আয়াতুল কুরসি লেখা কাগজ ঘরে ঝুলিয়ে রাখা যাবে কি ?

পবিত্র কোরআনের ১১৪টি সূরার ৬৬৬৬টি আয়াতের সবই ফজিলতপূর্ণ। প্রত্যেকটি আয়াতের রয়েছে আলাদা আলাদা তাৎপর্য ও রহস্য। তার পরও সূরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতটিকে কোরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত বলা হয়। আয়াতটি সমাজে আয়াতুল কুরসি নামে বেশি পরিচিত।

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজ শেষে আয়াতুল কুরসি পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাঁধা থাকে না। -নাসাই শরিফ

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সূরা বাকারায় একটি শ্রেষ্ঠ আয়াত রয়েছে, সেটি হলো আয়াতুল কুরসি। যে ঘরে এটি পাঠ করা হবে সেখান থেকে শয়তান পালাতে থাকে। -মুসতাদরাকে হাকিম

আয়াতুল কুরসির এমন ফজিলতের কথা ভেবে অনেকেই ঘরে আয়াতুল কুরসির লিখিত কাগজ বাঁধাই করে ঝুলিয়ে রাখেন। অনেকে এটাকে খুব গুরুত্বও দেন। কিন্তু এভাবে ঘরে আয়াতুল কুরসি লিখিত কাগজ বাঁধাই করে রাখার আলাদা কোনো উপকারিতা, সুফল কিংবা ফজিলত নেই।

ইসলামি স্কলারদের অভিমত হলো, আয়াতুল কুরসি কোরআনে কারিমের একটি আয়াত বৈ অন্য কিছু নয়। কোরআনে কারিমে এ ছাড়া আরও আয়াত রয়েছে। মুসলমানের ঘরে ঘরে রয়েছে কোরআন। মনে রাখবে, কোরআন ঘরে রাখার মাঝে আলাদা কোনো ফজিলত নেই। ঘরে রাখা কোরআনে কারিম তেলাওয়াত করলেই কেবল ঘরে কোরআন রাখা স্বার্থক হবে। কোরআন তেলাওয়াত না করে কোথাও কোরআনের আয়াত লিখে তা ঝুলিয়ে রাখার কথা বলা হয়নি।

যেহেতু ঘরে কোরআন রয়েছে, তাহলে আবার আয়াতুল কুরসি লিখে বিশেষভাবে ঝুলিয়ে রাখা কেন? এটা আসলে দৃষ্টিভঙ্গিগত বিষয়। এমন কাজ শুদ্ধ নয়, সঠিক কাজ নয়।

আর যদি কোনো ধরনের প্রভাব থেকে ঘরকে মুক্ত রাখার নিয়তে এমন কাজ করতে হয়, সেক্ষেত্রে উত্তম হলো- কোরআনে কারিমের এই আয়াত তেলাওয়াত করা। আয়াতুল কুরসি বেশি বেশি করার অনেক ফজিলত।

যদি নিরাপত্তার জন্য এবং কোনো ধরনের প্রভাব থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার জন্য এ আয়াত তেলাওয়াত করতে হয়, তা যথাসম্ভব উচ্চআওয়াজে তেলাওয়াত করা। এভাবে কোরআন তেলাওয়াত করে ফায়দা নেওয়া। তেলাওয়াত না করে তা শুধু লিখে রাখার আলাদা কোনো ফজিলত নেই।

কোরআন তেলাওয়াত না করলে, কোরআনের বিধান না মানলে শুধু আয়াতুল কুরসি কেন- পুরো কোরআন লিখে ঝুলিয়ে রাখলেও এর মাধ্যমে কোনো সওয়াব হবে না। এমন কাজ সমাজের মানুষে আবেগের বশে করে থাকে।

আল্লাহর কালাম তো অবতীর্ণ হয়েছে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে। এর কাজ কী হবে, এর হক কী হবে- এগুলো স্পষ্ট করে আল্লাহতায়ালা জানিয়ে দিয়েছেন। সেগুলো না করে কোরআন কিংবা কোরআনের আয়াতের এমন ব্যবহার মূলত কোরআনে কারিমকে অবমাননা ছাড়া আর কিছুই নয়। এ কাজ থেকে সবার বিরত থাকা আবশ্যক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *