﴿ وَإِنِّي لَغَفَّارٞ لِّمَن تَابَ ٨٢ ﴾ [طه: ٨٢]
“আর অবশ্যই আমি তার প্রতি ক্ষমাশীল, যে ‎তাওবা করে”।
প্রশ্ন-২: ধূমপান হারাম, না হালাল? দলিলসহ জানিয়ে বাধিত করবেন?
উত্তর: ধূমপান হারাম, কারণ ধূমপান খবিস বস্তুর অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ ও তার রাসূল খবিস বস্তু হারাম ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাগুণ বর্ণনায় বলেন:
﴿ وَيُحِلُّ لَهُمُ ٱلطَّيِّبَٰتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيۡهِمُ ٱلۡخَبَٰٓئِثَ ١٥٧ ﴾ [الاعراف: ١٥٦]
“এবং তাদের জন্য ‎পবিত্র বস্তু হালাল করে আর অপবিত্র বস্তু ‎হারাম করে”।
দ্বিতীয়ত ধূমপানে রয়েছে শারীরিক ক্ষতি ও অর্থের অপচয়, অথচ শরীয়ত শরীর ও সম্পদ সংরক্ষণ করার নির্দেশ প্রদান করেছে। মানব জাতির সংরক্ষণ ও উম্মতের হিফাজতের জন্য আলেমগণ যে পাঁচটি বস্তু হিফাজত করা অতীব জরুরী ঘোষণা করেছেন, তার মধ্যে শরীর ও সম্পদ অন্যতম। অতএব শরীর ও সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করা অপরিহার্য। হাদিসে সম্পদ নষ্টের ওপর নিষেধাজ্ঞা এসেছে। সন্দেহ নেই ধূমপানের জন্য সম্পদ ব্যয় করা অপচয়ের শামিল, বরং ধূমপানের জন্য খরচ করা প্রকৃত পক্ষে নিজের ও সমাজের অনিষ্ট সাধন করা।

কীভাবে ধূমপান ত্যাগ করবেন:
‘ধূমপান ত্যাগ করতে পারি না’— কখনো বলবেন না। দেখুন, নবুওয়তের প্রথম যুগে যখন মদ বৈধ ছিল, সাহাবিগণ প্রকাশ্যে মদ পান করতেন। সভা-সমাবেশে মদ দ্বারা আপ্যায়ন করা হত। যখন মদ হারাম করে একটি আয়াত নাযিল হল, তাদের চিরাচরিত অভ্যাস সত্ত্বেও সবাই তা ত্যাগ করলেন। ঘর থেকে মদ বের করে দিলেন। আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়নে মদিনার অলিতে গলিতে তা ভাসিয়ে দিলেন। যখন আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করলেন:
﴿ فَٱجۡتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ ٩٠ ﴾ [المائ‍دة: ٩٠]
“সুতরাং তোমরা তা পরিহার কর, যাতে ‎‎তোমরা সফলকাম হও”। তারা বলতে লাগল: আমরা নিবৃত হলাম, আমরা নিবৃত হলাম।
আল্লাহর প্রতি ইমান, দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, দুর্দান্ত সাহস, আল্লাহর সন্তুষ্টির অন্বেষণ, দীনের হিফাজত, ব্যক্তি ও সম্মান কলুষিত না করার ইচ্ছা, খারাপ বস্তু থেকে দূরে থাকার আগ্রহ, সর্বদা আল্লাহর স্মরণ, শয়তানের ষড়যন্ত্র দুর্বল জ্ঞান করা ও অধিক দো‘আর ফলে ইনশাআল্লাহ এসব বদ অভ্যাস চিরতরে বিদায় নিবে। সমাজে সম্মানিত ও বন্ধু-বন্ধবদের নিকট ব্যক্তিত্বশীল প্রমাণিত হবেন। অধিকাংশ ডাক্তার বলেন এক সাথে ধূমপান ত্যাগ করে দিন। অতএব আপনি নিজেকে নিয়ে ভাবুন এবং নিজের ওপর, সমাজ ও পরিবারের ওপর ধূমপানের অনিষ্টগুলো চিন্তা করুন।
এ মুহূর্ত থেকে ধূমপান ত্যাগ করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করুন। শরীর ও দীনের মঙ্গল যে পথে, সে পথেই বিচরণ করুন। মনে রাখবেন শয়তান আপনাকে পুনরায় ধূমপানে অভ্যস্ত করার চেষ্টা করবে। জেনে রাখুন, মানুষ যখন কোনো বস্তু থেকে সত্যিকার তাওবা করে, তার প্রবৃত্তি তাকে সে দিকে ধাবিত করতে চায়। এটা এক ধরণের পরীক্ষা। এতে প্রমাণিত হয় আপনার তাওবা সত্যিকার না মিথ্যা। ইব্‌নুল কাইয়িম রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: “প্রত্যেক তাওবাকারী শুরুতে চাপ ও কষ্টের সম্মুখীন হন, যেমন দুশ্চিন্তা অথবা সংকীর্ণতা অথবা পেরেশানি অথবা বিষণ্ণতা অনুভব করেন। আর কিছু না হলেও দীর্ঘদিন অভ্যস্ত বস্তু ত্যাগ করার দুঃখ কম কিসের! মানসিক চাপ, অন্তর ভেঙে পড়া, বক্ষ সংকীর্ণ হওয়া তো আছেই। এ কারণে দেখি কতক তাওবাকারী তাওবা করে মুখ থুবড়ে পড়েন। সত্যিকার জ্ঞানী অবশ্যই জানেন যে, খুশি, আনন্দ ও প্রকৃত স্বাদ তাওবার পর অনুভূত হয়, যে পরিমাণ কষ্ট সে পরিমাণ আনন্দ। পছন্দের বস্তু ত্যাগ করার কষ্ট যত বেশী, তার পশ্চাতে স্বাদ তত মিষ্টি, সুস্বাদু ও পরিপূর্ণ”।
যদি প্রথমবার ধূমপান ত্যাগ করার চেষ্টা করে সফল না হন, পুনরায় চেষ্টা করুন, পুনরায় চেষ্টা করুন, পুনরায় চেষ্টা করুন, নিরাশ হবেন না। ইনশাআল্লাহ, অচিরেই আপনি এ ঘাতক থেকে রক্ষা পাবেন।
অতএব সাহসী হোন, ‘এটাই শেষ সিগারেট’ ঘোষণা করুন।
আল্লাহর নিকট দো‘আ করছি, আল্লাহ আপনাকে দুনিয়া ও আখেরাতে তাওফিক প্রাপ্ত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিন, সংকীর্ণতার মোকাবেলায় প্রশস্ততা দান করুন। কঠিনকে আপনার জন্য সহজ করে দিন।
وصلَّى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

(Collected)
(লিখেছেন শাইখ আব্দুল মুহসিন আল-কাসিম
অনুবাদ : সানাউল্লাহ নজির আহমদ
সম্পাদনা : ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া)

রাগ নিয়ন্ত্রণে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.) এর উপদেশ……।

আমরা যখন রেগে যায় তখন আমাদের হৃদপিণ্ড হয়ে পড়ে দ্রুততর এবং অনিয়মিত। হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। শুধু তাই নয় আমাদের শারিরিক কার্যক্রিয়ায় পড়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়া।

রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন ।

রাগ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আমরা পারি আমাদের শরীর, মন এবং হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে।

তাছাড়াও ধর্মীয় দিক থেকে আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আত্মসংযম বা রাগ নিয়ন্ত্রণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা গুন। এটা আমাদের ক্রোধ বা রাগের নানারকম শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি থেকে বাঁচিয়ে রাখে।

রাগ নিয়ন্ত্রণে রসুল (স.) আমাদের নানাবিধভাবে উপদেশ-নির্দেশ দিয়েছেন। আর রসুলের(স.) দেওয়া নির্দেশনাসমূহ এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিজ্ঞানসম্মত।

আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, একদিন রসুলাল্লাহ (স.) এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বললেন, ‘হে আল্লাহ্‌র রসুল, আপনি আমাকে কিছু অসিয়ত করুন। উত্তরে নবী করিম (স.) বললেন, ‘তুমি রাগান্বিত হইও না’ সে ব্যাক্তি একথাটি কয়েকবার বললেন। উত্তরে রসুল (স.) (প্রত্যেকবারই একই কথা) বললেন, ‘তুমি রাগান্বিত হইও না’। [সহীহ বুখারী ৫৬৮৬ ইফা]

নবী করিম (স.) আরো বলেন, ‘সে প্রকৃত বীর নয়, যে কাউকে কুস্তীতে হারিয়ে দেয়। বরং সেই প্রকৃত বাহাদুর, যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।’ (সহীহ বুখারী ৫৬৮৪ ইফা)

