দাড়ি রাখা সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা দূর করুন…!!

আমাদের দেশে দাড়ি রাখা সম্পর্কে
একটি ভ্রান্ত ধারণা আছে, সেটা হল
”দাড়ি রাখা সুন্নত; অতএব দাড়ি রাখলে ভাল
আর না রাখলেতেমন কোন সমস্যা
নেই, একটা সুন্নত পালন করা হল না এই
আর কি।” জেনে রাখুন, এটা সম্পূর্ণ
একটা ভুল ধারণা।
দাড়ি রাখা কোন অর্থে সুন্নত আর
কোন অর্থে ফরয বা ওয়াজিব আগে
সেটা বুঝার চেষ্টা করুন। ইসলামে
শরীয়তের বিধানের প্রধান সুত্র
হচ্ছে কুরআন ও রাসুল (সাঃ) এর সহীহ
সুন্নাহ অর্থাৎ সহীহ হাদিস। পবিত্র
কুরআনে আল্লাহ্পাক যেসকল বিষয়ে
আদেশ দিয়েছেন ও নিষেধ
করেছেন তা পালন করা আমাদের জন্য
ফরয। আশা করি বিষয়টি সকলের কাছেই
পরিষ্কার অর্থাৎ বুঝতে কষ্ট হবার কথা
নয়।
এবার আসুন, দাড়ি রাখা কোন অর্থে
সুন্নত আর কোন অর্থে ফরয বা
ওয়াজিব সেটা জানার ও বুঝার চেষ্টা করি।
আল্লাহ্পাক পবিত্র কুরআনে বহু
আয়াতে রাসুল (সাঃ) এর নির্দেশ মেনে
চলার জন্য আমাদের বলেছেন। তাঁর
মানে হল, রাসুল (সাঃ) যে সকল বিষয়ে
আমাদের আদেশ ও নিষেধ
করেছেন তা মেনে চলাও আমাদের
জন্য ফরয/ওয়াজিব । কুরআনের
আয়াতগুলো এখানে দেয়া হল –
রাসূলের আহবানকে তোমরা
তোমাদের একে অপরকে
আহ্বানের মত গণ্য করো না। আল্লাহ
তাদেরকে জানেন, যারা তোমাদের
মধ্যে চুপিসারে সরে পড়ে। অতএব
যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে,
তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে,
বিপর্যয় তাদেরকে স্পর্শ করবে
অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদেরকে
গ্রাস করবে। [আন-নুরঃ ৬৩]
আর তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ ও
রাসূলের, যাতে তোমাদের উপর
রহমত করা হয়। [আল-ইমরানঃ ১৩২]
যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস,
তাহলে আমাকে [মুহাম্মদ সঃ] অনুসরণ
কর, যাতে আল্লাহও তোমাদিগকে
ভালবাসেন [আল ইমরানঃ ৩১]
হে ঈমানদারগণ, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের
নির্দেশ মান্য কর এবং শোনার পর তা
থেকে বিমুখ হয়ো না। [আল-আনফালঃ
২০]
আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের
আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ
ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন
ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর
রসূলের আদেশ অমান্য করে সে
প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট তায় পতিত হয়। [সূরা
আল আহজাবঃ ৩৬]
বলুনঃ আল্লাহর আনুগত্য কর এবং
রসূলের আনুগত্য কর। অতঃপর যদি
তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তার
উপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্যে সে
দায়ী এবং তোমাদের উপর ন্যস্ত
দায়িত্বের জন্যে তোমরা দায়ী।
তোমরা যদি তাঁর আনুগত্য কর, তবে সৎ
পথ পাবে। রসূলের দায়িত্ব তো
কেবল সুস্পষ্টরূপে পৌছে দেয়া।
[আন-নুরঃ ৫৪]
রাসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা
গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা
থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয়
কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।
[আল-হাশরঃ ৭]
দাড়ি রাখার জন্য রাসুল (সাঃ) এর নির্দেশ –
ইবনে ওমর (রাঃ) সূত্রে নবী
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে
বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তোমরা
মুশরিকদের বিপরীত করবেঃ দাড়ি লম্বা
রাখবে, গোঁফ ছোট করবে ।
(বুখারী শরীফ, নবম খণ্ড, হাদিস নং –
৫৪৭২ ইফা)
তাহলে বুঝা গেল যে, শরীয়তের
বিধানের দ্বিতীয় সুত্র যেহেতু
সহীহ হাদিস কাজেই সেই অর্থে দাড়ি
রাখা সুন্নত। আর পবিত্র কুরআনে
আল্লাহ্পাক রাসুল (সাঃ) এর আদেশ ও
নিষেধ মেনে চলার জন্য সরাসরি
নির্দেশ দিয়েছেন কাজেই সেই
অর্থে রাসুল (সাঃ) এর নির্দেশ মেনে
চলা আমাদের জন্য ফরয। আরও একটি
বিষয় সরন রাখা প্রয়োজন যে, রাসুল
(সাঃ) জিবরাঈল (আঃ) এর মাধ্যমে প্রাপ্ত
আল্লাহ্পাকের নির্দেশ ব্যতিত কোন
কথা বা কাজের নির্দেশ বা নিষেধ
করতেন না।
দাড়ি রাখা সম্পর্কে উলামাগনের কেউ
বলেছেন যে, দাড়ি রাখা ফরজ। কারন
রাসূল (সা) আল্লাহ্ তা’আলার নির্দেশ
ব্যতিত কোন কথা বলতেন না আর তাই
দাড়ি রাখার ব্যাপারে রাসূল (সা) এর নির্দেশ
মানে আল্লাহ্ তা’আলারই নির্দেশ। আবার
কেউ বলেছেন যে, দাড়ি রাখা ওয়াজিব
আবার কেউ বলেছেন সুন্নাতে
মুয়াক্কাদা। আল্লাহ্ তা’আলা ভাল জানেন।
আশা করি, এবার সকলের দাড়ি রাখার
বিষয়ে আর কোন সন্দেহ থাকবে না।
আল্লাহ্পাক আমাদের সকলকে কুরআন
ও সহীহ সুন্নাহ মেনে জীবন চলার
তৌফিক দান করুন। আমীন।
দাড়ির বিধানটি শরীয়তের একটি মৌলিক ও
সাধারণ বিধান। একে নিছক আরবীয়
রীতি বা বিশেষ স্থান-কালের মধ্যে
সীমাবদ্ধ মনে করা মারাত্মক ভ্রান্তি।
সব কিছু আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা
জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন –
আমি প্রত্যেক বস্তু জোড়ায়
জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা
হৃদয়ঙ্গম কর। [আয-যারিয়াতঃ ৪৯]
পবিত্র তিনি যিনি যমীন থেকে উৎপন্ন
উদ্ভিদকে, মানুষকে এবং যা তারা জানে
না, তার প্রত্যেককে জোড়া জোড়া
করে সৃষ্টি করেছেন। [ইয়াসিনঃ ৩৬]
আমি (আল্লাহ) তোমাদেরকে জোড়া
জোড়া সৃষ্টি করেছি [আন্-নাবাঃ আয়াত ৮]
উপরের আয়াতত্রয় অনুযায়ী দাড়ির
মাধ্যমে মানুষকে দুই ভাগে ভাগ করা
যায়-
যথাঃ ১) দাড়িযুক্ত মানুষ (পুরুষ) ও ২)
দাড়িবিহীন মানুষ (মহিলা)।
কোন পুরুষকে যদি বলা হয় আপনি কি
মহিলা হতে চান ? কোন বিবেকবান
লোকই তা চাবে না । তাহলে আমরা
কেন আল্লাহ ও রাসুলের নির্দেশের
বিপরীত কাজ করি । অর্থাৎ দাড়ি ক্লিন
করে মহিলাদের আকার ধারন করি!!
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা বলেন,
“আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই
। ” [আর-রুমঃ ৩০]
এ প্রসঙ্গে শয়তানের একটা উদ্ধত
ঘোষণাও আল্লাহ তাআলা বান্দাদেরকে
জানিয়ে দিয়েছেন । আল্লাহ তা’আলা
বলেন,
শয়তান বললঃ আমি অবশ্যই তোমার
বান্দাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট অংশ
গ্রহণ করব। তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব,
তাদেরকে আশ্বাস দেব; তাদেরকে
পশুদের কর্ণ ছেদন করতে বলব এবং
তাদেরকে আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতি
পরিবর্তন করতে আদেশ দেব। যে
কেউ আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে
বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, সে প্রকাশ্য
ক্ষতিতে পতিত হয়। [আন-নিসাঃ ১১৮-১১৯]
”এবং তাদেরকে আদেশ করব, ফলে
তারা আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করবে।”
আয়াতের এ অংশের আলোচনায়
শাববীর আহমদ উসমানী রাহ.
বলেছেন, ‘দাড়ি মুন্ডানোও এ আকৃতি
পরিবর্তনের মধ্যে পড়ে ।’ (দেখুন :
তাফসীরে উসমানী (মূল) পৃ. ১২৫;
(অনুবাদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১/৪৪৬)
আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করার
প্রসঙ্গে তাফসীরে বয়ানুল কুরআন
বলেছেন, এটা ফাসেকী
কাজকর্মের অন্তর্ভুক্ত । যেমন দাড়ি
মুন্ডানো, শরীরে উল্কি আঁকা ইত্যাদি
।-তাফসীরে বয়ানুল কুরআন ১/২/১৫৭
বিখ্যাত তাবেয়ী ইমাম উবায়দুল্লাহ ইবনে
আবদুল্লাহ ইবনে উতবা রাহ. বলেন,
জনৈক অগ্নিপূজক আল্লাহর রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট
এসেছিল। তার দাড়ি মুন্ডানো ছিল ও
মোচ লম্বা ছিল। আল্লাহর রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
‘এটা কী?’ সে বলল, ‘এটা আমাদের
ধর্মের নিয়ম।’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘কিন্তু
আমাদের দ্বীনের বিধান, আমরা
মোচ কাটব ও দাড়ি লম্বা
রাখব।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা
১৩/১১৬-১১৭, হাদীস : ২৬০১৩)
পারস্যের সম্রাট কিসরা ইয়েমেনের
শাসকের মাধ্যমে রসুলুল্লাহ (সাঃ) এর
কাছে দু’জন দূত পাঠান। এদের দাড়ি ছিল
কামানো আর গোঁফ ছিল বড় বড়।
রসুলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে তাদের এই
অবয়ব এতই কুৎসিত লেগেছিল যে তিনি
মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে জিজ্ঞাসা
করেন, তোমাদের ধ্বংস হোক,
এমনটি তোমাদের কে করতে
বলেছে? তারা উত্তর দিল, আমাদের
প্রভু কিসরা। তিনি (সাঃ) তখন উত্তর দেন,
আমার রব্ব, যিনি পবিত্র ও সম্মানিত
আদেশ করেছেন যেন আমি দাড়ি
ছেড়ে দেই এবং গোঁফ ছোট রাখি।
(ইবনে জারির আত তাবারি, ইবন সা’দ ও
ইবন বিশরান কর্তৃক নথিকৃত। আল আলবানি
এক হাসান বলেছেন। দেখুন আল
গাযালির ফিক্বহুস সিরাহ ৩৫৯ পৃষ্ঠা)

* দাড়ি রাখা যাই হোক না কেন প্রকৃত
মুসলমান দাড়ি রাখবে, এটাই স্বাভাবিক ।
আমাদের দাড়িতে মানাক বা না মানাক আমরা
আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ) কে ভালবেসে
দাড়ি রাখব ।
এখন আপনি নিজেই ভেবে দেখুন,
আপনি কি করবেন। আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ)
এর নির্দেশ মানবেন নাকি সমাজের
মানুষের কাছে লজ্জার ভয়ে কিংবা
কাফির-মুশরিকদের অন্ধ অনুসরণ
করবেন?

ইতিহাসের সর্ব প্রথম মসজিদের অজানা কাহিনী…।

ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মসজিদ ‘কুবা মসজিদ’।
পবিত্র মসজিদে নববীর পর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও দক্ষিণ মদীনার দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ হচ্ছে এই কুবা মসজিদ। হিজরী প্রথম বর্ষে এই মসজিদটি নির্মিত হয়।

পবিত্র হাদীসে কুবা মসজিদের মর্যাদা এবং এর বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি এখানে অজু করে এক ওয়াক্ত নামাজ পড়বে সে এক উমরাহ হজের সমান সওয়াব লাভ করবে।’

জানা যায়, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) প্রতি শনিবার এখানে নামাজ পড়তে আসতেন। তিনি উটে চড়ে কিংবা পায়ে হেঁটে আসতেন এবং ২ রাকাত নামাজ পড়তেন। তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা:) প্রথম এই মসজিদটির সংস্কার করেন। খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ মসজিদটির প্রথম মিনার তৈরি করেন। পরবর্তীতে ৪৩৫ হিজরীতে আবু ইয়ালি আল-হোসায়নি কুবা মসজিদ সংস্কার করেন।

তিনি মসজিদের মিহরাব তৈরি করেন। ৫৫৫ হিজরীতে কামাল আল-দীন আল ইসফাহানি মসজিদে আরও বেশ কিছু সংযোজন করেন। এর পরবর্তী সময়ে ৬৭১, ৭৩৩, ৮৪০ ও ৮৮১ হিজরীতে উসমানী সাম্রাজ্যকালে মসজিদটি সংস্কার করা হয়। আধুনিককালে সৌদী শাসনামলে হজ্ব মন্ত্রণালয় মসজিদটির দায়িত্ব গ্রহণ করে- যা মূল ডিজাইনে অধিকতর সংস্কার এবং সংযোজন করে। বর্তমান কুবা মসজিদ ইসলামী ঐতিহ্যের পাশাপাশি আধুনিকতম সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি অনন্য স্থাপত্যও বটে। মসজিদটিতে একটি অভ্যন্তরীণ প্রাঙ্গনসহ কয়েকটি প্রবেশ দ্বার আছে। মসজিদের উত্তর দিক মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।

বর্তমানে মসজিদে ৪টি মিনার এবং ৫৬টি গম্বুজ রয়েছে। ১১২ বর্গমিটার এলাকাব্যাপী ইমাম এবং মোয়াজ্জিনের থাকার জায়গা, ১টি লাইব্রেরী, প্রহরীদের থাকার জায়গা ও সাড়ে ৪শ’ বর্গমিটার স্থানে ১২টি দোকানে একটি বাণিজ্যিক এলাকা বিদ্যমান। মসজিদে ৭টি মূল প্রবেশ দ্বার এবং ১২টি সম্পূরক প্রবেশ পথ রয়েছে। প্রতিটি ১০ লাখ ৮০ হাজার থার্মাল ইউনিট বিশিষ্ট ৩টি কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র মসজিদকে ঠাণ্ডা রাখছে। ঐতিহাসিক কুবা মসজিদ শ্বেতবর্ণের একটি অনন্য স্থাপত্যকর্ম, যা বহু দূর হতেও দৃষ্টিগোচর হয়।

হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর দেখা সর্বশ্রেষ্ঠ একটি স্বপ্ন !

হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রীতি ছিল এই যে, প্রতিদিন ফজরের নামাযের পর সাহাবীদের দিকে মুখ করে বসতেন এবং কেউ কোনো স্বপ্ন দেখেছে কি না বা কারো কিছু জিজ্ঞাসা আছে কি না জানতে চাইতেন।

কেউ কিছু জানতে চাইলে তাকে তিনি যথাযথ পরামর্শ দিতেন।

একদিন এরূপ জিজ্ঞাসা করার পর কেউ কিছু বলছে না দেখে তিনি নিজেই বলতে আরম্ভ করলেন।

আজ আমি অতি সুন্দর ও আশ্চর্য স্বপ্ন দেখেছি। দেখলাম, দুই ব্যক্তি আমার হাত ধরে আমাকে এক পবিত্র স্থানের দিকে নিয়ে চললো। কিছুদূর গিয়ে দেখলাম, এক ব্যক্তি বসে আছে আর অপর ব্যক্তি তার কাছে দাঁড়িয়ে আছে।

দাঁড়ানো লোকটির হাতে করাতের মত একখানা অস্ত্র আছে।

সেই করাত দিয়ে সে বসে থাকা লোকটির মাথা চিরে ফেলছে। একবার মুখের দিক দিয়ে করাত ঢুকিয়ে দিয়ে কেটে ফেলছে।

আবার বিপরীত দিক দিয়েও তদ্রুপ করছে।

এক দিক দিয়ে কাটার পর যখন অপর দিক দিয়ে কাটতে যায় তখন আগের দিক জোড়া লেগে স্বাভাবিক হয়ে যায়।

এ অবস্থা দেখে আমি আমার সঙ্গীদ্বয়কে জিজ্ঞেস করলাম, এ কি ব্যাপার? তারা বললো, সামনে চলুন।

কিছুদূর গিয়ে দেখলাম, একজন লোক শুয়ে আছে।

অপর একজন একখানা ভারী পাথর নিয়ে তার কাছে দাঁড়িয়ে আছে।

দাঁড়ানো লোকটি ঐ পাথরের আঘাতে শোয়া লোকটির মাথা চূর্ণবিচূর্ণ করে দিচ্ছে।

পাথরটি সে এত জোরে মারে যে, মাথাকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে সে অনেক দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে।

অতঃপর লোকটি যে পাথর কুড়িয়ে আনতে যায়, অমনি ভাঙ্গা মাথা জোড়া লেগে ভাল হয়ে যায়। সে ঐ পাথর কুড়িয়ে এনে পুনরায় মাথায় আঘাত করে এবং মাথা আবার চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায়। এইভাবে ক্রমাগত ভাঙ্গা ও জোড়া লাগার পর্ব চলছে।

এই লোমহর্ষক দৃশ্য দেখে আমি আতংকিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, ব্যাপারটা কি আমাকে খুলে বলুন। তারা কোনো জবাব না দিয়ে পুনরায় বললেন, আগে চলুন। কিছুদূর এগিয়ে গিয়ে দেখি, একটি প্রকান্ড গর্ত। গর্তটির মুখ সরু, কিন্তু অভ্যন্তর ভাগ অত্যন্ত গভীর ও প্রশস্ত।

এ যেন একটি জ্বলন্ত চুলো, যার ভেতর দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। আর তার ভেতরে বহুসংখ্যক নর-নারী দগ্ধীভূত হচ্ছে।

আগুনের তেজ এত বেশী যেন তাতে ঢেউ খেলছে। ঢেউয়ের সাথে যখন আগুন উচু হয়ে ওঠে, তখন ঐ লোকগুলো উথলে গর্তের মুখের কাছে চলে আসে। আবার যেই আগুন নীচে নেমে যায়, অমনি তারাও সাথে সাথে নীচে নেমে যায়।

আমি আতংকিত হয়ে সঙ্গীদ্বয়কে বললাম, বন্ধুগণ! এবার আমাকে বলুন ব্যাপারটি কি?

কিন্তু এবার তারাও কোনো জবাব না দিয়ে বললেন, আগে চলুন।

আমরা সামনে এগুতে লাগলাম। কিছুদূর গিয়ে দেখলাম, একটি রক্তের নদী বয়ে চলছে। তীরে একটি লোক দাঁড়িয়ে। তার কাছে স্তুপীকৃত রয়েছে কিছু পাথর। নদীর মধ্যে হাবুডুবু খেয়ে একটি লোক অতি কষ্টে কিনারের দিকে আসার চেষ্টা করছে। কিনারের কাছাকাছি আসামাত্রই তীরবর্তী লোকটি তার দিকে এত জোরে পাথর ছুঁড়ে মারছে যে, সে আবার নদীর মাঝখানে চলে যাচ্ছে। এভাবে ক্রমাগত তার হাবুডুবু খেতে খেতে কুলে আসার এবং কুল থেকে পাথর মেরে তাকে মাঝ নদীতে হটিয়ে দেয়ার কার্যক্রম চলছে। এমন নির্মম আচরণ দেখে আমি স্তম্ভিত হয়ে আমার সঙ্গীকে বললামঃ বলুন, এ কি ব্যাপার? কিন্তু এবারও তারা জবাব না দিয়ে বললেন, সামনে চলুন।

আমরা আবার এগুতে লাগলাম। কিছুদূর গিয়ে দেখলাম একটি সুন্দর সবুজ ‍উদ্যান।

উদ্যানের মাঝখানে একটি উঁচু গাছ। তার নীচে একজন বৃদ্ধ লোক বসে আছে।

বৃদ্ধকে বেষ্টন করে বসে আছে বহুসংখ্যক বালক বালিকা। গাছের অপর পারে আরো এক ব্যক্তি বসে রয়েছে। তার সামনে আগুন জ্বলছে। ঐ লোকটি আগুনের মাত্রা বাড়িয়ে চলেছে। সঙ্গীদ্বয় আমাকে গাছে উঠালেন। গাছের মাঝখানে গিয়ে দেখলাম একটি মনোরম প্রাসাদ। এত সুন্দর ভবন আমি আর কখনো দেখি নি। ঐ ভবনে বালক বালিকা ও স্ত্রী পুরুষ-সকল শ্রেণীর মানুষ বিদ্যমান।

সঙ্গীদ্বয় আমাকে আরো উপরে নিয়ে গেলেন। সেখানে আরো একটি মনোরম গৃহ দেখতে পেলাম। তার ভেতরে দেখলাম শুধু কিছু সংখ্যক যুবক ও বৃদ্ধ উপস্থিত। আমি সঙ্গীদ্বয়কে বললাম, আপনারা আমাকে নানা জায়গা ঘুরিয়ে অনেক কিছু দেখালেন।

এবার এ সবের রহস্য আমাকে খুলে বলুন।

সঙ্গীদ্বয় বলতে লাগলেনঃ প্রথম যে লোকটির মাথা করাত দিয়ে চেরাই করতে দেখলেন, তার মিথ্যা বলার অভ্যাস ছিল।

সে যে সব মিথ্যা রটাতো, তা সমগ্র সমাজে প্রসিদ্ধ হয়ে যেতো। কিয়ামত পর্যন্ত তার এরূপ শাস্তি হতে থাকবে।

তারপর যার মাথা পাথরের আঘাতে চূর্ণ বিচূর্ণ হতে দেখলেন, সে ছিল একজন মস্ত বড় আলেম।

নিজে কুরআন হাদীস শিখেছিল, কিন্তু তা অন্যকে শিখায়নি এবং নিজেও তদনুসারে আমল করে নি। হাশরের দিন পর্যন্ত তার এ রকম শাস্তি হতে থাকবে।

তারপর যাদেরকে আগুনের বদ্ধ চুলায় জ্বলতে দেখলেন তারা ব্যভিচারী নারী ও পুরুষ।

কিয়ামত পর্যন্ত তাদের এই আযাব চলতে থাকবে।

রক্তের নদীতে হাবুডুবু খাওয়া লোকটি দুনিয়ায় সুদ ও ঘুষ খেতো এবং এতিম ও বিধবার সম্পদ আত্মসাৎ করতো।

গাছের নীচে যে বৃদ্ধকে বালক বালিকা পরিবেষ্টিত দেখলেন, উনি হযরত ইবরাহীম এবং বালক বালিকারা হচ্ছে নাবালক অবস্থায় মৃত ছেলেমেয়ে। আর যাকে আগুন জ্বালাতে দেখলেন, তিনি দোযখের দারোগা মালেক। গাছের উপর প্রথম যে ভবনটি দেখেছেন, ওটা সাধারণ ঈমানদারদের বেহেশতের বাড়িঘর। আর দ্বিতীয় যে প্রাসাদটি দেখেছেন, তা হচ্ছে ইসলামের জন্য আত্মত্যাগকারী শহীদদের বাসস্থান।

আর আমি জিবরাঈল এবং আমার সংগী ইনি মিকাইল। অতঃপর জিবরীল আমাকে বললেন, উপরের দিকে তাকান। আমি ওপরের দিকে তাকিয়ে একখন্ড সাদা মেঘের মত দেখলাম। জিবরীল বললেন, ওটা আপনার বাসস্থান।

আমি বললাম, আমাকে ঐ বাড়িতে যেতে দিন। জিবরীল বললেন, এখনো সময় হয় নি। পৃথিবীতে এখনো আপনার আয়ুকাল বাকী আছে। দুনিয়ার জীবন শেষ হলে আপনি ওখানে যাবেন।

শিক্ষাঃ এ হাদীসটিতে রাসূল(সা) কে স্বপ্নের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধের পরকালীন শাস্তির নমুনা দেখানোর বিবরণ রয়েছে।

নবীদের স্বপ্ন ওহীর অন্তর্ভুক্ত এবং অকাট্য সত্য। সুতরাং এ শাস্তির ব্যাপারে আমাদের সুদৃঢ় ঈমান রাখা এবং এগুলিকে স্মরণে রেখে এসব অপরাধ থেকে নিবৃত্ত থাকা উচিত। বিশেষতঃ এমন কয়েকটি অপরাধের ওপর এখানে আলোকপাত করা হয়েছে, যা সামাজিক অপরাধের অন্তর্ভুক্ত।

অর্থাৎ যা গোটা সমাজকে অন্যায় ও অনাচারের কবলে নিক্ষেপ করে। যেমনঃ মিথ্যাচার, সুদ, ঘুষ ও পরের অর্থ আত্মসাৎ করা এবং ইসলামের প্রত্যক্ষ জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও তা প্রচারে বিমুখ হওয়া ও সে অনুসারে আমল না করা।

একজন মিথ্যাবাদী যেমন মিথ্যা গুজব, অপবাদ ও কুৎসা রটিয়ে জনমতকে বিভ্রান্ত, বিপথগামী ও গোটা দেশবাসীকে অন্যায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্ররোচিত করে থাকে।

একজন আলেম তেমনি তার নিষ্ক্রিয়তা ও বদআমলী দ্বারা অন্য যে কোনো খারাপ লোকের চেয়ে সমাজকে অধিকতর অপকর্মে প্ররোচিত করে থাকে।

আর পরের সম্পদ আত্মসাৎকারী এবং সুদখোর ও ঘুষখোর যে গোটা সমাজকে কিভাবে জুলুম, নিপীড়ন ও শোষণ করে তা

ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না।

আয়াতুল কুরসির ফজিলত ..।

[] আয়াতুল কুরসী পাঠের ফযীলত [] আয়াতুল কুরসী ( আরবি ভাষায়: ﺁﻳﺔ ﺍﻟﻜﺮﺳﻲ ) হচ্ছে পবিত্র কোরআন শরীফের দ্বিতীয় সুরা আল বাকারার ২৫৫তম আয়াতটি। এটি কোরআন শরীফের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ আয়াত। এতে সমগ্র মহাবিশ্বের উপর আল্লাহর জোরালো ক্ষমতার কথা বর্ণনা করে।

আয়াতুল কুরসী :

ﺍﻟﻠّﻪُ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﻫُﻮَ ﺍﻟْﺤَﻲُّ ﺍﻟْﻘَﻴُّﻮﻡُ ﻻَ ﺗَﺄْﺧُﺬُﻩُ ﺳِﻨَﺔٌ ﻭَﻻَ ﻧَﻮْﻡٌ ﻟَّﻪُ ﻣَﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ ﻭَﻣَﺎ ﻓِﻲ ﺍﻷَﺭْﺽِ ﻣَﻦ ﺫَﺍ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻳَﺸْﻔَﻊُ ﻋِﻨْﺪَﻩُ ﺇِﻻَّ ﺑِﺈِﺫْﻧِﻪِ ﻳَﻌْﻠَﻢُ ﻣَﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﺃَﻳْﺪِﻳﻬِﻢْ ﻭَﻣَﺎ ﺧَﻠْﻔَﻬُﻢْ ﻭَﻻَ ﻳُﺤِﻴﻄُﻮﻥَ ﺑِﺸَﻲْﺀٍﻣِّﻦْ ﻋِﻠْﻤِﻪِ ﺇِﻻَّ ﺑِﻤَﺎ ﺷَﺎﺀ ﻭَﺳِﻊَ ﻛُﺮْﺳِﻴُّﻪُ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭْﺽَ ﻭَﻻَ ﻳَﺆُﻭﺩُﻩُ ﺣِﻔْﻈُﻬُﻤَﺎ ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟْﻌَﻠِﻲُّ ﺍﻟْﻌَﻈِﻴﻢ

(আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বইয়্যুমু লা তা খুজুহু সিনাত্যু ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিছছামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্। মান যাল্লাযী ইয়াস ফায়ু ইন দাহু ইল্লা বি ইজনিহি ইয়া লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খল ফাহুম ওয়ালা ইউ হিতুনা বিশাই ইম্ মিন ইল্ মিহি ইল্লা বিমা সাআ ওয়াসিয়া কুরসিইউ হুস ছামা ওয়াতি ওয়াল আরদ্ ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলিয়্যূল আজীম)।

বাংলা অনুবাদ : আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান। [২:২৫৫][১]

আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল বলেছেন: “যে ব্যক্তি প্রতি ফরয নামায শেষে আয়াতুল কুরসী পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া কোন কিছু বাধা হবে না। (সহীহ আল্ জামে :৬৪৬৪) হজরত আলী (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে (সা.) বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসি নিয়মিত পড়ে, তার জান্নাত প্রবেশে কেবল মৃত্যুই অন্তরায় হয়ে আছে। যে ব্যক্তি এ আয়াতটি বিছানায় শয়নের সময় পড়বে আল্লাহ তার ঘরে, প্রতিবেশীর ঘরে এবং আশপাশের সব ঘরে শান্তি বজায় রাখবেন। (সুনানে বাইহাকী ) যে ব্যক্তি উক্ত আয়াত রাতে পাঠ করবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার সাথে একজন রক্ষণা বেক্ষণকারী ফেরেশতা নিযুক্ত থাকবেন এবং সকাল র্পযন্ত শয়তান তার কাছে আসতে পারেনা কারণ, শয়তান ওয়াদা করেছে যে, যে ব্যাক্তি আয়াতুল কুরছি পড়বে আমি তার কাছে যাব না। শুক্রবার আছরের নামাযের পর নির্জন স্থানে বসে এই আয়াত ৭ বার পাঠ করলে মনে এক আশ্চর্যভাবের উদয় হয় এ ঔ সময় পাঠকারীর দোয়া কবুল হয়। হযরত আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত :রাসুল (সা.) বলেছেন:সুরা বাকারায় একটি শ্রেষ্ঠ আয়াত রয়েছে, যে ঘরে আয়াতুল কুরসী পাঠ করা হবে সেখান থেকে শয়তান পালাতে থাকে। (মুসতাদরাকে হাকিম:২১০৩)

ইসলাম কি বলছে – টিভি দেখা জায়েয না হারাম ??- জেনে নিন

ইসলাম কি বলছে – টিভি দেখা জায়েয না হারাম ??- জেনে নিন

আমাদের দেশে এক শ্রেণীর আলেম আছেন, যাদের সৃষ্টিতে টিভি হারাম। চাই ইসলামী হোক কিংবা অনৈসলামী। এবার দেশে ছুটিতে গিয়ে কাদিয়ানীর চেলা বরকতুল্লাহর তনয় হাবীবুল্লাহ ভণ্ড নবুওতদাবীদারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভায় বক্তৃতা করছিলাম।

কথা প্রসঙ্গে টিভিতে কাদিয়ানীদের প্রচার সম্পর্কে বলেছিলাম; যে তারা বিশ্বের অনেক ভাষায় সরাসরি তাদের দাওয়াত প্রচার করছে। এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে আমাকে আলোচনা সংক্ষেপ করতে বলা হলো। উপস্থিত জনতা হতে আওয়াজ আসা শুরু হলো যে, হুজুর টিভির ওয়াজ বন্ধ করুন। আমি আমার আলোচনা যথা সময়ে শেষ করলাম। আমাকে ভিতরে ডাকা হলো, সকলে আমার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে বললো, আপনি তো আজ টিভি দেখা জায়েয করে দিলেন! আমি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম, এবং বললাম: আমি টিভি হালাল করতে যাবো কেন? টিভি তো আগ থেকেই হালাল। এই জবাব শুনে সকলে এক সঙ্গে বলা শুরু করলো, আপনি বলেন কি! টিভি দেখা হারাম, আমরা এই ফতোয়াই দিয়ে আসছি।

তখন আমি বললাম,আপনাদের এই ফতোয়া শুনে কয়জন লোক টিভি দেখা ত্যাগ করেছে? এবং কয়টি বাড়ি দেখাতে পারবেন যে, টিভি নাই? অথচ গ্রামের প্রতিটা ঘরে এখন স্যাটালাইট টিভির লাইন রয়েছে।

আমি তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করলাম,যে এই যুগটা মিডিয়ার যুগ, তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। আমাদেরকেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে দাওয়াতী কাজে ভূমিকা রাখতে হবে।

স্থানীয় এক শাইখুল হাদীস ও মুফতী বললেন, ২৫টি দলীলের ভিত্তিতে টিভি দেখা হারাম।

আমি বললাম, দুই একটা দলীল পেশ করুন। তিনি বললেন, দেখুন টিভিতে উপস্থাপনা মহিলারা করে থাকে, তাই হারাম। এই দলীল শুনে হাসবো না কাঁদবো, বললাম অনেক টিভি চ্যানেল এমন আছে, যার উপস্থাপক পুরুষ। মহিলাদের সেখানে কোন সুযোগ নাই। তখন তিনি বললেন, এমন হতেই পারে না। বললাম, হতে পারে। ক্বানাতে মাজদ, ( সৌদী আরব, ক্বানাতে রিসালা, কুয়েত, তাছাড়া ক্বানাত ইক্বরা, এছাড়াও মধ্যপ্রচ্যের সব দেশেই এমন চ্যানেল রয়েছে, যেগুলোতে ইসলামী আলোচনা, কুরআন তেলাওয়াত, হাদীসে রাসূলের আলোচনা হয়ে থাকে। আমার একথা শুনে শায়খ বললেন, যে তবুও হারাম। আমি বললাম এগুলোতে তো আর মহিলারা উপস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে না। তিনি বললেন, টিভির আবিষ্কারকরা অমুসলিম, তাই টিভি দেখার হারাম। (এটা তার দ্বিতীয় দলীল) আমি বললাম, মাশা আল্লাহ! আজব দলীল পেশ করলেন। এটা যদি হারাম হওয়ার দলীল হয়, তাহলে তো আজ আর এখান থেকে বাড়িতেই যেতে পারবনে না! কারণ, যে গাড়িতে চড়ে বাসায় যাবেন, তাও তো অমুসলিমদের আবিষ্কার, আপনার হাতের মোবাইল সেটটি অমুসলিমদের আবিষ্কার, আপনি হজ্জ করতে সৌদী আরব গিয়েছিলেন, প্যালেনে চড়ে তাও অমুসলিমদের আবিষ্কার, এই দলীলে যদি টিভি দেখা হারাম হয়, তাহলে তো আপনার হজ্জ হয় নাই, বাড়িতে যাওয়া হারাম হবে, মোবাইল ফোন রাখতে পারবেন না।

তাদের সবগুলো দলীল এমন খোড়া যা একজন সাধারণ গবেষক জবাব দিতে পারবেন। কুরআন ও হাদীস হতে একটি দলীলও দিতে পারেন নি। আরো কত কথা। আমার ইমেইজ বিলীন করে দিলাম, কারণ আমি টিভির পক্ষে কেন কথা বললাম। জনগণ আমার কোন কথাই আর শুনবে না। আমি বললাম, আপনাদের এমন ফতোয়ায় কি কোন বাড়ি টিভি ছাড়া হয়েছে, মোবাইল ছাড়া কোন লোক দেখাতে পারবেন। আপনার নিজের হাতেও অমুসলিমদের তৈরী হারাম মোবাইল রয়েছে।

একসময় এই শ্রেণীর আলেমরা ইংরেজি পড়া হারাম ফতোয়া দিয়েছিলেন। এখন অবশ্য তাড়াও ইংরেজি পড়ান।

হক্কানী ওলামেয় কেরামগণ যদি এমন ফতোয়া না দিয়ে ইসলাম প্রচারের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতো, তাহলে ইসলামের সঠিক কথাগুলো বিশ্বব্যাপী সহজে পৌঁছে যেতো। বর্তমানে বাংলাদেশের কয়েকটি টিভিতে ইসলামী আলোচনা হয়, তাদের মধ্য হতে কিছু কিছু চ্যানেলে বেদআতী আলেমগণ অনুষ্ঠান চালিয়ে যাচ্ছে, আবার কিছু চ্যানেলে সঠিক কথা-বার্তা প্রচার হচ্ছে।

দেখুন টিভি একটি যন্ত্র, এর মাধ্যমে আপনি যা দেখাতে চাইবেন,তাই সে দেখাবে,এক কথায় টিভি আয়নার মতো,আয়নার সামনে যে ছবি ধরা হবে,সে তাই দেখাবে, ছবি সুন্দর না হলে যেমন আয়নাকে দোষারোপ করা যায় না, টিভিতেও খারাপ কিছু দেখালে, টিভিকে খারাপ বলা যুক্তি সঙ্গত হবে না। বরং যিনি পরিচালনা করছেন, তাকেই দোষারোপ করতে হবে। টিভিতে যদি ইসলামী অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়,সেই ক্ষেত্রেও টিভিকে হারাম ফাতাওয়া দেওয়া এক প্রকারের অজ্ঞতা বা গোঁড়ামী।

আমার এই কথাগুলো একটি বাস্তব ঘটনার প্রেক্ষিতে লেখা, কাউকে হ্যায় করা উদ্দেশ্য নয়, আসুন আমরা প্রচারের যতগুলো প্রযুক্তি রয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করে, ইসলামের সঠিক আলো সারা বিশ্বে পৌঁছে দেই। কারণ ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং শোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যতদ্রুত সংবাদ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, অন্য কোন উপায়ে এত দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব না।

আল্লাহ আমাদের সঠিক জ্ঞান অর্জন করে তদানুযায়ী আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন

রিয়ার পরিচয় ও ভয়াবহতা ।

রিয়ার পরিচয় ও ভয়বহতা
▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰
প্রশ্ন: রিয়া কি?
– গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে অনেক নাফরমানি মূলক কাজ হয়। তারপরেও আমরা দাওয়াত দাতাকে খুশি করার জন্য সেখানে যাই। এটা কি রিয়া?
– মহিলাদের মুখখোলা রেখে সাজগোজ করে বাইরে যাওয়াটা কি রিয়া?
– আজকাল সমাজে বেশির ভাগ মানুষ, “সে নিজে খুব ভাল “সেটা প্রমাণ করা নিয়ে ব্যস্ত থাকে।এই আমিত্বকে নিয়ে বড়াই করাটাও কি রিয়া?

