‘সুই ধাগা’তে অনুজ্জ্বল-ন্যাচারাল লুকে আনুশকা… ছবি ভাইরাল…।

যেকোনো পোশাকেই তিনি আবেদনময়ী, আকাঙ্ক্ষিত।

ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নানা পোশাকে নিজেকে ক্যামেরার সামনে এনেছেন এই গ্ল্যামার গার্ল আনুশকা শর্মা। কি ভারতীয় কি পাশ্চাত্যর পোশাকে। সব ক্ষেত্রেই নিজেকে দারুণভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছেন তিনি। তাই বম্বে ভেলভেট, দিল ধাড়াকনে দো, অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল আর জাব হ্যারি মেট সেজাল- সব ছবিতেই তাঁকে দেখা গেছে উজ্জ্বল আর দ্যুতিময়।

শুধু নতুন ছবি ‘সুই ধাগা’তেই যেন নিষ্প্রভ এই ভারতীয় সুপারস্টার। একটি সাধারণ শাড়িতে অনুজ্জ্বল-ন্যাচারাল লুকে তাঁকে দেখা যাবে। ছবিটিতে একজন ‘সাধারণ ভারতীয় নারী’ চরিত্রে দেখা যাবে মিসেস বিরাট কোহলিকে। আর তাঁর এই ‘সাধারণ নারী’র ছবিটি ছড়িয়ে পড়েছে ইন্টারনেট দুনিয়ায়।

ইয়াশ রাজ ফিল্মস প্রোডাকশনসের এই নতুন ছবিতে আনুশকার সহ-অভিনেতা বরুণ ধাওয়ান। শরত কাটারিয়া পরিচালিত ছবিটি আগামী অক্টোবরে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

কোরআন ও হাদীসের আলোকে জেনে নিন কবর জিয়ারত এর সঠিক বিধান সম্পর্কে বিস্তারিত…!!

পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না
রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

ইসলামের সূচনালগ্নে যখন মানুষ কবর পূজা করত তখন আল্লাহর নবী সা. কবর যেয়ারত করতে নিষেধ করেছিলেন। সুনানে ইবনে মাজাহ শরিফের ১৫৭১ নং হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, “আমি তোমাদের কবর-যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। (এখন ঐ নিষেধাজ্ঞা মানসূখ করা হচ্ছে) এখন তোমরা কবর যিয়ারত করতে পার। কারণ তা দুনিয়ার মোহ দূর করে এবং আখিরাতকে মনে করিয়ে দেয়। (মিশকাত পৃ ১৫৪)

এরপর ইসলাম আসার পর সাহাবায়ে কেরাম যখন জাহিলিয়্যাতের রীতিনীতি ভুলে যান তখন রাসুল সা. আবার কবর যেয়ারতের অনুমতি প্রদান করেন। কারণ কবরের দৃশ্য দেখে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়িত্বের বিশ্বাস তাজা হয়, নিজের মৃত্যু ও কবর-জীবনকে স্মরণ করে আখিরাতের প্রস্তুতির সংকল্প গ্রহণ করা যায়।

প্রশ্ন ১ – কবর দৃষ্টিগোচর হলে বা কবরের দেয়াল অতিক্রম করলে কবরবাসীদেরকে সালাম করতে হবে কি?
উত্তর – পথিক হলেও সালাম দেয়া উত্তম, এরূপ ব্যক্তির যিয়ারতের নিয়ত করে নেয়া উত্তম।

প্রশ্ন ২ – যিয়ারতকারীর নির্দিষ্ট কবরের পাশে গিয়ে যিয়ারত করার হুকুম কি?
উত্তর – গোরস্থানের প্রথম কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দো‘আ করাই যথেষ্ট, তবুও যদি নির্দিষ্ট কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দো‘আ ও সালাম করতে চায় করতে পারবে।

প্রশ্ন ৩ – মৃত ব্যক্তি যিয়ারতকারীকে চিনতে পারে?
উত্তর – কতিপয় হাদিসে এসেছে যে, যিয়ারতকারী যদি এমন হয় যে দুনিয়াতে তার সাথে পরিচয় ছিল তাহলে আল্লাহ যিয়ারতকারীর সালামের উত্তর দেয়ার জন্য তার রুহ ফিরিয়ে দেন । কিন্তু এ হাদিসের সনদে কিছু ত্রুটি রয়েছে। অবশ্য আল্লামা ইবনে আব্দুল বার রাহিমাহুল্লাহ হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।

প্রশ্ন ৪ – উম্মে আতিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত,
«نهينا عن اتباع الجنائز ولم يعزم علينا»
“আমাদেরকে জানাযার সাথে চলতে নিষেধ করা হয়েছে, কিন্তু কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি”। হাদিসটির ব্যাখ্যা কি?

উত্তর – আবস্থা দৃষ্টে প্রতিয়মান হচ্ছে যে, বর্ণনাকারীর মতে নিষেধটি কঠোর নয়, তবে আমাদের জেনে রাখা উচিত যে প্রত্যেক নিষেধ হারাম। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।

«ما نهيتكم عنه فاجتنبوه وما أمرتكم به فأتوا منه ما استطعتم» (متفق عليه)

“আমি যার থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করি, তোমরা তা পরিত্যাগ কর, আর আমি তোমাদেরকে যার আদেশ দেই, তোমরা তা সাধ্যানুসারে পালন কর”। (বুখারি ৩৯১)

এ হাদিস দ্বারা প্রতিয়মান হয় যে, মহিলাদের জানাযার সাথে কবর পর্যন্ত যাওয়া হারাম, তবে পুরুষদের ন্যায় তারা জানাযায় অংশ গ্রহণ করতে পারবে।

প্রশ্ন ৫ – একটি হাদিসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে কবরের উপর জুতা নিয়ে হাটতে দেখে বললেন, হে জুতা ওয়ালা! তোমার জুতাদ্বয় খুলে নাও। এ হাদিসের উপর কি আমল করা যাবে? জুতা নিয়ে কেউ কবরের উপর হাটা-চলা করতে চাইলে তাকে কি নিষেধ করা হবে?

উত্তর – হ্যাঁ, বর্ণিত হাদিসের উপর আমল করা যাবে, সুতরাং কোন অবস্থাতেই কবরের উপর জুতা নিয়ে হাটা-চলা করা জায়েয হবে না। হ্যাঁ, বিশেষ প্রয়োজনে যেমন কবরের উপর যদি কাঁটাদার গাছ থাকে বা মাটি অত্যন্ত গরম হয়, যে কারণে খালিপায়ে চলা অসম্ভব হয়, এমতাবস্থায় জুতা নিয়ে কবরের উপর হাঁটা যেতে পারে, এরূপ কোন বিশেষ প্রয়োজন না হলে তাকে অবশ্যই নিষেধ করা হবে, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। তাকে শরি‘আতের হুকুম জানিয়ে দেবে।

প্রশ্ন ৬ – গোরস্থানে প্রবেশকালে জুতা খুলার বিধান কি?
উত্তর – কবরের উপর দিয়ে হেঁটে গেলে জুতা অবশ্যই খুলতে হবে, আর যদি কবরের উপর দিয়ে না হেটে গোরস্থানের প্রথম কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সালাম দেয়, তা হলে জুতা খুলতে হবে না।

প্রশ্ন ৭ – জনৈক মহিলাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কবরের পাশে ক্রন্দরত আবস্থায় দেখে বলেছিলেন,
«اتقي الله واصبري»
“আল্লাহকে ভয়কর ও ধৈর্যধারণ কর”। (বুখারি ও মুসলিম) এ হাদিস কি মহিলাদের কবর যিয়ারত বৈধ প্রমাণ করে না?

উত্তর – সম্ভবত উল্লিখিত ঘটনাটি নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য কবর যিয়ারত বৈধ থাকাকালিন সময়ের ঘটনা। আর মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত নিষিদ্ধকারী হাদিস এ হাদিসের জন্যে নাসেখ বা এ হাদিসকে রহিতকারী।

প্রশ্ন ৮ – কিছু কিছু শহরে অনেক মানুষ কববের উপর ঘর তৈরি করে সেখানে বসবাস করে। এটা কতটুকু শরিয়ত সম্মত?

উত্তর – এটা নেহায়েত গর্হিত ও নিন্দনীয় কাজ, এ কাজের দ্বারা কবরবাসীদের অপমান করা হয়, তাই তাদেরকে এ কাজ হতে বারণ করা এবং শরি‘আতের বিধান সম্পর্কে অবহিত করা জরুরী। তারা এসব কবরের উপর যেসব সালাত আদায় করেছে, তা সব বাতিল ও বৃথা। এ অবস্থায় কবরের উপর বসাও অত্যন্ত গর্হিত কাজ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম বলেছেন,

« لا تصلوا إلى القبور ولا تجلسوا عليها » (رواه مسلم)

“কবরের দিকে মুখ করে নামাজ পড়বে না এবং কবরের উপর বসবে না”। (মুসলিম ২১২২)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লম আরো বলেছেন,

«لعن الله اليهود والنصارى اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد» (رواه البخاري)

“আল্লাহ ইয়াহূদী ও নাসারাদের উপর লানত করেছেন, কারণ তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে”। (মুসলিম ১০৭৯)

এ হাদিস সম্পর্কে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বাণী দ্বারা তাদেরকে তাদের গর্হিত কাজের জন্য সতর্ক করেছেন।
প্রশ্ন ৯ – জনৈক ব্যক্তির কবরের উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হল, আর ঐ ব্রিজের উপর দিয়ে একটি যাত্রিবাহী গাড়ি যাওয়ার সময় বিরত দিল, যাত্রীদের মাঝে একজন মহিলাও রয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে গাড়িটির যাত্রা বিরতির কারণে সে মহিলা কি কবর যিয়ারতকারীদের অন্তর্ভূক্ত হবে, সে মহিলা কি কবরবাসীদের সালাম করবে?

উত্তর – না, মহিলা কবর যিয়ারতকারীদের অন্তর্ভূক্ত হবে না, ব্রিজ কেন কবরের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও কবর যিয়ারতকারী বলে গণ্য হবে না। মহিলা যদি পথচারী হয়, তবুও তার পক্ষে কবরবাসীদের সালাম না করা উত্তম।
প্রশ্ন ১০ – একটি হাদিস প্রচলিত আছে,
« اذا مررتم بقبر كافر فبشروه بالنار »
“যখন তোমরা কোন কাফেরের কবরের পাশ দিয়ে যাও, তখন তাকে জাহান্নামের সুসংবাদ দাও”। এ হাদিসটি কতটুকু শুদ্ধ?
উত্তর – আমার জানা মতে এ হাদিসের বিশুদ্ধ কোন সনদ নেই।

প্রশ্ন ১১- মহিলারা কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কবরবাসীদের সালাম দেবে কি?
উত্তর – আমার জানা মতে কবরবাসীদেরকে মহিলাদের সালাম না-করা উচিৎ। কারণ সালাম বিনিময় কবর যিয়ারতের রাস্তা উম্মুক্ত করবে, দ্বিতীয়ত সালাম দেয়া কবর জিয়ারতের অন্তর্ভুক্ত। তাই মহিলাদের উপর ওয়াজি হচ্ছে সালাম বর্জন করা, তারা যিয়ারত ব্যতীত মৃতদের জন্য শুধু দো‘আ করবে।
প্রশ্ন ১২ – রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর জিয়ারতের নিয়ম কি?
উত্তর – রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর জিয়ারতের সুন্নত তরিকা এই যে, কবরের দিকে মুখ করে সালাম দেবে, অতঃপর তাঁর দু’সাথী আবু-বকর ও ওমরকে সালাম দেবে, অতঃপর ইচ্ছা করলে অন্য জায়গায় গিয়ে কিবলামুখী হয়ে নিজের জন্য দো‘আ করবে।
প্রশ্ন ১৩ – মহিলাগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারত করতে পারবে কি?
উত্তর – মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত করা নিষেধ, যেসব হাদিসে মহিলাদের কবর যিয়ারত থেকে বারণ করা হয়েছে, সেখানে রাসূলের কবরও অন্তর্ভুক্ত, তাই তাদের জন্য জরুরী হচ্ছে রাসূলের কবর যিয়ারত না-করা। মহিলাদের জন্য রাসূলের কবর যিয়ারত বৈধ না অবৈধ এ সম্পর্কে ওলামায়ে কেরাম দু’ভাগে বিভক্ত, তাই সুন্নতের অনুসরণ ও মতানৈক্য থেকে বাঁচার জন্য মহিলাদের জন্য যে কোন কবর যিয়ারত ছেড়ে দেয়াই শ্রেয়। তা ছাড়া মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত নিষেধ সংক্রান্ত হাদিসে রাসূলের কবরকে বাদ দেয়া হয়নি। এমতাবস্থায় হাদিসের ব্যাপকতার উপর আমল করাই ওয়াজিব, যতক্ষণ না এর বিপরীত কোন সহিহ হাদিস পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ১৪ – মসজিদে প্রবেশকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারত করতে পারবে কি?
উত্তর – মসজিদে প্রবেশকালে রাসূলকে শুধু সালাম করবে, শুধু কবর জিয়াতর উদ্দেশ্যে যাবে না, তবে মাঝে-সাজে যেতে পারে।
প্রশ্ন ১৫ – রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা কি জায়েয?

উত্তর – মসজিদে নববি জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা জায়েয। তাই মসজিদে নববির যিয়ারত মূল উদ্দেশ্য করে সফর করবে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয় হিসেবে নবীর কবর যিয়ারত করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«لاتشد الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد: المسجد الحرام ومسجدي هذا والمسجد الاقصى» (رواه البخاري)

“তিন মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও সফর করা যাবে নাঃ মাসজিদে হারাম, আমার এ মসজিদ ও মসজিদে আকসা”। (বুখারি ২৮১)

প্রশ্ন ১৬ – কবর জিয়ারতের জন্য জুমার দিনকে নির্দিষ্ট করা কেমন?

উত্তর – এর কোন ভিত্তি নেই। যিয়ারতকারী সুযোগ বুঝে যখন ইচ্ছা যিয়ারত করবে। জিয়ারতের জন্য কোন দিন বা রাতকে নির্ধারিত করা বিদ‘আত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«من احدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد» (متفق عليه)
“আমাদের এ দ্বীনে যে কেউ নতুন কিছু আবিষ্কার করল, তা পরিত্যক্ত”। (বুখারি ৮৬১)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন,

«من عمل عملا ليس عيه أمرنا فهو رد» (رواه مسلم)

“যে এমন কোন কাজ করল যা আমাদের আদর্শ নয়, তা পরিত্যক্ত”।হাদিসটি ইমাম মুসলিম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
প্রশ্ন ১৭ – মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত নিষেধ হওয়া সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে কিভাবে কবর জিয়ারতের দো‘আ শিক্ষা দিয়েছেন?
উত্তর – কবর যিয়ারত প্রথমে সবার জন্য নিষেধ ছিল, অতঃপর সবার জন্য জায়েয হয়, অতঃপর শুধু মহিলাদের জন্য নিষেধ হয়। এ ব্যাখ্যার পরিপেক্ষিতে বলা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আহাকে কবর জিয়ারতের আদব তখন শিক্ষা দিয়েছিলেন যখন তা সবার জন্য জায়েয ছিল।
প্রশ্ন ১৮ – কবরের পাশে দো‘আ কি দু’হাত তুলে করতে হবে?
উত্তর – কবরের পাশে দু’হাত তুলে দো‘আ করা জায়েয আছে, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারত করে কবরবাসীদের জন্য দু’হাত তুলে দো‘আ করেছেন। (মুসলিম)
প্রশ্ন ১৯ – কবরের পাশে সম্মিলিত দোয়ার কি হুকুম?
উত্তর – কাউকে দো‘আ করতে দেখে শ্রোতাদের আমিন আমিন বলায় কোন বাঁধা নেই। তবে পরিকল্পিতভাবে সম্মিলিত দো‘আ করা যাবে না। অকস্মাৎ কাউকে দো‘আ করতে দেখে তার সাথে সাথে আমিন আমিন বলা যাবে, কারণ এটাকে সম্মিলিত দো‘আ বলা হয় না।
প্রশ্ন ২০ – গোরস্থানের প্রথমাংশে সালাম দিলে সমস্ত কবরবাসীর জন্য সালাম বিবেচ্য হবে?
উত্তর – এ সালামই যথেষ্ট, সে ইনশাল্লাহ জিয়ারতের সাওয়াব পেয়ে যাবে। যদি গোরস্থান অনেক বড় হয় আর সে ঘুরে ঘুরে সব দিক দিয়ে সালাম বিনিময় করতে চায় তাও করতে পারবে।
প্রশ্ন ২১ – অমুসলিমের কবর যিয়ারত করা কি জায়েয?
উত্তর – শিক্ষা গ্রহণের জন্য হলে অমুসলিমের কবর যিয়ারত করা জায়েয। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মায়ের কবর যিয়ারত করে তাঁর জন্যে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চেয়ে ছিলেন, কিন্তু তাঁকে এ বিষয়ে অনুমতি দেয়া হয়নি। শুধু জিয়ারতের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
প্রশ্ন ২২ – দু’ঈদের দিনকে কবর জিয়ারতের জন্য নির্দিষ্ট করার কোন ভিত্তি আছে কি?
উত্তর – আমার জানামতে এর কোন ভিত্তি নেই, যিয়ারতকারীর যখন সুযোগ হবে তখন সে যিয়ারত করবে, এটাই সুন্নত।
প্রশ্ন ২৩ – মৃতের জন্য দো‘আ করার সময় কবর মুখী হয়ে দো‘আ করা কি নিষেধ?
উত্তর – না, নিষেধ নয়, মৃতের জন্য দো‘আ করার সময় কেবলামুখী ও কবরমুখী উভয় বৈধ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তির দাফন শেষে বললেন,

«استغفروا لأخيكم واسألوا له التثبيت فإنه الآن يسأل» (رواه أبوداود)

“তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রর্থনা কর এবং তার ইস্তেকামাতের দো‘আ কর, কেননা তাকে এখন প্রশ্ন করা হবে”।

এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেননি যে, কিবলামুখী হয়ে দো‘আ কর।

সুতরাং কিবলামুখী হয়ে দো‘আ করুক আর কবরমুখী হয়ে দো‘আ করুক উভয়ই জায়েয। রাসূলের সাহাবিগণ কবরের চতুর্পাশে দাঁড়িয়ে মৃতের জন্য দো‘আ করতেন।
প্রশ্ন ২৪- দু’হাত তুলে মৃতের জন্য দো‘আ করা কি জায়েয?
উত্তর – কিছু কিছু হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কবর যিয়ারত করে দো‘আ করতেন তখন দু’হাত তুলেই দো‘আ করতেন। যেমন ইমাম মুসলিম রাহিমাহুল্লাহ উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারত করে তাদের জন্য দো‘আ করার সময় দু’হাত তুলেছেন।
প্রশ্ন ২৫ – আমাদের এখানে কিছু সৎকর্মী যুবক বাস করে, তারা নিজেদের সাথে কতক গাফেল লোকদেরকে কবর জিয়ারতের জন্য নিয়ে যেতে চায়, হয়ত তাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় সঞ্চার হবে। এ ব্যাপারে আপনাদের মত কি?

উত্তর – এটা একটি মহৎ কাজ, এতে কোন বাঁধা নেই। এটা ভাল কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করার অন্তর্ভূক্ত। আল্লাহ তাদেরকে উত্তম বিনিময় দান করুন।
প্রশ্ন ২৬ – কবরের উপর কোন চিহ্ন স্থাপন করার হুকুম কি?
উত্তর – লিখা বা নাম্বারিং করা ব্যতীত শুধু পরিচয়ের জন্য কবরের উপর চিহ্ন স্থাপন করা যেতে পারে। বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের উপর কিছু লিখতে নিষেধ করেছেন, আর নাম্বারিং করাও লিখার অন্তর্ভূক্ত। তবে কবরস্থ লোকের পরিচয়ের জন্য শুধু পাথর ইত্যাদি রাখা যাবে, কালো বা হলুদ রঙের পাথরও রাখা যাবে। বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবি উসমান ইবন মাজউন রাদিয়াল্লাহু আনহুর কবরের উপর চিহ্ন স্থাপন করেছিলেন।

মেসি- সুয়ারেজের গোলে বার্সার জয়।

রবিবার নূ-ক্যাম্পে দেপোর্তিভো আলাভেসকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা। এরআগে গত আগস্টে লিগ পর্যায়ে প্রথম দেখায় একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আরনাস্তে ভালভার্দের শিষ্যরা জিতেছিল ২-০ গোলে।

ঘরের মাঠে অবশ্য ম্যাচের শুরুতেই পেছনে পড়েছিল বার্সেলোনা। ২৫তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে দেপোর্তিভো আলাভেসকে এগিয়ে দেন ইয়োন গিদেত্তি।

৩২তম মিনিটে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল বার্সেলোনা। কিন্তু ফিলিপ্পে কৌতিনহোর বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঠিক মতো পারেননি শট নিতে। বিরতির আগে ফ্রি কিক থেকেও কাতালানদের গোল এনে দিতে পারেননি লিওনেল মেসি।

বিরতির পর আক্রমণের গতি বাড়াতে থাকে বার্সেলোনা। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মোটেও পাচ্ছিলো না দলটি। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক যেন রবিবার কাতালানদের সামনে হয়ে দাঁড়িয়েছিল প্রাচীরের মতো। তবে ৭২তম মিনিটে সব অনিশ্চতায় অবসান ঘটিয়ে ঠিকই স্বাগতিকদের গোল এনে দেন লুইস সুয়ারেজ। বাঁ-দিক থেকে আন্দ্রে ইনিয়েস্তার দারুণ ক্রস ডান দিকে পেয়ে দুরূহ কোণ থেকে ভলিতে বল জালে জড়ান তিনি। এই নিয়ে লিগে টানা আট ম্যাচে জালের দেখা পেলেন উরুগুইয়েন ফরোয়ার্ড।

এদিকে ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে জয় সূচক গোলটি করেন মেসি। ২০ গজ দূরে বল পেয়ে দুর্দান্ত শটে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়ে স্বাগতিক সমর্থকদের শেষ পর্যন্ত আনন্দে ভাসান এ আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।

এ জয়ে ২১ ম্যাচে ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেই থাকল বার্সেলোনা।

দাড়ি রাখা সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা দূর করুন…!!

