ফজরের সময় জাগ্রত হওয়ার কার্যকরী কৌশল…

মুসলমানদের জন্য ঈমান আনার পরেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আর জামাতে নামাজ পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে মধ্যে এশা ও ফজরের জামাতের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।

এ দুই সময়ে মানুষ সাধারণত পরিবারের সঙ্গে সময় কাটায় ও বিশ্রাম করে। ফলে জামাতদুটিতে যথেষ্ট অবহেলা ও গাফিলতি হয়ে থাকে। এজন্য হাদিসে এর প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করা হয়েছে। উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘একবার মহানবী (সা.) আমাদের ফজরের নামাজ পড়িয়েছেন। সালাম ফিরিয়ে জিজ্ঞেস করেছেন, অমুক কি আছে? লোকেরা বলল, নেই। তারপর আরেকজনের নাম নিয়ে জিজ্ঞেস করেন, অমুক কি আছে? লোকেরা বলল, নেই। তিনি বললেন, এ দুই নামাজ (এশা ও ফজর) মুনাফিকদের জন্য সবচেয়ে কঠিন। তোমরা যদি জানতে যে এই দুই নামাজে কী পরিমাণ সওয়াব নিহিত রয়েছে, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে আসতে। ’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫৫৪)

ফজরের সময় জাগ্রত এর ছবি ফলাফল

সুন্নত নামাজের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ফজরের দুই রাকাত সুন্নত। হাদিসে এর প্রভূত ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, যা অন্য সুন্নতের ক্ষেত্রে হয়নি। এক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ফজরের দুই রাকাত (সুন্নত) দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম। ’ (মুসলিম, হাদিস : ৭২৫)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘শত্রুবাহিনী তোমাদের তাড়া করলেও তোমরা এই দুই রাকাত কখনো ত্যাগ কোরো না। ’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১২৫৮)

সম্পর্কিত ছবি

কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, বহু মুসলমান নামাজই পড়ে না। আর যারা নামাজি, তাঁদের মধ্যে অনেকে ফজরের নামাজ নিয়মিত পড়তে পারেন না। যারা নিয়মিত পড়েন, তাঁদের মধ্যেও অনেকে ফজরের জামাতে শরিক হতে পারেন না। অলসতা ছাড়াও এর অন্যতম কারণ যথা সময়ে ঘুম থেকে জাগ্রত হতে না পারা। এখানে আমরা ফজরের সময় জাগ্রত হওয়ার কিছু কৌশল তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

আল্লাহকে চেনা :

ফজরের নামাজের জন্য জেগে উঠার প্রধান কৌশল হলো আল্লাহর বড়ত্ব ও মহত্ত্ব সম্পর্কে জানা। আপনি যদি জানেন আপনি কার ইবাদত করছেন, আর এ-ও জানেন যে তাঁর নির্দেশ হলো, আপনি প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে তাঁর ইবাদত করুন, তাহলে আপনি জেগে উঠবেনই!

আন্তরিকতা :

ফজরের নামাজের জন্য জেগে উঠার ব্যাপারে আন্তরিক হোন। এটা ভাববেন না যে যদি আমি ফজরের ওয়াক্তে উঠতে পারি তাহলে ফজরের নামাজ পড়ব, বরং আন্তরিকভাবে প্রতিজ্ঞা করুন যে আমি ফজরের ওয়াক্তে জেগে উঠবোই, ইনশাআল্লাহ!

ঘুমাতে যাওয়ার আগে ওজু করা :

মহানবী (সা.) বারা ইবনে আজেব (রা.)-কে বলেছিলেন, যখন তুমি বিছানায় যাবে তখন নামাজের ওজুর মতো ওজু করবে। ’ (মুসলিম, হাদিস : ৪৮৮৪)

বিতরের নামাজের পর দোয়া :

শেষ রাতে উঠার অভ্যাস না থাকলে বিতরের নামাজ আদায় না করে ঘুমাবেন না। আর বিতরের নামাজ আদায়ের সময় আল্লাহর কাছে অনুনয়-বিনয় করুন, যাতে তিনি আপনাকে ঘুম থেকে জেগে উঠতে সাহায্য করেন।

কোরআন পাঠ করে নিদ্রায় যাওয়া :

মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের মাধ্যমে দিনের সমাপ্তি অবশ্যই আপনার মনোযোগকে ফজরের নামাজের জন্য জেগে উঠার দিকে নিবদ্ধ করবে। মহানবী (সা.) ঘুমাতে যাওয়ার আগে সুরা সাজদাহ ও সুরা মুলক (৩২ ও ৬৭ নম্বর সুরা) পাঠ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

ঘোষণাকৃত পুরস্কারের কথা স্মরণ :

মুনাফেক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার হাত থেকে বেঁচে থাকা, শেষ বিচারের দিন আলোকিত হওয়া, সারাদিন আল্লাহর নিরাপত্তায় থাকা, জীবন থেকে অলসতা কেটে যাওয়া, কর্মঠ হওয়া ইত্যাদি পুরস্কারগুলোর কথা স্মরণ করুন, ইনশাআল্লাহ আপনি জেগে উঠতে পারবেন।

জাগিয়ে দেওয়ার জন্য বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের বলা :

পরিবারের অন্য সদস্য কিংবা বন্ধুদের বলুন আপনাকে জাগিয়ে দিতে। আর পরস্পরকে সাহায্য করুন। যদি আপনি আগে জেগে উঠেন, তাহলে অন্যদেরও জাগিয়ে তুলুন।

দুপুরে ভাত খেয়ে সামান্য ঘুম :

আরেকটি কৌশল জানা যায় সুন্নাহ থেকে। আর তা হলো, দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর সামান্য ঘুমানো। আরবিতে এটাকে ‘কায়লুলা’ বলা হয়। এই সামান্য বিশ্রামের ফলে রাতের দীর্ঘ ঘুম থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি এই সামান্য ঘুম আপনাকে করে তুলবে উজ্জীবিত। মস্তিস্ককে করে তুলবে সতেজ। ফলে অলসতার ঘোর কেটে যাবে।

গুহায় আঁটকে পড়া সেই ঐতিহাসিক তিন যুবক ……ইসলামিক গল্প…

একবার তিনজন লোক পথ চলছিল,
এমন সময় তারা বৃষ্টিতে আক্রান্ত
হ’ল। অতঃপর তারা এক পাহাড়ের
গুহায় আশ্রয় নিল। হঠাৎ পাহাড় হ’তে
এক খন্ড পাথর পড়ে তাদের গুহার
মুখ বন্ধ হয়ে গেল। তখন তারা একে
অপরকে বলল, নিজেদের কৃত কিছু
সৎকাজের কথা চিন্তা করে বের কর,
যা আললাহর সন্তুষ্টির জন্য
তোমরা করেছ এবং তার মাধ্যমে
আললাহর নিকট দো‘আ কর। তাহ’লে
হয়ত আল্লাহ্ তোমাদের উপর হ’তে
পাথরটি সরিয়ে দিবেন।
তাদের একজন বলতে লাগল, হে
আল্লাহ্! আমার আববা-আম্মা খুব
বৃদ্ধ ছিলেন এবং আমার ছোট ছোট
সন্তানও ছিল। আমি তাদের ভরণ-
পোষণের জন্য পশু পালন করতাম।
সন্ধ্যায় যখন আমি বাড়ি ফিরতাম
তখন দুধ দোহন করতাম এবং আমার
সন্তান্দের আগে আমার আববা-
আম্মাকে পান করাতাম। একদিন
আমার ফিরতে দেরী হয় এবং সন্ধ্যা
হওয়ার আগে আসতে পারলাম না।
এসে দেখি তারা ঘুমিয়ে পড়েছেন।
আমি দুধ দোহন করলাম, যেমন
প্রতিদিন দোহন করি। তারপর আমি
তাঁদের শিয়রে (দুধ নিয়ে) দাঁড়িয়ে
রইলাম। তাদেরকে জাগানো আমি
পছন্দ করিনি এবং তাদের আগে
আমার বাচ্চাদেরকে পান করানোও
সঙ্গত মনে করিনি। অথচ বাচ্চাগুলো
দুধের জন্য আমার পায়ের কাছে পড়ে
কান্নাকাটি করছিল। এভাবে ভোর
হয়ে গেল। হে আল্লাহ্! আপনি
জানেন আমি যদি শুধু আপনার
সন্তুষ্টির জন্যই এ কাজটি করে
থাকি তবে আপনি আমাদের হ’তে
পাথরটা খানিক সরিয়ে দিন, যাতে
আমরা আসমানটা দেখতে পাই। তখন
আল্লাহ পাথরটাকে একটু সরিয়ে
দিলেন এবং তারা আসমান দেখতে
পেল।

allah is on এর ছবি ফলাফল


দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ্!
আমার এক চাচাতো বোন ছিল।
পুরুষরা যেমন মহিলাদেরকে
ভালবাসে,আমি তাকে তার চেয়েও
অধিক ভালবাসতাম। একদিন আমি
তার কাছে চেয়ে বসলাম (অর্থাৎ
খারাপ কাজ করতে চাইলাম)। কিন্তু
তা সে অস্বীকার করল যে পর্যন্ত
না আমি তার জন্য একশ’ দিনার নিয়ে
আসি। পরে চেষ্টা করে আমি তা
যোগাড় করলাম (এবং তার কাছে
এলাম)। যখন আমি তার দু’পায়ের
মাঝে বসলাম (অর্থাৎ সম্ভোগ
করতে তৈরী হলাম) তখন সে বলল, হে
আললাহর বান্দা! আল্লাহকে ভয়
কর। অন্যায়ভাবে মোহর (পর্দা)
ছিঁড়ে দিয়ো না। (অর্থাৎ আমার
সতীত্ব নষ্ট করো না)। তখন আমি
দাঁড়িয়ে গেলাম। হে আল্লাহ! আপনি
জানেন আমি যদি শুধু আপনার
সন্তুষ্টির জন্য এ কাজটি করে
থাকি, তবে আপনি আমাদের জন্য
পাথরটা সরিয়ে দিন। তখন পাথরটা
কিছুটা সরে গেল।

allah is on এর ছবি ফলাফল


তৃতীয় ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ্!
আমি এক ‘ফারাক’ চাউলের বিনিময়ে
একজন শ্রমিক নিযুক্ত করেছিলাম।
যখন সে তার কাজ শেষ করল
আমাকে বলল, আমার পাওনা দিয়ে
দাও। আমি তাকে তার পাওনা দিতে
গেলে সে তা নিল না। আমি তা দিয়ে
কৃষি কাজ করতে লাগলাম এবং এর
দ্বারা অনেক গরু ও তার রাখাল জমা
করলাম। বেশ কিছু দিন পর সে আমার
কাছে আসল এবং বলল, আল্লাহকে
ভয় কর (আমার মজুরী দাও)। আমি
বললাম, এই সব গরু ও রাখাল নিয়ে
নাও। সে বলল, আল্লাহকে ভয় কর,
আমার সাথে ঠাট্টা কর না। আমি
বললাম, আমি তোমার সাথে ঠাট্টা
করছি না, ঐগুলো নিয়ে নাও। তখন
সে তা নিয়ে গেল। হে আল্লাহ!
আপনি জানেন, যদি আমি আপনার
সন্তুষ্টি লাভের জন্য এ কাজটি করে
থাকি, তবে পাথরের বাকীটুকু সরিয়ে
দিন। তখন আল্লাহ পাথরটাকে
সরিয়ে দিলেন।
(বুখারী হা/২৩৩৩, ‘চাষাবাদ’ অধ্যায়,
অনুচেছদ-১৩; মুসলিম হা/২৭৪৩,
মিশকাত হা/৪৯৩৮)। #আমিন

”ক্রিস্টাল অ্যাওয়ার্ড’’ পেয়েছেন শাহরুখ খান।

বিশ্ব অর্থনীতি ফোরাম সম্মেলনে ‘ক্রিস্টাল অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন শাহরুখ খান।
অভিনয়ের জন্য অনেক পুরস্কার পেয়েছেন বলিউড তারকা শাহরুখ খান। কিন্তু অভিনয় আর চলচ্চিত্র প্রযোজনার পাশাপাশি এই চিত্রনায়ক জড়িত আছেন মানবসেবার সঙ্গে।

বলিউডের ‘কিং খান’ হওয়ার আগে তাঁকে আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে। তাই দারিদ্র্যের যন্ত্রণা ভালোই অনুভব করতে পারেন তিনি।

এ জন্য শাহরুখ সব সময় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সেবা করার চেষ্টা করেন। সম্প্রতি মানবসেবায় অবদানের জন্য ২০১৮ সালের বিশ্ব অর্থনীতি ফোরাম সম্মেলনে ‘ক্রিস্টাল অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন শাহরুখ খান।

গতকাল সোমবার এই পুরস্কার পাওয়ার পর টুইটারে শাহরুখ লিখেছেন, ‘২৪তম ক্রিস্টাল অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিত।’

এবার শাহরুখের সঙ্গে এই আয়োজনে আরও সম্মানিত হয়েছেন ব্রিটিশ গায়ক এলটন জন ও অস্ট্রেলিয়ার অভিনেত্রী কেট ব্ল্যানচেট।

ভারতে নারী ও শিশুদের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য শাহরুখ খানকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

‘মীর ফাউন্ডেশন’ নামে শাহরুখ খানের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অ্যাসিড হামলার শিকার এবং যেকোনো কারণে পুড়ে যাওয়া নারীদের নিয়ে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। আহত সেসব নারীর চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, কারিগরি শিক্ষা প্রদান, পুনর্বাসন ও উদ্দীপ্ত করার জন্য নানা পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া শাহরুখ খান ভারতে ক্যানসার আক্রান্ত শিশুদের জন্য হাসপাতালে বিশেষায়িত ওয়ার্ড নির্মাণ ও তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
পুরস্কার গ্রহণ করার সময় শাহরুখ তাঁর বোন শেহনাজ লালারুখ খান, স্ত্রী গৌরী খান ও মেয়ে সুহানা খানকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।

কারণ, জীবনের এই তিন নারীই নাকি শাহরুখের জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি পালটে দিয়েছেন। এত উত্তেজনার মধ্যেও মঞ্চে প্রিয় তারকা এলটন জনের সঙ্গে সেলফি তুলতেও ভোলেননি শাহরুখ। এর আগে ভারত থেকে অমিতাভ বচ্চন, শাবানা আজমী, এ আর রাহমান, মল্লিকা সারাভাই, রবি শংকর ও আমজাদ আলী খান এই পুরস্কার পেয়েছিলেন।

কুকুর পোষা বৈধ হবে কিনা..? জেনে নিন ইসলামে কি বলে…??

আমাদের নবী (সা.) কুকুর প্রীতির বিষয়ে কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে প্রথমে কুকুরকে হত্যা করার নির্দেশ দেন এর পরে বলেন যে ঘরে কুকুরের বা অন্য কোন প্রাণীর মূতি থাকবে সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করবে না।

আমাদের আশেপাশে অনেকেই এখন শখ করে বাড়িতে বিদেশী কুকুর পোষে এবং তার জন্য অনেক অর্থও খরজ করে। কেউ কেউ আবার ঘর সাজানোর জন্য বিভিন্ন প্রণীর মূতি ও ছবি রাখে।

আমার জানার বিষয় হচ্ছে শরীআতের দৃষ্টিতে এসবের হুকুম কী?

আমাদের দেশে ধনীদের কুকুর প্রীতি মূলত পশ্চিমা সভ্যতা থেকে আমদানি হয়েছে। আমাদের নবী সা.) এর আবির্ভাব হওয়ার পূর্বে আরবদের মাঝেও কুকুর প্রীতির সভ্যতা ছিলো।

কিন্তু আমাদের নবী (সা.) কুকুর প্রীতির বিষয়ে কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে প্রথমে কুকুরকে হত্যা করার নির্দেশ দেন এর পরে বলেন যে ঘরে কুকুরের বা অন্য কোন প্রাণীর মূতি থাকবে সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করবে না।

সুতরাং বোঝায় যাচ্ছে কুকুর পালন কারা ও কুকুরের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা কতটা জঘন্য। ঘর বা বাড়ি যদি সাজাতেই হয় তাহলে ফুর, ঝর্ণা, গাছ পালা ইত্যাদি দিয়ে সাজাতে তো কোন প্রকার মানা নেই। [ফাতাওয়ায়ে মাহমূদিয়া-৫ঃ ১৮৮ পৃঃ]

জেনে নিন সহজেই… স্মার্টকার্ড কবে পাবেন ??

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, মেশিন রিডেবল নতুন এই স্মার্টকার্ডে একটি ক্ষুদ্র চিপসে একজন নাগরিকের ৩২টি মৌলিক তথ্য আছে। বর্তমানে পাসপোর্ট, ব্যাংকিং, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স, শেয়ার ব্যবসাসহ ২৫টি সেবা গ্রহণের সুবিধা থাকছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরো বাড়বে।

কম্পিউটার, ল্যাপটপে এ-সংক্রান্ত একটি সফটওয়্যার ইনস্টল করে ফিঙ্গার প্রিন্টের সাহায্যে যেকোনো কার্ডধারী স্মার্টকার্ডের প্রাথমিক তথ্য যাচাই করতে পারবেন। খুব শিগগির এ প্রক্রিয়া চালু হতে যাচ্ছে।

দীর্ঘ পাঁচ বছরের অপেক্ষার পর গত ৩ অক্টোবর থেকে দেওয়া হচ্ছে উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা স্মার্টকার্ড।

তবে যাঁরা এখনো স্মার্টকার্ড পাননি, তাঁরা মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে জানতে পারেন, কবে পাবেন সেটি। এসএমএসের মাধ্যমে স্মার্টকার্ড পেতে আপনাকে যা করতে হবে :

প্রথমে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে sc স্পেস nid স্পেস ১৭ ডিজিটের এনআইডি নম্বর লিখতে হবে। যাঁদের এনআইডি নম্বর ১৩ ডিজিটের, তাঁরা প্রথমে জন্ম সাল যুক্ত করে নেবেন। এরপর তা যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে ১০৫ নম্বরে পাঠালেই ফিরতি মেসেজে পাবেন আপনার স্মার্টকার্ডের তথ্য।

তবে যাঁরা এখনো এনআইডি পাননি, তাঁরা প্রথমে sc লিখে স্পেস দেবেন। এরপর f লিখে স্পেস দিয়ে নিবন্ধন ফরম নম্বর লিখবেন। আবারও স্পেস দিয়ে d লিখে yyyy-mm-dd ফরম্যাটে জন্মতারিখ লিখে ১০৫ নম্বরে মেসেজ পাঠাবেন। ফিরতি মেসেজে আপনার এনআইডি কবে কোথায় কোন ক্যাম্পে দেওয়া হবে তা জানানো হবে।

এ ছাড়া মোবাইলের মাধ্যমে ১০৫ নম্বরে কল করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে স্মার্টকার্ড সম্পর্কে জানতে পারবেন।

ওয়েবসাইট ব্যবহার করেও আপনার স্মার্টকার্ড কবে, কোথায় দেওয়া হবে, তা জানতে পারবেন। এ জন্য যা যা করতে হবে :

১. এই লিংকে প্রবেশ করুন- https://services.nidw.gov.bd/card_distribution

২. আপনার এনআইডি নম্বর বা ভোটার নিবন্ধন ফরমের স্লিপ নম্বর, জন্মতারিখ ও ক্যাপচা লিখুন।

৩. ‘কার্ড বিতরণ তথ্য দেখুন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।

৪. এরপর যে উইন্ডো আসবে সেখানেই থাকবে কবে, কোন ক্যাম্পে আপনার স্মার্টকার্ডটি কবে দেওয়া হবে।

৫. যদি লেখা ওঠে ‘No data found for: Your card distribution date is not scheduled yet, please try later,’ তাহলে বুঝতে হবে আপনার এলাকায় কবে স্মার্টকার্ড দেওয়া হবে তার তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। আর কিছুদিন পর আবার ট্রাই করবেন।

জমজমের পানি অনেক বরকতময়। ..জমজমের পানি পানের ফজিলত জানেন কি ?

দুনিয়ায় সকল খাবার খাওয়া ও পানীয় পান করার সময় তা বসে খেতে হয়। শুধু ব্যতিক্রম জমজমের পানি পান করায়। এ বরকতময় পানি পান করার সময় দাঁড়িয়ে ক্বিবলামুখী হয়ে পান করতে হয়। জমজমের পানি পানের বরকত ‍তুলে ধরা হলো-

> জমজমের পানির বরকতে আল্লাহ তাআলা পানকারীর মনের সকল চাওয়া পূরণ করে দেন। হজরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, জমজমের পানি যে উদ্দেশ্য নিয়ে পান করবে তা পূরণ হবে। (মুনসাদে আহমদ)

> জমজমের পানি মানুষের ক্ষুধা নিবারণকারী এবং অসুস্থ ব্যক্তির জন্য শেফা। হাদিসে এসেছে, হজরত আবু জর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, জমজমের পানি বরকতময়, স্বাদ অন্বেষণকারীর খাদ্য এবং রোগীর ঔষধ।’ (তাবারানি, বাযযার)

>> বিশ্বনবি সবসময় জমজমের পানি সঙ্গে রাখতেন যার প্রমাণ পাওয়া যায় হজরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদিসে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের সাথে পাত্রে এবং মশকে করে জমজমের পানি বহন করতেন। তা  অসুস্থদের ওপর ছিটিয়ে দিতেন এবং তাদের পান করাতেন। (তিরমিজি, তারিখুল কবির, বাইহাকি)

>> এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়াতে এ পানিকে শ্রেষ্ঠ পানি হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, জমিনের ওপর সর্বোত্তম পানি হলো জমজমের পানি। (তাবারানি কাবির, ইবনে হিব্বান)

মুসলিম উম্মাহর সকল হজ পালনকারীদেরকে যথাযথ সম্মান ও আদবের সঙ্গে জমজমের পানি পান করার তাওফিক দান করুন। জমজমের পানি পানকারী সকলকে বরকত, সুস্থতাসহ সকল উপকারিতা দান করুন। হজের অন্যান্য কার্যাবলী যথাযথ আদায়ের তাওফিক দান করুন। আমিন।