উত্তর:
রিয়া (الرياء) অর্থ: লোক দেখানো, প্রদর্শন করা বা প্রদর্শনেচ্ছা।

ইসলামের পরিভাষায়, মানুষকে দেখানোর উদ্দেশ্যে কোন আমল সম্পাদন করাকে রিয়া বলা হয়। অন্য কথায়, আল্লাহর জন্য করণীয় ইবাদত পালনের মধ্যে মানুষের দর্শন, প্রশংসা বা বাহবার ইচ্ছা পোষণ করাকে রিয়া বলে।
অর্থাৎ যখন কোন মানুষ নামায, রোযা, দান-সদকা, কুরআন তিলাওয়াত বা দ্বীনের কোনো কাজ করবে এ উদ্দেশ্যে যে, মানুষ তার প্রশংসা করবে, মানুষ জানবে যে, সে দ্বীনদার, নামাযী, সৎকর্মশীল, সবাই তাকে দানশীল বলবে, সমাজে সে ভাল মানুষ হিসেবে পরিচিত হবে, মানুষ তাকে বাহবা দিবে, তার নামে মিছিল-শ্লোগান দিবে… তাহলে তখন এ আমলটি রিয়া হিসেবে পরিগণিত হবে।

রিয়ার ভয়াবহতা:

রিয়া হল, ছোট শিরক। এর মাধ্যমে মানুষের আখিরাতের প্রতিদান ধ্বংস হয়। হাদীসে এর ভয়াবহতা কথা উল্লেখিত হয়েছে এভাবে:
মাহমূদ ইবন লাবীদ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ الشِّرْكُ الأَصْغَرُ قَالُوا وَمَا الشِّرْكُ الأَصْغَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ الرِّيَاءُ يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِذَا جُزِيَ النَّاسُ بِأَعْمَالِهِمْ اذْهَبُوا إِلَى الَّذِينَ كُنْتُمْ تُرَاءُونَ فِي الدُّنْيَا فَانْظُرُوا هَلْ تَجِدُونَ عِنْدَهُمْ جَزَاءً
‘‘আমি সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি তোমাদের ব্যাপারে ভয় পাই তা হল, শিরক আসগার বা ক্ষুদ্রতর শিরক। সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন: হে আল্লাহর রাসূল, শিরক আসগার কী? তিনি বলেন: রিয়া বা প্রদর্শনেচ্ছা। কিয়ামতের দিন যখন মানুষদেরকে তাদের কর্মের প্রতিফল দেওয়া হবে তখন মহান আল্লাহ এদেরকে বলবেন, তোমরা যাদের দেখাতে তাদের নিকট যাও, দেখ তাদের কাছে তোমাদের পুরস্কার পাও কি না!’’ (আহমদ, আল-মুসনাদ ৫/৪২৮-৪২৯; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০২। হাদীসটি সহীহ)

আরেকটি হাদীস:
আবূ সাঈদ খুদরী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

أَلا أُخْبِرُكُمْ بِمَا هُوَ أَخْوَفُ عَلَيْكُمْ عِنْدِي مِنْ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ قَالَ قُلْنَا بَلَى فَقَالَ الشِّرْكُ الْخَفِيُّ أَنْ يَقُومَ الرَّجُلُ يُصَلِّي فَيُزَيِّنُ صَلاتَهُ لِمَا يَرَى مِنْ نَظَرِ رَجُلٍ

‘‘দাজ্জালের চেয়েও যে বিষয় আমি তোমাদের জন্য বেশি ভয় পাই সে বিষয়টি কি তোমাদেরকে বলব না? আমরা বললাম, হ্যাঁ, অবশ্যই বলুন। তিনি বলেন, বিষয়টি গোপন শিরক। গোপন শিরক এই যে, একজন সালাতে দাঁড়াবে এরপর যখন দেখবে যে মানুষ তার দিকে তাকাচ্ছে তখন সে সালাত সুন্দর করবে।” [ইবনু মাজাহ, আস-সুনান ২/১৪০৬ (কিতাবুয যুহুদ, বাবুর রিয়া ওয়াস সুমআহ); আলবানী, সহীহুত তারগীব ১/৮৯। হাদীসটি হাসান।]

▪ যদি জানা যায় যে, গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে নারী-পুরুষের সংমিশ্রণ, বেহায়াপনা, গান-বাদ্য ও অন্যান্য হিন্দুয়ানী কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে তাহলে তাতে শরীক হওয়া জায়েয নাই। দাওয়াত দাতাকে খুশি করার উদ্দেশ্যে তাতে শরীক হওয়া ‘স্রষ্টাকে অসন্তুষ্ট করে সৃষ্টিকে খুশি করার চেষ্টা’ হিসেবে পরিগণিত হবে। অথচ এটা হারাম।
▪ সাজগোজ করে বেপর্দা অবস্থায় মহিলাদের বাইরে যাওয়াটা আল্লাহর নাফরমানী এবং কুরআনের বিধানের লঙ্ঘন।
▪নিজের আমিত্বকে প্রকাশ করার প্রতিযোগিতা করা অহংকারের অন্তর্ভুক্ত। ইসলামে এটি অত্যন্ত ঘৃণিত চরিত্র ও গুনাহের কাজ।
উপরোক্ত কাজগুলো সবই আল্লাহর নাফরমানী মূলক কাজ। এ সব কর্মের মাধ্যমে মানুষ গুনাহগার হবে। কিন্তু সেগুলোকে রিয়া বলা যাবে না। বরং রিয়া হল, ইবাদত বন্দেগী বা দ্বীনের কাজকে মানুষকে দেখানো বা দুনিয়ার স্বার্থে সম্পাদন করা-যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি। আশা করি বিষয়টি ক্লিয়ার হয়েছে। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলিল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব

এক জ্বীন ও আবু হুরাইরা (রা:) এর গল্প …

আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রমজান মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে যাকাতের সম্পদ রক্ষা করার দায়িত্ব দিলেন। দেখলাম, কোন এক আগন্তুক এসে খাদ্যের মধ্যে হাত দিয়ে কিছু নিতে যাচ্ছে। আমি তাকে ধরে ফেললাম। আর বললাম, আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে নিয়ে যাবো। সে বলল, আমি খূব দরিদ্র মানুষ। আমার পরিবার আছে। আমার অভাব মারাত্নক। আবু হুরাইরা বলেন, আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।

সকাল বেলা যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আসলাম, তখন তিনি বললেন, কী আবু হুরাইরা! গত রাতের আসামীর খবর কি? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে তার প্রচন্ড অভাবের কথা আমার কাছে বলেছে। আমি তার উপর দয়া করে তাকে ছেড়ে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, অবশ্য সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে।দেখবে সে আবার আসবে।

আমি এ কথায় বুঝে নিলাম সে আবার আসবেই। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সে আবার আসবে। আমি অপেক্ষায় থাকলাম। সে পরের রাতে আবার এসে খাবারের মধ্যে হাত দিয়ে খুঁজতে লাগল। আমি তাকে ধরে ফেললাম। আর বললাম, আল্লাহর কসম আমি অবশ্যই তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে নিয়ে যাবো। সে বলল, আমাকে ছেড়ে দাও। আমি খুব অসহায়। আমার পরিবার আছে। আমি আর আসবো না। আমি এবারও তার উপর দয়া করে তাকে ছেড়ে দিলাম। সকাল বেলা যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আসলাম, তিনি বললেন, কী আবু হুরাইরা! গত রাতে তোমার আসামী কী করেছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে তার চরম অভাবের কথা আমার কাছে বলেছে। তার পরিবার আছে। আমি তার উপর দয়া করে তাকে ছেড়ে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, অবশ্য সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে।
দেখো, সে আবার আসবে।

তৃতীয় দিন আমি অপেক্ষায় থাকলাম, সে আবার এসে খাবারের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে খুঁজতে লাগল। আমি তাকে ধরে ফেললাম। আর বললাম, আল্লাহর কসম আমি অবশ্যই তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে নিয়ে যাবো। তুমি তিন বারের শেষ বার এসেছ। বলেছ, আসবে না। আবার এসেছ। সে বলল, আমাকে ছেড়ে দাও। আমি তোমাকে কিছু বাক্য শিক্ষা দেবো যা তোমার খুব উপকারে আসবে। আমি বললাম কী সে বাক্যগুলো? সে বলল, যখন তুমি নিদ্রা যাবে তখন আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে। তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাকে একজন রক্ষক পাহাড়া দেবে আর সকাল পর্যন্ত শয়তান তোমার কাছে আসতে পারবে না। আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।

সকাল বেলা যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আসলাম, তখন তিনি বললেন, কী আবু হুরাইরা! গত রাতে তোমার আসামী কী করেছে? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে আমাকে কিছু উপকারী বাক্য শিক্ষা দিয়েছে, তাই আমি তাকে ছেড়ে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তোমাকে সে কী শিক্ষা দিয়েছে? আমি বললাম, সে বলেছে, যখন তুমি নিদ্রা যাবে, তখন আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে। তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাকে একজন রক্ষক পাহাড়া দেবে আর সকাল পর্যন্ত শয়তান তোমার কাছে আসতে পারবে না।
আর সাহাবায়ে কেরাম এ সকল শিক্ষণীয় বিষয়ে খুব আগ্রহী ছিলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সে তোমাকে সত্য বলেছে যদিও সে মিথ্যাবাদী। হে আবু হুরাইরা! গত তিন রাত যার সাথে কথা বলেছো তুমি কি জানো সে কে?

আবু হুরাইরা বলল, না, আমি জানি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সে হল শয়তান।
(বর্ণনায় : বুখারী)

এ হাদীস থেকে আমরা যা শিখতে পেলাম তা হল:
(১) জনগণের সম্পদ পাহাড়া দেয়া ও তা রক্ষা করার জন্য আমানতদার দায়িত্বশীল নিয়োগ দেয়া কর্তব্য। আবু হুরাইরা রা. ছিলেন একজন বিশ্বস্ত আমানতদার সাহাবী।
(২) আবু হুরাইরা রা. দায়িত্ব পালনে একাগ্রতা ও আন্তরিকতার প্রমাণ দিলেন। তিনি রাতেও না ঘুমিয়ে যাকাতের সম্পদ পাহাড়া দিয়েছেন।
(৩) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এটি একটি মুজেযা যে, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও আবু হুরাইরার কাছে বর্ণনা শুনেই বুঝতে পেরেছেন শয়তানের আগমনের বিষয়টি।
(৪) দরিদ্র অসহায় পরিবারের বোঝা বাহকদের প্রতি সাহাবায়ে কেরামের দয়া ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দয়াকে স্বীকৃতি দিলেন। তিনি আবু হুরাইরা রা. কে বললেন না, তাকে কেন ছেড়ে দিলে? কেন দয়া দেখালে?
(৫) সাহাবায়ে কেরামের কাছে ইলম বা বিদ্যার মূল্য কতখানি ছিল যে, অপরাধী শয়তান যখন তাকে কিছু শিখাতে চাইল তখন তা শিখে নিলেন ও তার মূল্যায়নে তাকে ছেড়েও দিলেন।
(৬) খারাপ বা অসৎ মানুষ ও জিন শয়তান যদি ভাল কোন কিছু শিক্ষা দেয় তা শিখতে কোন দোষ নেই। তবে কথা হল তার ষড়যন্ত্র ও অপকারিতা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সে তোমাকে সত্য বলেছে, তবে সে মিথ্যুক। এ বিষয়টিকে শিক্ষার একটি মূলনীতি হিসাবে গ্রহণ করা যায়।
(৭) জিন শয়তান মানুষের খাদ্য-খাবারে হাত দেয়। তা থেকে গ্রহণ করে ও নষ্ট করে।
(৮)আয়াতুল কুরসী একটি মস্তবড় সুরক্ষা। যারা আমল করতে পারে তাদের উচিত এ আমলটি ত্যাগ না করা। রাতে নিদ্রার পূর্বে এটি পাঠ করলে পাঠকারী সকল প্রকার অনিষ্টতা থেকে মুক্ত থাকবে ও জিন শয়তান কোন কিছু তার উপর চড়াও হতে পারবে না।
(৯) আয়াতুল কুরসী হল সূরা আল বাকারার ২৫৫ নং এই আয়াত :
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
অর্থ: আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সুপ্রতিষ্ঠিত ধারক। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। তাঁর জন্যই আসমানসমূহে যা রয়েছে তা এবং যমীনে যা আছে তা। কে সে, যে তাঁর নিকট সুপারিশ করবে তাঁর অনুমতি ছাড়া? তিনি জানেন যা আছে তাদের সামনে এবং যা আছে তাদের পেছনে। আর তারা তাঁর জ্ঞানের সামান্য পরিমাণও আয়ত্ব করতে পারে না, তবে তিনি যা চান তা ছাড়া। তাঁর কুরসী আসমানসমূহ ও যমীন পরিব্যাপ্ত করে আছে এবং এ দুটোর সংরক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। আর তিনি সুউচ্চ, মহান।

হারানো বিজ্ঞপ্তি ও মৃত্যু সংবাদ মসজিদে প্রচার করা নিষেধ–বিস্তারিত জেনে নিন

এটা সম্পূর্ণ শরী‘আত বিরোধী এবং মসজিদের মর্যাদার পরিপন্থী।

১–আবু হুরায়রাহ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি অন্য কাউকে মসজিদে হারানো জিনিষ খোঁজ করতে শুনবে, সে যেন বলে, আল্লাহ যেন তোমাকে ফেরত না দেন। কারণ মসজিদ সমূহ এ জন্য তৈরি করা হয়নি।

[ছহীহ মুসলিম হা/১২৮৮; মিশকাত হা/৭০৬; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৬৫৪, ২/২১৮ পৃঃ।]

২- ঘটা করে মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা জাহেলী আদর্শ। এর জন্য অর্থ ব্যায় করে মাইকিং করা বা রেডিও, টিভিতে মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা। এ ব্যাপারে রাসূল (ছাঃ) কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। হুযায়ফাহ (রাঃ) বলেন, ﻰَﻬْﻨَﻳ ِﻦَﻋ ِﻲْﻌَّﻨﻟﺍ রাসূল (ছাঃ) মৃত্যু সংবাদ প্রচার করতে নিষেধ করেছেন।
[তিরমিযী হা/৯৮৬, ১/১৯২ পৃঃ; ইবনু মাজাহ হা/১৪৭৬, পৃঃ ১০৬, ‘জানাযা’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১৪, সনদ হাসান।]

তিনি আরও বলেন “তোমরা মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা থেকে সাবধান! কেননা মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা জাহেলিয়াতের রীতি (তিরমিজি – অধ্যায়ঃ জানাযা)

৩-মৃত্যু সংবাদ প্রচারের নামে শোকপ্রকাশ করে কোন লাভ হয় না। শুধু লোক দেখানোই হয়। তার প্রমাণ হল, সব জানাযাতে লোকের সংখ্যা এক রকম হয় না। কারো জানাযায় হাযার হাযার লোক হয়, আবার কারো জানাযায় একশ’ লোকও জুটে না। অথচ সব মাইয়েতের জন্যই মাইকিং করা হয়। সুতরাং এতে কোন ফায়েদা নেই। এটা মূলতঃ ব্যক্তির প্রসিদ্ধি ও গুণের কারণ। তাছাড়া শুভাকাঙ্খী হলে এমনিতেই সে মৃত্যু সংবাদ শুনতে পাবে, মাইকিং করে জানানো লাগবে না।

৪-উল্লেখ্য যে, মারা যাওয়ার পূর্বে প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত তার উত্তরসূরী ও আত্মীয়-স্বজনকে অছিয়ত করে যাওয়া, যেন তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিদ‘আতী কর্মকান্ড অনুষ্ঠিত না হয়। বিশেষ করে বিলাপ করা ও বিভিন্ন কথার মাধ্যমে শোক প্রকাশ করা। কারণ সাবধান করে না গেলে বা এর প্রতি সন্তুষ্ট থাকলে এ জন্য তাকে কবরে শাস্তি ভোগ করতে হবে।

রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা কি শুননি, নিশ্চয়ই আল্লাহ চোখের কান্না ও অন্তরের চিন্তার কারণে শাস্তি দিবেন না; বরং তিনি শাস্তি দিবেন এর কারণে। অতঃপর তিনি তার জিহবার দিকে ইঙ্গিত করলেন। অথবা তার উপর রহম করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মাইয়েতকে তার পরিবারের কান্নার কারণে শাস্তি দেন। ওমর (রাঃ) এজন্য লাঠিপেটা করতেন, পাথর মারতেন এবং মাটি নিক্ষেপ করতেন।

[ছহীহ বুখারী হা/১৩০৪, ১/১৭৪ পৃঃ, (ইফাবা হা/১২২৬, ২/৩৮৭ পৃঃ); ছহীহ মুসলিম হা/২১৭৬; মিশকাত হা/১৭২৪, পৃঃ ১৫০; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/১৬৩২, ৪/৮৪, জানাজা’ অধ্যায়।]

তাবিজ কবজ মানেই শিরক ও হারাম…..সাবধান !!… (হাদিস সহ)

এক ভাই প্রশ্ন করেছেন, আমার মা এক বড় হুজুরের নিকট থেকে (বড় হুজেরের নিকট থেকে!) খুব দামী দুটি তাবিজ এনে দিয়েছে। কিন্তু এখানে সৌদি আরবে কিছু লোক বলে তাবিজ নাকি শিরক। তাদের কথায় আমি তাবিজ খুলেছি, কিন্তু এখন মন খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে, ভয় করছে। আপনি কিছু বলুন।

উত্তরঃ দেখুন নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, “আত-তামায়িমু শিরকুন” – তাবিজ হচ্ছে শিরক। এটা আল্লাহর নবীর কথা (হাদীস), কোনো আলেমের ফতোয়া না! ফতোয়া হলে ভাবতেন মানুষের মত, ভুল-ত্রুটি হতে পারে। কিন্তু এটি কার কথা? নবী (সাঃ) এর কথা। আচ্ছা কেউ যদি বলে, তাবিজ যার মধ্যে শিরক থাকবে সেটা শিরক, আর যেটা কুরানের দুয়া দিয়ে করবো, কুরানের সুরা বা নবীর হাদীসের দুয়া দিয়ে করবো সেগুলোতে কোনো সমস্যা নেই। নবী (সাঃ) এগুলোর মাঝে কোনো পার্থক্য করেননি, যদি পার্থক্য করতেন তাহলে তিনি অবশ্যই বলে দিতেন, দেখো তোমরা কুরআন হাদীসের দুয়া দিয়ে তাবিজ করিও কোনো অসুবিধা নেই। আর শিরকি কথা দিয়ে বা বুঝা যায়না এমন কথা বার্তা দিয়ে তাবিজ করিওনা। এভাবে তিনি ভেঙ্গে দুইটাকে আলাদা করে বলতেন, কারণ তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে শরীয়ত স্পষ্ট করে মানুষের কাছে পোঁছে দেওয়ার জন্যই এসেছিলেন। কিন্তু তিনি এইরকম কোনো পার্থক্য করেন নি, সব তাবিজকেই শিরক বলেছেন। সুতরাং, তাবিজ তা যেকোনো রকমেরই হোকনা কেনো, আল্লাহর নবী বলেছেন – তাবিজ হচ্ছে শিরক সুতরাং শিরক।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাবিজ শিরক হয় কিভাবে? তাবিজ পূজার শিরক নয়, সেজদা করার শিরক না কারণ তাবিজকে কেউ পূজা বা সেজদা করেনা। কিন্তু এটা হচ্ছে ভরসা করার শিরক। আল্লাহর উপর ভরসা করতে হবে, আস্থা রাখতে হবে আর আস্থা ও ভরসা পুরোপুরি হয়ে গেছে তাবিজের উপরে। এইজন্য যারা তাবিজ ঝুলায় তারা গর্বের সাথে বলে, তাবিজ আছে, কোনো যাদু আমার ক্ষতি করতে পারবেনা, তাবিজ আছে কোনো পরোয়া নেই – কোনো জিন আমাকে স্পর্শ করতে পারবেনা। তাদের মনে বল কিজন্য? তাদের মনের বল পুরোপুরি এই তাবিজের উপরে। এইযে প্রশ্নকারীর মন খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে ভয় লাগছে, কেনো? তার আস্থা ছিলো এই তাবিজের উপরে। আল্লাহর উপর ভরসা না করে তাবিজের উপর ভরসা করা সেটা কি? সেটা হচ্ছে শিরক – সেটা কুরানের দুয়া দিয়েই তাবিজ করুক না কেনো আর শিরকি কথা বা গাছ-গাছড়া দিয়ে তাবিজ করা হোকনা কেনো।

এ সম্পর্কে কুরআনে অনেক আয়াত আছে, “যদি তুমি মুমিন হয়ে থাকে তাহলে শুধুমাত্র আল্লাহর উপরেই ভরসা করো” তাহলে তাবিজের উপর যে ভরসা করবে সে মুমিন না মুশরেক? সে মুশরকে হয়ে যাবে। আবার অনেকে বলে, কুরআন হাদীস দিয়ে তাবিজ করবো এটা এমন কি খারাপ কথা? হ্যা আরেকটি খারাপ কথা আছে। বাথরুমে প্রস্রাব-পায়খানা করতে গিয়ে আলাহর আয়াতের কত অবমাননা করা হচ্ছে। এটা কি হারাম নয় আপনার জন্য? আপনি দিনে কতবার গুনাহগার হচ্ছেন, আল্লাহর আয়াত বা নবীর দুয়া দিয়ে তাবিজ ঝুলিয়ে টয়লেটে বা গোসল খানায় গিয়ে, স্বামী বা স্ত্রীর কাছে গিয়ে। সুবহা’ন আল্লাহ! আপনি কি একবারের জন্যও চিন্তা করেন না? তাহলে এই তাবিজে শিরকও আছে আবার কুরআন হাদীস বা আল্লাহর আয়াত ও নবীর দুয়ায় অবমাননা বা মানহানির অপরাধও আছে যা আপনার জন্য কুফুরী হওয়ার আশংকা আছে।

সুতরাং, খবরদার তাবিজের উপর ভরসা না করে আল্লাহর উপর ভরসা করেন। আমরা যারা তাবিজ করিনা বা লিখিনা তাদের কি এমন ক্ষতি হয়ে গেছে বলুন দেখি? আল্লাহ না চাইলে কারো কোনো ক্ষতি হবেনা, আর আল্লাহ যদি চান কারো বালা-মুসিবত তাহলে ভালো মানুষের উপরেও বালা মুসিবত আসতে পারে। খারাপ লোকের উপর বালা মুসিবত খারাপ কাজের আজাব হিসেবে আসতে পারে আর ভালো লোক বা সৎ লোকের উপরে পরীক্ষা হিসেবে বিপদ-আপদ বা বালা মুসিবত আসতে পারে। আল্লাহ ইব্রাহিম (আঃ) কে আগুনে ফেলে, ইউসুফ (আঃ) কে দীর্ঘদিন জেলে রেখে, আইয়ুব (আঃ) কে কঠিন অসুস্থতা দিয়ে, ইউনুস (আঃ) কে মাছের পেটে রেখে পরীক্ষা করেছিলেন। সুতরাং তাবিজ না করে আল্লাহর উপরে ভরসা করুন।

অজু করার সময় কথা বলা যাবে কি ??

জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় বেসরকারি একটি টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান‘আপনার জিজ্ঞাসা’। এই অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

আপনার জিজ্ঞাসার ২০৩৭তম পর্বে অজুর সময় কথা বললে অজুর ক্ষতি হবে কি না, সে সম্পর্কে বাগেরহাটের রামপাল থেকে চিঠিতে জানতে চেয়েছেন সৈয়দ জাহিদুর রহমান। অনুলিখনে ছিলেন জহুরা সুলতানা।

প্রশ্ন: অজু করার সময় পাশের লোকের সঙ্গে কথা বললে অজুর ক্ষতি হবে কি?

উত্তর: অজুর সময় কথা বলা জায়েজ, অজুর কোনো ক্ষতি হবে না। তবে স্বাভাবিকভাবেই আল্লাহর বান্দা যখন একসঙ্গে দুটি কাজ করতে যাবে, তখন কোথাও ভুল হতেই পারে। এ জন্য কেউ কেউ মনে করেন যে, অজু করার সময় কথা না বলাই ভালো।

অজুর সময় কোনো কথা বললে অজু নষ্ট হয়ে যাবে, এই মর্মে হাদিসে কোনো বক্তব্য প্রমাণিত হয়নি। অজুর সময় আপনি কথা বলতে পারেন, কথা বলা জায়েজ রয়েছে।