মানত করা সম্পর্কে ইসলাম কি বলে? ইসলামে কোন কিছু মানত করা জায়েজ?

মানত করা সম্পর্কে ইসলাম কি বলে?
ইসলামে কোন কিছু মানত করা জায়েজ?
=========================
মানত কিঃ
—————–
‘মানত’ বা ‘মান্নত’ আমাদের সমাজে বহুল
প্রচলিত একটি শব্দ। যেমনআমরা কখনো
কখনো বলি, যদি আমি পরীক্ষায় পাশ করি
তাহলে মাদরাসায়একটি ছাগল দান করব।
এটি একটি মানত।ইত্যাদি আরো অনেক মানত আছে।
_________
রাসূল সাঃ মানত করতে নিষেধ করছেন
——————————————————-
১.আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম
(সাঃ) আমাদের মানত করতে নিষেধ করেছেন। আর
বলেছেন, মানত কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না। এটা শুধু
কৃপণ ব্যক্তি থেকে মাল খসায়।
সহিহ মুসলিমঃ ৪৩২৭, মুসনাদে আহমাদ।
:
২. আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)
বলেছেন, তোমরা মানত করবে না। কেননা মানত
তাকদীরের কোনো কিছুকে ফেরাতে পারে না। এটা শুধু
কৃপণ ব্যক্তি থেকে সম্পদ খসায়।
সহিহ বুখারি, মুসলিমঃ ৪৩২৯, সহিহ সুনানে আত-
তিরমিজি, সহিহ সুনানে নাসায়ি।
:
৩. সাহাবী আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম
(সাঃ) বলেছেন, যেই বস্তু মহান আল্লাহ আদম সন্তানের
জন্য নির্ধারণ করেননি মানত সেটি তার নিকটবর্তী
করে না। বরং তাকদীরে যা আছে মানত সেটাই নিয়ে
আসে। এর মাধ্যমে কৃপণ ব্যক্তির সম্পদ বের করা হয় যা
সে খরচ করতে চায়নি।
সহিহ মুসলিমঃ ৪৩৩১।
_______________
উদ্ধৃত হাদীসগুলো থেকে আমরা জানতে পারলাম,
———————————————-
এক. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
মানত করতে নিষেধ করেছেন। অতএব মানত করা ঠিক নয়।
আমরা অনেকে বিপদ-আপদে পতিত হলে মানত করে
থাকি। আর মনে করি এটা সওয়াবের কাজ। আল্লাহ খুশী
হবেন। কিন্তু আসলে তা সওয়াবের কাজ নয়। আল্লাহর
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করতে
নিষেধ করেছেন তাতে আল্লাহ খুশী হবেন না। এবং
এতে কোনো সওয়াবও হয় না। তাই আমাদের উচিত হবে
কোনো অবস্থায় মানত না করা। অবশ্য মানত করে
ফেললে তা পালন করতেই হবে কারণ মানত করলে তা
পূর্ণ করা ওয়াজিব হয়ে যায়।
:
দুই. মানত করার মাধ্যমে কৃপণ ব্যক্তির সম্পদ বের করা হয়।
এ কথা বলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বুঝিয়েছেন, মানত করা
একটি অনর্থক কাজ। সাধারণত কৃপণ স্বভাবের লোকেরা
মানত করে থাকে। তারা সুস্থ ও নিরাপদ থাকা কালে
দানসদকা করে না। কিন্তু বিপদে পড়লে আল্লাহর পথে
খরচ বা দান সদকা করার বড় বড় মানত করে।
:
তিন. তাকদীরে যা লেখা আছে তা হবেই। মানত করার
মাধ্যমে তাকদীরের লেখা পরিবর্তন করা যায় না।
তাকদীরের প্রতি যাদের যথাযথ ঈমান নেই সাধারণত
তারাই মানত করে থাকে।
:
চার. মানত করা হোক বা না হোক। ফলাফল একই হবে।
তাকদীরে যা লেখা আছে সেটাই আসবে
অবধারিতভাবে।
:
পাঁচ. আলোচিত সবগুলো হাদীসই মানত না করার জন্য
মুসলিমদেরকে নিরোৎসাহিত ও নিষেধ করেছে। বলেছে,
এটি কোনো ফল বয়ে আনে না বরং শুধু কৃপণের সম্পদ খরচ
করায়।
এ সকল বিষয় জানার পর কোনো মুসলিমের পক্ষে কোনো
প্রকার মানত করা উচিত নয়।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, যে কাজটি করতে
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ
করেছেন, আমরা সেটাকে সুন্নাত মনে করি।
________________
মানত করলে তা পূরন করতে হবেঃ
———————————————–
মানত পূরণ করা সম্পর্কে হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
ﻣﻦ ﻧﺬﺭ ﺃﻥ ﻳﻄﻴﻊ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻠﻴﻄﻌﻪ ، ﻭﻣﻦ ﻧﺬﺭ ﺃﻥ ﻳﻌﺼﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻼ ﻳﻌﺼﻪ
যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার আনুগত্য করার মানত করে
সে যেন (তা পূরণ করে) তাঁর আনুগত্য করে । আর যে
অবাধ্যতার কোনো বিষয়ে মানত করে সে যেন তাঁর
অবাধ্যতা না করে। (সহিহ বুখারি, আবু দাউদ, ইবনে
মাজা, নাসায়ি)
:
আমরা এই হাদীস থেকে জানতে পারলাম,
ভাল কাজের মানত করলে শর্ত পূরণ হলে সেই মানত পূরণ
করতে হয়। তবে শরিয়ত নিষিদ্ধ-মন্দ ও আল্লাহর
অবাধ্যতামূলক কাজ
করার মানত। যেমন কেউ বলল, আজ যদি অমুক দল খেলায়
জিতে যায় তাহলে আমি তোমাদেরকে মদ পান করাব।
এ মানত পূরণ করা মোটেই জায়েয নয়। মানতের শর্ত পূরণ
হোক বা না হোক। কারণ এতে আল্লাহ তাআলার
অবাধ্যতা বিদ্যমান।
///////////////////////////////////
বিঃদ্রঃ অনেক হুজুর মাওলানা বলে অমুক জায়গায়
মানত করলে অমুক কাজটা হয়ে যাবে। এই ব্যক্তি হচ্ছে
জাহেল, মূর্খ। এর কোনো কথা শোনা যাবেনা – এর কাছ
থেকে দূরে থাকতে হবে।
আর মাজার বা পীরের নামে কোনো কিছু মানত করা
শিরক। কারণ, এখানে আল্লাহর সন্তুষ্টির সাথে অলী
আওলিয়াদের সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত থাকে । আল্লাহ্
ছাড়া অন্য কারো সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কোনো ইবাদত
করলে সেটা শিরক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *