আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৮টায় মাঠে গড়াবে আইপিএলের একাদশ আসর।

সন্ধ্যায় আইপিএলের পর্দা উঠছে।

দুইবারের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংসের মুখোমুখি হবে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। ধোনির দলকে মোকাবিলার আগে অনুশীলনে বেশ ঘাম ঝড়িয়েছেন এ বছরই সানরাইজার্স হায়দরাবাদ থেকে মুম্বাইয়ে যোগ দেওয়া ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজুর রহমান।

খেলা হবে মুম্বাইয়ের ঘরের মাঠ ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। ঘরের মাঠের দর্শক সমর্থন তাই পুরোটাই পাবে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস।

ম্যাচের আগের দিন ফ্লাড লাইটেও অনুশীলন করেছেন রোহিত শর্মা, মুস্তাফিজ, বুমরাহরা। মুম্বাই ইন্ডিয়ানস তাদের ফেসবুক পেজে অনুশীলনের ভিডিও এবং ছবি নিয়মিত আপলোড করে। ম্যাচের আগেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। তারকাদের অনুশীলনের কিছু অংশ তারা সরাসরি দেখিয়েছে।

তা ছাড়া বাংলাদেশের কাটার-মাস্টারকে পেয়ে একটু যেন বেশিই উচ্ছ্বসিত মনে হলো মুম্বাইকে। দলে পৌঁছানো থেকে শুরু করে নিয়মিত নিজেদের পেজে আপডেট দিয়ে যাচ্ছিল এই ক্রিকেটারকে নিয়ে। এমনকি মুস্তাফিজের ভাষাগত সমস্যার কারণে দোভাষী হিসেবে সাবেক ওপেনার নাফিস ইকবালকেও দেশ থেকে উড়িয়ে নিয়ে গেছে দলটি। বোঝাই যাচ্ছে, বাংলাদেশি তারকাকে মাঠের লড়াইয়ে দেখতে কতটা মুখিয়ে আছে মুম্বাই।

এই সেই স্থান, যেখানে দাঁড়িয়ে দীনের নবী (সা.) অঝরে কেঁদেছিলেন….!!

দীনের নবী – আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) দীন প্রতিষ্ঠার জন্য জীবনে অনেক কষ্ট করে গেছেন। তবে নবীজী (সা.) এর জীবনে এমন একটা দিন এসেছিল যেদিন আমাদের দীনের নবী (সা.) অঝরে কেঁদেছিলেন।

মুসলিম শরীফে বর্ণিত আছে, একদিন মায়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে রাসুলের (সা.) কান্না দেখে নির্বাক হয়ে পড়েছিলেন সাহাবায়ে কেরাম, রাসুলের কান্নায় তারাও কেঁদেছিলেন সেদিন।আর কোনোদিন কোথাও তাকে এভাবে কেউ কাঁদতে দেখেনি, মায়ের জন্য আপ্লুত হয়ে তিনি যেভাবে কেঁদেছিলেন।(মুসলিম, মুসনাদে আহমদ) মায়ের প্রতি রাসুলের ভালোবাসা ও সদাচারের জন্য রাসুল (সা.) এর তাগিদ দেখে সাহাবায়ে কেরামও নিজেদের মায়ের প্রতি ছিলেন পরম বিনয়ী ও সদাচারী।

রাসুল (সা.) বলেছেন, মা বাবার প্রতি ভালো ব্যবহারের শেষ সীমানা হল, তাদের যারা বন্ধুবান্ধব ছিলেন, তাদেরও সম্মান করা, ভালোবাসা ও দয়া করা। (মুসলিম) অন্যত্র আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণিত, বাবার সম্মানের চেয়ে মায়ের সম্মান ও শ্রদ্ধা তিনগুণ বেশি।

হযরত আবু হুরাইরা (রা.) যখনই কোথাও যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হতেন, ডাক দিয়ে বলতেন, ‘মা আমার! তোমরা জন্য সালাম! আল্লাহ পাক তোমাকে রহমত দিয়ে ঘিরে রাখুন যেভাবে তুমি আমাকে ছোটবেলায় লালন পালন করেছিলে।’

তার মা তখন সাড়া দিয়ে বলতেন, ‘ছেলে আমার! আল্লাহ তোমাকেও রহমত দান করুন যেভাবে তুমি আমাকে এই বুড়ো বয়সে সেবাযত্ন করছো।’ (বুখারী ও মুসলিম শরীফ)।

শাকিবের ‘ছেঁড়া’ প্যান্ট নিয়ে তোলপাড় ফেসবুক

শাকিবের ‘ছেঁড়া’ প্যান্ট নিয়ে তোলপাড় ফেসবুক
বাংলাদেশ ফিল্ম ক্লাব আয়োজিত বনভোজনে চিত্রনায়ক শাকিব খানের পরা একটি প্যান্ট নিয়ে তোলপাড় চলছে ফেসবুকে। ২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই বনভোজনে একটি দলের অধিনায়ক হিসেবে শাকিব ফুটবল খেলেছেন ওই প্যান্টটি পরেই। ৪-১ গোলে জিতে যখন পুরস্কার গ্রহণ করছিলেন তখনও ওই প্যান্টটিই পরনে ছিল তার। কিন্তু প্যান্টটির স্টাইল নিয়ে রঙ্গ-তামাশায় মেতেছে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।

সেটিকে ছেঁড়া প্যান্ট বলে আখ্যা দিচ্ছেন তারা। ওই অনুষ্ঠানের শাকিবের ‘ছেঁড়া’ প্যান্টের ছবিও ফেসবুকে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। অনেকেই এটি নিয়ে লিখছেন ফেসবুকে।

হাবিবুল্লাহ শওকত নামের একজন লিখেছেন, শাকিব খানের ছেঁড়া প্যান্ট নিয়ে এক ভাইকে বলেছিলাম, শাকিবের কোন দোষ নেই। ভুল করে আপু বিশ্বাসের প্যান্ট পরে ফেলেছে।

অনেকগুলো হাসির ইমো দিয়ে আরেকজন লিখেছেন, আজকে অপু বিশ্বাস থাকলে তো এটা সেলাই করে দিতে পারতো।

বিষয়টি নিয়ে ব্যঙ্গ করে আরেকজন লিখেছেন, বল খেলতে গিয়ে, বাবা ভূয়াপুরীর মুরিদ নায়ক শাকিব খানের প্যান্ট ছিঁড়ে যাওয়ায় আমরা দুঃখিত ও লজ্জিত! প্যান্ট বিক্রেতার তিন দিনের ফাঁসি দাবি করছি।

তবে এ নিয়ে অনেকে শাকিব খানের ফ্যাশনের প্রশংসা করছেন। রাসেল নামের এক ব্যক্তি লিখেছেন, শাকিব খানের প্যান্ট নিয়ে এত টানাহ্যাঁচড়া কেন? এরকম প্যান্ট বলিউডের নায়করা পরলে ফ্যাশন আর শাকিব পরলে ক্ষেত?? শাহরুখের সাথে আলিয়া ভাট মাইয়া হইয়াও ছিঁড়া প্যান্ট পরলেও ক্রাশ খাইতে পারে, শাকিব খান পড়লে টোকাই হইয়া গেল… :/ #আবেগথেকেবলছি #আমারমনেরকথা #শাকিবফ্যান

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

এ কেমন দরজা !! কাছে গেলে ১ মিনিটেই মৃত্যু অবধারিত !!

দুনিয়াতে অনেক রহস্যময় স্থান রয়েছে।

এমনই একটি জায়গা হলো- গ্রিসের এক প্রাচীন নিদর্শন। জায়গাটি দর্শনীয় তো বটেই। তবে তার বেশি কাছে গেলেই ভয়ানক বিপদ। কেননা, মৃত্যুর দুয়ারে টেনে নিয়ে যায় মানুষকে। বহু বছর ধরে তাই এই জায়গার ধারে-কাছেও যায় না কেউ। অবশেষে সেই রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।

এই জায়গাটি ‘Hades’ Gate’ নামে পরিচিত। বর্তমানে এটি তুরস্কের ওয়েস্টার্ন ডেনিজিল প্রদেশে অবস্থিত। জানা গেছে, এটির ধারে-কাছে যেকোনো মানুষ থেকে পশুপাখি যেই যাক তার মৃত্যু হয়। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, এটা শুধু গল্পকথা নয়। এটা আসলেই সত্যি।

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা প্রত্নতত্ত্বের উপর লেখা একটি জার্নালে জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে সমানে বিপুল পরিমাণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গত হচ্ছে। আজও পর্যন্ত একইভাবেই বেরিয়ে আসছে বিষাক্ত গ্যাস। আর তাই সেখানে গেলেই মৃত্যু অবধারিত।

তবে কোনদিকে সূর্য উঠছে আর কোনদিকে হাওয়া বইছে, তার উপর নির্ভর করে কোনদিক থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বের হবে। এখানে রাতে এতো বেশি পরিমাণ গ্যাস বের হয় যে, এক মিনিটের মধ্যে মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

প্রাচীন গল্পকথা শোনা যায়, এই জায়গায় বহু মানুষ, পশু, পাখির মৃত্যু হয়েছে।

ইমামের পেছনে নামাজ পড়ার আদব কি ?? জেনে নিন বিস্তারিত।

একজন ইমামের পেছনে নামাজ পড়ার সময় কী করণীয় আছে?
ইমামের পেছনে নামাজ পড়লে কী কোনো সূরা পড়তে হবে?

সর্বপ্রথম কী করতে হবে? নামাজে দাঁড়াতে কোনো দোয়া দুরুদ কী পড়তে হবে?

ইমাম সাহেব যখন সূরা পড়বেন তখন মুসল্লিরা কী করবে?
অনুগ্রহপূর্বক এই বিষয় পুরোপুরি জানাবেন। দেখা যাচ্ছে, ইমাম সাহেব নামাজ পড়াচ্ছেন, কিন্তু একজন মুসল্লি দুই রাকাআত /এক রাকাআত/ তিন রাকাআত / নামাজ পায়নি। তখন ওই মুসল্লীর করণীয় কী?

উত্তর:
ইমাম যখন নামাজে আওয়াজ দিয়ে কেরাত পড়েন তখন মোক্তাদির শুধু কেরাত শুনলে চলবে (ফজর, মাগরিব, এশার নামাজে)। আর নীরবে কেরাত শোনার সময় মোক্তাদি শুধু সূরা ফাতিহা আস্তে আস্তে পড়বেন। এরপর আর কোনো সূরা পড়তে হবে না। নামাজের অন্য কাজ ইমামের মতই করবেন। তাকবির দিয়ে নামাজ শুরু করে ছানা পড়া, রুকু সিজদার দোয়া, তাশাহুদ, দুরুদশরীফসহ সকল কিছুই মোক্তাদির করতে হবে ইমামকে অনুসরণ করে। ইমামের আগে করা যাবে না।

জামাতে নামাজ পড়াকালীন কোনো রাকাআতের রুকুতে গিয়ে যদি এক তাসিবহ পরিমাণ সময় আপনি পান তাহলে ঐ রাকাআতকে এক রাকাআত হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ- আপনি বাহির থেকে এসে দেখলেন ইমাম সাহেব রুকুতে গেছেন, আপনিও তার সাথে রুকুতে গিয়ে একবার তাসবিহ পাঠ করতে পারলেন। এরমধ্যে ইমাম রুকু থেকে দাঁড়িয়ে গেলেন। এতে আপনি পুরো এক রাকাআত পেয়ে গেলেন।

এখন আপনি যদি নামাজের প্রথম রাকাআত মিস করেন তাহলে ইমাম সালাম ফিরানো শেষ করার পর দাঁড়িয়ে এক রাকাআত নামাজ আদায় করবেন। এই এক রাকাআত নামাজে আপনি সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা বা আয়াত পড়বেন। রুকু করবেন, সিজদা করবেন এরপর বসে তাশাহুদ, দুরুদ ও দোয়া পড়ে সালামের মাধ্যমে নামাজ শেষ করবেন।

প্রথম দুই রাকাআত না পেলে আপনি দুই রাকাআত নামাজ ফাতিহা ও সূরা মিলিয়ে পড়বেন। আগের মতো রুকু সিজদা করবেন। দ্বিতীয় রাকাআতের সিজদার পর তাশাহুদ ইত্যাদি পড়ে নামাজ শেষ করবেন।

তিন রাকাআত নামাজ ছুটে গেলে:
প্রথম এক রাকাআত সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা মিলিয়ে রুকু করবেন। দুই সিজদার পর বসে যাবেন। এরপর তাশাহুদ পড়ে দ্বিতীয় রাকাআতের জন্য দাঁড়াবেন। পরে আবার সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা পড়ে রুকু করবেন। দুই সিজদাহ দিয়ে দাঁড়িয়ে যাবেন। এরপর শুধু সূরা ফাতিহা পড়ে আরো এক রাকাআত নামাজ পড়ে শেষ বৈঠকের মাধ্যমে নামাজ শেষ করবেন।

আর যদি চার রাকাআত নামাজ মিস করেন। অর্থাৎ- আপনি জামাতে শরিক হয়েছেন চার রাকাআতের রুকুর পর। এতে আপনি ইমামের সাথে জামাতে যুক্ত হলেন। কিন্তু চার রাকাআত নামাজ আপনার ছুটে গেছে। এই অবস্থায় ইমাম সালাম ফিরানোর পর পুরো চার রাকাআত নামাজ আপনি পড়ে নিবেন। প্রথম দুই রাকাআতে সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা এবং শেষ দুই রাকাআতে শুধু সূরা ফাতিহা দিয়ে নামাজ পড়বেন।

মাগরিবের প্রথম দুই রাকাআত ছুটে গেলে করণীয়:
ইমাম নামাজ শেষ করলে আপনি দাঁড়িয়ে প্রথম এক রাকাআত সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা মিলিয়ে রুকু করবেন। এরপর দুই সিজদাহ করার পর দাঁড়িয়ে যাবেন না। তাশাহুদ পড়ে তারপর দাঁড়াবেন এবং আবারো সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা মিলিয়ে পড়ে আরো এক রাকাআত নামাজ পড়বেন এবং শেষ বৈঠক দিয়ে নামাজ শেষ করবেন।

এখানে চার রাকাআত ওয়ালা নামাজের প্রথম দুই রাকাআত ছুটে যাওয়া নামাজ আদায় এবং তিন রাকাআত ওয়ালা (মাগরিব) নামাজের প্রথম দুই রাকাআত ছুটে যাওয়া নামাজ আদায়ের মধ্যে একটু পার্থক্য আছে। মাগরিবের ছুটে যাওয়া দুই রাকাআতেই বৈঠক দিতে হয়। প্রথম রাকাআতের পর শুধু তাশাহুদ পরের রাকাআত শেষে শেষ বৈঠকে দিয়ে শেষ করতে হয়।

পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানো বা বসা কি ঠিক ?? ইসলাম কী বলে…!!

আমাদের দেশে পশ্চিম দিকে পা দিয়ে বসা, শোয়া বা ঘুমানোর ব্যাপারে বিতর্ক দেখা ও শোনা যায়। অনেকে এটিকে গুরুতর অপরাধ বলে গণ্য করেন আবার কেউ কেউ এতে কোনো অন্যায় দেখেন না। অনেকে এ বিষয়ে বিভিন্ন কুসংস্কারেও বিশ্বাস করেন। যেমন-পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমালে হায়াত কমে যায় বলে ধারণা প্রচলিত রয়েছে।

ইসলামে কোনো বিষয়কে হালাল বা হারাম সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্যে তার পক্ষে বা বিপক্ষে গ্রহণযোগ্য দলিল থাকা জরুরি। দলিল ছাড়া ইসলামে কোনো কিছু হালাল বা হারাম বলা যায়।

তাই প্রথমে এ বিষয়টি জায়েজ কিনা তা জানতে হলে খুঁজতে হবে-এ নিয়ে কোনো দলির আচে কিনা। ইসলামী আইনের মূলনীতি হলো, ‘সাধারণভাবে সবকিছু জায়েজ, যতক্ষণ না সেটি হারাম হওয়ার পক্ষে কোনো দলিল পাওয়া যায়।’

এই মূলনীতি অনুয়ায়ী আমরা যদি এ মাসআলাটি বিশ্লেষণ করি, তাহলে বুঝা যায়, পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানোর ব্যাপারে কোনো আদেশ বা নিষেধ নেই। কেউ যদি বলে এটি হারাম তাহলে এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য দলিল দেখাতে হবে।

আমরা ‘পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানো নিষেধ’ মর্মে কোনো বক্তব্য কোরআন, হাদিস বা ইমামদের বক্তব্য পাইনি। তাই এটি নিষেধ করার কোনো যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য কারণ নেই বলে দাবি করা যায়

অনেকে পশ্চিম দিকে (কিবলার দিকে) মুখ ফিরিয়ে বা পিঠ ফিরিয়ে পায়খানা-প্রস্রাব করার নিষেধাজ্ঞায় বর্ণিত হাদিসের ওপর কিয়াস করে পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানো বা বসাকে নাজায়েজ বলে থাকেন।

অথচ এমন ধারণার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। খোলা স্থানে কিবলার দিকে মুখ ফিরিয়ে বা পিঠ ফিরিয়ে পায়খানা-প্রস্রাব করা নিষেধ- এ সংক্রান্ত স্পষ্ট হাদিস রয়েছে (সুনান আন-নাসাঈ, হাদীস নং-২১, জামি আত-তিরমিযী, হাদীস নং-০৮)।

কিন্তু কিবলার দিকে পা দিয়ে ঘুমানো বা বসা নিষেধ-মর্মে কোনো হাদিস বর্ণিত হয়নি। তাই কিবলার দিকে তথা পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানো বা বসা নাজায়েজ- এ কথাটিও অপ্রমাণিত এবং ভুল।

এক প্রশ্নের উত্তরে সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বাজ (র.) বলেন, ‘এতে কোনো সমস্যা নেই। কোনো ব্যক্তি যদি তার দুই পা কিবলার দিকে ফিরিয়ে রাখে তাতে কোনো সমস্যা নেই। এমনকি কেউ যদি মসজিদে হারামে বসেও কাবার দিকে পা ফিরিয়ে রাখে তাতেও কোনো সমস্যা নেই।’

আর শাইখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উছাইমীনও (র.) বলেন, ‘কিবলার দিকে পা দিয়ে ঘুমাতে বা বসতে কোনো দোষ নেই।’
তবে কিবলা ও কাবা অত্যন্ত মর্যাদাবান দু’টি বিষয়। এগুলো ইসলামের শিআর বা নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। এগুলোকে কোনোভাবে অসম্মান করা, অবজ্ঞা করা বা এগুলোর প্রতি কোনো অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা মহা অন্যায়।

তাই কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে পশ্চিম দিকে পা দিয়ে রাখে তাহলে তা মহা অন্যায় ও কবীরা গুনাহ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে তা হবে কী হবে না-তা নির্ভর করে যে পা রাখছে তার ইনটেনশন বা নিয়তের উপর।

এক প্রশ্ন আসতে পারে যে, পশ্চিম দিকে পা রাখা যদি হারাম হয় তাহলে বিছানায় বা সমান কোনো স্থানে বসা কোনো মাজুর ব্যক্তি (অসুস্থতা বা কোনো সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি) কীভাবে বা কোন দিকে পা রেখে সালাত আদায় করবে?
উত্তর হবে অবশ্যই পশ্চিম দিকে অর্থাৎ কিবলার দিকে পা রেখেই তিনি সলাত আদায় করবেন।

ফিকহবিশারদরা বলেন, ‘যদি কোনো অসুস্থ ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বা বসে নামাজ পড়তে না পারেন, তাহলে কিবলার দিকে মুখ করে এক পাশে শুয়ে নামাজ আদায় করবেন। যদি সেটাও না পারেন তাহলে চিত হয়ে শুয়ে কিবলার দিকে পা দিয়ে নামাজ পড়বেন।’

এ দিক দিয়ে বলা যায়, যদি পশ্চিম দিকে পা রাখা হারাম বা নাজায়েজ হতো তাহলে সালাত আদায় কালেও তা হারাম হতো। এছাড়া তা ফিকহের কিতাবেও ফতোয়ায় উল্লেখ থাকতো।

সুতরাং বলা যায়, কিবলার দিকে বা পশ্চিম দিকে পা রেখে ঘুমালে হায়াত কমে যায় বা এ ধরনের কোনো কথা কোরআন ও হাদিসে নেই। তাই এগুলো বিশ্বাস করাও জায়েজ নয়।

বরং ইসলামের নামে প্রচলিত এ রকম বহু অপ্রমাণিত ও অগ্রহণযোগ্য কথা বিশ্বাস, প্রচার ও প্রসার থেকে নিজে বিরত থাকা ও অপরকে বিরত রাখার চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য। এটি বিশ্বাস করাও ভিত্তিহীন।