জেনে নিন… মৃত্যুর পরও যে সকল আমল চলমান থাকে !!!

‘কুল্লু নাফসিন জায়েক্বাতুল মাউত’ অর্থাৎ প্রত্যেক জানদারকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে। মানুষ এক সময় মৃত্যুবরণ করে চলে যাবে পরপারে। যেমনিভাবে চলে গেছে আমাদের পূর্ববর্তীরা। চলে যাব আমরা। আমাদের পরে যারা আসবে তারাও মৃত্যু বরণ করবে। মৃত্যুর এ ধারা থাকবে বহমান। মৃত্যু পরকালীন জীবনে মানুষের কোনো নেক আমল করার সুযোগ নেই। কিন্তু এমন কিছু কাজ রয়েছে যা করলে কিয়ামত পর্যন্ত তার ছাওয়াব বা প্রতিদান বহমান থাকবে। এ বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদিস তুলে ধরা হলো :

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,‘যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তিনটি আমল ব্যতীত। এই তিনটি আমল হলো, প্রবহমান ছাদাকা, এমন ইলম যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় এবং এমন সুসন্তান যে তার জন্য দোয়া করে। (মুসলিম, তিরমিজি, মিশকাত)

১ প্রবাহমান ছাদাকা
এমন দান-অনুদান করা। এই অনুদানের অস্তিত্ব যতদিন থাকবে, তার ছাওয়াবা বা প্রতিদান ততদিন চলতে থাকবে। হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে মুসলিম অপর মুসলিমকে একটি কাপড় পড়াবে, যতক্ষণ ঐ কাপড়ের একটি টুকরাও তার গায়ে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত দানকারী আল্লাহর হেফাজতে থাকবে (মিশকাত)

২ উপকারী ইলম
যে ইলম আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা প্রচারে কাজে আসে। যে ইলমে আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বীনে দাওয়াতে কাজে আসে। যে লোক ইলম অর্জন করে সে ইলম অন্যকে শিক্ষা দিয়ে যায়। এভাবে ধারা চলতে থাকে যতদিন এ ধারা অব্যাহত থাকবে এর ছাওয়াব বা প্রতিদান মৃতব্যক্তি পেতে থাকবে।

৩ . সু-সন্তান-
মানুষ মৃত্যুর পূর্বে যদি এমন সন্তান রেখে যায়, যে সন্তান ইসলামের খেদমতে তথা আল্লাহর বিধি-বিধান পালন করে। নামাজ রোজাসহ আল্লাহর আনুগত্য হয়ে কাজ করে। সে সন্তানের দোয়া পিতা-মাতার আমল নামায় যোগ হতে থাকে। এভাবে প্রত্যেক সন্তান যদি তার পরবর্তী প্রজন্মকে সৎ শিক্ষা দিয়ে যান। যতদিন এ ধারা অব্যাহত থাকবে। তার আমল নামায় এর ছাওয়াব বা প্রতিদান যোগ হতে থাকবে।

পরিশেষে :
আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা, পৃথিবীতে প্রতি মানুষকে মৃত্যুর পূর্বে এই তিনটি আমল বা এর কোনো একটি করার তাওফিক দান করেন। আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথে মতে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মৃত্য ব্যক্তির নামে কোরআন খতম-চল্লিশা …. ইসলাম কি বলে…?

আমাদের সমাজে একটা রীতি প্রচলিত রয়েছে সেটা হলো- কোন ব্যক্তি যদি মারা যায়, তাহরের মারা যাওয়ার সাত দিনের পর অথবা মারা যাওয়ার পর প্রথম শুক্রবার আল কোরআনের হাফেজদের ডেকে কোরআন খতম করানো। এছাড়া মৃত্যুর চল্লিশ দিনের মাথায় বিশাল মজলিশের মাধ্যমে মেজবানের আয়োজন করা হয়। ইসলামে মূলত এগুলো জায়েজ আছে কিনা জানতে হলে নিচের বর্ণনাটি পড়ুন।

মেজবান বলতে বোঝায় মানুষকে খাওয়ানো। লোকদের খাওয়ানো একটি ভালো কাজ। বুখারি শরিফের মধ্যে রাসুল (সা.) বলেছেন, এটি একটি আফতারুল ইসলাম, ইসলামের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ কাজ। সুতরাং আপনি লোকদের খাওয়াইতে পারেন; কিন্তু সেখানে আনুষ্ঠানিকতা চার দিনে, ১০ দিনে, চল্লিশা ইত্যাদি করেন তাহলে আপনি সুন্নাহ পরিপন্থী কাজ করলেন।
সে ক্ষেত্রে সওয়াব তো দূরের কথা, বেদাত হওয়ার কারণে আপনি বড় ধরনের কবিরা গুনাহর মধ্যে লিপ্ত হয়ে গেলেন। সুতরাং এ ধরনের কাজ করবেন না, তাহলে আমলও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একাধিক হাদিস দ্বারা এই ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

তাই মেজবান বা চল্লিশা এ জাতীয় নাম না দিয়ে আপনি যেকোনো দিন আপনার সুবিধামতো আত্মীয়স্বজন বা গরিবদের খাওয়াতে পারেন, মৃত ব্যক্তিদের জন্য দোয়া করতে পারেন।
এরপর কোরআন খতম আপনি নিজে করবেন। কোরআন খতম করে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করবেন। মৃত ব্যক্তির জন্য কোরআন খতম করার বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (সা.) অথবা সাহাবিদের আমল দ্বারা সাব্যস্ত হয়নি। এটাও আমরা নিজেরাই আবিষ্কার করে নিয়েছি।

মৃত ব্যক্তির জন্য কোরআন খতম না করে কোরআন খতম আমরা নিজেরাই করব, তারপর আমরা লোকদের মেজবান খাওয়াব। আমরা মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান-খয়রাত করব, ছদকায়ে জারিয়া করব। আর বেশি বেশি করে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করব। এটা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কবরের উপর খেজুরের ডাল পুঁতে ছিলেন কেন।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কবরের উপর খেজুরের ডাল পুঁতে ছিলেন কেন।

হযরত মুহম্মদ (সাঃ) একদিন দু‘টি কবরের শাস্তি জানতে পেরে একখানা খেজুরের ডাল দুই টুকরা করে দু’টি কবরে গেড়ে দেন।
ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, আপনি এরূপ করলেন কেন? তিনি বললেন, হয়ত ডাল দু’টি শুকানো পর্যন্ত তাদের শাস্তি হালকা হয়ে থাকবে’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩৩৮)। কিন্তু তাদের এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।

কারণ তাদের শাস্তি হালকা হয়েছিল রাসূল (ছাঃ)-এর বিশেষ সুপারিশের জন্য। কাঁচা ডালের জন্য নয়। যা ছহীহ মুসলিমে জাবের (রাঃ) বর্ণিত হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। কাজেই খেজুরের কাঁচা ডাল বা অন্য কোন কাঁচা ডাল গেড়ে কবরের শাস্তি হালকা হবে বলে ধারণা করা একেবারেই ভ্রান্ত।

কেননা যদি বিষয়টি তাই হত তাহলে তিনি ডালটি চিরে ফেলতেন না। কেননা তাতে তো ডালটি দ্রুত শুকিয়ে যাবার কথা। আসল কারণ ছিল ঐ কবর দু’টিকে ঐ ডাল দ্বারা চিহ্নিত করা যে, তিনি তাদের জন্য সুপারিশ করেছেন (আলবানী, মিশকাত ১/১১০ পৃঃ; দ্রঃ ছালাতুর রাসূল ২৪২ পৃঃ)।

বিশ্বনবী (সাঃ) এর রওজা থেকে তাঁর লাশ চুরির চেষ্টার ভয়ংকর ঘটনা ইহুদী চক্রান্ত জানুন!

হিজরী ৫৫৭ সালের একরাতের ঘটনা। সুলতান নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) তাহাজ্জুদ ও দীর্ঘ মুনাজাতের পর ঘুমিয়ে পড়েছেন। চারিদিক নিরব নিস্তব্দ। কোথাও কোন সাড়া-শব্দ নেই। Continue reading “বিশ্বনবী (সাঃ) এর রওজা থেকে তাঁর লাশ চুরির চেষ্টার ভয়ংকর ঘটনা ইহুদী চক্রান্ত জানুন!”

ইসলামে অবৈধ শারীরিক সম্পর্কের শাস্তি কি ? জানতে চাইলে এখনি পড়ুন…..

অবৈধ শারিরক সম্পর্কের শাস্তি-

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না। এটা অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট আচরণ”। (সূরা বনী ইসরাঈল -৩২)

“আর যারা আল্লাহ ব্যতীত অপর কোন ইলাহের ইবাদত করে না, আল্লাহর নিষিদ্ধকৃত প্রাণী যথার্থ কারণ ব্যতীত হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। আর যে ব্যক্তি এসব কাজ করে, সে শাস্তি ভোগ করবে।

কিয়ামতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে সে হীন অবস্থায় চিরস্থায়ী হবে। তবে তারা নয়- যারা তাওবা করে এবং সৎ কাজ করে, আল্লাহ তাদের মন্দ কাজগুলো ভাল কর্ম দিয়ে পরিবর্তন করে দেন, আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াশীল”। (সূরা আল-ফুরকান ৬৮-৬৯)

“ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণী উভয়কে এক’শ ঘা করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকরী করবে এদের প্রতি দয়া যেন তোমাদের অভিভূত না করে। যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী হয়ে থাক। ঈমানদারদের একটি দল যেন এদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে”। (সূরা আন নূর ২)

আলেমগণ বলেছেন, এটাই হচ্ছে অবিবাহিত পুরুষ-মহিলার ব্যভিচারের ইহকালীন শাস্তি। যদি তারা বিবাহিত হয় বা জীবনে একবার হলেও বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল এমন হয়ে থাকে, তাহলে তাদেরকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করতে হবে।
এটা হাদীসের নির্দেশনা । এ মৃত্যুদণ্ডেও যদি তাদের পাপের পূর্ণ প্রায়শ্চিত্ত না হয় এবং তারা উভয়েই তওবা না করে মারা যায় তাহলে তাদেরকে জাহান্নামের আগুনে পোড়ানো লৌহদণ্ড দিয়ে শাস্তি দেয়া হবে।

যবূর কিতাবে বর্ণিত আছে, “ব্যভিচারী নারী-পুরুষের লিঙ্গ রশি দ্বারা বেঁধে জাহান্নামের আগুনে ঝুলানো হবে এবং লোহার ডান্ডা দিয়ে তাদের জননেন্দ্রিয়ে আঘাত করা হবে।

আঘাতের যন্ত্রণায় যখন চিৎকার করবে, তখন জাহান্নামের ফেরেশতারা বলবে; পৃথিবীতে যখন তোমরা আনন্দ ফুর্তি করতে, হাসতে এবং আল্লাহর কথা স্মরণ করতে না এবং তাঁকে লজ্জা পেতে না, তখন এ চিৎকার কোথায় ছিল”?

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন;

“কোন ব্যভিচার ব্যভিচারের সময়ে মুমিন অবস্থায় ব্যভিচার করে না। কোন চোর চুরির সময় মুমিন অবস্থায় চুরি করে না। কোন মদখোর মদ খাওয়ার সময় মুমিন অবস্থায় মদ পান করে না, কোন লুন্ঠনকারী লুন্ঠন করার সময় মুমিন অবস্থায় লুন্ঠন করে না”। [বুখারি,মুসলিম ও আবু দাউদ]

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন,

“কোন ব্যক্তি যখন ব্যভিচার করে তখন তার ভেতর থেকে ঈমান বেরিয়ে যায়, এরপর তা তার মাথার উপর ছায়ার মত অবস্থান করতে থাকে। এরপর সে যখন তা থেকে তওবা করে তখন তার ঈমান পুনরায় তার কাছে ফিরে আসে”। [আবু দাউদ]

হযরত আবু হুরায়রা বর্ণিত অন্য এক হাদীসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন,

“যে ব্যক্তি ব্যভিচার করে অথবা মদ পান করে, আল্লাহ তার কাছ থেকে ঈমান ঠিক এমনভাবে কেড়ে নেন, যেমন কোন মানুষ তার মাথার উপর দিয়ে জামা খুলে থাকে”।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন,

“কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তিন ব্যক্তির সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্রও করবেন না এবং তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক কঠোর শাস্তি নির্ধারিত থাকবে। তারা হচ্ছে বৃদ্ধ ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী শাসক এবং অহংকারী গরীব”। [মুসলিম ও নাসায়ী]

হযরত ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,

আমি বলেছিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বড় পাপ কি? তিনি বললেন, আল্লাহর সমকক্ষ কাউকে নির্ধারণ করা। আমি বললাম, এটা নিশ্চয়ই জঘন্যতম গুনাহ।

তারপর কি ? তিনি বললেন; তোমার সন্তান তোমার সাথে আহারে বিহারে অংশ নিবে এ আশংকায় সন্তানকে হত্যা করা। আমি বললাম, এরপর কি? তিনি বললেন, তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া। [বুখারি ও মুসলিম]

বুখারি শরীফে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্বপ্নের বিবরণ সম্বলিত যে হাদীসটি হযরত সামুরা বিন জুনদুব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে উল্লেখ রয়েছে এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন;

“জিবরাঈল ও মীকাঈল (আলাইহি সালাম) তাঁর কাছে এলেন এবং আমি তাঁদের সাথে পথ চলতে শুরু করলাম। এক পর্যায়ে আমরা বড় একটা চুল্লির কাছে এসে পৌঁছলাম। সে চুল্লির উপরি অংশ সংকীর্ণ ও নিম্নভাগ প্রশস্ত। ভেতরে বিরাট চিৎকারও শোনা যাচ্ছিল।

আমরা চুল্লিটার ভেতরে দেখতে পেলাম উলংগ নারী ও পুরুষদেরকে। তাদের নিচ থেকে কিছুক্ষণ পর পর এক একটা আগুনের হলকা আসছিল আর তার সাথে সাথে আগুনের তীব্র দহনে তারা প্রচন্ডভাবে চিৎকার করছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম; হে জিবরাঈল! এরা কারা ? তখন তিনি বললেনঃ এরা ব্যভিচারী নারী ও পুরুষ”।

মহান আল্লাহর বাণী; “জাহান্নামের সাতটি দরজা থাকবে”- এ আয়াতের তাফসীরে হযরত আতা (রহ) বলেন,

“ এ সাতটি দরজার মধ্যে সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত, সবচেয়ে বেশি দুঃখে পরিপূর্ণ ও সবচেয়ে ভয়ংকর দরজা হবে যারা জেনে-শুনে ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তাদের দরজা”।

ইমাম মাকহুল দামেস্কী (রহ) বলেনঃ জাহান্নামবাসীদের নাকে একটা উৎকট দুর্গন্ধ ভেসে আসবে। তারা বলবে এমন দুর্গন্ধ আমরা ইতিপূর্বে আর কখনো অনুভব করিনি। তখন তাদেরকে বলা হবে, এ হচ্ছে ব্যভিচারীদের জননেন্দ্রিয় থেকে বেরিয়ে আসা দুর্গন্ধ।

তাফসীরের বিশিষ্ট ইমাম ইবনে যায়েদ (রহ) বলেন, ব্যভীচারীদের জননেন্দ্রিয়ের দুর্গন্ধ জাহান্নামবাসীর জন্যে সবচেয়ে বেশি কষ্ট বয়ে আনবে।

আল্লাহ হযরত মূসা আলাইহি সালাম কে সর্বপ্রথম যে দশটি আয়াত দিয়েছিলেন এর একটি ছিল এরুপ:

“ তুমি চুরি কর না এবং ব্যভিচার কর না। যদি কর তাহলে তোমার কাছ থেকে আমার চেহারা ঢেকে ফেলব”।

আল্লাহর নবী মূসা(আ) কে যদি এরুপ কঠোর কথা উচ্চারণ করা হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে অন্যদের অবস্থা কত ভয়াবহ তা সহজেই অনুমান করা যেতে পারে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

ইবলীস তার বাহিনীকে পৃথিবীর চারদিকে ছড়িয়ে দেবার সময় বলে, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন মুসলমানকে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্ত করতে পারবে, আমি তার মাথায় মুকুট পরিয়ে তাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করব।

দিন শেষে এক একজন করে এসে ইবলীসে কাছে নিজের সাফল্যের বর্ণনা দিতে থাকবে। কেউ বলে; আমি অমুককে কুপ্ররোচনা দিয়ে তার স্ত্রীকে তালাক দিতে প্রেরণা যুগিয়েছি এবং সে তালাক দিয়েছে।

ইবলীস বলেঃ “তুমি উল্লেখযোগ্য তেমন কিছুই করনি। সে আর এক মহিলাকে বিয়ে করবে”। এরপর অন্যজন এসে বলেঃ আমি অমুককে ক্রমাগত কুপ্ররোচনা দিয়ে তার ভাইয়ের সাথে তার শত্রুতা সৃষ্টি করে দিয়েছি।

ইবলীস বলেঃ ‘তুমিও তেমন কিছু করনি। তাদের অচিরেই মীমাংসা হয়ে যাবে’। এরপর অপর একজন এসে বলে আমি অমুককে এক নাগাড়ে ক্রমাগত প্ররোচনা দিতে দিতে ব্যভিচারে লিপ্ত করেছি। একথা শুনে ইবলীস তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলবেঃ তুমি একটা কাজের মত উত্তম কাজ করেছ। এরপর তাকে ডেকে নিয়ে তার মাথায় মুকুট পরিয়ে দেবে।

আল্লাহ আমাদেরকে শয়তান ও তার বাহিনীর কবল থেকে রক্ষার জন্যে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“ঈমান একটি উত্তম পোশাক, যা আল্লাহ তাকে ইচ্ছা করেন তাকেই পরিধান করান। আর কোন বান্দা যখন ব্যভিচার করে তখন তার কাছ থেকে তিনি ঈমানের পোশাক খুলে নেন। এরপর তওবা করলে তাকে পুনরায় এ পোশাক ফিরিয়ে দেয়া হয়”।[বায়হাকী, তিরমিযি, আবু দাউদ ও হাকেম]অন্য এক হাদীসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

“হে মুসলমানগণ ! তোমরা ব্যভিচার পরিত্যাগ কর। কেননা এর ছয়টি শাস্তি রয়েছে। মন্দ পরিণতি এর মধ্যে তিনটি দুনিয়াতে ও তিনটি আখেরাতে প্রকাশ পাবে। যে তিনটি শাস্তি দুনিয়াতে হয় তা হচ্ছে, তার চেহারার ঔজ্জ্বল্য বিনষ্ট হয়ে যাবে, তার আয়ুষ্কাল সংকীর্ণ হয়ে যাবে এবং তার দারিদ্রতা চিরস্থায়ী হবে।

আর যে তিনটি শাস্তি আখেরাতে প্রকাশ পাবে তা হচ্ছে, সে আল্লাহর অসন্তোষ, কঠিন হিসাব ও জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে”। [বায়হাকী]

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন,

“যে ব্যক্তি মদ খাওয়া অবস্থায় মারা যায় আল্লাহ তাকে গাওতা নামক ঝর্ণার পানি পান করাবেন। গাওতা হল ব্যভিচারীণী নারীদের যোনিদেশ থেকে নির্গত পুঁজ ও দূষিত তরল পদার্থের ঝর্ণা যা জাহান্নামে প্রবাহিত থাকবে। এরপর তা মদপান করা অবস্থায় মারা যাওয়া লোকদের পান করানো হবে। [আহমদ]

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন,

“আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করার পর অবৈধভাবে কোন মহিলার সাথে সহবাস করার মত বড় পাপ আর নাই”।[আহমদ, তাবারানী]

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন,

“জাহান্নামে একটা হ্রদ আছে। এতে বহু সংখ্যক সাপের বসবাস। প্রতিটি সাপ উটের ঘাড়ের সমান মোটা। সে সাপগুলো নামায তরককারীদেরকে দংশন করবে। একবারের দংশনেই তার দেহে সত্তর বছর পর্যন্ত বিষক্রিয়া থাকবে। এরপর তার গোশত ঝরে পড়বে। এছাড়া জাহান্নামে আরো একটা হ্রদ রয়েছে ,যাকে ‘দুঃখের হ্রদ’ বলা হয়।

এতেও বহু সাপ ও বিচ্ছুর বসবাস। প্রতিটা বিচ্ছু এক একটা খচ্চরের সমান। এর সত্তরটি হুল রয়েছে । প্রত্যেকটি হুল বিষে পরিপূর্ণ। সে বিচ্ছু ব্যভিচারীকে দংশন করে সমস্ত বিষ তার দেহে ঢেলে দিবে। এতে সে এক হাজার বছর পর্যন্ত বিষের যন্ত্রণা ভোগ করবে। এরপর তার গোশত খসে পড়ে তার জননেন্দ্রীয় থেকে পুঁজ, নোংরা তরল পদার্থ নির্গত হবে”।

অন্য এক হাদীসে বর্ণিত রয়েছে,

যে ব্যক্তি কোন বিবাহিত মহিলার সাথে ব্যভিচার করবে তাদের উভয়ের উপর মুসলিম উম্মাহর অর্ধেক আযাব নিপতিত হবে। কিয়ামতের দিন আল্লাহ এ মহিলার স্বামীকে তার সৎ কর্মের বিচারের দায়িত্ব অর্পণ করে জিজ্ঞেস করবেন, তার স্ত্রী যে অপকর্ম করেছে তা সে জানত কিনা ? যদি সে জেনে থাকে তাহলে এ কুকর্ম প্রতিহত করতে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে থাকে তাহলে আল্লাহ তার উপর জান্নাত হারাম করে দিবেন।

কেননা, আল্লাহ জান্নাতের দরজার উপর এ মর্মে লিখে রেখেছেন, দায়ূসের জন্য জান্নার হারাম। দায়ূস হচ্ছে সে ব্যক্তি, যার পরিবারে অশ্লীল কার্যকলাপ চলতে থাকা সত্ত্বেও, সে তা জেনে নীরবতা পালন করে এবং একে প্রতিহত করার কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করে না।

হাদীসে আরো উল্লেখ রয়েছে,

যে ব্যক্তি কোন মহিলাকে কুমতলবের ইচ্ছা নিয়ে স্পর্শ করবে, কিয়ামতের দিন সে এমনভাবে আসবে যে তার হাত তার ঘাড়ের সাথে যুক্ত থাকবে। সে যদি এ নারীকে চুমু দিয়ে থাকে, তাহলে তার ঠোঁট দুটিকে আগুনের কাঁচি দিয়ে কেঁটে ফেলা হবে।

আর যদি তার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়ে থাকে তাহলে তার দুই উরু সাক্ষী দিবে, আমি অবৈধ কাজের জন্য আরোহণ করেছিলাম। তখন আল্লাহ তার দিকে ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকাবেন এবং এতে সে অপমান বোধ করে গোয়ার্তুমি করে বলবে ; আমি এ কাজ করিনি। তখন তার জিহ্বা তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়ে বলবে, ‘আমি অবৈধ বিষয়ে কথা বলেছিলাম’।

তার হাত সাক্ষী দিবে, ‘আমি অবৈধ বস্তু ধরেছিলাম’। এরপর চক্ষু বলবে, ‘ আমি অবৈধ বস্তুর দিকে তাকাতাম’। তার দুখানা পা বলবে, ‘ আমি ব্যভিচার করেছি’। প্রহরী ফেরেশতারা বলবে, ‘ আমি শুনেছি’।

অন্য ফেরেশতা বলবে, ‘আর আমি লিখে রেখেছি’। আর আল্লাহ বলবেন, ‘আমি জেনেছি এবং লুকিয়ে রেখেছি’। এরপর আল্লাহ বলবেন, ‘হে ফেরেশতাগণ! একে পাকড়াও করে আমার আযাব ভোগ করাও। কেননা যে ব্যক্তির লজ্জা কমে যায় তার উপর আমার ক্রোধের অন্ত নাই’।

এ হাদীসের সমর্থনে সত্যতা নিম্নের আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয়ঃ

“যেদিন তাদের কৃতকর্মের বিরুদ্ধে তাদের জিহ্বা, তাদের হাত ও পা সাক্ষী দিবে”। [সূরা আন নূর-২৪]

ব্যভিচারের মধ্যে সবচেয়ে জঘন্যতম ধরনের ব্যভিচার হচ্ছে মাহরাম অর্থাৎ মা, বোন, খালা, সৎ মা, খালা, মেয়ে চিরনিষিদ্ধ মহিলাদের সাথে সংগম করা।

হযর‌ত বারা ইবন আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহু তায়ালা থেকে বর্ণিত,

“রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বারবার আমাকে এ মর্মে নির্দেশ প্রেরণ করেছিলেন, অমুক ব্যক্তিকে হত্যা করে তার সম্পদের এক পঞ্চমাংশ বাজেয়াপ্ত করার জন্য। কেননা সে নিজের সৎ মাকে বিবাহ করেছিল”।[হাকেম]

মহান আল্লাহ আমাদেরকে এসব ঘৃণ্য মহাপাপ থেকে আত্মরক্ষা করার জন্য তওফীক দান করুন।

কবরের আযাব থেকে বাঁচতে চান? নবীজি(সা) ও বুড়ি মায়ের এই ঘটনাটি অবশ্যই পড়ুন !!

কবরের আযাব – নবীজি সাঃ অনেকগুলো কবর দেখলেন । খুশী হলেন । শেষমেশ একটা কবরের সামনে গেলেন। উনার চেহারা মুবারকে ঘাম দেখা দিল । তিনি অস্হির হয়ে পড়লেন। দুঃচিন্তায় চেহারা কালো হয়ে উঠল। হয়রান পেরেশান হয়ে গেলেন তিনি।

একজন সাহাবী (রাঃ) উনার অবস্হা দেখে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এত পেরেশান কেন ?

‘হায়, হায়’ ! তিনি অস্হির হয়ে বললেন, ‘এই কবরের বাসিন্দার উপর ভয়ানক আযাব হচ্ছে । এমনই শাস্তি যা ভাষায় বলা যায় না । আহা ! এই ব্যক্তির কি উপায় ?’

বলে তিনি কবরে হাত মুবারক রেখে দোয়া করলেন । কিন্তু চেহারায় প্রশান্তি এলো না ।

তিনি বললেন, ‘দোয়া কবুল হচ্ছে না । কোন রহস্যময় কারণে । সাংঘাতিক বড় পাপ করেছে সে ।’

হুজুর (সাঃ) এর উপর অস্হিরতা বেড়েই চললো । তিনি বললেন, ‘ আমার উম্মতের উপর এমন কঠিন শাস্তি হচ্ছে আর আমি বাড়ী গিয়ে ঘুমাবো ?

তিনি একজন সাথীকে ডেকে বললেন, ‘যাও, মদীনার বাজারে । সেখানে আওয়াজ দিয়ে ডাকো যাদের আত্নীয়ের কবর এখানে রয়েছে । ‘

তারা এলো ।

তাদেরকে নিজ নিজ আত্নীয়ের কবরে দাড়াতে বললেন ।

সবাই দাড়ালো ।

কিন্তু আশ্চর্য্য ! ওই কবরের পাশে কেউ দাড়ালো না ।

বেদনায় নীল হয়ে গেলেন হুজুর (সাঃ) । অনেক পরে এলো এক বুড়ি । ধীর পায়ে । লাঠিতে ভর দিয়ে । তিনি দাড়ালেন সেই কবরের পাশে ।

হুজুরের পাক (সাঃ) স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন । তারপর বৃদ্ধাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এটা কার কবর ?’

‘আমার ছেলের ।’ বৃদ্ধা বললেন ।

‘আপনার ছেলের কবরে ভয়ানক শাস্তি হচ্ছে ।’

‘ইয়া রাসূলূল্লাহ ! এটা কি সত্যি ?’

‘সত্যিই ‘ ।

‘শুনে আমি খুব খূশী হলাম ।’

‘আল্লাহ মাফ করুন ! আপনি এ কি বলছেন মা ?’ সে আপনার সন্তান !’

শুনুন তাহলে, হে আল্লাহর রসূল ! এই বাচ্চা যখন আমার পেটে তখন তার বাবা মারা যায় । সে পৃথিবীর মুখ দেখল । তার কেউ ছিলো না । আমি নিদারুণ কষ্ট করে তাকে বড় করে তুললাম । তিল তিল করে । সে বিয়ে করল । স্ত্রীকে পেয়ে সে ভূলে গেল আমাকে । একদিন তার ভালোবাসার বউ কানে কানে কি যেন বলল । ছেলে রাগে অধীর হয়ে মারতে শুরু করল আমাকে । ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেলাম আমি । জ্ঞান হারালাম ।

হুশ ফিরলে আমি প্রার্থনা করলাম , প্রভুর দরবারে । দু’হাত তুলে । বললাম, ‘হে আল্লাহ ! তাকে কবরে শাস্তি দাও । অনন্ত কাল ধরে । দুনিয়াতে দিওনা । চোখের সামনে ছেলের কষ্ট সহ্য করতে পারব না । ‘

‘হে আল্লাহর রাসূল ! আমি এখন এজন্য খূশী যে আমার দোয়া কবূল হয়েছে । ‘

হুজুর (সাঃ) অত্যাচারিতা সরল প্রাণ এই বৃদ্ধার কথা শুনে চোখের পানি চেপে রাখতে পারলেন না । উনার মুক্তার মতো অশ্রু , গাল বেয়ে ফোটায় ফোটায় পড়তে লাগল ।

খানিকপর নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, ‘হে বৃদ্ধা মা ! তুমি তোমার ছেলেকে ক্ষমা করো । সে ভয়াবহ শাস্তি পাচ্ছে । ‘

বৃদ্ধা বললেন, ‘হে রাসূলূল্লাহ ! অন্য কিছু বলুন । ছেলেকে ক্ষমা করব না আমি ।’

নিরুপায় হয়ে হুজুর (সাঃ) আকাশের দিকে মূখ তূললেন । কাতর স্বরে বললেন, ‘হে আল্লাহ ! এই বৃদ্ধাকে কবরের শাস্তি দেখাও ।’

চোখের পলকে ঘটনা ঘটল ।

বৃদ্ধার চোখ বিস্ফোরিত হলো । সে প্রাণ ফাটা চিৎকার করে বেহুশ হয়ে গেল ।

খানিক পর ।জ্ঞান ফিরল বৃদ্ধার । থর থর করে কাপছেন তিনি । তীর খাওয়া কবুতরের মত ।

তিনি বললেন, ‘ওগো খোদা ! কবরের আযাব কি এমন ভীষণ ! এমন ভয়ানক ! ছেলের পুরো শরীর থেকে চামড়া উঠিয়ে নেয়া হয়েছে । তাকে মুগুর পেটা করা হচ্ছে । হে আল্লাহর রাসূল ! আমি তাকে ক্ষমা করলাম । আপনি দোয়া করুন । সে যেন মুক্তি পায় । ‘

হুজুর (সাঃ) হাত উঠালেন ।

দোয়া শেষ । উনার চেহারা উজ্জ্বল ।

প্রকৃতিতে, আকাশে বাতাসে নেমে এল সুমহান সমাহিত পরিবেশ ।

গভীর প্রশান্তি – দয়াল নবীর চেহারা মুবারকে । চারদিকে শান্তির ছায়া।(আমীন)

রাসুল (সাঃ)-এর এই ভবিষ্যতবাণী কি ১০০% মিলে যায় নি?

রাসুল (সাঃ) বলেছেন, সিগ্রই আমার উম্মতের কিছু লোক মূর্তিপূজা করবে এবং কিছু লোক মুরতিপুজারিদের সাথে মিশে যাবে। (সুনান ইবনে মাজাহ- ৩৯৫২)

দই ডান আগে দেখলাম হোলি খেলছে মানুষ……কয়েকটা মসুলমানদের সন্তানদেরও দেখলাম ঐ খানে..এই ধরনের কোনো উৎসব মসুলমানদের হতে পারে না .
আজকেই কি সেই দিন নয়? হিন্দুরা তাদের ধর্ম পালন করুক এতে তাদের স্বাধীনতা রয়েছে কিন্তু নতুন ডায়লগ বের হয়েছে- ধর্ম যার যার উৎসব সবার, বাহ! কি সুন্দর শ্লোগান, মহান স্রস্টাকে বাদ দিয়ে মূর্তির পুজা করা হচ্ছে সেখানে নাকি মুসলিম উৎসব করতে যাবে, এমন উৎসব করার চেয়ে মুসলিমের মৃত্যুও ভালো কারণ মারা গেলে দুনিয়াটা শেষ হলেও আখিরাতটা ঠিক থাকলো কিন্তু যেখানে শিরকে আকবার অর্থাৎ সবচেয়ে বড় শিরক হচ্ছে সেখানে মুসলিম যদি যায়, তাঁর কি আখিরাতেঁ আগুন ছাড়া আর কিছু থাকবে?

তারপর তো আমাদের নবীজি সিরিয়ার চলমান সহিংসতা নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে গেছেন তাও মিলে গেছে

শাম দেশ সিরিয়া হচ্ছে পুরো পৃথিবীর প্রাণ ভোমরা, সিরিয়ার অশান্ত মানিই পুরো পৃথিবীর অশান্তি, প্রতি মহূর্তে মনে পড়ছে, বিশ্ব নবী রাসূল (সাঃ) এর নিচের ভবিষ্যবাণীটি…

ইবনুল মুসাইয়াব (রাঃ) বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন:
শাম দেশে সিরিয়ার ব্যাপক ফেতনা দেখা দিবে, যখন উক্ত দেশের কোন প্রান্তের ফেতনা একটু শান্ত হবে তখনই অন্য প্রান্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠবে।”(( কিতাবুল আল-ফিতান: ৬৭৩.))
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
খাদ্য গ্রহণকারীরা যেভাবে খাবারের পাত্রের চতুর্দিকে একত্র হয়, অচিরেই বিজাতিরা তোমাদের বিরুদ্ধে সেভাবে একত্রিত হবে। এক ব্যক্তি বললো, সেদিন আমাদের সংখ্যা কম হওয়ার কারণে কি এরুপ হবে? তিনি বললেন: তোমরা বরং সেদিন সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে; কিন্তু তোমরা হবে প্লাবনের স্রোতে ভেসে যাওয়া আবর্জনার মত। আর আল্লহ্ তোমাদের শক্রদের অন্তর হতে তোমাদের পক্ষ হতে আতষ্ক দূর করে দিবেন, তিনি তোমাদের অন্তরে ভীরুতা ভরে দিবেন। এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! ‘আল-ওয়াহন কি? তিনি বললেন: দুনিয়ার মোহ এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা।”(( সুনানে আবু দাউদ: হাদীস নং- ৪২৯৭.))

আবু দারদা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন:
যুদ্ধের দিন মুসলিমদের শিবির স্হাপন করা হবে “গূতা” নামক শহরে, যা #সিরিয়ার সর্বোত্তম শহর দামিশকের পাশে অবস্হিত।”(( সুনানে আবু দাউদ: হাদীস নং- ৪২৯৮.))

আজ_আমরা_সেই_পরিস্হিতির_মুখোমুখি।
ইয়া মহান আল্লাহ্! রাসিয়া সহ মালাউন আসাদ শয়তান সহকারে পৃথিবীর সকল জালেমদের কে ধ্বংস করে দিন এবং মজলুম সিরিয়াবাসীকে হেফাজত করুন..~হে পরাক্রমশালী আল্লাহ

টেলিভিশন থাকলে কি ঘরে ফেরেশতা ঢুকবে ?? জেনে রাখুন জবাব !!

প্রশ্ন : আমি শুনেছি যে, কোনো মানুষ বা কোনো জীব-জানোয়ারের ছবি থাকলে সেই ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না। আমাদের ঘরের ভেতরে টেলিভিশনে যখন বিভিন্ন অনুষ্ঠান চলে, ওই মুহূর্তে ফেরেশতা আসবে কি? টেলিভিশন থাকলে কি ঘরে ফেরেশতা ঢুকবে? জেনে রাখুন জবাব।

উত্তর : টেলিভিশনকে দুনিয়ার কোনো আলেমই ছবি হিসেবে আখ্যায়িত করেননি। টেলিভিশনের যে ছবি রয়েছে, সেগুলো আসলে ওই প্রকারের কোনো ছবি নয়, যে ছবি ঘরে থাকলে ফেরেশতা ঘরের মধ্যে প্রবেশ করবে না।এ ধরনের ছবি যেকোনো সময় এসে আবার চলে যাচ্ছে। এই ছবির কারণে ফেরেশতা প্রবেশ করবে না অথবা টেলিভিশন ঘরে থাকলে ফেরেশতা প্রবেশ করবে না, এটি ভুল বক্তব্য, এটি সহিহ বা বিশুদ্ধ বক্তব্য নয়।

রাসুল (সা:) এর মৃত্যুর করুন কাহিনি !

ফাতিমা (রাঃ) তার চোখ বন্ধ করে ফেললেন,আলী (রাঃ)তার দিকে উপুড় হয়ে বসলেন,জিবরাঈল তার মুখটা উল্টা দিকে ফিরিয়ে নিলেন।মোহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনের শেষ মূহুর্ত চলছে। হঠাৎ সেখানে একজনলোক এসে বললেন’সালাম’আমি কি ভিতরে আসতে পারি?ফাতিমা (রাঃ)বললেন,দুঃখিত আমার পিতা খুবই অসুস্থ।ফাতিমা (রাঃ)দরজা বন্ধ করে রাসূলের কাছে গেলেন।
মুহাম্মদ (সাঃ)বললেন,কে সেই লোক?ফাতিমা বললেন, এইপ্রথম আমি তাকে দেখেছি।আমি তাকে চিনি না।রাসূল বললেন”শুনো ফাতিমা,সে হচ্ছে আমাদের এই ছোট্ট জীবন কবজ করা ফেরেশতা “আজরাঈল।”এটা শুনে ফাতিমার অবস্থা তখন ক্রন্দনরত বোবার মতো হয়ে গিয়েছে।

রাসূল (সাঃ)বললেন,হে জিবরাঈল আমার উম্মতের কি হবে?আমার উম্মতের নাজাতের কি হবে?জিবরাঈল (আঃ) বললেন,”হে রাসুল আপনি চিন্তা করবেননা,আল্লাহ ওয়াদা করেছেন আপনার উম্মতের নাজাতের জন্যে।

”মৃত্যুর ফেরেশতা ধীরে ধীরে রাসূলের কাছে এলেন জান কবজ করার জন্যে।মালাইকাতমউত আজরাইল আরো কাছে এসে ধীরে ধীরে রাসূলের জান কবজ করতে থাকলেন।পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জিব্রাইলকে রাসূল বললেন,গোঙানির সাথে, “ওহ জিবরাঈল এটা কেমন বেদনা দায়ক জান কবজ করা।”ফাতিমা (রাঃ) তার চোখ বন্ধ করে ফেললেন,আলী (রাঃ)তার দিকে উপুড় হয়ে বসলেন,জিবরাঈল তার মুখটা উল্টা দিকে ফিরিয়ে নিলেন।রাসুল(সাঃ) বললেন,”হে জিবরাঈল তুমি মুখটা উল্টা দিকে ঘুরালে কেন?”আমার প্রতি কি তুমি বিরক্ত?জিবরাঈল বললেন, “হে রাসূলুল্লাহ সাকারাতুল মউতের অবস্থায় আমি আপনাকে কিভাবে দেখে সহ্য করতে পারি।”ভয়াবহ ব্যাথায় রাসূল ছোট্ট একটা গোঙানি দিলেন।

রাসূলুল্লাহ বললেন,হে আল্লাহ সাকারাতুলমউতটা (জান কবজের সময়)যতইভয়াবহ হোক,সমস্যা নেই,আমাকে সকল ব্যথা দাও আমি বরণ করবো,কিন্তু আমার উম্মাতকে ব্যথা দিওনা।“রাসূলের শরীরটা ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে আসতে লাগলো।তার পা, বুক কিছুই নড়ছে না এখন আর।রাসূলের চোখের পানির সাথে তার ঠোঁটটা কম্পিত ছিলো,তিনি কিছু বলবেন মনে হয়। আলি (রাঃ) তার কানটা রাসূলের মুখের কাছে নিয়ে গেলো।রাসূল বললেন,”নামাজ কায়েম করো এবং তোমাদের মাঝে থাকা দূর্বলদের যত্ন নাও।”রাসূলের ঘরের বাইরে চলছে কান্নার আওয়াজ,সাহাবীরা একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে উচ্চস্বরে কান্নারত।আলী (রাঃ) আবার তার কানটা রাসূলের মুখের কাছে ধরলো,রাসূল চোখ ভেজা অবস্থায় বলতে থাকলেন, “ইয়া উম্মাতি,ইয়া উম্মাতি,ইয়া উম্মাতি।” এই ছিল আমাদের মহানবী (সাঃ)মৃত্যুর সময়তার প্রার্থনা।

অনেক আযান একসঙ্গে শুনলে জবাব দিতে হবে কীভাবে ?? জেনে নিন !!

আজানের সময় হলে চারদিক থেকে ভেসে আসে আজানের সুর। মিনারে মিনারে আজান। এত আজানের ভিড়ে জবাব দিত হবে কীভাবে ?

মূলত সব আজানের জবাব দেয়াই উত্তম। তবে সব আজানের জবাব দিতে না পারলে সর্বপ্রথম যে আজান শোনা যাবে তার জবাব দিতে হবে। প্রথম আযান নিজ মহল্লায় হোক অথবা অন্য মহল্লায়।

অনেক সময় রেডিও টিভিতে আযান শোনা যায়। তখনও কী জবাব দিতে হবে? শরয়ী বিশেষজ্ঞদের মতামত হলো, হাদীস শরীফে আজানের উত্তর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে তা সরাসরি মুআজ্জিনের থেকে শোনা আজানের বিষয়ে।

নবীজি বলেছেন, যখন তোমরা মুআজ্জিনকে বলতে শুনবে তখন তোমরাও তার অনুরুপ বল। রেডিও বা টেলিভিশনে সাধারণত সরাসরি আজান সম্প্রচার করা হয় না। বরং রেকর্ডকৃত। ধারণকৃত বা রেকর্ডকৃত আজানের জবাব দেওয়া সুন্নাত নয়। (মুসলিম ১/ ১৬৬, বাদায়েউস সানায়ে, ১/২৭৩ )।