নবী করিম (স.) এই উপদেশটি দিয়েছিলেন কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন কেউ রাগান্বিত হয়ে পড়লে তা তার এবং তার আশেপাশের লোকজনের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে কতটা ক্ষতিকর ও বিপদজনক। কিন্তু তিনি এটাও জানতেন যে রাগের মুহূর্তে এই উপদেশটা মেনে চলা এত সহজ নয়, তাই তিনি রাগ নিয়ন্ত্রণের উপায়ও শিখিয়ে দিয়েছেন আমাদেরকে।

যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ‘হে আল্লাহ্‌র রসুল (স.), তাহলে (রাগের) চিকিৎসা কি? উত্তরে নবী করিম(সঃ) বললেন, কেউ যদি দাঁড়ানো অবস্থায় রাগান্বিত হয়ে পড়ে তার উচিত সাথে সাথে বসে পড়া, আর রাগ না কমা পর্যন্ত ওই অবস্থায় থাকা। অন্যথায় তার উচিত শুয়ে পড়া।’ (আবু দাউদ ৪৭৬৪)

রাগ নিয়ন্ত্রণে কেন রসুল (স.) বসে বা শুয়ে পড়তে বললেন?

নবী করিম (স.) কেন এই উপদেশ দিয়েছেন আমাদের তা সঠিকভাবে বুঝতে হলে আমাদের জানতে হবে আমাদের শরীর ও মনের উপর রাগের ক্ষতিকর প্রভাবগুলো কি কি, আর বসে বা শুয়ে পড়ার সাথে রাগের সম্পর্কটাই বা কি।

কেউ যখন রাগান্বিত হয়ে পড়ে তখন তার কিডনির উপরে অবস্থিত অ্যাড্রেনালিন গ্রন্থি থেকে অ্যাড্রেনালিন নামক একপ্রকার হরমোন নিঃসরণ শুরু হয়। রাগ, ভয়, রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে যাওয়া বা এজাতীয় যেকোনো শারীরিক বা মানসিক চাপের কারণে এই হরমোনের নিঃসরণ ঘটতে পারে।

আর এই অ্যাড্রেনালিন গ্রন্থি থেকে নরঅ্যাড্রেনালিন নামক আরো একপ্রকার হরমোন নিঃসরণ ঘটে, যদিও এই হরমোনের প্রধান উৎস হল হৃদপিণ্ডে সিম্পেথেটিক স্নায়ুর প্রান্তভাগে। তবে এই দুই প্রকার হরমোনই পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এবং আর এদের নিঃসরণও ঘটে একই সাথে।

রাগের ফলে আমাদের শরীরে এই দুইপ্রকারের হরমোনই অধিক পরিমাণে নিঃসরিত হতে থাকে। এরমধ্যে একটা হরমোন যেহেতু হৃদপিণ্ড থেকে নিঃসরিত হয়, তাই রাগান্বিত অবস্থায় আমাদের হৃদপিণ্ড অধিকতর সক্রিয় হয়ে পড়ে, ফলে হৃদকম্পন হয়ে উঠে আরো দ্রুত ও অনিয়মিত।

শারীরিক বা মানসিক চাপের ফলে হৃদপিণ্ডের এই তীব্র পরিবর্তন আমরা অনেকেই অনুভব করতে পারি।

তাছাড়াও আমদের রেগে যাবার ফলে হৃদপিণ্ডের অতি-সক্রিয়তার কারণে অতিরিক্ত অক্সিজেনের জোগান দেওয়ার জন্য হৃদপেশীর সংকোচনও বেড়ে যায় কয়েক গুন; ফলে ধমনীতে চাপ পড়ে। আর তাই রাগান্বিত অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাস্থ্যঝুকি অনেকগুণ বেড়ে যায়।

আর যাদের ধমনীর প্রশস্ততা কম তাদের হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও বেড়ে যায় কয়েকগুণ, কেননা তাদের সংকুচিত ধমনী দিয়ে হঠাৎ অধিক বেগে রক্ত সঞ্চালনের ফলে ধমনীতে সৃষ্ট অতিরিক্ত চাপের কারণে তা ছিঁড়ে যেতে পারে যেকোনো সময়।

শরীরে এই দুই হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যাবার ফলে আমাদের রক্তচাপও বৃদ্ধি পায় অনেক, যা ব্লাড প্রেসারের (অধিক বা কম রক্তচাপের) সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য খুবই বিপদজনক ও ক্ষতিকর।

তাছাড়া ডায়াবেটিক রোগীদের সাধারণত রাগ নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেওয়া হয় কেননা রাগ বা মানসিক চাপের ফলে সৃষ্ট অতিরিক্ত অ্যাড্রেনালিন আমাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, যা একজন ডায়াবেটিক রোগীর জন্য খুবই বিপদজনক।

এছাড়াও কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাগ বা ক্রোধ আমদের পুরো শরীরেই নানারকম মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি করে।

আর একারণেই হয়তো নবী করিম (স.) বারবার রাগ সংবরণের উপদেশ দিয়েছেন আমাদের। এর গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে তিনি পরপর তিনবার বলে উঠেন, ‘রাগান্বিত হইও না’।

রসুলের (স.) এর নির্দেশনা কতটা বিজ্ঞানসম্মত?

এবার দেখা যাক রাগ নিয়ন্ত্রণের জন্য রসুল (স.) আমাদের যে উপায় বলে দিয়েছেন তা কতটা বিজ্ঞানসম্মত?

চিকিৎসাশাস্ত্রের বিখ্যাত লেখক হ্যারিসন বলেন, ‘এটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, পাঁচ মিনিট শান্তভাবে দাড়িয়ে থাকাকালীন একজন ব্যক্তির রক্তে নরঅ্যাড্রেনালিনের পরিমাণ দুই থেকে তিনগুণ বেড়ে যেতে পারে। দাড়িয়ে থাকার কারণে অ্যাড্রেনালিনও সামান্য পরিমাণে বেড়ে যায়। কিন্তু বিভিন্ন রকমের মানসিক চাপ রক্তে অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা খুব বাড়িয়ে দিতে পারে।’

সহজ কথায় বলতে হয়, শান্তভাবে পাঁচ মিনিট দাড়িয়ে থাকলেই মানুষের রক্তে নরঅ্যাড্রেনালিনের পরিমাণ দ্বিগুণ বেড়ে যায়, সাথে সাথে অ্যাড্রেনালিনও সামান্য পরিমাণে বেড়ে যায়। এখানে মনে রাখা উচিত যে অ্যাড্রেনালিন নামক হরমোনটি প্রধানত রাগ বা মানসিক চাপের কারণে বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।

তাই সুস্পষ্টভাবে এটা প্রতীয়মান হয় যে দাঁড়ানো অবস্থায় রেগে গেলে এই হরমোনের অতিরিক্ত নিঃসরণ আমাদের শরীরের উপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে। এর থেকেই বুঝা যায় আজ থেকে পনেরোশ বছর আগে যখন বর্তমানের তুলনায় চিকিৎসাবিজ্ঞানে মানুষের জ্ঞান বা অগ্রগতির কোনো ছোয়া লাগেনি তখন রসূল (স.) এর দিয়ে যাওয়া এই উপদেশ বাণীর গুরুত্ব কতটুকু।

‘কেউ যদি দাঁড়ানো অবস্থায় রাগান্বিত হয়ে পড়ে তার উচিত সাথে সাথে বসে পড়া আর রাগ না কমা পর্যন্ত ওই অবস্থায় থাকা। অন্যথায় তার উচিত শুয়ে পড়া।’ আর এটাই হল সর্বকালের সর্বাধুনিক ডাক্তারি পরামর্শ!

রাগ নিয়ন্ত্রণকারীর প্রতিদান

এতসব দুনিয়াবি উপকারিতার পাশাপাশি যারা নিজেদের রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখে তাদেরকে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনের সূরা আল-ইমারানে পরকালে ক্ষমা ও জান্নাতের অধিবাসী করবার ওয়াদা করছেন।

মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেন- ‘যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে, বস্তুতঃ আল্লাহ সৎকর্মশীলদেরকেই ভালবাসেন।’ (সূরা আল-ইমরান, ৩:১৩৪)

তাছাড়া পূর্বেইতো বলেছি রসুল (স.) তাকেই প্রকৃত বীর বলেছেন যে নিজের ক্রোধ সংবরণ করতে পারে।

তাই আসুন আমাদের ক্রোধ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শারীরিক-মানসিক সুস্থতা অর্জন করি। আর অবিনশ্বর জগতে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর ক্ষমা ও ভালোবাসা অর্জনে মাধ্যমে জান্নাতের অধিবাসী হওয়ার পথকে সুগম করি।