আমাদের দেশে দাড়ি রাখা সম্পর্কে
একটি ভ্রান্ত ধারণা আছে, সেটা হল
”দাড়ি রাখা সুন্নত; অতএব দাড়ি রাখলে ভাল
আর না রাখলেতেমন কোন সমস্যা
নেই, একটা সুন্নত পালন করা হল না এই
আর কি।” জেনে রাখুন, এটা সম্পূর্ণ
একটা ভুল ধারণা।
দাড়ি রাখা কোন অর্থে সুন্নত আর
কোন অর্থে ফরয বা ওয়াজিব আগে
সেটা বুঝার চেষ্টা করুন। ইসলামে
শরীয়তের বিধানের প্রধান সুত্র
হচ্ছে কুরআন ও রাসুল (সাঃ) এর সহীহ
সুন্নাহ অর্থাৎ সহীহ হাদিস। পবিত্র
কুরআনে আল্লাহ্পাক যেসকল বিষয়ে
আদেশ দিয়েছেন ও নিষেধ
করেছেন তা পালন করা আমাদের জন্য
ফরয। আশা করি বিষয়টি সকলের কাছেই
পরিষ্কার অর্থাৎ বুঝতে কষ্ট হবার কথা
নয়।
এবার আসুন, দাড়ি রাখা কোন অর্থে
সুন্নত আর কোন অর্থে ফরয বা
ওয়াজিব সেটা জানার ও বুঝার চেষ্টা করি।
আল্লাহ্পাক পবিত্র কুরআনে বহু
আয়াতে রাসুল (সাঃ) এর নির্দেশ মেনে
চলার জন্য আমাদের বলেছেন। তাঁর
মানে হল, রাসুল (সাঃ) যে সকল বিষয়ে
আমাদের আদেশ ও নিষেধ
করেছেন তা মেনে চলাও আমাদের
জন্য ফরয/ওয়াজিব । কুরআনের
আয়াতগুলো এখানে দেয়া হল –
রাসূলের আহবানকে তোমরা
তোমাদের একে অপরকে
আহ্বানের মত গণ্য করো না। আল্লাহ
তাদেরকে জানেন, যারা তোমাদের
মধ্যে চুপিসারে সরে পড়ে। অতএব
যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে,
তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে,
বিপর্যয় তাদেরকে স্পর্শ করবে
অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদেরকে
গ্রাস করবে। [আন-নুরঃ ৬৩]
আর তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ ও
রাসূলের, যাতে তোমাদের উপর
রহমত করা হয়। [আল-ইমরানঃ ১৩২]
যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস,
তাহলে আমাকে [মুহাম্মদ সঃ] অনুসরণ
কর, যাতে আল্লাহও তোমাদিগকে
ভালবাসেন [আল ইমরানঃ ৩১]
হে ঈমানদারগণ, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের
নির্দেশ মান্য কর এবং শোনার পর তা
থেকে বিমুখ হয়ো না। [আল-আনফালঃ
২০]
আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের
আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ
ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন
ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর
রসূলের আদেশ অমান্য করে সে
প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট তায় পতিত হয়। [সূরা
আল আহজাবঃ ৩৬]
বলুনঃ আল্লাহর আনুগত্য কর এবং
রসূলের আনুগত্য কর। অতঃপর যদি
তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তার
উপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্যে সে
দায়ী এবং তোমাদের উপর ন্যস্ত
দায়িত্বের জন্যে তোমরা দায়ী।
তোমরা যদি তাঁর আনুগত্য কর, তবে সৎ
পথ পাবে। রসূলের দায়িত্ব তো
কেবল সুস্পষ্টরূপে পৌছে দেয়া।
[আন-নুরঃ ৫৪]
রাসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা
গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা
থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয়
কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।
[আল-হাশরঃ ৭]
দাড়ি রাখার জন্য রাসুল (সাঃ) এর নির্দেশ –
ইবনে ওমর (রাঃ) সূত্রে নবী
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে
বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তোমরা
মুশরিকদের বিপরীত করবেঃ দাড়ি লম্বা
রাখবে, গোঁফ ছোট করবে ।
(বুখারী শরীফ, নবম খণ্ড, হাদিস নং –
৫৪৭২ ইফা)
তাহলে বুঝা গেল যে, শরীয়তের
বিধানের দ্বিতীয় সুত্র যেহেতু
সহীহ হাদিস কাজেই সেই অর্থে দাড়ি
রাখা সুন্নত। আর পবিত্র কুরআনে
আল্লাহ্পাক রাসুল (সাঃ) এর আদেশ ও
নিষেধ মেনে চলার জন্য সরাসরি
নির্দেশ দিয়েছেন কাজেই সেই
অর্থে রাসুল (সাঃ) এর নির্দেশ মেনে
চলা আমাদের জন্য ফরয। আরও একটি
বিষয় সরন রাখা প্রয়োজন যে, রাসুল
(সাঃ) জিবরাঈল (আঃ) এর মাধ্যমে প্রাপ্ত
আল্লাহ্পাকের নির্দেশ ব্যতিত কোন
কথা বা কাজের নির্দেশ বা নিষেধ
করতেন না।
দাড়ি রাখা সম্পর্কে উলামাগনের কেউ
বলেছেন যে, দাড়ি রাখা ফরজ। কারন
রাসূল (সা) আল্লাহ্ তা’আলার নির্দেশ
ব্যতিত কোন কথা বলতেন না আর তাই
দাড়ি রাখার ব্যাপারে রাসূল (সা) এর নির্দেশ
মানে আল্লাহ্ তা’আলারই নির্দেশ। আবার
কেউ বলেছেন যে, দাড়ি রাখা ওয়াজিব
আবার কেউ বলেছেন সুন্নাতে
মুয়াক্কাদা। আল্লাহ্ তা’আলা ভাল জানেন।
আশা করি, এবার সকলের দাড়ি রাখার
বিষয়ে আর কোন সন্দেহ থাকবে না।
আল্লাহ্পাক আমাদের সকলকে কুরআন
ও সহীহ সুন্নাহ মেনে জীবন চলার
তৌফিক দান করুন। আমীন।
দাড়ির বিধানটি শরীয়তের একটি মৌলিক ও
সাধারণ বিধান। একে নিছক আরবীয়
রীতি বা বিশেষ স্থান-কালের মধ্যে
সীমাবদ্ধ মনে করা মারাত্মক ভ্রান্তি।
সব কিছু আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা
জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন –
আমি প্রত্যেক বস্তু জোড়ায়
জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা
হৃদয়ঙ্গম কর। [আয-যারিয়াতঃ ৪৯]
পবিত্র তিনি যিনি যমীন থেকে উৎপন্ন
উদ্ভিদকে, মানুষকে এবং যা তারা জানে
না, তার প্রত্যেককে জোড়া জোড়া
করে সৃষ্টি করেছেন। [ইয়াসিনঃ ৩৬]
আমি (আল্লাহ) তোমাদেরকে জোড়া
জোড়া সৃষ্টি করেছি [আন্-নাবাঃ আয়াত ৮]
উপরের আয়াতত্রয় অনুযায়ী দাড়ির
মাধ্যমে মানুষকে দুই ভাগে ভাগ করা
যায়-
যথাঃ ১) দাড়িযুক্ত মানুষ (পুরুষ) ও ২)
দাড়িবিহীন মানুষ (মহিলা)।
কোন পুরুষকে যদি বলা হয় আপনি কি
মহিলা হতে চান ? কোন বিবেকবান
লোকই তা চাবে না । তাহলে আমরা
কেন আল্লাহ ও রাসুলের নির্দেশের
বিপরীত কাজ করি । অর্থাৎ দাড়ি ক্লিন
করে মহিলাদের আকার ধারন করি!!
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা বলেন,
“আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই
। ” [আর-রুমঃ ৩০]
এ প্রসঙ্গে শয়তানের একটা উদ্ধত
ঘোষণাও আল্লাহ তাআলা বান্দাদেরকে
জানিয়ে দিয়েছেন । আল্লাহ তা’আলা
বলেন,
শয়তান বললঃ আমি অবশ্যই তোমার
বান্দাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট অংশ
গ্রহণ করব। তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব,
তাদেরকে আশ্বাস দেব; তাদেরকে
পশুদের কর্ণ ছেদন করতে বলব এবং
তাদেরকে আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতি
পরিবর্তন করতে আদেশ দেব। যে
কেউ আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে
বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, সে প্রকাশ্য
ক্ষতিতে পতিত হয়। [আন-নিসাঃ ১১৮-১১৯]
”এবং তাদেরকে আদেশ করব, ফলে
তারা আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করবে।”
আয়াতের এ অংশের আলোচনায়
শাববীর আহমদ উসমানী রাহ.
বলেছেন, ‘দাড়ি মুন্ডানোও এ আকৃতি
পরিবর্তনের মধ্যে পড়ে ।’ (দেখুন :
তাফসীরে উসমানী (মূল) পৃ. ১২৫;
(অনুবাদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১/৪৪৬)
আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করার
প্রসঙ্গে তাফসীরে বয়ানুল কুরআন
বলেছেন, এটা ফাসেকী
কাজকর্মের অন্তর্ভুক্ত । যেমন দাড়ি
মুন্ডানো, শরীরে উল্কি আঁকা ইত্যাদি
।-তাফসীরে বয়ানুল কুরআন ১/২/১৫৭
বিখ্যাত তাবেয়ী ইমাম উবায়দুল্লাহ ইবনে
আবদুল্লাহ ইবনে উতবা রাহ. বলেন,
জনৈক অগ্নিপূজক আল্লাহর রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট
এসেছিল। তার দাড়ি মুন্ডানো ছিল ও
মোচ লম্বা ছিল। আল্লাহর রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
‘এটা কী?’ সে বলল, ‘এটা আমাদের
ধর্মের নিয়ম।’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘কিন্তু
আমাদের দ্বীনের বিধান, আমরা
মোচ কাটব ও দাড়ি লম্বা
রাখব।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা
১৩/১১৬-১১৭, হাদীস : ২৬০১৩)
পারস্যের সম্রাট কিসরা ইয়েমেনের
শাসকের মাধ্যমে রসুলুল্লাহ (সাঃ) এর
কাছে দু’জন দূত পাঠান। এদের দাড়ি ছিল
কামানো আর গোঁফ ছিল বড় বড়।
রসুলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে তাদের এই
অবয়ব এতই কুৎসিত লেগেছিল যে তিনি
মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে জিজ্ঞাসা
করেন, তোমাদের ধ্বংস হোক,
এমনটি তোমাদের কে করতে
বলেছে? তারা উত্তর দিল, আমাদের
প্রভু কিসরা। তিনি (সাঃ) তখন উত্তর দেন,
আমার রব্ব, যিনি পবিত্র ও সম্মানিত
আদেশ করেছেন যেন আমি দাড়ি
ছেড়ে দেই এবং গোঁফ ছোট রাখি।
(ইবনে জারির আত তাবারি, ইবন সা’দ ও
ইবন বিশরান কর্তৃক নথিকৃত। আল আলবানি
এক হাসান বলেছেন। দেখুন আল
গাযালির ফিক্বহুস সিরাহ ৩৫৯ পৃষ্ঠা)

* দাড়ি রাখা যাই হোক না কেন প্রকৃত
মুসলমান দাড়ি রাখবে, এটাই স্বাভাবিক ।
আমাদের দাড়িতে মানাক বা না মানাক আমরা
আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ) কে ভালবেসে
দাড়ি রাখব ।
এখন আপনি নিজেই ভেবে দেখুন,
আপনি কি করবেন। আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ)
এর নির্দেশ মানবেন নাকি সমাজের
মানুষের কাছে লজ্জার ভয়ে কিংবা
কাফির-মুশরিকদের অন্ধ অনুসরণ
করবেন?

পাকিস্তানকে ২০৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ভারত।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারত।
পাকিস্তানকে ২০৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয় ফাইনালে ওঠেছে ভারত। ফলে এই আসরের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামবে ভারতীয়রা। ভারত এ নিয়ে ৬ষ্ঠবারের মতো ফাইনালে ওঠল।

সেমিতে ভারতকে পেয়ে জ্বলে উঠতে পারলো না পাকিস্তান। উল্টো মাত্র ৬৯ রানে অলআউট হয়ে ২০৩ রানের বিশাল পরাজয় বরণ করে নিয়েছে। আর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারতের যুবারা।

সনুমান গিলের সেঞ্চুরির সুবাদে ভারত বিশাল স্কোর গড়েছিল। গিল ৯৪ বলে ১০২ রান করে অপরাজিত থাকেন। এ ছাড়া মনজোট কারলা ৪৭, শ ৪১ ও অভিষেক শর্মা ৩৩ রান করেন। পাকিস্তানের পক্ষে মোহাম্মদ মুসা ৪টি, আরশাদ ইকবাল ৩টি উইকেট নেন।

জবাবে ভারতীয় বোলাদের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানেরা। তাদের কেউই টিকতে পারেনি। পাকিস্তানের মাত্র দুই ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের রান করতে সক্ষম হন। রোহাইল নাজির করেন সর্বোচ্চ ১৮ রান।ভারতের ঈশান পেয়েছেন চার উইকেট। (৬-১৭-৪), স্পিনার সিভা সিং ও রিয়ান প্রয়াগ দুটি করে উইকেট নেন। একটি করে উইকেট অনুকূল ও অভিষেকের। এই ম্যাচ সেরা হয়েছেন শুভমন। ৯৪ বলে সাতটি বাউন্ডারির সাহায্যে ইনিংস সাজান শুভমন।

ইতিহাসের সর্ব প্রথম মসজিদের অজানা কাহিনী…।

ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মসজিদ ‘কুবা মসজিদ’।
পবিত্র মসজিদে নববীর পর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও দক্ষিণ মদীনার দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ হচ্ছে এই কুবা মসজিদ। হিজরী প্রথম বর্ষে এই মসজিদটি নির্মিত হয়।

পবিত্র হাদীসে কুবা মসজিদের মর্যাদা এবং এর বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি এখানে অজু করে এক ওয়াক্ত নামাজ পড়বে সে এক উমরাহ হজের সমান সওয়াব লাভ করবে।’

জানা যায়, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) প্রতি শনিবার এখানে নামাজ পড়তে আসতেন। তিনি উটে চড়ে কিংবা পায়ে হেঁটে আসতেন এবং ২ রাকাত নামাজ পড়তেন। তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা:) প্রথম এই মসজিদটির সংস্কার করেন। খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ মসজিদটির প্রথম মিনার তৈরি করেন। পরবর্তীতে ৪৩৫ হিজরীতে আবু ইয়ালি আল-হোসায়নি কুবা মসজিদ সংস্কার করেন।

তিনি মসজিদের মিহরাব তৈরি করেন। ৫৫৫ হিজরীতে কামাল আল-দীন আল ইসফাহানি মসজিদে আরও বেশ কিছু সংযোজন করেন। এর পরবর্তী সময়ে ৬৭১, ৭৩৩, ৮৪০ ও ৮৮১ হিজরীতে উসমানী সাম্রাজ্যকালে মসজিদটি সংস্কার করা হয়। আধুনিককালে সৌদী শাসনামলে হজ্ব মন্ত্রণালয় মসজিদটির দায়িত্ব গ্রহণ করে- যা মূল ডিজাইনে অধিকতর সংস্কার এবং সংযোজন করে। বর্তমান কুবা মসজিদ ইসলামী ঐতিহ্যের পাশাপাশি আধুনিকতম সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি অনন্য স্থাপত্যও বটে। মসজিদটিতে একটি অভ্যন্তরীণ প্রাঙ্গনসহ কয়েকটি প্রবেশ দ্বার আছে। মসজিদের উত্তর দিক মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।

বর্তমানে মসজিদে ৪টি মিনার এবং ৫৬টি গম্বুজ রয়েছে। ১১২ বর্গমিটার এলাকাব্যাপী ইমাম এবং মোয়াজ্জিনের থাকার জায়গা, ১টি লাইব্রেরী, প্রহরীদের থাকার জায়গা ও সাড়ে ৪শ’ বর্গমিটার স্থানে ১২টি দোকানে একটি বাণিজ্যিক এলাকা বিদ্যমান। মসজিদে ৭টি মূল প্রবেশ দ্বার এবং ১২টি সম্পূরক প্রবেশ পথ রয়েছে। প্রতিটি ১০ লাখ ৮০ হাজার থার্মাল ইউনিট বিশিষ্ট ৩টি কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র মসজিদকে ঠাণ্ডা রাখছে। ঐতিহাসিক কুবা মসজিদ শ্বেতবর্ণের একটি অনন্য স্থাপত্যকর্ম, যা বহু দূর হতেও দৃষ্টিগোচর হয়।

কাঞ্চনা ২-এর হিন্দি রিমেকে অক্ষয় কুমার…।

অভিনেতা অক্ষয় কুমার ফের একবার নতুন ভূমিকায় দেখা দিতে চলেছেন

শোনা যাচ্ছে, এবার তাঁকে দেখা যাবে তামিল হরর কমেডি কাঞ্চনা ২-এর হিন্দি রিমেকে।

সূত্রের খবর, এই সুপারহিট তামিল ছবিতে মুখ্য ভূমিকাতেই দেখা যাবে তাঁকে। যদিও এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত নির্মাতা বা অভিনেতার পক্ষ থেকে কোনোরকম ঘোষণা করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, IFFI 2017-এর সমাপ্তি অনুষ্ঠানে, অক্ষয় ভুল ভুলাইয়ার মতো ছবিতে ফের কাজ করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। হরর কমেডি তাঁর পছন্দের এবং তিনি ভালো স্ক্রিপ্টের জন্য অপেক্ষা করছেন বলেও জানান।

কাঞ্চনা ২, ২০১৫ সালে একটি সুপারহিট তামিল হরর কমেডি ছবি। যাঁর পরিচালক ছিলেন রাঘব লরেন্স, যিনি আবার মুখ্য ভূমিকাতেই অবতীর্ণ হয়েছিলেন এই ছবিতে। এই ছবিতে তাপসী পান্নু, নিত্যা মেনন, কোবাই সরলা প্রমুখ অভিনেতা অভিনেত্রীরা ছিলেন অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। ছবি ১০০কোটির ক্লাবেও তার নাম লিখিয়েছিল।

হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর দেখা সর্বশ্রেষ্ঠ একটি স্বপ্ন !

হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রীতি ছিল এই যে, প্রতিদিন ফজরের নামাযের পর সাহাবীদের দিকে মুখ করে বসতেন এবং কেউ কোনো স্বপ্ন দেখেছে কি না বা কারো কিছু জিজ্ঞাসা আছে কি না জানতে চাইতেন।

কেউ কিছু জানতে চাইলে তাকে তিনি যথাযথ পরামর্শ দিতেন।

একদিন এরূপ জিজ্ঞাসা করার পর কেউ কিছু বলছে না দেখে তিনি নিজেই বলতে আরম্ভ করলেন।

আজ আমি অতি সুন্দর ও আশ্চর্য স্বপ্ন দেখেছি। দেখলাম, দুই ব্যক্তি আমার হাত ধরে আমাকে এক পবিত্র স্থানের দিকে নিয়ে চললো। কিছুদূর গিয়ে দেখলাম, এক ব্যক্তি বসে আছে আর অপর ব্যক্তি তার কাছে দাঁড়িয়ে আছে।

দাঁড়ানো লোকটির হাতে করাতের মত একখানা অস্ত্র আছে।

সেই করাত দিয়ে সে বসে থাকা লোকটির মাথা চিরে ফেলছে। একবার মুখের দিক দিয়ে করাত ঢুকিয়ে দিয়ে কেটে ফেলছে।

আবার বিপরীত দিক দিয়েও তদ্রুপ করছে।

এক দিক দিয়ে কাটার পর যখন অপর দিক দিয়ে কাটতে যায় তখন আগের দিক জোড়া লেগে স্বাভাবিক হয়ে যায়।

এ অবস্থা দেখে আমি আমার সঙ্গীদ্বয়কে জিজ্ঞেস করলাম, এ কি ব্যাপার? তারা বললো, সামনে চলুন।

কিছুদূর গিয়ে দেখলাম, একজন লোক শুয়ে আছে।

অপর একজন একখানা ভারী পাথর নিয়ে তার কাছে দাঁড়িয়ে আছে।

দাঁড়ানো লোকটি ঐ পাথরের আঘাতে শোয়া লোকটির মাথা চূর্ণবিচূর্ণ করে দিচ্ছে।

পাথরটি সে এত জোরে মারে যে, মাথাকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে সে অনেক দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে।

অতঃপর লোকটি যে পাথর কুড়িয়ে আনতে যায়, অমনি ভাঙ্গা মাথা জোড়া লেগে ভাল হয়ে যায়। সে ঐ পাথর কুড়িয়ে এনে পুনরায় মাথায় আঘাত করে এবং মাথা আবার চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায়। এইভাবে ক্রমাগত ভাঙ্গা ও জোড়া লাগার পর্ব চলছে।

এই লোমহর্ষক দৃশ্য দেখে আমি আতংকিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, ব্যাপারটা কি আমাকে খুলে বলুন। তারা কোনো জবাব না দিয়ে পুনরায় বললেন, আগে চলুন। কিছুদূর এগিয়ে গিয়ে দেখি, একটি প্রকান্ড গর্ত। গর্তটির মুখ সরু, কিন্তু অভ্যন্তর ভাগ অত্যন্ত গভীর ও প্রশস্ত।

এ যেন একটি জ্বলন্ত চুলো, যার ভেতর দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। আর তার ভেতরে বহুসংখ্যক নর-নারী দগ্ধীভূত হচ্ছে।

আগুনের তেজ এত বেশী যেন তাতে ঢেউ খেলছে। ঢেউয়ের সাথে যখন আগুন উচু হয়ে ওঠে, তখন ঐ লোকগুলো উথলে গর্তের মুখের কাছে চলে আসে। আবার যেই আগুন নীচে নেমে যায়, অমনি তারাও সাথে সাথে নীচে নেমে যায়।

আমি আতংকিত হয়ে সঙ্গীদ্বয়কে বললাম, বন্ধুগণ! এবার আমাকে বলুন ব্যাপারটি কি?

কিন্তু এবার তারাও কোনো জবাব না দিয়ে বললেন, আগে চলুন।

আমরা সামনে এগুতে লাগলাম। কিছুদূর গিয়ে দেখলাম, একটি রক্তের নদী বয়ে চলছে। তীরে একটি লোক দাঁড়িয়ে। তার কাছে স্তুপীকৃত রয়েছে কিছু পাথর। নদীর মধ্যে হাবুডুবু খেয়ে একটি লোক অতি কষ্টে কিনারের দিকে আসার চেষ্টা করছে। কিনারের কাছাকাছি আসামাত্রই তীরবর্তী লোকটি তার দিকে এত জোরে পাথর ছুঁড়ে মারছে যে, সে আবার নদীর মাঝখানে চলে যাচ্ছে। এভাবে ক্রমাগত তার হাবুডুবু খেতে খেতে কুলে আসার এবং কুল থেকে পাথর মেরে তাকে মাঝ নদীতে হটিয়ে দেয়ার কার্যক্রম চলছে। এমন নির্মম আচরণ দেখে আমি স্তম্ভিত হয়ে আমার সঙ্গীকে বললামঃ বলুন, এ কি ব্যাপার? কিন্তু এবারও তারা জবাব না দিয়ে বললেন, সামনে চলুন।

আমরা আবার এগুতে লাগলাম। কিছুদূর গিয়ে দেখলাম একটি সুন্দর সবুজ ‍উদ্যান।

উদ্যানের মাঝখানে একটি উঁচু গাছ। তার নীচে একজন বৃদ্ধ লোক বসে আছে।

বৃদ্ধকে বেষ্টন করে বসে আছে বহুসংখ্যক বালক বালিকা। গাছের অপর পারে আরো এক ব্যক্তি বসে রয়েছে। তার সামনে আগুন জ্বলছে। ঐ লোকটি আগুনের মাত্রা বাড়িয়ে চলেছে। সঙ্গীদ্বয় আমাকে গাছে উঠালেন। গাছের মাঝখানে গিয়ে দেখলাম একটি মনোরম প্রাসাদ। এত সুন্দর ভবন আমি আর কখনো দেখি নি। ঐ ভবনে বালক বালিকা ও স্ত্রী পুরুষ-সকল শ্রেণীর মানুষ বিদ্যমান।

সঙ্গীদ্বয় আমাকে আরো উপরে নিয়ে গেলেন। সেখানে আরো একটি মনোরম গৃহ দেখতে পেলাম। তার ভেতরে দেখলাম শুধু কিছু সংখ্যক যুবক ও বৃদ্ধ উপস্থিত। আমি সঙ্গীদ্বয়কে বললাম, আপনারা আমাকে নানা জায়গা ঘুরিয়ে অনেক কিছু দেখালেন।

এবার এ সবের রহস্য আমাকে খুলে বলুন।

সঙ্গীদ্বয় বলতে লাগলেনঃ প্রথম যে লোকটির মাথা করাত দিয়ে চেরাই করতে দেখলেন, তার মিথ্যা বলার অভ্যাস ছিল।

সে যে সব মিথ্যা রটাতো, তা সমগ্র সমাজে প্রসিদ্ধ হয়ে যেতো। কিয়ামত পর্যন্ত তার এরূপ শাস্তি হতে থাকবে।

তারপর যার মাথা পাথরের আঘাতে চূর্ণ বিচূর্ণ হতে দেখলেন, সে ছিল একজন মস্ত বড় আলেম।

নিজে কুরআন হাদীস শিখেছিল, কিন্তু তা অন্যকে শিখায়নি এবং নিজেও তদনুসারে আমল করে নি। হাশরের দিন পর্যন্ত তার এ রকম শাস্তি হতে থাকবে।

তারপর যাদেরকে আগুনের বদ্ধ চুলায় জ্বলতে দেখলেন তারা ব্যভিচারী নারী ও পুরুষ।

কিয়ামত পর্যন্ত তাদের এই আযাব চলতে থাকবে।

রক্তের নদীতে হাবুডুবু খাওয়া লোকটি দুনিয়ায় সুদ ও ঘুষ খেতো এবং এতিম ও বিধবার সম্পদ আত্মসাৎ করতো।

গাছের নীচে যে বৃদ্ধকে বালক বালিকা পরিবেষ্টিত দেখলেন, উনি হযরত ইবরাহীম এবং বালক বালিকারা হচ্ছে নাবালক অবস্থায় মৃত ছেলেমেয়ে। আর যাকে আগুন জ্বালাতে দেখলেন, তিনি দোযখের দারোগা মালেক। গাছের উপর প্রথম যে ভবনটি দেখেছেন, ওটা সাধারণ ঈমানদারদের বেহেশতের বাড়িঘর। আর দ্বিতীয় যে প্রাসাদটি দেখেছেন, তা হচ্ছে ইসলামের জন্য আত্মত্যাগকারী শহীদদের বাসস্থান।

আর আমি জিবরাঈল এবং আমার সংগী ইনি মিকাইল। অতঃপর জিবরীল আমাকে বললেন, উপরের দিকে তাকান। আমি ওপরের দিকে তাকিয়ে একখন্ড সাদা মেঘের মত দেখলাম। জিবরীল বললেন, ওটা আপনার বাসস্থান।

আমি বললাম, আমাকে ঐ বাড়িতে যেতে দিন। জিবরীল বললেন, এখনো সময় হয় নি। পৃথিবীতে এখনো আপনার আয়ুকাল বাকী আছে। দুনিয়ার জীবন শেষ হলে আপনি ওখানে যাবেন।

শিক্ষাঃ এ হাদীসটিতে রাসূল(সা) কে স্বপ্নের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধের পরকালীন শাস্তির নমুনা দেখানোর বিবরণ রয়েছে।

নবীদের স্বপ্ন ওহীর অন্তর্ভুক্ত এবং অকাট্য সত্য। সুতরাং এ শাস্তির ব্যাপারে আমাদের সুদৃঢ় ঈমান রাখা এবং এগুলিকে স্মরণে রেখে এসব অপরাধ থেকে নিবৃত্ত থাকা উচিত। বিশেষতঃ এমন কয়েকটি অপরাধের ওপর এখানে আলোকপাত করা হয়েছে, যা সামাজিক অপরাধের অন্তর্ভুক্ত।

অর্থাৎ যা গোটা সমাজকে অন্যায় ও অনাচারের কবলে নিক্ষেপ করে। যেমনঃ মিথ্যাচার, সুদ, ঘুষ ও পরের অর্থ আত্মসাৎ করা এবং ইসলামের প্রত্যক্ষ জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও তা প্রচারে বিমুখ হওয়া ও সে অনুসারে আমল না করা।

একজন মিথ্যাবাদী যেমন মিথ্যা গুজব, অপবাদ ও কুৎসা রটিয়ে জনমতকে বিভ্রান্ত, বিপথগামী ও গোটা দেশবাসীকে অন্যায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্ররোচিত করে থাকে।

একজন আলেম তেমনি তার নিষ্ক্রিয়তা ও বদআমলী দ্বারা অন্য যে কোনো খারাপ লোকের চেয়ে সমাজকে অধিকতর অপকর্মে প্ররোচিত করে থাকে।

আর পরের সম্পদ আত্মসাৎকারী এবং সুদখোর ও ঘুষখোর যে গোটা সমাজকে কিভাবে জুলুম, নিপীড়ন ও শোষণ করে তা

ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না।

আইসিসির অলরাউন্ড র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থানে সাকিব…।

টি-টোয়েন্টির অলরাউন্ড র‍্যাংকিংয়ে ঘোষিত তালিকায় যথারীতি শীর্ষেই থাকলেন এই বাংলাদেশি স্পিনার। এ ছাড়া সেরা ব্যাটসম্যানের জায়গাটা পেয়েছেন পাকিস্তানের বাবর আজম এবং শীর্ষ বোলারের নামটা নিউজিল্যান্ডের মিচেল স্যান্টনার। ২০ ওভারের ক্রিকেটের সেরা দলটা পাকিস্তান।

এই কিছুদিন আগে আবার টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব পান সাকিব। কিন্তু দুর্ভাগ্য তাঁর, প্রথম টেস্টের আগেই আচমকা আঙুলে পেলেন চোট। তাই ছিটকে গেলেন প্রথম টেস্টের দল থেকে। তবে এই হতাশার মাঝে একটা সুখবর পেলেন তিনি, ৩৫৩ রেটিং পয়েন্টে সেরা অলরাউন্ডারের তকমাটা বাংলাদেশি টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের দখলে। এ ছাড়া মাহমুদউল্লাহও রয়েছেন সেরা ১০ অলরাউন্ডারের তালিকার সপ্তম স্থানে।

অ্যারন ফিঞ্চ আর বিরাট কোহলিকে টপকে ৭৮৬ রেটিং পয়েন্টে টি-টোয়েন্টির শীর্ষ ব্যাটসম্যান হয়ে গেলেন ডানহাতি পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান বাবর আজম।
বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে মুস্তাফিজুর রহমান রয়েছেন ৮ নম্বরে। বোলিং র‍্যাংকিংয়ে দশম অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছেন সাকিব।

সেরা ১০ টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যান

১. বাবর আজম

২. অ্যারন ফিঞ্চ

৩. বিরাট কোহলি

৪. কলিন মুনরো

৫. এভিন লুইস

৬. লোকেশ রাহুল

৭. গ্লেন ম্যাক্সওয়েল

৮. অ্যালেক্স হেলস

৯. জো রুট

১০. হাশিম আমলা

সেরা ১০ টি-টোয়েন্টি বোলার

১. মিচেল স্যান্টনার

২. রাশিদ খান

৩. ইশ সোধি

৪. জাসপ্রিত বুমরাহ

৫. স্যামুয়েল বদ্রি

৬. ইমরান তাহির

৭. ইমাদ ওয়াসিম

৮. মুস্তাফিজুর রহমান

৯. জেমস ফকনার

১০. সাকিব আল হাসান

সেরা ১০ টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার

১. সাকিব আল হাসান

২. গ্লেন ম্যাক্সওয়েল

৩. মোহাম্মদ নবি

৪. মারলন স্যামুয়েলস

৫. জেপি ডুমিনি

৬. পিটার বোরেন

৭. মাহমুদউল্লাহ

৮. পল স্টার্লিং

৯. সামিউল্লাহ শেনওয়ারি

১০. থিসারা পেরেরা

না হেসে উপায় নাই …।।

প্রান খুলে হাসুন। হাসলে মন ভাল থাকে।
কিছু মজার জোকস নিয়ে আসলাম আপনাদের জন্য।

♣♣♣ সংসদের গেটের সামনে ভাঙাচোরা একটা সাইকেলে তালা মেরে রেখে যাচ্ছিল এক লোক।
তা দেখে হা হা করে ছুটে আসে দারোয়ান। চিৎকার করে বলে, ‘ওই ব্যাটা, এখানে সাইকেল রাখছিস কী বুঝে?
জানিস না, এ পথ দিয়ে মন্ত্রী-মিনিস্টাররা যান।’
লোকটা একগাল হেসে জবাব দেয়, ‘কোনো সমস্যা নাই ভাইজান, সাইকেলে তালা মাইরা দিছি । ♣♣♣

♣♣♣ এক ছেলে মেয়ে কে বলছে “ই লাভ ইউ”
মেয়েঃ অই আয়নাতে নিজের চেহারা দেখছিস কখনো
ছেলেঃ দেখছি বইলাই ত তর মত পেত্নির কাছে আসছি নাইলে তো ক্যাটরিনার কাছেই যাইইতাম । ♣♣♣

♣♣♣ পাগলা গারদে দুই পাগল,একে অপরকে বলেঃ মাইনসে আমডার ফাগল কয়, চল পরিক্ষা কইরা দেহি আমরা না মাইনসে পাগল ।১মজন বল্ল আমি জিগাই তুই উত্তর দিবি ঠিক আছে ? হাতটা মুঠ করে বলে আমি কিধরছি ?
২য়জন বলে ড়েল গাড়ী ! ১মজন হুম্ম দেইক্কা লাইচচ ! এবার ২য়জন আচ্ছা পানিত আগুন লাগলে মাছ গুলি কই যায় ?১মজন কেন গাছে উডে ! ২য়জন ধুর বেডা তুই একটা ফাগল ! মাছ কি গরু নি গাছে উঠতো ? ♣♣♣

♣♣♣ তেলের দোকানে ইনকামটেক্সর লোক রেড দিতে পারে এমন আশংকায় এক তেল ব্যবসায়ী আক্কাচকে ডেকে বলল– ৩০ টিন তেল মাটির নীচে লুকিয়ে রাখতে। ২ ঘন্টা পরে আক্কাচ তড়িঘড়ি করে এসে তেল ব্যবসায়ীকে বলল, স্যার ! ৩০ টিন তেল তো মাটির নীচে লুকিয়ে ফলেছি, এখন তেলের খালি টিনগুলো কোথায় রাখবো!!!!! :O :-* :3……।♣♣♣

♣♣♣ একদিন হাটতে হাটতে দেখি একটি মেয়ে ব্রিজ থেকে লাফ দিতে যাচ্ছে। আমি জিজ্ঞাস করলামঃ আপনি কি আত্মহত্যা করতেছেন? মেয়েটাঃ হ্যাঁ…। আমিঃ আপনি তো আত্মহত্যাই করতেছেন, তাই আমি কি আপনাকে একটা kiss করতে পারি? মেয়েটা রাজি হল। kiss করলাম। kiss করে জিজ্ঞাস করলাম যে উনি কেন আত্মহত্যা করছেন। মেয়েটাঃ দেখুন, আমার কি দোষ। আমি ছেলে বলে কি মেয়েদের মতো কাপড় পড়ে একটু সাঁজতে পারি না। আজব। আমি মেয়েদের মতো কাপড় পড়তে চাই। কিন্তু Family থেকে দেয় না। তাই আই জীবন রাখব না। কি আর করবো বলেন। কথাটা শুনে আমিই ব্রিজ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করলাম…………… …। ♣♣♣